| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোস্তফা কামাল পলাশ
"সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে"
ভূমিকম্প নিয়ে ফেসবুকে প্রচারিত গুজব থেকে সাবধান
গত দুই দিনে অনেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে মেসেজ দিয়ে এবং আবহাওয়াবিদ অ্যাপের মাধ্যমে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন—আগামী ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল কিংবা ভুটানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কি না?
এই প্রশ্নের কারণ হলো, ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে নামহীন কিংবা অজ্ঞাত “ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞের” উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে আগামী ৭২–৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান অঞ্চলে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে। ইতোমধ্যে ২০ জনেরও বেশি মানুষ আমার কাছে এই তথ্যের সত্যতা জানতে চেয়েছেন।
পরিষ্কারভাবে বলছি, এই ধরনের নির্দিষ্ট ৭২ বা ৯৬ ঘণ্টার ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের পক্ষে বর্তমানে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ভূমিকম্প কখন ঘটবে, কোথায় ঘটবে এবং কত মাত্রার হবে—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে নির্দিষ্ট করে নির্ভরযোগ্যভাবে আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো পদ্ধতি বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেননি। USGS-ও স্পষ্টভাবে বলছে, তাদের বিজ্ঞানীরা কোনো বড় ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও মাত্রা আগাম করতে পারেন না; বিজ্ঞানীরা বরং কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নির্ণয় করতে পারেন।
গ্রহ-নক্ষত্র দেখে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন ঘটনা কিংবা অন্যান্য তথাকথিত সংকেত ব্যবহার করে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার নানা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
কিন্তু নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও মাত্রা উল্লেখ করে নির্ভরযোগ্যভাবে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার মতো কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভূমিকম্পের সম্ভাব্য পূর্বলক্ষণ হিসেবে জোয়ার-ভাটাজনিত বল, রেডন গ্যাসের নিঃসরণ, তড়িৎচুম্বকীয় সংকেত, প্রাণীদের আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা হয়েছে; কিন্তু নির্ভরযোগ্য এবং বারবার পরীক্ষা করে একই ধরনের ফল পাওয়া যায়, এমন ভূমিকম্প পূর্বাভাস পদ্ধতি হিসেবে এগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাই সবার প্রতি অনুরোধ, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান কিংবা নামহীন “ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞের” উদ্ধৃতি দিয়ে “আগামী ৭২/৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে” এ ধরনের পোস্ট দেখে আতঙ্কিত হবেন না এবং যাচাই না করে নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করবেন না।
ভূমিকম্প নিয়ে মিথ্যা কিংবা মনগড়া পূর্বাভাস বারবার প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এবং কুসংস্কার তৈরি হয়। আরও বড় সমস্যা হলো মিথ্যা সতর্কতার কারণে মানুষ ধীরে ধীরে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক সতর্কতার প্রতিও আস্থা হারাতে পারে।
পরিণতি হতে পারে ঈশপের গল্পের সেই মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের মতো, বারবার মিথ্যা বিপদের সংকেত দেওয়ার কারণে একসময় যখন প্রকৃত বিপদ আসবে, তখন মানুষ সত্যিকারের সতর্কবার্তাটিও বিশ্বাস করতে চাইবে না।
ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট সময়–স্থান–মাত্রা এখনো পূর্বাভাস করা যায় না। কিন্তু ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাস্তব। তাই গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ফেসবুকে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠে যে সকল ফেসবুক পেজ প্রতিদিন ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয় এই গুলো সকল ভুয়া ও মনগড়া তথ্য। এইগুলোর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট সময়–স্থান–মাত্রা এখনো পূর্বাভাস করা যায় না।
.................................................................................................
কিন্ত ভূমিকম্পের প্রস্তুতি থাকলে প্রাণহানি অনেকটা এড়ানো যায় ।
তাই সম্ভাব্য কারন থেকে তো সতর্ক হওয়া যায় ।
সুতরাং প্রাথমিক প্রস্ততি সমূহ কি কি থাকা উচিৎ