নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিঃসঙ্গ পথচারী

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ

তারপরও মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে ঘুরে দাড়াব.....।

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা মুসলমানই থাকে। তাদের পাঞ্জাবী জাতিসত্তার পরিচয় তার মুসলিম পরিচয়ের সাথে কখনই সাংর্ঘষিক হয় না। আর বাঙ্গালী সংস্কৃতি মানতে গেলেই মোল্লাদের চোখে বাঙ্গালীর মুসলমানিত্ব বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না, সে হয়ে যায় মা/লাউন।

বাংলা সংস্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় নিয়ে এলার্জিতে ভোগা জীবগুলোর এ এক অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। পেট থেকে পরে মায়ের ভাষা হিসেবে এই জীব গুলোর কথা ফোটে বাংলায় ঠিকই, কিন্তু সে বড় হয় বাংলা ও বাংলা জাতি সত্তার প্রতি সু-তীব্র ঘৃনা নিয়ে। আচ্ছা সে কি জীবনভর শত চেষ্টা করেও কখনও আরব হতে পারবে কিংবা নিদেন পক্ষে পাকিস্তানি পাঞ্জাবী?

পরিপূর্ন মুসলমান হতে হলে আরব বা পাঞ্জাবী জাতির সংস্কৃতি মনে প্রানে ধারন করা "ফরজে আইন" ............এমনতর বিধান কোরআন বা হাদিসের কোথায় আছে?

নোটঃ
বিদায়ী ভাষণ দিয়ে বলেন, (৯) ‘হে জনগণ! নিশ্চয় তোমাদের পালনকর্তা মাত্র একজন। তোমাদের পিতাও মাত্র একজন। (১০) মনে রেখ! আরবের জন্য অনারবের উপর, অনারবের জন্য আরবের উপর, লালের জন্য কালোর উপর এবং কালোর জন্য লালের উপর কোনরূপ প্রাধান্য নেই আল্লাহভীরুতা ব্যতীত’। (১১) নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু। তিনি বলেন, (১২) আমি কি তোমাদের নিকট পৌঁছে দিলাম? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, অতএব উপস্থিতগণ যেন অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়’।

বিদায় হজ্ব

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভুল শিরোনাম । মুসলমান কেন বাঙালি হতে পারছে না এমন হলে সঠিক হতো ।

২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: "৯২% মুসলমানের দেশে"- আমাদের মুসলিম পুরুষরা...

/নারীকে ধর্ষণ করে।
/নারীর দিকে নোংরা দৃষ্টিতে তাকায়।
/রাস্তাঘাটে নারীদের উত্তক্ত (টিজ) করে।
/গণপরিবহনে শারীরিকভাবে নারীদের হেনস্থা করে।
/কর্মক্ষেত্রে যৌন নিপীড়ন করে।
/কর্মক্ষেত্রে লাইন ম্যানেজার হিসেবে অধঃস্তন নারী কর্মীকে যৌনতার (কর্মক্ষেত্রের যোগ্যতাকে পাশ কাটিয়ে) বিনিময়ে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে।
/প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্ককে শারীরিক সম্পর্কের দিকে নিয়ে যেতে নারীর প্রতি চাপ প্রয়োগ করে।
/শারীরিক সম্পর্কে যাওয়ার পরে নারীদের ইমারজেন্সি কন্ট্রাসেপটিভ (উচ্চ মাত্রার এসব পিল ভবিষ্যতে গর্ভধারণে জটিলতা সৃষ্টি করে) পিল খেতে বাধ্য করে।
/তারপর যদি পুরুষ একবার টের পায় নারী গর্ভধারণ করে ফেলেছে, সে খুব অবলীলায় বিকারহীনভাবে ঐ গর্ভধারণকারী নারীকে পরিত্যাগ করে।
/সম্পত্তি ও জমি জমা ভাগের সময় ঠিকই নারীদের বঞ্চিত করে।

৯২% মুসলমানের দেশের মুসলিম পুরুষর এভাবেই নারীর সম্মান রক্ষা করে আর আশা করে যে কেবল মাত্র নেকাব পরিয়ে বস্তাবন্দি করলেই মুসলিম নারীর সম্মান রক্ষার কাজ হয়ে গেলো।

মোটা দাগে,

মুসলমান আসলে আদৌ মুসলমান না বা মুসলিম আদর্শ ধারন করে না বলেই সে বাঙ্গালী হতে পারছে না।

মুসলিম হিসেবে আদর্শ ধারন করতে না পারার কারনেই তারা তাদের ভুখন্ডও কিন্তু ধরে রাখতে পারেনি।

মুসলমান কেন বাঙালি হতে পারছে না? এমনটি বলার আগে এটাও নিশ্চিত হওয়া জরুরী যা আমরা মুসলমান হতে পেরেছি কিনা?

২| ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাঙ্গালী সংস্কৃতি মানতে গেলেই মোল্লাদের চোখে বাঙ্গালীর মুসলমানিত্ব বলে
আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না, সে হয়ে যায় মা/লাউন।

........................................................................................................
যখন ইসলাম প্রচার হয় বা নাজিল হয় তখন বাঙালী ছিলনা ।
আমাদের পূর্ব পুরুষ এই সমতট ভূমিতে চাষাবাদ ও সমাজ গঠন করে
অনেক পরে । তখন আর্য ও অনার্যরা এই ভূমিতে বিচরন করত ।
সুতরাং আমাদের যে ইতিহাস তাতে সংস্কৃত ভাষা ধরে রাখা উচিৎ ছিল
কিন্ত তা না করে বিভিন্ন ধাপে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষার জন্ম ।
সেই সুযোগ টাই নেয় আরব, পান্জাব বা ইরানী জাতিসত্তার মানুষেরা ।

৩| ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫১

নতুন বলেছেন: দেশের বেকারত্ব অভাব দেশের আরবী সংস্কৃিতির প্রতি এতো বেশি টানের অন্যতম কারন।

বাংলাদেশে কত মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত?

সরকারি ও সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:

কওমি মাদ্রাসা: প্রায় ২৫,০০০
শিক্ষার্থী: প্রায় ৭০ লাখ (৭ মিলিয়ন)

এছাড়া:

ইবতেদায়ি (সংযুক্ত) মাদ্রাসা: প্রায় ৯,২৯৫, শিক্ষার্থী প্রায় ১৫ লাখ
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা: প্রায় ৭,৫২৮, শিক্ষার্থী প্রায় ১০ লাখ

এগুলোর বাইরে রয়েছে:

আলিয়া মাদ্রাসা
প্রায় লক্ষাধিক মসজিদ
হাজার হাজার মাজার
ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রতিষ্ঠান
হাজার হাজার ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, ওয়ায়েজ

অর্থাৎ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এই খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাই কোটি মানুষের যখন এই ইন্দ্রাস্টি দরকার তাই এখানে বাংলার চেয়ে আরবী সংস্কৃিতিরই চাষাবাদ বেশি হবে।

৪| ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪৫

আলআমিন১২৩ বলেছেন: অর্থ না বুঝিয়ে কোরান শরিফ মুখস্ত করানো মোল্লাদের একটা রমরমে ব্যাবসা। এটি একধরনের ইসলাম ধর্মের সাথে জঘন্য প্রতারনা। কতগুলু অল্পশিক্ষিত লম্বা পোলাপানকে শিক্ষক বানিয়ে এব্যাবসা দিন দিন বাড়ছে

২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ধর্মের জ্ঞান মোল্লাদের কাছে ইজারা না দিয়ে নিজ দায়িত্বে নিজেই বুঝে পড়া উত্তম। কারন আল্লাহ্ আমাদের এলেম দিয়েছে। নূন্যতম বিচার বিশ্লেষন করার সক্ষমতা দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছে। সেক্ষেত্রে আল্লাহর দেয়া এই নেয়ামত ব্যবহার না করাও পাপ যার জন্য আমাদের হাশরের ময়দানে জবাবদিহীর সম্মূখীন হতে হবে।

৫| ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ধীবধির বলেছেন: যথার্থ লিখেছেন। আমার আজকার কিছু লিখতেও ভয় করে। কেন জানিনা!!!!!

