নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বহুদিন আগে কোন এক বারান্দায় শেষ বিকেলের আলোয় আলোকিত উড়ন্ত খোলা চুলের এক তীক্ষ্ণ হৃদয়হরনকারী দৃষ্টি সম্পন্ন তরুনীকে দেখে ভেবেছিলাম, আমি যাদুকর হব। মানুষ বশীকরণের যাদু শিখে, তাকে বশ করে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিব সারাটি জীবন।

কাল্পনিক_ভালোবাসা

একদিন সব হাসির ময়নাতদন্ত হবে, ফরেনসিক রিপোর্টে লেখা থাকবে - সবই মিথ্যে।

কাল্পনিক_ভালোবাসা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বেহায়ার মত করোনা নিয়ে পুনরায় লেখা এবং মাস্ক নিয়ে আমাদের ফেসবুক বিজ্ঞানীদের নানান মতবাদ।

২২ শে মে, ২০২০ রাত ১১:৫৬

আমি ব্যক্তিগতভাবে ইদানিং করোনা সংক্রান্ত খবর ইগনোর করার চেষ্টা করছি এবং এই সংক্রান্ত কোন তথ্য বা খবরও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকছি। প্রধান কারন আমাদের দেশে করোনা ব্যবস্থাপনার বেহাল দশা, গণমানুষের অসচেতনতা এবং হাস্যকর লকডাউন। আমি বালস্যবাল হরিদাস পাল, সাগর তীরের বালির কনা, আমার মত দুই একজনের কথা কোন পলিসি নির্ধারিত হবে না, কেউ সচেতন হবে না, পিপি পড়ে মার্কেটে যাওয়া বন্ধ হবে না, ইফতারী কেনার জন্য দোকানে দোকানে ভীড় বন্ধ হবে না। বড় জোড় পরিচিত মানুষের দুই একটা লাইক কমেন্টই আমার এই লেখার একমাত্র প্রাপ্তি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিদিন যে হারে করোনা রোগী সনাক্ত হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তাতে এই বিষয়ে লিখতে না চাইলেও লিখতে হচ্ছে।

মুল বিষয়ে আসি। আমার একজন ঘনিষ্ঠ ডাক্তার বন্ধু, যিনি বাংলাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন যে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা কিংবা গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে সাধারন মানুষের কোন দ্বিধা নেই। বলা ক্ষেত্র বিশেষে মানুষের আস্থার জায়গা সেই প্রতিষ্ঠানটি।
ডাক্তার হিসেবে তাঁর পেশাদারিত্ব, মেধা ইতিপূর্বে বহুবার প্রমানিত হয়েছে। সেই বন্ধু যখন কোন বিষয়ে চিন্তিত হয়, তখন সেটা আমার মত সাধারন মানুষেরও চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়ায়। কিছুদিন আগে সেই বন্ধুর সাথে আলাপকালে একটি চমকপ্রদ কিছু বিষয় জানতে পারলাম। ইচ্ছে করেই ভয়াবহ শব্দটা ব্যবহার করি নি, কারন বলা যায় না কোন উর্বর মস্তিস্ক হয়ত এই শব্দের কারনে পুরো লেখাটিকে গুজব হিসেবে চালিয়ে ঈদের আগে আমাকে লাল দালানে চালান করে দিতে পারে। তাই যা বলছি বা লিখছি, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে নিশ্চিত হয়ে ও তথ্য প্রমান সহই লিখছি।

যাইহোক, করোনা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত সাইন্স হলো, এই ভাইরাসটি মানব শরীরে সিম্পটম তৈরী করুক বা না করুক, মোটামুটি ভাবে ২৮ দিনে শরীর থেকে চলে যায়।ভাইরাল লোড কম থাকলে ১০ দিনেও চলে যায়। চমকপ্রদ ব্যাপারটি হলো সাম্প্রতিক সময়ে আমার সেই ডাক্তার বন্ধুটি হাসপাতালে এমন বেশ কিছু রোগী দেখেছেন যাদের ক্ষেত্রে এই তত্বটি খাটছে না। ঘটনাগুলো ছিল এমন –

রোগীগুলো হয় করোনাপ্রবণ এলাকা থেকে আসায় অথবা করোনা রোগীর সংস্পর্শে থাকায় তাদেরকে করোনা গাইডলাইন অনুযায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এই ১৪ দিনে তাদের কোন লক্ষণ না থাকায় ‘করোনা আক্রান্ত নয় বলে তাদের কে স্বাভাবিক কাজ কর্ম শুরু করতে বলা হয়। এদের মধ্যে দু একজনের ‘কন্টাক্ট হিস্টরী’ বেশ স্ট্রং হওয়ায় টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ পাওয়ার পরই ছাড়া হয়।

ঘটনা হলো কোয়ারেন্টিন থেকে বের হওয়ার ৪-৬ দিনের মাথায় তাদের জ্বর ঠান্ডা কাশি দেখা দিলে তাদের আবার টেস্ট করানো হয় এবং পজিটিভ আসে। এই রোগীগুলোর সাথে কথা বলে এটা শিউর হওয়া যায় যে তারা সাধারণ ছুটি থাকায় কোয়ারেন্টিনের পর স্বাস্হ্য বিধি মেনেই চলেছেন। ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটা হলো এই রোগীগুলো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর লক্ষণ প্রকাশ পেল কমপক্ষে ২০-২২ দিন পর, যেটা আরো বেশীও হতে পারে, যা কিনা করোনার ব্যাপারে ২-৭ দিন। আর রোগীগুলোর সেরে উঠতে (এখানে সেরে ওঠা বলতে রেজাল্ট নেগেটিভ আসা বুঝানো হয়েছে) রোগী ভেদে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লেগেছে। এর মধ্যে একটা কেসের ব্যাপারে উনি যা বললেন সেটা হলো রোগীটা কোয়ারেন্টিন শেষ করে চারদিনের মাথায় সামান্য কাশি আর হালকা জ্বর নিয়ে ভর্তি হন। সেদিনই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ফুসফুসের এক্সরে করানো হয়। তিনি একটা ভয়াবহ ক্ষয়ে যাওয়া ফুসফুসের ছবি দেখিয়ে বললেন, এটা উনার চেষ্ট রিপোর্ট। যদি ধরেও নেয়া হয় রোগীটি কোয়ারেন্টিনের পর আক্রান্ত হয়েছে, তবুও এই ফুসফুসের ছবি সেটা সাপোর্ট করে না। মেডিকেল সায়েন্স অনুসারে ৫ দিনে কোন ভাইরাস ফুসফুসের এই অবস্থা করতে পারে না।


(আক্রান্ত ব্যক্তির চেষ্ট টেস্টের রিপোর্ট। বিষয়টি একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় বিধায় সংগত কারনে প্রতিষ্ঠান ও কিছু তথ্য ব্লার করে দেয়া হলো, ভালো করে তাকালে এখানে তারিখ দেখতে পাবেন।)

আমার ডাক্তার বন্ধুর ধারনা, অনেকের ক্ষেত্রে এটা বডিতে প্রবেশ করে খুব ধীরে ধীরে ড্যামেজ করতে থাকে। আমরা অনেক সময় নিজেরাই জানতে পারছি না যে আমরা করোনা আক্রান্ত হয়েছি বা করোনা আমাদের কোন প্রত্যঙ্গকে ড্যামেজ করে যাচ্ছে। এর ফলাফল হচ্ছে – হঠাৎ মৃত্যু। যা ইদানিং আমরা অনেকগুলো স্টোরিতে দেখেছি। বলা নেই কওয়া নেই, একটা সুস্থ মানুষ দুম করে মারা যাচ্ছে।

আতংকের বিষয় হচ্ছে, চায়নার সরকারী ডাক্তারগণ তাদের নিজেদের অনুসন্ধান ও কেসস্টাডির ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আমার বন্ধুর এই ধারনাটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন গত ২১ শে মে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির জটিল রোগ বিশেষজ্ঞ কিআইয়ু হাইবো বলেন, চীনের উত্তরাঞ্চলে যেসব রোগী পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের শরীরে ভাইরাস বেশি দিন অবস্থান করছে এবং পরীক্ষায় নেগিটিভ দেখাতে সময় বেশি লাগছে। সংক্রমণের পর উহানের পরিস্থিতির চেয়ে এখানে উপসর্গ প্রকাশ পেতেও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় বেশি লাগছে। তাই ভাইরাস ছড়ানোর আগে তা শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। (সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ২১শে মে)

