| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘পবিত্র আছর সময়ের কসম! নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষ ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে রয়েছে। শুধুমাত্র তারা ব্যতীত যারা পবিত্র ঈমান এনেছে তথা বিশুদ্ধ বিশ্বাস করেছে এবং ভাল কাজ করেছে।’
আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতটিই পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফের বরকতময় রাত। এবং পরের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফের বরকতময় দিন।
পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ হলো- আক্বীদা (বিশ্বাস) বিশুদ্ধ করার ও আমলে ছালেহ বা নেক আমল (কাজ) করার দিন।
কেননা এই বরকতময় দিনের সম্মানার্থে বান্দা-বান্দী ও উম্মত ইহকালে সর্বপ্রকার মুছীবত থেকে নাজাত লাভ করবে এবং পরকালে জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করে সম্মানিত জান্নাত লাভ করবে।
তাই প্রত্যেক বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে আক্বীদা বিশুদ্ধ করে ও নেক আমলগুলো করে মহান আল্লাহ পাক এবং আল্লাহ পাকের হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিশেষ সন্তুষ্টি লাভের প্রচেষ্টা করা।
প্রকৃত ঈমানদার বা আল্লাহওয়ালা হতে হলে প্রথমতঃ আক্বীদা বা বিশ্বাসকে বিশুদ্ধ করতে হবে অর্থাৎ প্রতি ক্ষেত্রে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ প্রতি ক্ষেত্রে পবিত্র সুন্নতের অনুসরন তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসে বর্ণিত নেক আমলগুলো করতে হবে।
পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম হারাম শরীফের সাথে আক্বীদা ও আমল দুটি বিষয়ই জড়িত রয়েছে। যেমন আক্বীদা সম্পর্কিত বিষয় হলো- অনেকে কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে পবিত্র আশূরা শরীফের আলোচনায় হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম ও হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে মনগড়া ও বানানো সমালোচনা বা দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন, তারা বলে থাকে যে, “পবিত্র আশূরা শরীফের দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিসহ অনেক হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণের গুনাহখতা মাফ করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ এসব কথা বলা ও আক্বীদা পোষণ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেননা সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হচ্ছে- “সকল হযরত আম্বিয়া (নবী শব্দের বহুবচন আম্বিয়া) আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম বা নিষ্পাপ।”
পবিত্র আক্বাইদ শরীফ সম্পর্কিত কিতাবে উল্লেখ আছে, “সকল হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ছগীরা, কবীরা, কুফরী, শিরকী এবং সমস্ত প্রকার অপছন্দনীয় কাজ হতেও পবিত্র।” (আক্বাইদে নসফী)
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার আলোচনায় অনেকে এও বলে থাকে যে, ‘বিশিষ্ট ছাহাবী, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইয়াযীদকে ক্ষমতা দিয়ে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।’ নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শুধু ছাহাবীই নন বরং জলীলুল ক্বদর কাতিবে ওহী ও গুপ্তভেদ জাননেওয়ালা ছাহাবী। সুবহানাল্লাহ! আর পবিত্র শরীয়তের ফতওয়া মতে- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কারো সম্পর্কে কোনো প্রকার সমালোচনা করা, বা কোনো প্রকার দোষারোপ করা কাট্টা কুফরী।
পবিত্র আশূরা শরীফের আমল গুলো হচ্ছে- ১. পরিববার-পরিজনের জন্য সাধ্যমত ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা। ২. পবিত্র আশূরা শরীফের দিনে গোসল করা। ৩. চোখে ইছমিদ সুরমা দেয়া অথবা যে কোনো সুরমা দেয়া। ৪. ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো। ৫. গরীব-মিসকীনকে পানাহার করানো। ৬. নয় ও দশ অথবা দশ, এগারো তারিখ দুটি রোযা রাখা। ৭. রোযাদারকে ইফতারী করানো। উল্লিখিত প্রতিটি আমলই সুন্নত অনুসরন করার অন্তর্ভুক্ত।
হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, যারা পবিত্র আশূরা শরীফের দিন রোযা রাখবে, তারা পবিত্র আশূরা শরীফের রাত্রিতে ভালো খাবে। পবিত্র দ্বীন ইসলামী শরীয়ত হিসেবে রাত্রি আগে আসে আর দিন পরে আসে। সে হিসেবে এ বছর আজ ১৪ নভেম্বর-২০১৩ ঈসায়ী সন দিবাগত রাতটি হচ্ছে পবিত্র আশূরা শরীফের রাত্রি। আর আগামীকাল ১৫ নভেম্বর-২০১৩ ঈসায়ী সন, শুক্রবার দিনটিই হচ্ছে পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফের দিন। এ দিনে রোযা রাখলে ষাট বছর দিনে রোযা রাখার ও রাতে ইবাদত করার ফযীলত লাভ হয় এবং বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই প্রত্যেক বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম হারাম শরীফ উপলক্ষে আক্বীদা বিশুদ্ধ করে ও আমলগুলো করে এ দিনের সম্মানার্থে বান্দা-বান্দী ও উম্মত ইহকালে সর্বপ্রকার মুছীবত থেকে নাজাত লাভ করা এবং পরকালে জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করে সম্মানিত জান্নাত লাভ করা।
২|
১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ৮:৩৬
আহমেদ আলিফ বলেছেন:
আল্লাহ! আমাদের আমল করার তৌফিক দান করুন।
আমীন!
৩|
১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ৮:৫২
গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আরে আজব তো!
সাঙ্ঘাতিক অবাক হয়ে গেলাম!
রাজারবাগ দরবারের পোস্ট, অথচ সাইয়্যিদুনা ইমাম হুসাইন সালামুল্লাহি আলাইহির নামটা পর্যন্ত নাই!!!
পোস্টের কোন বিষয়ে বা কোন কথায় দ্বিমত নাই।
সব ঠিক আছে।
সাধুবাদ।
আরে আশুরা মানে হল শুরুতে হুসাইন, শেষে হুসাইন, চতুর্দিকে ইমাম হুসাইন সালামুল্লাহি আলাইহি।
মালিকের প্রতি নত থাকলে এই 'র পোস্ট এর প্রথম লাইনে ইমাম হুসাইনের নাম লেখেন আর নাইলে ড্রাফট করেন আর নাইলে যেখানে খুশি যান।
ইমাম হুসাইনের নাম নাই, আহলে সুন্নাত আইসে।
৪|
১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৩৬
নিজাম বলেছেন: ভাল পোস্ট।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ ভোর ৪:১৩
দূর আকাশের নীল তারা বলেছেন: আমার জানামতে, শিয়ারা আশুরা পালন করে তাদের ভিন্ন ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।