৬| ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: এদের বাঙালী'ই থাকতে দিন মুসলামান বানানোর দরকার নেই। সৌদি আরবের সংস্কৃতি এদেশের মানুষের সাথে যায় না।

৭| ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৫১

বক্সমেইল বলেছেন: ১৯৪৮ সালে কার্জন হলে এক ভাষণে জিন্নাহ বলেছেন - "উর্দু, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" সবাই "না, না" করে চিৎকার করে উঠেছিল।

কাটপিস এতোটুকু প্রচার করা হয়। ভাষণের বাকি অংশ গোপন রাখা হয়। বক্তৃতার পরের অংশে জিন্নাহ বলেছেন-

Whether bengali shall be the official language is a matter of the elected representative of the people of this province to decide.

অর্থাৎ, বাংলা ভাষা অফিশিয়াল ভাষা হবে কিনা, তা বাংলার মানুষ এবং বাংলার জনপ্রতিনিধিরা মিলে ঠিক করবে।

এখানে ছাত্রদের পক্ষ থেকে কোন "না, না" বলে চিৎকার প্রতিবাদ আওয়াজ নাই, শুধু হাত তালির আওয়াজ। ইউটিউবে সম্পূর্ণ বক্তৃতা আপলোড করা আছে। Jinnah speech in Dhaka লিখে সার্চ দিলেই সম্পূর্ণ বক্তৃতা পাওয়া যাবে। পুরো ইতিহাস কাটপিস করে টুইস্ট করে ফেলা হয়েছে।

পাকিস্তানীরা নাকি জোর করে বাঙালীদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ওরা নাকি আমাদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।

হাস্যকর অভিযোগ।
পশ্চিম পাকিস্তানে বাস করে পাঞ্জাবী, পশতুন, সিন্ধি, বেলুচি জাতিগোষ্ঠী। তাদের মাতৃভাষা যথাক্রমে পাঞ্জাবী, পশতুন, সিন্ধি, বেলুচি ভাষা। উর্দু তো পশ্চিমের কারও মাতৃভাষা নয়। এমনকি জিন্নাহর নিজের মাতৃভাষাও উর্দু নয়, গুজরাটি। তো যে ভাষা তাদের নিজেদের ভাষা নয়, সেটা কি করে অন্যের ওপর চাপাবে? তারা নিজেরাই তো উর্দুতে কথা বলতে পারে না।

আর মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তো আরও হাস্যকর। ভারতের অফিশিয়াল ভাষা হিন্দি + ইংলিশ। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীরা কি সবাই হিন্দিতে কথা বলতে বাধ্য হয়েছে? পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের মুখের ভাষা কি কেড়ে নেওয়া হয়েছে? না, তাদের কোন সমস্যা হয় নি। মধ্যযুগে ৭০০ বছর ধরে, মুসলিম শাসন আমলে, সম্পূর্ণ অখন্ড বাংলার দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফারসি। তখন কি বাঙালিদের মুখের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়েছিল? বাঙালীরা কি ফারসিতে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিল? না, তেমন কিচ্ছু হয় নি। মুখের ভাষা কেউ কারোটা কেড়ে নিতে পারে না৷

১৯৪৮ সালের ৬ এপ্রিল, পূর্ব পাকিস্তানের অফিসিয়াল ভাষা বাংলা হিসেবে আইন পাস করেন খাজা নাজিমুদ্দিন পরিষদ। তখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রত্যেকটা স্কুলের প্রত্যেকটা বিষয় বাংলা ভাষায় লিখা হতো। বাংলা, অংক, ইতিহাস, ভূগোল, পৌরনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, ব্যবসা বাণিজ্য, ইসলামিয়াত ইত্যাদি সব বই বাংলা ভাষায় লিখিত ছিলো। কলেজে বাংলা মিডিয়াম ও ইংলিশ মিডিয়াম ছিলো। অফিস আদালতে ইংরেজি ও বাংলা ভাষা চালু ছিলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভারতে তখনও বাংলা ভাষাকে caste scheduled language হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। অর্থাৎ, পৃথিবীর বুকে পাকিস্তান রাষ্ট্রেই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষা দাপ্তরিক মর্যাদা পায়। অথচ প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে - ওরা নাকি আমাদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়


প্রশ্ন:
স্টেট ল্যাংগুয়েজ উর্দু হবে কেন? উর্দু তো মাত্র 4% লোকের মাতৃভাষা। সংখ্যাগরিষ্ঠ 56% জনগণ বাংলায় কথা বলে। মেজোরিটির ভাষাকে বাদ দিয়ে মাইনোরিটির ভাষাকে স্টেট ল্যাংগুয়েজ করার কারণ কি?


