নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালবাসি বাংলাদেশ

ভালবাসি বাংলা সিনেমা

এ.জে. মিন্টু

অনার্স ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট পাশ করিয়া একখানা চাকুরির আশায় পথে পথে ঘুরিতেছি...

এ.জে. মিন্টু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছাগলের কয়েকটি রোগ ও প্রতিকার

১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৩৬

ছাগল পালন অত্যন্ত লাভজনক পেশা এবং বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়। ছাগলকে বলা হয়ে থাকে “গরীবের গাভী”। ছাগল পালনের ক্ষেত্রে খামারির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ছাগলের নানান অসুখ বালাই। যে কোন সময়ে ছাগলের রোগব্যাধি দেখা দিতে পারে। তাই ছাগলের রোগব্যাধি ও তার প্রতিকার বিষয়ে জানা থাকা সবার জন্যই ভাল।



কৃমি রোগ :

লক্ষণ : এই রোগে পাতলা পায়খানা হয়। ঠিকমত ওজন বৃদ্ধি হয় না, শরীর শুকিয়ে যায়, পুষ্টিকর খাবারেও বৃদ্ধি হয় না। খাওয়া কমে যায়, দুর্বল হয়ে যায়৷ মৃত্যুও হতে পারে। চারণভূমিতে মলের সাথে এই কৃমি ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিত্সা ব্যবস্থা : বর্ষার আগে ও পরে নিয়ম করে কৃমির ঔষধ খাওয়াতে হয়। তবে কৃমির আক্রমণ যেহেতু যে কোন সময় হতে পারে তাই প্রতিমাসে একবার কৃমির ঔষধ খাওয়ানো দরকার। আসকারিস জাতীয় গোলকৃমি হলে পাইপ্যারাজিন আডিপেট পাউডার প্রতি ৪৫ কেজিতে ১০ গ্রাম হারে বা ছাগল পিছু ৩ গ্রাম করে খালিপেটে সকালে খাওয়াতে হয়, এরপর ২০ দিন পর আবার খাওয়াতে হয়। লিভার বা আস্ফিষ্টোম ফ্লুক হলে ডিসটোডিন ট্যাবলেট প্রতি কেজির জন্য ১০০ - ১৫০ মিগ্রা হারে বা অক্সিক্লোজানাইড লিকুইড ২ - ২.৫ মিলি প্রতি ছাগল পিছু দেওয়া যায় বা প্রতি ৫ কেজি ওজনের জন্য ১ মিলি দেওয়া হয়।



ছাগলের ছোঁয়াচে প্লুরো নিউমোনিয়া রোগ

লক্ষণ : এই জ্বর (১০৪ ডিগ্রি - ১০৭ ডিগ্রি ) শ্বাসকষ্ট, প্রথম অবস্থায় নাক দিয়ে জল বেরোয়, পরে হলুদ হয়ে যায়। কাশি হয়, দিনদিন রোগা হয়ে যায়, স্টেথো লাগালে বোঝা যায় বুকে জল জমেছে, খিদে কমে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে ছাগলটি মারা যায়।

চিকিত্সা : টেট্রাসাইক্লিন ইনজেকশান বেশী মাত্রায় শিরায় করতে হবে তত্ক্ষণাত বা সালফামেজাথিম (৩৩১/৩%) হলে ৩০ মিলি একবারে ইনজেকশান দিতে হবে।



এঁসো রোগ

লক্ষণ : এই রোগে মুখের ভিতরের দিকে, জিহ্বায়, ঠোঁটে, পায়ের ক্ষুরে ঘা হয়।

চিকিতসা: এফ.এম.ডি. ভ্যাকসিন বছরে দুবার নিলে এই রোগের আক্রমণ হয় না।



পেট ফোলা বা ব্লোট

লক্ষন: অনেক সময় নতুন সবুজ ঘাস প্রচুর পরিমাণে খেয়ে ফেললে পেট ফুলে যায়। বাঁ দিকের পেট ফুলে যায়৷ শ্বাসকষ্ট হয়। ছাগল ছটফট করতে থাকে। বেশী পেট ফুলে গেলে ছাগল মারা যায়।