আল্লাহ না করুক - করোনার রুপ বা প্যাটার্ন যদি এইভাবে কিছুদিন পর পর বদলায়, যেখানে আক্রান্তের লক্ষন ফুটে উঠতে দেড় দুই মাস সময় লাগে, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের জন্য অতি অদূর ভবিষ্যতে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। চীনে আবার করোনার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারনা - এই দ্বিতীয় আক্রমন আগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর হবে। ইতিমধ্যে তার লক্ষনও প্রকাশ পেয়েছে। অনেকটা অনেকটা স্পেনিশ ফ্লুয়ের মত। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষের। এই সংখ্যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যার চাইতেও বেশি। জানেন তো কেন এই ফ্লুয়ের নাম স্পেনিশ ফ্লু রাখা হয়েছিলো? কারন ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র যখন এই সংক্রান্ত তথ্য গোপন করছিলো, তখন স্পেনের সংবাদ মাধ্যম এই ফ্লুর খবরটি মুক্তভাবে পরিবেশন করেছিলো।

সাম্প্রতিক বাস্তবতায় হয়ত আমাদের অনেকের মনে বেশ কিছু রাষ্ট্রের নাম মনে পড়তে পারে যারা এই করোনাকে গুরুত্ব দেয় নি, তথ্য গোপন করেছে বলে অনেকেই সন্দেহ করছে। খোদ বাংলাদেশের মানুষই যে কোন কারনেই হোক সরকারী হিসাবে আস্থা রাখে না। কেন রাখে না - সেই আলোচনায় যেতে চাচ্ছি না। ফলে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা নিয়েও সাধারন মানুষের একটা বড় অংশে বিভ্রান্তি বা দ্বিধা আছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি সত্য মিথ্যার ফারাকে যাবো না। জাস্ট সরকারী হিসাবকেই যদি আমি বিবেচনায় আনি, তাহলে বুঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। ফলে সামনে যে আমাদের জন্য একটা কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে এটা যত দ্রুত আমরা বুঝব, ততই আমাদের মঙ্গল। আশা করি, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করবো, বাস্তবতা বুঝব। তবে আফসোসের ব্যাপার, ইতিহাস বলে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহন করে না। যদি করত, আজকের পৃথিবী আরো অনেক সুন্দর হতো।

অতএব প্লীজ এখনও সময় আছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। সর্তক হোন। সব কিছু সরকারের উপর চেয়ে থাকবেন না। দার্শনিক হার্বাট স্পেন্সারের একটা বিখ্যাত উক্তি আছে - সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট। সামনে সত্যিকারের সময় ঘনিয়ে আসছে যেখানে যোগ্যতমরাই টিকে থাকবে। নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে আর কারো জন্য না হোক, অন্তত নিজের জন্য প্লীজ সচেতন হোন। আগামী দুই বছর অন্তত এই করোনার সাথে আমাদের লড়াই করতে হতে পারে। আফসোস, এই দেশের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে করোনা এখনও ফাজলামি। হাসি ঠাট্টার ব্যাপার। সামনে এই হাসি ঠাট্টা বের হয়ে যাবে - যদি না কোন মিরাকেল ঘটে।

এবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রসঙ্গে আসি। প্রথমেই আমাদের দেশের এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীদের নিন্দা জানাই। এরা অমানুষ, এদের কাছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বলে কিছু নাই। টাকাই এদের আসল ধর্ম। যদিও ধর্মীয় লেবাস এদের খুবই পছন্দ। আর এই সব জালেমদের আমরাই পথ দেখাই, একটার জায়গায় দশটা কিনে। বিশ্বে যখন করোনার প্রকোপ শুরু হয়, তখন অনেক আমদানীকারন চায়না থেকে বিভিন্ন হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক আমদানী করেন, কেউবা দেশে কাঁচামাল আমদানী করে ক্যামিস্ট দিয়ে মাল প্রস্তুত শুরু করেন। প্রথম লটেই অনেক ব্যবসায়ী দাম বৃদ্ধি করে রাতারাতি বড়লোক হয়ে যান। ধরুন আপনি ৫০ মিলির হ্যান্ড স্যানিটাইজার আমদানি করলেন ৪২ টাকায়। পাইকারিতে বিক্রি হবে ৫৫-৫৮ টাকায় আর খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। মার্চের তৃতীয় সাপ্তাহে এই একই পন্য পাইকারীতে বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়। আর খুচরা বিক্রি হয়েছে ১৫০/১৬০ টাকায়। পরে যখন আমদানী বন্ধ হলো, তখন অনেকেই দেশে মিডফোর্ড থেকে কেমিক্যাল নিয়ে, খ্যাপে ক্যামিষ্ট নিয়োগ করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন শুরু করল। যারা মোটামুটি সৎ তারা নিজেরা নতুন ব্র্যান্ডের নাম দিতো। আর বাকিরা সবাই ধুমছে পরিচিত কোম্পানীর সিল ও বোতল স্টাইল কপি করে বাজারে বিক্রি শুরু করল। ধরুন বিশ হাজার পিস ১০০ মিলি হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার বানাতে খরচ ৩০ টাকা প্রতিপিস। পাইকারী বিক্রি হইছে ১২০ টাকা। খুচরা ২০০ টাকা। সেই হিসাবে খরচ ৬ লাখ টাকা। আর প্রফিট ১৬ লাখ টাকা। প্রতি সাপ্তাহে অনেকেই আছেন যারা ১ লাখ পিস পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। আর যারা অরিজিনাল প্রোডাক্ট আমদানি করেছেন তাঁরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। নকল মালের যন্ত্রনায় অনেকেই আসল মাল বিক্রি করতে পারছেন না।

এরপর হাইপ তৈরী হলো মাস্কের ব্যাপারে। মাস্ক বা পিপি কেন ব্যবহার করবেন, মাস্কের কি কাজ ইত্যাদি না জেনেই শুরু হলো ফেসবুকে স্পেশালিস্ট মতবাদ দেয়া। কিছুদিন আগে ব্লগার শেয় শায়রী ভাই একটা পোষ্ট দিলেন মাস্কের ব্যাপারে। তিনি আগে থেকে জানতেন আমরা পারিবারিকভাবে আমদানী ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি কিছু অরিজিনাল মাস্কের সন্ধানে ছিলেন। কারন উনার অনুসন্ধানীমুলক মনোভাব কারো অজানা থাকার কথা না। তিনি জানতেন অরিজিনাল বা ভালো মাস্ক ছাড়া নকল মাস্ক ব্যবহারে কোন লাভ নেই বরং আরো ক্ষতি হবার সম্ভবনা থাকে। তখন যখন আমি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলাম, সেই সময়ে দেখা গেল আমেরিকান সরকার এন৯৫ মাস্ক রপ্তানী বন্ধ করে দিলো। পরিচিত একজনের মাধ্যমে দুইটা বহু কষ্টে আনানো হলো, জিনিসটা কি বুঝার জন্য। তারপর বাজারে খবর মিলল, করোনা প্রতিরোধে যে সকল মাস্ক উপযুক্ত তার একেক অঞ্চলে একেক নাম যেমন আমেরিকায় যেটা এন৯৫ সেই মানের মাস্ক চায়নায় কেএন৯৫ নামে পরিচিত। আমাদের বাংলাদেশের কিছু ফ্যাক্টরী অল্প কিছুদিন আগে আমেরিকার এন৯৫ সমমানের মাস্ক বানানোর অর্ডার পেয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সাপ্তাহেই দেখলাম বাজারে কারা যেন এন৯৫ মাস্ক বিক্রি করছে। বুঝলাম স্যাম্পলের জন্য যে মাল বানানো হয়েছিলো, যা অনুমোদিতও হয় নি, সেটাই বাজারে এক শ্রেনীর মানুষ বিক্রি করা শুরু করেছে। এই বিষয়ে লিখতে গেলে অনেক সমস্যা। কান টানলে মাথা আসবে। কারা যেন দুষ্টামি করে আমাদের সরকারের হাতে এই জিনিস ধরিয়ে দিয়েছিলো। আবার এই ডিলের সাথে সম্ভবত যুক্ত ছিলেন একজন আমলা। যাইহোক, এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। আপনি গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিন।