উত্তর:-
পাকিস্তান ছিল ফেডারেল স্টেট। এই ফেডারেশনের স্টেটগুলো নিজ নিজ সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে পাকিস্তানে যুক্ত হয়। এখন এক প্রদেশের ভাষা আরেক প্রদেশ মেনে নিবে কেন? সুতরাং, স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ এমন হওয়া উচিত, যা কোন স্টেটের ভাষা নয়। উর্দু এবং ইংরেজি ঐ শর্ত পূরণ করে।

বর্তমান পাকিস্তানের মেজোরিটি মানুষের মাতৃভাষা পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিকে বাদ দিয়ে উর্দু ভাষা কেন স্টেট ল্যাংগুয়েজ হল? কারণ রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণ কেবলমাত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে হয় না। এটি নির্ধারণে আরো কিছু প্যারামিটার বিবেচিত হয়। যেমন জাতিসমূহের মাঝে সহজে যোগাযোগ করার ক্ষমতা, ঐতিহাসিক ভিত্তি ইত্যাদি। ঠিক এই কারণে পৃথিবীর লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা বা সংযোগকারী ভাষা হচ্ছে ইংলিশ, যদিও পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ চাইনিজ মান্দারিন ভাষায় কথা বলে।

পাকিস্তানে সেসময় ৫ টি প্রদেশ ছিল। সিন্ধু, পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান আর বাংলা। সিন্ধিরা বেলুচ ভাষা বোঝে না। বেলুচিরা বাংলা বোঝে না। বাংগালীরা পাঞ্জাবী বোঝে না। পাঞ্জাবিরা সিন্ধি বোঝে না। এক জাতির ভাষা অন্য জাতির কাছে দুর্বোধ্য। বাংলাকে স্টেট ল্যাংগুয়েজ বানালে পাকিস্তানের বাকি অর্ধেক জনগোষ্ঠী কাজকর্ম করতে পারতো না। পুরো পাকিস্তানকে একটা কমন ভাষার আন্ডারে ইউনাইটেড রাখার প্রয়োজন ছিল। জিন্নাহর চোখে সেই কানেক্টিং ল্যাংগুয়েজ ছিল উর্দু।

ভারতেও একই অবস্থা। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী তামিলনাড়ুতে গিয়ে বাংলায় কথা বললে কেউ বুঝবে না। আবার, তামিলনাড়ুর লোক বাংলায় এসে তামিল ভাষায় কথা বললে কেউ কিছু বুঝবে না। কিন্তু তারা উভয়েই হিন্দি বোঝে অল্প অল্প। এই কারণে ভারতে হিন্দিকে দাপ্তরিক ভাষা বানানো হয়েছে। এটা আফগানিস্তান থেকে আরাকান পর্যন্ত বসবাসকারী ভারতবর্ষের সকল মানুষকে কানেক্ট করতে পারে।

কাজী নজরুল ইসলাম, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান সবাই উর্দুতে ভিন্ন ভাষাভাষী জাতির লোকদের সাথে যোগাযোগ করতেন। বর্তমানেও মিডল ইস্ট আরবে অবস্থানরত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক হিন্দি/উর্দুতে কথা বলে তাদের সহকর্মী ভারতীয়/ পাকিস্তানী সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এমন কৃত্রিম ভাষার উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল। এজন্য ১৮৩৭ সালে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উর্দুকে "এডমিনিস্ট্রেটিভ লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা" হিসেবে ঘোষণা করে। জিন্নাহ এসে তো নতুন কোন ভাষা চাপিয়ে দেন নি।