চিকিত্সা ও প্রতিকার : এক কাপ তিসির তেল খাইয়ে দিলে স্বস্তি পায়। তাছাড়া ব্লোটোসিল ২০ মিলি ১২ ঘন্টা অন্তর খাওয়ালে রোগ সেরে যেতে পারে। তবে অত্যধিক পেট ফুলে গেলে সুঁচ ফুটিয়ে গ্যাস বের করে দিতে হয়। কচি সবুজ ঘাস বেশী করে খাওয়ানো ঠিক নয়, সুবাবুলের পাতাও বেশী খাওয়াতে নেই।



তথ্যসূত্র: দারিদ্র বিমোচনে ছাগল পালন, মৎস্য ও পশুসম্পদ তথ্য দপ্তর মৎস্য ভবন, রমনা, ঢাকা।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৩৯

সবাক বলেছেন: মগবাজারের চীফ মেডিসিন কর্ণারে ছাগলের কৃমির অষুধ পাওয়া যায়। তথ্যটা পোস্টে অ্যাড করতে পারেন।

১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৪৪

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি তথ্য দিয়েছেন। ছাগলচাষীদের বিষয়টি অবহিত করতে হবে কারণ দেশে ছাগলের ্ওষধপথ্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, এবং সবজায়গায় পা্ওয়া যায় না।

২| ১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৪০

যেড ফ্রম এ বলেছেন: ছাগলের প্রতি আমাদের আরো যত্নবান হওয়া উচিত। কে শোনে কার কথা, ছাগলগুলো অবহেলায় রোগে ভুগে কি বাজে অবস্থা :(

১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৪৬

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: দু:খজনক হলেও সত্য যে দেশে আজ পর্যন্ত কোন ছাগ-রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্টিত হয়নি। স্বাধীনতার ৪০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও এ ধরনের কোন উদ্যোগও নেয়া হচ্ছেনা। সরকারের কাছে প্রশ্ন, কেন জাতীয় সম্পদ ছাগল উন্নয়নের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না?

৩| ১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৪৮

যেড ফ্রম এ বলেছেন: বিএনপি সরকার ছাগলের ব্যাপারে খুবই দরদহস্ত ছিলো। ব্ল্যাক বেঙল জাতের ছাগল জাতিয় পশুর মর্যাদাও হয়ত পেয়ে যেত। :( সবই আজ করুণ ইতিহাস। জাতি বড় অভাগা ছাগলের কদর বোঝেনা :(

১৫ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:০৬

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: হ।

৪| ১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৫২

সবাক বলেছেন: @ যেড ফ্রম এ
বিএনপির ছাগল পালন কর্মসূচী ছিলো স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোকিত কর্মসূচী। অবশ্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একটি বাড়ি একটি খামার কর্মসূচীতে গোয়াল ঘরের পাশে একটি ছাগলের ঘরও রাখতে পারেন। ছাগলের প্রতি আমাদের আরো শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার।

১৪ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:২১

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন। ছাগলের প্রতি আমাদের আরো শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার।


৫| ১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৫২

কায়েস মাহমুদ বলেছেন: ব্লগে অনেক ছাগু, তবে ওদের অসুখ বিসুখে ওদের চিকিৎসা দেবার ডাক্তারছিলোনা, ঝাকফুড় আর তাবিজ কবজেই সীমাবদ্ধ ছিলো, এবার মনে হইছে একটা ডাক্তার পাইছি,

আজকাল ছাগুদের কোয়ালিটি এতই খারাপ যে, কাঠাল পাতার সাথে ওদের আয়োডিন সরবরাহের জোর দাবী জানাইয়া গেলাম।

