| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোনা তনুশ্রী
তোমারেই করিয়াছি জীবনেরও ধ্রুবতারা, এ সমুদ্রে আর কভু হবো নাকো পথহারা।
স্কুলের ছুটি হয়ে গেলে বাড়ির কাছে এসে
হঠাৎ দেখি, মেঘ নেমেছে ছাদের কাছে ঘেঁষে।
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, রাস্তা ভাসে জলে,
ঐরাবতের শুঁড় দেখা দেয় জল-ঢালা সব নলে।
------------------------------------ ছেলেবেলা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রবিঠাকুরের ছেলেবেলা পড়লাম অনেক বছর পর আবার। নতুন কিছু আবিষ্কার করলাম যেন। পড়ছিলাম আর আনমনা হয়ে যাচ্ছিলাম বারবার। জীবনকে এত গভীর ভাবে হৃদয়ের ভেতর থেকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা এবং পর্যবেক্ষণ দক্ষতা শেখার জন্য রবিঠাকুর ছাড়া সত্যিই কোন বিকল্প নেই।
বইটি পড়ছিলাম শিশুদের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য কীভাবে একে কাজে লাগানো যায় তার সুলুক সন্ধানে । পড়তে গিয়ে দেখি পথ গিয়েছে সরে, ভাবনাও আজ অন্য পথে অন্য রাস্তায়, কালের স্রোতে বহু জল গড়িয়ে গেছে।
সেকেলে সোনাবাঁধানো দিনগুলো একালে এসে দিশাহারা যেন। জানালা দরজাহীন পৃথিবী তার ছায়া ফেলেছে বনসাই বট পাকুড়ের ওপর। সেকালে বট-পাকুড়ই নাকি পৃথিবীর মেঠো পথে ক্লান্ত রাখালকে ছায়া দিত। শীতল বাতাস দিতো । আজ সেই রাখালও নেই, মেঠো পথও নেই। আজকালতো হাওয়াকল প্রায় ঘরে ঘরে। তালের পাখাও আজ দেয়ালের শোভা বাড়ায় নাকি জাদুঘরে জায়গা করে নিয়েছে?
মাছ কোথা্য় পাওয়া যায় প্রশ্নের উত্তর আসে ফ্রীজে!
ডিম? ফ্রীজে!
আলু পটল বরবটি ? সব তো ফ্রীজেই পাওয়া যায়। ও আচ্ছা, কাওরান বাজারে বা হাতিরপুলে অথবা ফুটপাতেও পাওয়া যায় এসব। কোথায় হয় কীভাবে হয় জানার আগ্রহ কম বা থাকলেও সময়ের বড় অভাব। সময়। হ্যাঁ সময়। সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের পানে।
অধুনা সৃজনশীল প্রশ্ন মুখস্ত করতে করতে সময় কোথায় । সময় কোথায় প্রকৃতি বা দেশকে জানার! পথে চলতে চলতে হাঁটতে হাঁটতে মুখস্ত বিদ্যা আওড়াতে আওড়াতে দেখার সময় কোথায় নেড়িকুকুর আর পথশিশুর বন্ধুত্ব। ক’টা কৃষ্ণচূড়া বা জারুলের গাছ পেরিয়ে এলাম! মানুষগুলোর হাঁটাচলা কেমন!
শহরের শিশুরা আজ আকাশ দেখতে পায়না। জানালার ওপাশে শ্যাওলা জমা দেয়াল অথবা দামি টাইলস যাতে প্রাচুর্য চকচক করছে। অথবা দেখে পরজীবী গাছ দেয়াল জুড়ে । গাছতো অক্সিজেন দিচ্ছেই সে পরজীবী হোক কী স্বনির্ভর। তারা দেখে আর শেখে, শেখে আর দেখে। কীভাবে প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে অন্যকে নির্ভর করে নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকতে হয়। শহরে নীরেট নীল আকাশের নিচে বট বা পাকুড় কিংবা অশ্বত্থ দেখতে গবেষণা করে বের করতে হয় আমি কোথায় পাব তারে ! সুতরাং আকাশ নেই অর্থাৎ আকাশ দেখার সৌভাগ্য তাদের নেই।
আজকাল বাসাবাড়িতে ফ্রীজ-টেলিভিশনের মতো বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ও শোভা পায়। বাণিজ্য লক্ষ্মী পায়ে ঠেলতে নেই। সুতরাং একতলায় বাড়ি, একতলায় গাড়ি, একতলায় কাপড় শুকানো লুঙ্গি-গামছা-আন্ডারওয়্যার, একই সাথে জাতীয় পতাকাও উড়ছে, সাথে শিশুতোষ বই। রকমারি খেলনা, ঝকমারি দর্শন, মনস্তত্ব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলে কথা কিনা । থাকতে হয়। একের ভেতর বহু। মাল্টিপার্পাস বিল্ডিং।
.......................................।
......সন্ধ্যারাত, ঢাকা।
(.......চলবে।) 
২|
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৯
নজসু বলেছেন: পরের কিস্তির অপেক্ষায়.।
৩|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:৪৩
কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
দারুন ভাবনা; সুন্দর পোস্ট ৷সহমত আপনার সাথে ৷
৪|
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: চলুক----
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১৩
সনেট কবি বলেছেন: বেশ