| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন) রুলস-১৯৮৬ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি কারো জমিতে বা ভবনে অথবা করপোরেশনের জমিতে বা ভবনে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিলবোর্ড অথবা সাইনবোর্ড স্থাপন করতে চায় তবে অবশ্যই করপোরেশনের অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান করপোরেশনকে কর দেবে। ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, নগরীতে অবৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা প্রায় ৩৪ হাজার, আর বৈধ প্রায় ২ হাজার। রাজপথ ও অলিগলি ছাড়াও রাজধানীর অনেক বাসাবাড়িতে বিলবোর্ড বাণিজ্য চলছে। গত তিন বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে ডিসিসি’র অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একদিকে বড় ধরনের রাজস্ব হারাচ্ছে ডিসিসি, অন্যদিকে নগরীর সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি নগরবাসীর পবিত্র ঈমান ও আমল উনাদের ঘাটতি হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
কারণ ছবি তোলা পবিত্র ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হারাম এবং বেপর্দা হওয়াও হারাম। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ক্বিয়ামতের ময়দানে ওই ব্যক্তির সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে যে ছবি তোলে বা ছবি দেখে।” অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “বেপর্দা তথা দাইয়্যুছ কখনো বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।” কাজেই ছবি তোলা হোক অথবা বেপর্দাই হোক উভয়েই কাট্টা জাহান্নামী হবে। কাজেই রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশে তথা ৯৭ ভাগ মুসলমান অধিবাসী উনাদের দেশে প্রাণীর ছবিযুক্ত এবং বিবস্ত্র দেহের প্রদর্শনীযুক্ত বিলবোর্ড তথা অবৈধ বিলবোর্ড কোনোক্রমেই থাকতে পারেনা। এছাড়া এসব বিলবোর্ডের কারণে অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। (নাঊযুবিল্লাহ)
জানা যায়, প্রতি বছরই ঝড়ের মৌসুমে রাজধানীতে বিলবোর্ড ভেঙে মানুষ হতাহত হয়। তখন তৎপর হয় সিটি করপোরেশন। কিছুদিন অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে দেখা যায়। তারপর ঝড়ের মৌসুম চলে যায়। অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানও থেমে যায়। বছর ঘুরে আবার ঝড়ের মৌসুম আসে। আবার উচ্ছেদ করার জন্য তৎপর হয় ডিসিসি। এভাবে একদিকে চলে ডিসিসি’র উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা। অন্যদিকে দুর্ঘটনার শিকার মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
এসব বিলবোর্ডের কারণে দুর্ঘটনায় রাজধানীতে গত বিশ বছরে মারা গেছে শতাধিক পথচারী। আসন্ন কালবৈশাখির মৌসুমে ঘটতে পারে আবারো এ ধরনের দুর্ঘটনা। এমন আশঙ্কা অনেকের।
এক্ষেত্রে ডিসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ মুখে জানিয়েছে যে, অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা তাদের রুটিন কাজ। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধ বিলবোর্ড থাকছে বহাল তবিয়তে। তার বিপরীতে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের পকেট ক্রমাগত ভারী হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই দুর্নীতির এখনই অবসান হওয়া দরকার।
প্রসঙ্গত বিলবোর্ড উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে তাহলো, দুর্ঘটনায় মৃত্যু। নগরীর শোভায় বিঘœ ঘটা এবং নির্দিষ্ট হারে কর না দেয়ার কারণে অবৈধ হওয়া।
কিন্তু সরকারের নীতি নির্ধারক মহল অথবা খোদ হাইকোর্টের কাছে একটা বিষয় এখনো আসেনি; সেটা হলো- মারাত্মক অশ্লীলতা। তথা বিবস্ত্র প্রায় ছবিযুক্ত বিলবোর্ড। (নাঊযুবিল্লাহ)
বলাবাহুল্য, মানুষ স্পর্শকাতর জীব। বিলবোর্ডে যেভাবে বিবস্ত্র নারীর উত্তেজক ভঙ্গিমা চিত্রায়িত থাকে, তা দেখে তাদেরকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভোগ করে প্রতিটি সাধারণ মানুষ। এ মনস্তাত্ত্বিক ভোগবাদী প্রবণতা অবশেষে তাকে পরিণত করে পশুবৎ ধর্ষকে। আর তা না পারলেও নিদেনপক্ষে নারী টিজিংয়ে।
বলাবাহুল্য, প্রায় বিবস্ত্র ও অশ্লীল নারী ভঙ্গিমার এসব বিলবোর্ডগুলো নারী অধিকারও চরমভাবে ব্যাহত করছে। কারণ, মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিলবোর্ডের চিত্রায়িত নারীদেহকে ভোগকারী পুরুষের মানসে থাকে ওইসব কথিত সুন্দরী। (নাঊযুবিল্লাহ)
কিন্তু বাস্তবে অপেক্ষাকৃত কমসুন্দরী স্ত্রীকে কাছে পেয়ে তখন অতৃপ্ত হয় পুরুষ মন। তৈরি হয় অপছন্দ। তৈরি অনাগ্রহ। সব সময় উন্মুখ প্রবণতা তৈরি হয় বিলবোর্ডে দর্শিত অনুরূপ কোনো সুন্দরী নারীর সান্নিধ্য লাভের।
সবমিলিয়ে তৈরি হয় অবৈধ প্রবণতা তথা চরিত্রহীনতা। পরিণামে ঘরের স্ত্রী হয় লাঞ্ছিত, পদদলিত এবং বঞ্চিত। লঙ্ঘিত হয় নারী অধিকার। সমাজে তৈরি হয় অপরাধ বলয়। সমাজ হারায় ভারসাম্য। তৈরি হয় পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বৈরী পরিবেশ। মুসলমান হারায় তার পবিত্র দ্বীন ইসলামী অনুভূতি, আবেগ, ধর্মীয় ভাবাবেগ। প্রাধান্য লাভ করে, বিজাতীয় সংস্কৃতি। স্বদেশ মুহব্বত যায় উবে। উর্বরভূমি তৈরি হয় সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য। দেশের স্বাধীনতা হয় বিপন্নের মুখোমুখি।
সঙ্গতকারণেই বিলবোর্ডের নিকটবর্তী ক্ষতিকর দিকটিই কেবল আমলে না নিয়ে দূরবর্তী এবং সর্বব্যাপী ক্ষতিকর দিকগুলোও হাইকোর্টকে তথা সরকারকে যথাযথ আমলে নিতে হবে।
©somewhere in net ltd.