তো বাজারে এর পর শুরু হলো কেএন৯৫ মাস্ক এর চাহিদা। চায়নার বিভিন্ন কোম্পানী দুই নাম্বার মাস্ক বানিয়ে ইতিমধ্যে কানাডায় পাঠিয়েছিলো। কানাডা সরকার সব ফেরত দিসে, এই পর্যায়ে চায়নিজ সরকার এই সব নকল মাস্ক বন্ধ করার জন্য সকল প্রকার মেডিকেল সামগ্রী রপ্তানী বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইতিমধ্যে বাংলাদেশে প্রচুর নকল চাইনিজ কেএন৯৫ মাস্ক চলে আসে। যা আমদানী সহ খরচ ৭০ টাকা। এইগুলো বিক্রি হয়েছে ৩০০/৪০০ করে। মানুষ প্রচুর কিনেছে। এরপর আমাদের দেশীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলো। বাংলার চায়না হিসেবে বিখ্যাত পুরানো ঢাকার ইসলামবাগ, জিঞ্জিরার বিভিন্ন ছোটখাট গার্মেন্টস শুরু করলো গেঞ্জি কাপড়, ইচ্ছেমত জুট কাপড় দিয়ে মাস্ক বানানো। খরচ ৭ টাকা। বিক্রি ২০ টাকা। খরচ ১৫ টাকা। বিক্রি ৪০ টাকা। গণ মানুষ ধুমাইয়া কিনলো এই সব। এরপর আমাদের ব্যবসায়ীরা ভাবলেন, শালার আমরা কি কেএন ৯৫ মাস্ক বানাতে পারবো না? সুন্দর মত সাদা গেঞ্জি কাপড়, প্লাস্টিক ইত্যাদি মিলাইয়া তারা বানাইলো এন৯৫। অনেক আমদানী কারন অরিজিনাল মাস্কের প্রতিটার প্যাকেট আনে না বাড়তি ওয়েটের ভয়ে। আর আমাদের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা প্রতিটি নকল পন্যকে প্যাকেট করে, প্লাস্টিকে র‍্যাপিং করে, সেখানে আবার জলছাপে চাইনিজ কোড দিয়ে বিক্রি করছে ১২০/১৫০ টাকা। খরচ ৪৫ টাকা। খোদ চাইনিজরাও দ্বিধায় পড়বে এটাকে ডুপ্লিকেট মাল বলার জন্য।

ফলে একজন আমদানীকারকের মাথায় হাত। একটা অরিজিনাল কেএন ৯৫ মাস্ক এর ফ্যাক্টরী প্রাইজ প্রায় দেড় ডলারের বেশি। এর সাথে যুক্ত আছে এয়ার শিপমেন্ট কস্ট, ট্রান্সপোর্টেশন কস্ট, কাস্টমস ফরমালিটি। এয়ার শিপমেন্ট এর কারনে কস্টিং বেশি পড়ে। সেই হিসাবে আমি প্রফিট বাদ দিয়ে শুধু কস্টিং আর অফিস খরচ তুলতে চাই তাহলে প্রতি মাস্ক আমাকে ২৩৬ -২৪২ টাকার মত বিক্রি করতে হবে।

শের শায়রী ভাইয়ের পোষ্ট দেখলাম না জেনে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। অবশ্য ঊনারা এই কাজ প্রায়ই করেন। বিভিন্ন পোষ্টে উনাদের মন্তব্য দেখলে মনে হয় ওহি নাজিল হয়েছে। ইহাই চিরন্তন সত্য। অথচ বাস্তবতার ধারে কাছে উনারা অবস্থান করেন না। তেমনি একজন বললেন, KN95 মাস্ক মুলত ডাক্তার ও স্বাস্থকর্মীদের দরকার। সাধারন মানুষের দরকার নাই।

কি হাস্যকর কথা বার্তা। KN95 দুইটা কোয়ালিটির আছে। একটা ডাক্তার ও স্বাস্থকর্মীদের জন্য আর একটা সাধারন মানুষদের জন্য। আপনি মন চাইলেই ডাক্তারদের জন্য KN95 আমদানী করতে পারবেন না চায়না থেকে। এটার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চাহিদাপত্র লাগবে এবং আরো বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন। তা না হইলে আমাদের বাংলাদেশী চায়নিজ ভাইয়েরা এটাও কপি বের করে ফেলতেন। আমাদের ভাইয়েরা কপি করছেন যা সাধারন মানুষদের জন্য সেটা। তাও নকলগুলো থেকে নকল করছে। এই মাস্কগুলোর সমস্যা হচ্ছে, এই মাস্কগুলো সুক্ষ থেকে সুক্ষ জীবানু আটকাতে সক্ষম নয়। এইগুলো নাকের সাথে ডিসটেন্স খুবই কম। ফলে আপনি হাঁচি দিলে তা পুরোটাই ভিজে যাচ্ছে এবং ব্যবহারকারীর জন্য অস্বস্তির সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি, এইগুলোর মাধ্যমে অন্য রোগের জীবানুও ছড়াতে পারে। বিপদ হচ্ছে থ্রি লেয়ার মাস্ক বলতে যারা মাস্কের ভেতর তিনটা কাপড় বুঝেন তাদেরকেই আবার দেখি অনেক জায়গায় বলতে গেঞ্জি কাপড় দিয়েই মাস্ক বানানো সম্ভব। যাইহোক। যার যার বুঝ তার তার কাছে।

যারা অরিজিনাল KN95 বিক্রি করেছেন ঢাকায় আমার জানা মতে তারা কেউই ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করেন নি। আমি মনে করি এই বিপর্যয়ে ২৫০ টাকা বিক্রি করাই ভালো। অনেকেই বলেন ভাইরে আমার সাধ্য নাই। এটা ভুল কথা। কারন আপনি আমি নকল প্রোডাক্টই কিনছি প্রায় আসল পন্যের দামে। তাহলে খোঁজ নিয়ে আসল পন্য কিনতে সমস্যা কোথায়?

আমার পরিবারের অনেক সদস্যই ব্যাংকে চাকরি করেন এবং ডাক্তারি পেশায় জড়িত। ফলে তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাকে ভাবতে হয়। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমি খোজ খবর নিয়েছি। পরিবারের লোকদের কথা ভেবে মাস্ক সংগ্রহ করেছি। কারন ইতিমধ্যে আমার পরিবারের একজন সদস্যকে এই বিপর্যয়ে আমি হারিয়েছি। বিষয়টার গুরুত্ব তাই আমি বুঝি।

সবাই নিরাপদে থাকবেন। এই প্রার্থনাই করি। এত বিশাল পোষ্ট পড়ার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ

মন্তব্য ২৬ টি রেটিং +২০/-০

মন্তব্য (২৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ২:০৬

নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নহে বলেছেন: আফসোস, এই দেশের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে করোনা এখনও ফাজলামি। হাসি ঠাট্টার ব্যাপার। সামনে এই হাসি ঠাট্টা বের হয়ে যাবে - যদি না কোন মিরাকেল ঘটে।
সত্যিই তাই। /:)
আমাকে বাইরে যেতেই হচ্ছে, প্রফেশনটাই এমন। :((

*ভাই আপনাকে আমি টেক্সট করেছি, সময় করে রিপ্লাই দিয়েন প্লিজ।

২৬ শে মে, ২০২০ রাত ৯:৫৬

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: ভাইয়া, আমি তো আপনাকে কল ব্যাক করেছিলাম অন্য একটা নাম্বার থেকে কিন্তু আপনাকে পাই নি। :(

২| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৩:০৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


সরকারের গুরুত্বপদে থাকা কেহ জাতিকে করোনার ব্যাপারে সঠিক তথ্য ও পথ-নির্দেশনা দেয়নি; আবার, সরকারের উপর মানুষের আস্হা না থাকাতে মানুষ অনেকটা এনার্খী মনোভাবের হয়ে গেছে; দেশ আসলে এনার্খী ও বিশৃংলার মাঝে ডুবে গেছে; এখন অনেকটা করোনার প্রাকৃতিক আচরণের উপর জতিকে নির্ভর করতে হবে।

আপনি সঠিকভাবে আমাদের জাতিরবর্তমান অবস্হা তুলে ধরেছেন।

৩| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৩:১৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনার প্রথম প্যারাটা একেবারেই আমার মনের কথা। তবে ব্লগারগণকে আমি যেহেতু সমাজের অন্যতম সচেতন গোষ্ঠি বলে মনে করি, তাদের মধ্যে কেউ যদি এসব নিয়ে কনফিউজিং কথাবার্তা বলেন, সেটা হতাশাব্যন্জক।

যতোটুকু দেখেছি.....এই ভাইরাসটা আসলেই ভয়াবহ টাইপের। বিজ্ঞানীরা সমস্যায় আছে এটাকে নিয়ে। সবকিছু গুছিয়ে আনার পরে এটা যদি আবার নিজে নিজে রুপান্তর ঘটায় তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। সচেতনতা আর প্রিভেনশানের কোন বিকল্প নাই; এটাই আমাদের একমাত্র যুদ্ধাস্ত্র। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

৪| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৩:২৩

নিমো বলেছেন: SARS-CoV-2'র বিবর্তন নিয়ে আমি যতটা না আতঙ্কিত, তার চেয়েও বেশি আমাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার সক্ষমতা নিয়ে। কেননা বিবিসি'র নিচের নিবন্ধ অনুযায়ী আমরা করোনাভাইরাস পরীক্ষার সক্ষমতায় সর্বনিন্ম স্তরে আছি বললেও অত্যুক্তি হবে না।
Why are coronavirus tests so difficult to produce?

Despite how crucial testing is, some countries have far more tests than others – and that testing isn’t available to everyone. The reason comes down to several factors, including timing, logistics, and the complexity of collecting samples, obtaining the raw materials and equipment for testing, and having the expertise to do the tests accurately.

৫| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৩:২৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




কাল্পনিক_ভালোবাসা ভাই,
আমার স্ত্রী সরকারি মেডিকেল কলেজের ডাক্তর, তিনি শিশু ডাক্তর। করোনা সংক্রান্ত ভয়াবহতা ও খবরাখবর নিজ বাসায় লাইভ পাচ্ছি। আর শুরুতে করোনা নিয়ে হতাশা নয় আশা ও সাহসীকতা প্রয়োজন একটি পোস্ট লিখে পরবর্তীতে ব্লগারদের ভয়ে ভয়ে আর কিছু লিখার সাহস করিনি। মন্তব্যও করিনি। কারণ - “বোবার শত্রু নাই” ব্লগের ক্যাচাল আর ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প লিখবো - এই যা।

আপনার পুরো পোস্ট পড়েছি। প্রতিটি বাক্যে সমর্থন করছি, অনেক শ্রম দিয়েছেন লিখতে। আশা করি মাঝে মধ্যে সম সাময়িক ও আপনার পছন্দ অপছন্দ নিয়ে লিখবেন।

ভালো থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

(অনুগ্রহ করে ৩ নং মন্তব্যটি মুছে দিন বাক্যে ভুল আছে সেখানে)

৬| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৩:৫০

নেওয়াজ আলি বলেছেন: দেশের শাসকগোষ্ঠী প্রথম প্রথম করোনা নিয়ে এমন সব কথা বলেছে যে মানুষের আস্তা উঠে গিয়েছে । আর জনগণ গুরুত্ব না দেওয়ার ফল পেতে শুরু হয়েছে। প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে স্বপ্ন যাবে বাড়ি করোনার চাষ করতে।

৭| ২৩ শে মে, ২০২০ ভোর ৪:৫৭

নতুন বলেছেন: দেশে যেই হারে টেস্ট করছে তাতে কোন লাভ হবে কিনা বুঝতে পারছিনা। দিনে ১০ হাজার টেস্ট করলেও দেশের ১০% মানুষকে টেস্ট করতে কত সময় লাগবে? মনে হয় ৪ থেকে ৫ বছর।

তাই এখন হাড` ইমিউনিটির মতন পরিস্হিতিতে কি করা দরকার সেই ভাবনায় যেতে হবে সচেতন মানুষদের।

* মুরুব্বিদের পুরোই লুকিয়ে ফেলতে হবে। ( ৬০ এর উপরের মানুষদের ঘরে আইসোলেসনে রাখা দরকার)
* ০ থেকে ৩০ পযন্ত বয়সের মৃত্যুর হার মনে হয় কম। কিন্তু ৪০ এর উপরের মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকবে।

দেশে এখন নিউমোনিয়ার প্রকপ কম তাই হয়তো কোন কারনে আমাদের দেশে করোনায় মানুষ আক্রান্ত হলেও ফুসফুসে আক্রমন করে বেশি খারাপ পযায়ে যাচ্ছেনা।

আশা করি এমন কোন একটা বিষয় যেন আমাদের দেশের জন্য আশিবাদ হয়ে করোনার প্রকোপ কমাতে সাহাজ্য করে।

এখন সারভাইভ্যাল অফ দি ফিটেস্ট মেনে নিজেদের সচেতন হতে হবে। অন্য কোন পথ জনগন বা সরকারের কাছ থেকে আশা করা যায় না।

৮| ২৩ শে মে, ২০২০ সকাল ৯:১৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: উপকারী একটি পোস্ট।

৯| ২৩ শে মে, ২০২০ সকাল ১০:৫৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: কাল্পনিক_ভালোবাসা,



শুধু চমৎকারই নয়, বলবো - কঠিন বাস্তবেরই একটি চিত্র।
করোনার যে কোনও চরিত্রই নেই সে কথা আপনার লেখাতেও যেমন উঠে এসেছে তেমনি উঠে এসেছে করোনার চরিত্র চিত্রিত করার কাজে লেগে থাকা বিজ্ঞান শিল্পীদের ছবিতেও।
সব তথ্য-উপাত্ত থেকে এটা পরিষ্কার যে, করোনা যে কারো কপালে জুটতে পারে যে কোনও সময়, যে কোনও পরিবেশে কোনও কারন ছাড়াই আর তা বাসা বাঁধতে পারে খুব গোপনে, জানান না দিয়েই।
তাই এই চরিত্রহীনার কাছ থেকে সর্বতঃ ভাবে দূরে সরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। অর্থাৎ কমপ্লিট আইসোলেশান। কিন্তু কতোদিন ?