জিন্নাহ কোন প্রাদেশিক নেতা নন। তৎকালীন পাকিস্তানে বসবাসকারী সব জাতির সুবিধা অসুবিধা মাথায় রেখে তিনি উর্দুর পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। কারণ এটা বৃটিশ আমলে ভারতীয় মুসলমানদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা ছিল। হাদিস, ফিকহ, ইসলামী সাহিত্য এবং কবিতার একটি বড় অংশ উর্দুতে রচিত হয়েছে। জিন্নাহ তাই উর্দুকে শুধু ভাষা নয়, মুসলিম পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। তার ভাবনা ছিল এই ভাষার আরবি বর্ণমালা মুসলিম উম্মাহকে ইউনাইটেড করবে। স্পষ্টতই, তার এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোন ব্যক্তি স্বার্থ ছিল না। কোন একটা বিশেষ সম্প্রদায়কে বিশেষ সুবিধা দেয়ার কু-মতলব ছিল না। কিন্তু বাঙালী জাতীয়তাবাদীরা তাঁর কাটপিস বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রোপাগান্ডা চালায়।

২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০৫

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: চোর চুরি করলে তার সব দায়ভার কি চোরের নাকি সেই সাথে গৃহস্থের অসতর্কতাও দায়ী?

যে ভারতের সাথে পাকিস্তানের ইতোমধ্যে দুটো বড় যুদ্ধ হয়ে গেছে সেই ভারত তার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ (অথবা ষড়যন্ত্র) নিবে, এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি এরকম না পাকিস্তান ছিলো অলি আউলিয়া, খুব সজ্জন শান্তিপ্রিয় প্রতিবেশী কিন্তু বিনা উস্কানিতে ভারত ষড়যন্ত্র করে তাকে খণ্ড বিখণ্ড করে ফেলেছে।

২৪ বছরে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্রাহ্মণ শ্রেণীর মুসলমানরা তথা অবাঙ্গালী উর্দুভাষী পাঞ্জাবীদের বাঙ্গালীদের প্রতি আচরণের খতিয়ান নিম্নরূপ:

/ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য
/শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য
/রাজনৈতিক বৈষম্য
/অর্থনৈতিক বৈষম্য
/সামরিক বৈষম্য
/অবকাঠামো উন্নয়ন বৈষম্য
/মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈষম্য
/৭০ এ উপকূল এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির পরও যথাযথ ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা না করা
/৭০ এর নির্বাচনে জেতার পরও লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা

এসবও কি ভারতের ষড়যন্ত্র ছিলো?

পাকিস্তান একের পর এক তার ঘরের সদর দরজা সহ সব দরজা জানালা মূল ফটক খুলে রাখবে আর সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ভারত সুখনিদ্রায় ডুবে থাকবে এমনটা ভাবা কি ঠিক?

পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকেরা অপদার্থ ও অদূরদর্শী ছিলো। সুতরাং অন্ধের মতো ওদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা খুব গর্বের কিছু না।

এইসব জামায়াতি রাজাকাররা নিজেদের অতি বুদ্ধিমান ভাবলেও এর মানে এই না যে জনগণ তার ঘটে কিছু বুদ্ধি রাখে না। তারা খুব ইনসাফের কথা বলে কিন্তু একইসাথে তারা পশ্চিম পাকিস্তানের অবাঙ্গালী পাঞ্জাবী মুসলিম শাসকদের ২৪ বছর ব্যাপী বেইনসাফি ধামা চাপা দেয়ার জন্য ভারতীয় ষড়যন্ত্রের একতরফা বয়ান দেয়।

এজন্যই গত ৮৫ বছর ধরে জামায়াতি রাজাকারদের জনগণ লাল কার্ড দেখিয়ে আসছে, তা সে পশ্চিমের হোক অথবা পূর্বের।

৮| ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: বাঙ্গালী বা মুসলমান বড় কথা নয়। আগে হতে হবে মানুষ। একজন মানবিক মানুষ। তারপর সে বাঙ্গালী হোক, মুসলমান বা হিন্দু হোক। ধর্ম কোনো কাজের জিনিস না। ধর্মই বাঙ্গালী আর মুসলমানদের সর্বনাশ করেছে।

৯| ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




কোথায় যেন শুনেছিলাম ও পড়েছিলাম যে, নূহ নবীর প্রপৌত্রের নাম ছিলো বং।
তিনি আমাদের ভূমিতে এসেছিলেন।
সেই নাম থেকেই 'বাংলা' শব্দটি এসেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.