১৫ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:১২

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: ধন্যবাদ।.. ছাগলের কোয়ালিটি পড়ে যাওয়াটা অবশ্যই আশংকাজনক বিষয়। এবিষরে মগবাজারস্থ কোয়ালিটি কন্ট্রলারদের আরো যত্নবান হতে হবে বলে মনে করি।

৬| ১৩ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৫৯

রেজওয়ান করিম বলেছেন: আসুন আরো কিছু জানি

১৪ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:০৬

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: চমতকার উদ্যোগ। ব্লগোষ্ফিয়ারে ছাগল বিষয়ক তথ্য এভাবেই ছড়িয়ে দিতে হভে।

৭| ১৪ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:০৯

যেড ফ্রম এ বলেছেন: একটি বাড়ি একটি খামারে ছাগল স্থান পাবেনা বলে ভয় হয়। যেহেতু ছাগল বিএনপি সরকারের সুদৃষ্টিতে বা গুডবুকে ছিল সেহেতু লীগ সরকার ছাগলকে হয়ত তার প্রাপ্য সন্মান দেবেনা। ছাগল বিষয়েও জাতি রাজনৈতিক মেরুকরণের অসহায় শিকার :( @ সবাক

১৫ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:১৪

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: খুবই দু:খজনক ব্যপার রাজনৈতিক মেরুকরনের হাত থেকে ছাগল পর্যন্ত বাচল না। অতীতে ইমপোর্টের মাধ্যমে বা অন্য প্রানীর সাথে ক্রস ব্রিডিং ঘটিয়ে যারা ছাগলের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করেেছর তাদের কাছে জাতি কৃতজ্ঞ। ছাগলকে নানাভোবে কাজে লাগানো যায় সেকারণে সব সরকারই কাঠাল পাতা সরবরাহ অব্যাহত রাখে। কিন্তু কারো দীর্ঘমেয়াদী কোন চিন্তা নাই।

৮| ১৪ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১২:২৬

শান্ত কুটির বলেছেন: বাংলাদেশের ব্লাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বে সুস্বাদু ছাগলের ব্রিডের মধ্যে প্রথম। এটা একান্তই আমাদের নিজেদের একটা ব্রিড এটার সংরক্ষনে অব্শ্যই আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

২০ শে মে, ২০১১ রাত ২:১১

এ.জে. মিন্টু বলেছেন: তা তো বটেই!

৯| ১৪ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:২০

আকাশের তারাগুলি বলেছেন: ছাগল বেঁধে রেখে পালন করলে ছাগলের বৃদ্ধি আশানুরুপ হয়না, সেজন্য ছাগলকে বাঁধন খুলে দিতে হয় সে জন্যই ছাগল যেখানে সেখানে মুখ দিয়ে যা তা খেয়ে নিজের শরীরকে সমৃদ্ধ করে, এবং খাওয়ার জবয় সুস্বাদু হয়। সেজন্যই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে ছাগল পালন সুখকর হবেনা। কারন বাঁধন হারা ছাগল যেখানে সেখানে মুখ দিয়ে বাড়ি সব্জি, ফলমুল গাছ, কিংবা বনজ গাছের চারা খেয়ে একটি খামার প্রকল্পকে ব্যর্থ করে দিতে যথেষ্ট। এই প্রকল্পে ছাগল ঢুকানো একটা ষড়যন্ত্র ব্যতীত আর কিছুই দেখছিনা।

সবশেষে, গাছের চারা ছাগল খেয়ে ফেললে ঐগাছে থেকে নতু করে অন্কুরোদ্গম হয় না। কিন্তু গরু খেলে টা থেকে নতুন শাখা, পাতা জন্মায় এক সময় পুর্নাংগ গাছ হয়।

অতএব ছাগল পালন করা উচিৎ সতর্কতার সাথে। কারন ছাগ মাংস সুস্বাদু।

১০| ১৩ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৬

দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: ছাগলদের নিয়ে রাজনীতি করা চলবে না। সংবিধানে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.