জীবন জীবিকার প্রশ্নে ভাগ্যবান বাদে আপামর মানুষকে বাঁচামরার সাথে তো আপোস করতেই হবে! তাই এটাই মনে হয় ভালো যে, আমার চারপাশে সবাই করোনাক্রান্ত ধরে নিয়েই নিজের সুরক্ষার স্বার্থে ৪/৫ হাত দূরত্ব বজায় রেখে, মুখে মাস্ক পড়ে, হাত গ্লাভসে ঢেকে শুধু প্রয়োজনের সময়টুকুতে বাইরে বের হওয়া। গবেষণা যাই-ই বলুক এখনও তা এখনও সর্বাঙ্গীন নয়, আজকের আশাটুকু কালকেই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় নিজেকে সুরক্ষিত রেখে মানুষের ভীড়ের মাঝে্ও যেন নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা যায় তার চেষ্টা করতেই হবে। আর সেটা সম্ভব প্রথমত উন্নত মানের মাস্ক আর দ্বিতীয়ত হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহারে।
আপনার লেখা সেটার নির্দেশনাই দিয়েছে।

সবাই থাকুক নিরাপদে।

১০| ২৩ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:০৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ইতিমধ্যে আমার পরিবারের এক সদস্যকে এই বিপর্যয়ে আমি হারিয়েছি। খুবই দুঃখজনক। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আমরা কখন কাকে হারাই, নিজেই না কখন যে চলে যাই- পরিস্থিতিটাই এখন এরকম।

অসৎ ব্যবসা ও করোনা পরিস্থিতির বাস্তব অথচ খুবই ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর চিত্র তুলে ধরেছেন। মনে সাহস রাখার প্রয়োজন, কিন্তু সাহস রাখার মতো কোনো উপাদান ঠিকই পাচ্ছি না।

করোনা দিন দিন তার বৈশিষ্ট্য বদলাচ্ছে, যা হলো আমার মতে সবচাইতে আতঙ্কের দিক। আমার সউদী প্রবাসী ছোটো ভাই ৪/৫দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। জ্বর ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ নাই। আজ সকালে সে সেহরি খেতে পারলো না, শরীর দুর্বল। দাঁড়ানো অবস্থা থেকে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হলো। জ্ঞান ফেরার পর বমি করলো। শরীর দুর্বল ছিল ২/৩ দিন ধরেই। এগুলো করোনার কোনো উপসর্গ না বলেই জানতাম। কিন্তু আজ করোনার উপসর্গ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বার বার চমকে উঠছি।

আমাদের ইমিয়্যুন সিস্টেম স্ট্রং রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। একটা পরিসংখ্যান আমার জানতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু পাচ্ছি না- করোনা আক্রান্তরা প্রধানত কোন শ্রেণির অন্তর্গত। গ্রাম, নাকি শহরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি? সচ্ছল, নাকি অসচ্ছল শ্রেণির মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শহরের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা একটু থাকলেও গ্রামের মানুষদের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতার যেমন অভাব, তেমনি রয়েছে অবহেলা বা স্বাস্থ্য নির্দেশনা না মানার প্রবণতা। গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সেটা সত্যিই ভয়াবহ বিপর্যয় হবে। কারণ, তাদের ইমিয়্যুন সিস্টেম গড়পড়তা অনেক নীচু লেভেলের। পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম না এদের একটা বড়ো অংশ।

আরেকটা সম্ভাবনা অবশ্য আছে। অনেক সময়, সামান্য জ্বর-কাশি রাতের বেলা ঘুমের ঘোরে আসে, একসময় তা আপনাআপনি চলেও যায়। হয়ত-বা, করোনাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরকম হবে, কেউ কেউ টেরও পাবেন না যে তার শরীরে করোনা ঢুকেছিল, একসময় তা চলেও যাবে।

আপনি ঠিকই বলেছেন- এনি হাউ, প্রত্যেককেই এখন নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করে চলতে হবে। এ ছাড়া গত্যন্তর দেখি না।

একটা সুন্দর পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণমূলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ রইল জাদিদ ভাই।



১১| ২৩ শে মে, ২০২০ দুপুর ১:১২

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রিয় জাদিদ ভাই, প্রথমেই সমবেদনা জানাচ্ছি আপনার এক নিকটজনের দুঃখজনক পরিণতির জন্য।আপনি করোনার কিছু বিষয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়েছেন।আমি এসব বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরছি-

১)ইনকিউবেসন পিরিয়ড:শরীরে ভাইরাস ঢোকার পর থেকে উপসর্গ তৈরির পূর্ব সময়টাকে ইনিকিউবেসন পিরিয়ড বলে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধরেই নিয়েছে এ সময়টা ১৪দিনের বেশি নয়।সুতরাং কোন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখলেই যথেষ্ট।কিন্তু চীনসহ অন্যন্য দেশে কিছু রোগির ক্ষেত্রে এ পিরিয়ড ১৯দিন ও ২৪ দিন দেখা গেছে।সুতরাং ১৪দিনের কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেসন কাজ নাও করতে পারে।আমার জানা মতে উত্তর কোরিয়া একমাত্র দেশ যারা ৩০দিনের কোয়ারেন্টাইন ফলো করেছে।

২)রোগির শরীর থেকে ভাইরাস যেতে বেশি সময় লাগছে কেন?- এ বিষয়ে আমি আমার করোনা বিষয়ক পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অংশটুকু কোট করছি "ইমিউন সিস্টেমের আরও দুই অতন্দ্র প্রহরী হলো টি-লিম্ফোসাইট ও বি-লিম্ফোসাইট। টি-লিম্ফোসাইট সরাসরি এবং বি-লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে আক্রমণকারী জীবাণুকে ধ্বংস করে থাকে।উভয় লিম্ফেসাইটেরই আবরণীতে সায়ালিক এসিড আছে। এসব কোষ করোনা ভাইরাস দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে এবং সাইটোকাইন দ্বারা পরোক্ষভাবে আক্রমণের শিকার হয় এবং মারা যায়।এজন্য করোনা রোগির রক্তে লিম্ফোসাইটের মাত্রা কমে যায় (বিশেষত টি-লিম্ফোসাইট) যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘লিম্ফোপেনিয়া’ বলে।করোনা রোগি ভালোর দিকে যাচ্ছে না খারাপের দিকে যাচ্ছে তা লিম্ফোসাইট পরিমাপ করে ধারনা পাওয়া যায়।উল্লেখ্য এইডস ভাইরাস টি-লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করেই রোগ তৈরি করে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অ্যান্টিবডি তৈরিকারী বি-লিম্ফোসাইট আক্রান্ত হলে করোনার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি বাঁধাগ্রস্থ হয় ফলে রোগ দীর্ঘায়িত হয় (করোনা রোগির আক্রান্তের হারের চেয়ে সুস্থ হওয়ার হার অনেক ধীর হওয়ার এটি একটি কারণ) এবং অনেকক্ষেত্রে ভাইরাসের সংখ্যা ও এর দ্বারা ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে রোগ জটিল পর্যায়ে চলে যায় বা রোগি মারা যায়।বি-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে আরও ৩টা সমস্যা হতে পারে এক.- পরিমিত অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়ায় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই রোগি আবার করোনায় আক্রান্ত হতে পারে যা বর্তমানে বেশকিছু কেসে দেখা যাচ্ছে দুই.- প্রাকৃতিকভাবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হবে না যার ফলে অসংখ্য মানুষ মারা যাবে তিন.- পরিমিত অ্যান্টিবডি না থাকলে সে প্লাজমা ‘কনভ্যালিসেন্ট প্লাজমা থেরাপি’-তে ব্যবহার করে কোন রোগিকে সুস্থ করা যাবে না।

৩)হঠাৎ মৃত্যু- করোনা হৃদপিন্ড,ব্রেন,রক্তনালীকেও আক্রমণ করতে পারে বিধায় হার্টবিটের ছন্দ হারিয়ে রোগি মারা যেতে পারে যাকে কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া বলে।হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যেতে পারে।স্ট্রোক হয়ে মারা যেতে পারে।আর সবচেয়ে বেশি যে কারণে ভেন্টিলেটরে থাকা রোগি মারা যাচ্ছেন তাকে 'সাইটোকাইন ঝড়' বলে।সাইটোকাইন স্টর্মের ব্যাপারে আমার পোস্টের অংশবিশেষ কোট করলাম " কারণে দেহের কোষগুলো যখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন এদের নিঃসৃত নানা উপাদানে উদ্দীপ্ত হয়ে ইমিউন সিস্টেমের শ্বেত রক্ত কণিকাসমূহ প্রচুর পরিমাণে প্রদাহসৃষ্টিকারী জৈব রাসায়নিক উপাদান ‘সাইটোকাইন’ নিঃসরণ করে যা ‘সাইটোকাইন ঝড়’ নামে পরিচিত।সাইটোকাইন ঝড়ের কারণে সেপটিক সক বা তীব্র মাত্রার শ্বাসকষ্ট (Severe acute respiratory distress) এর মত অবস্থা তৈরি যা করোনা রোগির মৃত্যুর প্রধান কারণ।এসময় রোগিকে ভেন্টিলেটরে দিয়েও খুব একটা লাভ হয় না।এ কারণেই আইসিইউতে ভেন্টিলেটরে রাখা রোগিদের অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করে।"

৪)টেস্ট নেগেটিভ আসা- এ বিষয়ে অঅমার পোস্টের অংশবিশেষ কোট করছি "আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েসনের জার্নালে (JAMA) প্রকাশিত এক স্টাডি রিপোর্টে দেখা যায় নাক থেকে নেয়া নমুনায় ৬৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হয়েছে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে।আর ফুসফুসের ভিতর থেকে নেওয়া ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ তরল নমুনায় ৯৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।আর কফের ক্ষেত্রে সেটা ৭২%। অর্থাৎ আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে রোগ থাকার পরও সব রোগির টেস্ট পজিটিভ আসে না।আরটি-পিসিআর টেস্টের সেনসিটিভিটি কম।সুতরাং নাক থেকে নমুনা নিয়ে টেস্ট করার পর নেগেটিভ আসলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে তার করোনা নেই।অতএব যারা আরটি-পিসিআরকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা বলছেন তাদের এই সীমাবদ্ধতার কথাটি বিশেষভাবে স্মরণ রাখা উচিৎ। "

৪)বুকের সিটি স্ক্যান- করোনায় সিটি স্ক্যানের গুরুত্ব অপরিসীম।আপনি যে সিটি স্ক্যানের ছবি দিয়েছেন তাতে ফুসফুসে করোনা প্রদাহে যে পানি জমে তার চিত্র যেটা খুব কমন।চিকিৎসা পরিভাষায় এটাকে 'গ্রাউন্ড গ্লাস অ্যাপিয়ারেন্স' বলে।ফুসফুসের কনসোলিডেসনের কারণেও সাদা সাদা দেখা যায়।সিটি স্ক্যানের ব্যাপারে আমার পোস্ট থেকে কিছুটা কোট করছি "‘রেডিওলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে জানা যায় চীনে ১০১৪জন রোগির মধ্যে মাত্র ৫৯% ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর পজিটিভ রেজাল্ট শো করেছে কিন্তু ৮৮% ক্ষেত্রে তাদের বুকের সিটি স্ক্যান পজিটিভ ছিলো।আবার আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রোগিদের ৭৫% জনের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান পজিটিভ ছিলো।এছাড়াও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা পজিটিভ হওয়ার পূর্বেই ৪২% রোগির বুকের সিটি স্ক্যান পজিটিভ পাওয়া গেছে। এসব দিক বিবেচনায় বুকের সিটি স্ক্যান হতে পারে প্রাথমিক পর‌্যায়ে করোনা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ।হয়ত এ কারণেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে চীনা বিশেষজ্ঞদের টেলিকনফারেন্সের সময় চীনা বিশেষজ্ঞরা জানতে চেয়েছিলো বাংলাদেশের সিটি স্ক্যান করার সক্ষমতা কেমন?"। সুতরাং কারো যদি উপসর্গ থাকার পরও পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ আসে কিংবা রিপোর্ট পেতে দেরি হয় এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকে সেক্ষেত্রে বুকের সিটি স্ক্যান করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আমি দুঃখিত মন্তব্যটি অনেক বড় হয়ে গেল।হয়ত কোন কোন আগ্রহী পাঠক এ থেকে কিছু তথ্য পাবেন।

আপনার উদ্বেগের সাথে মিলিয়ে বলছি মানুষ যদি সচেতন না হয় এবং দৈবক্রমে যদি করোনা নির্মূল না হয় সেক্ষেত্রে মানবজাতিকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

১২| ২৩ শে মে, ২০২০ দুপুর ১:৪৯

নীল আকাশ বলেছেন: কোন লাভ নাইরে ভাই।
প্রতিটা দেশে করোনার সাথে ফাইট করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একট শক্তিশালী টীম বানানো হয়েছে যারা নীতি নির্ধারন করেন কখন কোন কাজটা করতে হবে। সুখবর হচ্ছে আমদের দেশেও আছে তবে সবগুলি সার্কাসের ক্লাউন। এরা নিজেরাও জানে করোনা কি? যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ভাবে কাজ শুরু না হবে, কোন কিছুই লাভ হবে না।
আপডেটঃ ঈদের ছুটিত সবাই যার যার নিজস্ব গাড়ী নিয়ে ইচ্ছে করলে নাকি গ্রামের বাড়ী বেড়িয়ে আসতে পারবেন। নতুন সরকারী নির্দেশন দেখলাম আজকে। সাবাস বাংলাদেশ। এরপর কেওক্রাডং এর উপরেরও করোনা ভাইরাস পাওয়া যাবে।

১৩| ২৩ শে মে, ২০২০ দুপুর ২:৩১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: পুরো লেখাটা গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিতে চাইলেও পরিবারের একজনকে হারিয়েছেন জানার পর সেটা আর করা যাচ্ছে না।

জাতি হিসেবে আমাদের অন্যতম একটা গুণ হলো যে বিষয়ে জানি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেওয়া। এই একটা ব্যাপারে আমরা কি পরিমাণ দক্ষ, তা তো আমরা করোনার প্রাক্কালে কর্তাব্যক্তিদের কথাবার্তায় দেখেছি। তারই ধারাবাহিকতা ব্লগার/ফেসবুকারদের মধ্যে থাকবে, এ আর আশ্চর্যের কি!

সমস্যা হলো, এই বিজ্ঞানীদের জন্য আমাদের মত সাধারণ মানুষদের সিদ্ধান্ত নেয়াটা কঠিন হয়ে যায়।

১৪| ২৩ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:৪০

মেহবুবা বলেছেন: অদ্ভুত একটা শিরোনামে কত প্রয়োজনীয় একটা লেখা ।
মাস্ক নিয়ে কত কি কান্ড জানি অনেকের একই অভিজ্ঞতা ।

করোনা মহামারীর এই সময়ে যখন অদৃশ্য এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে প্রায় স্থির কলে দিল আবার বার বার তার প্রকৃতি পাল্টে আমাদের বোকা বানাচ্ছে তখন এই বিপদে আশা করেছিলাম মানুষ সৎ হবে, মৃত্যু ভয় তাকে টেনে রাখবে অন্যায় থেকে; কিন্তু মনে হল সে গুড় এ বালি।

১৫| ২৩ শে মে, ২০২০ বিকাল ৫:০২

সাইন বোর্ড বলেছেন: তথ্যবহুল পোষ্ট, এত বিপর্জয়ের পর করোনাকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই । কে জানে, সামনে হয়ত আরো ভয়াবহ দিন আসছে ।

১৬| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: মাস্ক নিয়ে যা শুনি এর বেশির ভাগই বিভ্রান্তিকর।
কোনটা যে নিরাপদ ভেবে পাইনা।

১৭| ২৩ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০০

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার লেখা ভালো লাগে।
আপনি যে কেন নিয়মিত পোষ্ট দেন না !!!!

১৮| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৮:৩৯

রাকু হাসান বলেছেন:


নতুন--ভাইয়া
তাই এখন হার্ড` ইমিউনিটির মতন পরিস্হিতিতে কি করা দরকার সেই ভাবনায় যেতে হবে সচেতন মানুষদের।---
আমার ধারণা সরকার পুরোপুরি হার্ড ইমিউিনিটির দিকে হাঁটছে। সরকারের স্ডাডি হয়তো বুঝতে পারছে এত সব টেস্ট,কোয়ারেন্টাইন ,চিকিৎসা করার মত বাংলােদেশের নেই । সেই সাথে দীর্ঘ দিন লক ডাউন রাখাও সম্ভব নয় । তবে সরকার অনন্ত ১ম একমাস হার্ড লক ডাউন পালনে বাধ্য করতে পারতো । এখন সরকারের সিদ্ধান্তগুলো পর্যবেক্ষণ করে আমার মনে হচ্ছে তা হার্ড` ইমিউনিটির দিকেই যাচ্ছে।

কাল্পনিক ভালোবাসা ভাই। --- এখন পর্যন্ত একাধিক বার ।কভিড-১৯ মিউটেশন হয়েছে । স্থান-কাল পাত্র ভেদে লক্ষণও বিচিত্র। তাই আপনার ধারণার সাথে আমিও একমত পোষণ করছি। এখন আমাদের ব্যক্তির সুরক্ষায় অধিক নজর দিতে হবে । ব্যক্তিগত মতামত হলো হার্ড ইমিউনিটির দিকে হাঁটা ছাড়া সরকারের কাছে সহজ উপায় নেই । হাটছেও। আমি ভেবে পাচ্ছি না ,সরকার কেন এন্টিবডি টেস্টে জোর দিচ্ছে না ? গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে তো নটাক চলছেই । কিছু দিন আগেও বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এন্টিবডি টেস্টের স্বীকৃতি দেয় নি। রাশিয়া,আমিরিকার মত দেশ গণহারে এন্টিবডি টেস্ট করাচ্ছে সেখানে আমরা শুরুই করলাম না । হাস্যকর একই সাথে দুঃখজনক লাগে। এখন অবশ্যই এন্টিবডি টেস্টও শুরু করা উচিত । দুইটাই চলতে পারে এক সাথে।

ন্যবাদ
নতুন ,আহমেদ জী এস,সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই ,জাফরুল মবীন সহ প্রমুখ ব্লগারদের সুন্দর মন্তব্য উপহার দেওয়ার
জন্য । মন্তব্যে লাইকড । ধন্যবাদ কাল্পনিক ভালবাসা ভাই। এমন একটি লেখা অবশ্যই ব্লগে প্রয়োজন ছিল ।

১৯| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৯:০৩

ডক্টর লেকটার বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে নিজেই কনফিউজড হয়ে গেলাম, আসল আর নকল N95 আর KN95 এর প্যাচে হারাইয়া গেলাম। আপনি একটা জায়গায় বলেছেন KN95 দুই ধরনের হয়, ইনফোতে একমত না। N95 এর স্পেসিফিককেশন একটাই এবং সেটা প্রায় শতভাগ 3M এর N95 এর মতই, ডাক্তার আর সাধারণ মানুষের জন্য দুই ধরনের KN95 এর অস্তিত্ব নেই। আপনার সামর্থ থাকলে (এবং খুঁজে পেলে) N95 ইউজ করতে পারেনই, কিন্তু সেটা কি এথিক্যাল? এ মুহূর্তে আপনার থেকে এই ধরনের মাস্ক অনেক বেশি দরকার হেলথ কেয়ারের মানুষজনের। আমরা আম জনতা অরিজিনাল N95 কিনে ফুটপাথে হাটার জন্যে ব্যাবহার করলে সাপ্লাইয়ের অভাবে ডাক্তারদের কিন্তু সারজিক্যাল মাস্ক পড়েই রোগীদের চিকিত্সা দিতে হবে। আপনি বেসিক নিয়ম ঠিকমতো মানলে আপনার জন্যে সারজিক্যাল মাস্কই যথেষ্ট। N95 থেকে FFP2 একটু বেটার, এসব থেকে বেটার Hazmat Suit। তাই বলে কি আমরা Hazmat Suit পড়া শুরু করবো?
প্লিজ ভুল বুঝবেন না, আমাদের বোঝা উচিত কোথায় থামতে হবে।

জিজ্ঞেস করতেই পারেন আমি কোন হরিদাস পাল? আমি অতি সামান্য একজন যাকে দিনের অর্ধেক সময় S2 ল্যাবে কাটানো লাগে।

২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১২:১৪

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আপনার সাথে আমিও একমত যে আমাদের জানা উচিত কোথায় থামতে হবে। আমি এন৯৫ মাস্ক নিয়ে তেমন একটা কাজ করি নি, তাই এই সম্পর্কে জানি না। আমি কেএন৯৫ নিয়ে কিছুটা খোঁজ নিয়েছি, আমদানীর চেষ্টা করেছি। এই সম্পর্কে আমার আস্থা এবং বিশ্বাসের জায়গা হলো আমার চাইনিজ সোর্স। ভদ্রলোক চাইনিজ সরকারের একটি গুরুত্বপুর্ন প্রতিষ্ঠানে মোটামুটি ভালো পদে কাজ করেন। দ্বিতীয়ত, উনার স্ত্রী একজন ডাক্তার। ফলে আমি যখন এই বিষয়ে খোঁজ নেই, তখন তথ্যগুলো তার কাছ থেকেই সংগ্রহ করেছি। তিনি আমাকে সাহায্য করেছেন এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে।

সাব স্ট্যান্ডার্ড চাইনিজ কেএন ৯৫ মাস্কগুলোকেই মুলত নন মেডিক্যাল মাস্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আর স্ট্যান্ডার্ড কেএন ৯৫ মাস্ক হচ্ছে ডাক্তারদের জন্য উপযুক্ত। আমি এই নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে মাথা নষ্ট হবার উপক্রম হইছে। আপনি এই লিংকে একটু ঢু মেরে দেখুন কি ভয়াবহ অবস্থা। কি পরিমান নকল করা হইছে।
ফলে মাস্ক সহ ছয় টি মেডিকেল আইটেম রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হয় চীন।

বাংলাদেশে প্রচুর ব্যবসায়ী আছেন, যাদের আমদানী লাইসেন্স নাই। তাঁরা থার্ড পার্টির মাধ্যমে মাল আনেন। এমন অনেক ব্যবসায়ীরা মাল কিনে চাইনিজ ওয়ার হাউজে দিয়ে রাখছে, কিন্তু চাইনিজ কাষ্টমস এ পারমিশন পায়নি দেখে মাল আসতে পারে নাই। পরবর্তীতে অরিজিনাল টেস্ট রিপোর্ট সম্পন্ন এবং নুন্যতম সাব স্ট্যান্ডার্ড প্রোডাক্ট রপ্তানি করার অনুমুতি দেয়। চাইনিজ সরকারের এই সিদ্ধান্ত হবার পর মাস্ক আমদানি করি। ফলে অন্তত মানসিকভাবে শান্তিতে আছি যে এই প্রোডাক্টগুলো আর যাই হোক ফেক নয়।

আমি মাস্ক নিয়ে বলতে চেয়েছি - কেউ যদি সামর্থ্যের কথা বলেন, তাহলে গামছা বেঁধেও আমরা মাস্ক বানাতে পারেন। আমি যা কিনব, তা জেনে শুনে কিনি। আমার ২০ টাকায় মাস্ক কেনার সামর্থ্য আছে। আমি ২০ টাকার মাস্ক পড়তে পারলেই খুশি। কে কি পড়ল না পড়ল তা নিয়ে আমার মাথা ঘামাবার কিছু নেই।

কিন্তু আমি যখন অরিজিনাল কেএন ৯৫ মাস্ক কেনার আশায় ১৮০/ ১৯০ টাকা দিয়ে নকল মাস্ক কেনার পর জানলাম, প্রয়োজনী জিনিস যাচাই করে অরিজিনাল মাস্ক চাইলে আমি আরো সামান্য টাকা বাড়িয়ে কিনতে পারতাম, তখন যেন আফসোস না করি। আমার সামর্থ্যের অংশটুকু যেন সঠিক ভাবে ব্যায় করি।

আপনি নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন এই প্রার্থনাই করি। অন্য যে কোন পরামর্শ বা তথ্য অবশ্যই জানাবেন। যে কোন দ্বিমত বিনা দ্বিধায় প্রকাশ করুন।

২০| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ৯:২৮

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: অতএব প্লীজ এখনও সময় আছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। সর্তক হোন। সব কিছু সরকারের উপর চেয়ে থাকবেন না। দার্শনিক হার্বাট স্পেন্সারের একটা বিখ্যাত উক্তি আছে - সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট। সামনে সত্যিকারের সময় ঘনিয়ে আসছে যেখানে যোগ্যতমরাই টিকে থাকবে। নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে আর কারো জন্য না হোক, অন্তত নিজের জন্য প্লীজ সচেতন হোন। আগামী দুই বছর অন্তত এই করোনার সাথে আমাদের লড়াই করতে হতে পারে। আফসোস, এই দেশের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে করোনা এখনও ফাজলামি। হাসি ঠাট্টার ব্যাপার। সামনে এই হাসি ঠাট্টা বের হয়ে যাবে - যদি না কোন মিরাকেল ঘটে।

আপনার এই কথাই হোক শিরোধার্য চিন্তা।

৩১ তারিখ থেকে অফিস খুলবে। ভীষন চিন্তায় আছি। দোয়া করবেন।

২১| ২৩ শে মে, ২০২০ রাত ১০:৫৭

উম্মে সায়মা বলেছেন: ভয়ংকর অবস্থায় আছি আমরা৷ আর ভাইরাসটার এভাবে রূপ বদলানো আরো বেশি ভয়ংকর করে তুলছে। সচেতন যারা তারা সাধ্যমত চেষ্টা করছে সাবধানে থাকতে। বাকিটা নিয়তির উপর ছেড়ে দিতে হয়। আর অসচেতনদের খামখেয়ালি দেখলে রাগ হয় আবার ওদের জন্য মায়াও হয়। মন খারাপ হয় যে কি ভয়ানক বিপদ ডেকে আনছে নিজের জন্য, চারপাশে সবার জন্য৷

২২| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

পোষ্টটি আরো লম্বা হলেও পড়তে কোন বেগ পেতে হতোনা । লেখার বিষয়বস্তুই আকৃষ্ট করেছে নিবিষ্ট মনে পাঠ এগিয়ে যেতে। করুনা সচেতনতাসহ মাস্ক প্রসঙ্গ ও এটাকে নিয়ে কিছু সুযোগ সন্ধানীদের আনফেয়ার বানিজ্য কুশীলবতা সুন্দরভাবে সংক্ষেপে উঠে এসেছে লেখাটিতে ।

বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থতার কারণে সামুতে বিচরণ করতে পারিনি বলে অনেক মুল্যবান পোষ্ট দেখা হয়ে উঠেনি ।
করুনা ভাইরাসকে দেহ, মনে ও হৃদয়ে ধারণ করে বেশ কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে আপনাদের সকলের দোয়ায় ও সেখানকার নিবেদিত প্রাণ ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্য কর্মীদের সেবায় সর্বোপরি পরম করুনাময়ের অশেষ রহমতে অরোগ্য লাভ করে সেখানকার শয্যা ছেড়ে প্রায় সপ্তাহ দুয়েক পুর্বে গৃহে প্রত্যাবর্তন করেছি।

নীজকে আল্লার হাতে সপে দিয়ে অন্তিমের পানে যাত্রার অপেক্ষায় ছিলাম । হাসপাতাল হতে সুস্থ দেহে ফিরে আসতে পারব কিনা সে বিষয়ে খুবই সন্দিহান ছিলাম । প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালের কেবিনের জানালার দিকে তাকিয়ে দেখতাম ট্রলিতে করে করিডর ধরে চাদরে মুখ ঢাকা রোগীর দেহ ( সম্ভবত মৃত) ঠেলে নেয়া হচ্ছে। ভাবতাম এমনি করেই বুজি কোন একসময় আমাকেও হাসপাতাল হতে বাইরে নেয়া হবে ।

করুনা সে যে কি ভিষণ যাতনাময় ব্যধি চরম পর্যায়ের ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যরা তা কল্পনাও করতে পারবেনা । সে এক বৈচিত্রময় মহামুল্যবান অভিজ্ঞতা । জাগরনে যা অনুভুত হয় তার চেয়ে বেশী দেখা যায় নিদ্রা কিংবা কিছুটা তন্দ্রায় গেলে, স্বপ্ন কিংবা অবচেতন মনে জাগতিক ও পারলোকিক অনেক কিছুই চোখের সামনে ভেসে উঠে । জাগরনে কিছু তার মনে পড়ে, তবে বেশীর ভাগই যাওয়া হয় ভুলে। তবে করুনা আক্রান্তকালীন সময়ের বিভিন্ন পর্যায়ে চেতন ও অবচেতন অবস্থায় দেখা ও অনুভুত হওয়া বিষয়গুলি নিয়ে করুনার বাস্তব অভিজ্ঞতা লিখতে পারলে সে আরেক মহাকাব্য হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করি।

ঘরে বাইরে অনেক সচেতনতা অবলম্বন ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সহ নীজ গৃহে পরিবারের সকল সদস্যদের পরস্পর ভিন্ন ভিন্ন ঘরে আইসোলেটেড থাকার পরেও খুব সম্ভবত ফ্রন্ট লাইন স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে ডাক্তার মেয়ে ও গিন্নীর কাছ হতে কোন না কোন ভাবে ছোয়া পেয়ে পরিবারের সকলেই হয়েছিলাম করুনা আক্রান্ত । শুধু আমি ও গিন্নীকেই যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। এটা একটা বিশেষ পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত কেহ আক্রান্ত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছুই টের পাওয়া যায়না । যাহোক, ছেলে মেয়ে ঘরে আইসোলেটেড থেকেই সুস্থ হয়েছে। এখন আমরা সকলেই আল্লার রহমতে সুস্থ , মা মেয়ে দুজনেই আবার কর্মস্থলে যোগদান করেছে। তাদেরকে পোষ্টিং দিয়েছে হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিটে । তাই ভয়ে ও আশংকার মধ্যে আছি, আল্লাহ না করুন আবার না তারা আক্রান্ত হয়ে যায় ।

বয়স জনিত কারণে আমিই মনে হয় বেশী কাহিল হয়ে পরেছি । বেশ দুর্বলতায় ভুগছি। ঘরেই থাকি । একটু ভাল ফিল করলে লগিং না করে মাঝে মাঝে প্রিয় সামুতে বিচরণ করে মুল্যবান লেখার উপর একটু চোখ বুলিয়ে যাই।লেখাগুলি পাঠে ভাললাগার কথাগুলি মন্তব্যাকারে লিখতে পারছিনা বলে অন্তরে ব্যথা অনুভব করি । দোআ করবেন যেন সামুতে নিয়মিত হতে পারি ।

অগ্রীম ঈদ শুভেচ্ছা রইল ।

২৩| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১:৫৯

আমি সাজিদ বলেছেন: এন ৯৫ বা এন ৯৫ সাধারন মানুষের জন্য দরকার নাই। পুলিশ, ডাক্তার, সাংবাদিক এমন ফ্রন্ট লাইন ওয়ারিয়রের জন্য দরকার। এখন কেউ যদি ডেস্ক জব করেন এবং ইনসিকিউরিটি ভোগ করে, সে ক্ষেত্রে উনি ব্যবহার করতে পারেন। দ্বিতীয়ত মেডিকেল সায়েন্স এমন যা নে একজন খুব মেধাবী ডাক্তার হলেন আর উনার মুখের সব বানী আমাদের বিশ্বাস করতে হবে ( অন্তত দুনিয়ায় এভাবে চলে না) , অথেনটিক রেফারেন্স দিয়ে চলে দুনিয়া। পত্রিকার রেফারেন্স আপনি সায়েন্টিফিক এনালাইসিস করতে ব্যবহার করতে পারেন না। ঘাবড়ায়েন না জাদীদ ভাই, আল্লাহ ভরসা৷ ভাগ্য মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোন অপশন রাখে নাই আমাদের দেশ নায়কেরা।

২৪| ২৫ শে মে, ২০২০ রাত ৮:০৮

শের শায়রী বলেছেন: কি বলব ভাই, সবই তুমি বলে দিয়েছ। আর বলার কিছু নেই। তোমার আমার পোষ্ট হয়ত মাস পিপলকে সচেতন করবে না, কিন্তু আমরা সামু ব্লগ একটা কম্যুনিটি বা বলতে পার একটা পরিবারের মত সেখানে দুই চারজন ও যদি এগুলো নিয়ে সচেতন ( যদিও আমি বিশ্বাস করি এখানকার সবাই সচেতন) হয় আসে পাশের মানুষ গুলোকে সচেতন করে তবেই স্বার্থকতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.