নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব কল্যানে প্রযুক্তিগত জ্ঞান অন্বেশন

তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা দেওয়ার ও নেওয়ার মানসিকতায উদ্দীপ্ত হউক প্রতিটি সচেতন মানুষ ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত হউক তরুন সমাজ

এম ইয়াকুব

নেটওয়ার্ক এবং ওয়েব প্রযুক্তির বৈপ্লবিক পরিবর্তনে গবেষনা করছি ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে,এই ক্ষেত্রে আমি গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে চাই, আমি বিশ্বাস করি আমার গবেষনার ফল একদিন আমার দেশ এবং সারা পৃথিবী উপকৃত হবে।

এম ইয়াকুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন গার্মেন্টস কর্মীর তার সহকর্মীদের প্রতি এ যেন সত্যি তার বিরল ভালোবাসা ও স্বেচ্ছাসেবকদের অবদান

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:১১

আমাদের সরকারী দল, প্রধান বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা অন্তত: এই শিক্ষাটা গ্রহন করুন এই সামান্য গার্মেন্টস শ্রমিক ও ঐ সব স্বেচ্ছাসেবক দলের তরুণ রাত-দিন অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থেকে। বাংলাদেশেতো রাজনৈতিক দলগুলোর স্বেচ্ছাসেবক দল ও রয়েছে, তবে তাদের কোন উদ্ধার কাজে সহযোগীতা এই পর্যন্ত দেখার সৌভাগ্য হয় নাই। আমার জানা নাই এই স্বেচ্ছাসেবকরা কি কাজে ব্যবহার হোন।



সব কিছু ভুলে যান এই মুহূর্তে ভাবুন - সবার উপর মানুষ সত্য তার উপর নাই। দয়া করে এগিয়ে আসুন দলীয় দৃষ্টিভংগী ঝেড়ে ফেলে অন্তত: এই অসহায় মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে তাদের উদ্বারকালীন ও পরবর্তীতে পুনর্বাসনে আপনাদের হাতকে প্রসারিত করুন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হবেন



বিনা পয়সায়, কোনো ধরনের ভর্তি নিবন্ধন, আনুষ্ঠানিকতা বা কোনো ধরনের নিয়মতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ছাড়াই সেবা দিয়ে চলেছেন সাভারের এনাম মেডিকেলের চিকিৎসক, শিক্ষার্থীসহ সব কর্মী। --- এটাকেই বলে মানবসেবা.. অভিবাদন সেবাপ্রদানকারী প্রত্যেক শ্রেনীর প্রত্যকটি সেবক- সেবীকাকে।



মৃত্যুর সঙ্গে দুই দিনের বেশি লড়াই করে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়েছেন মুক্তা। মৃত্যুগহ্বর থেকে বের হওয়ার পর নিজের জীবনটাই তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়। বড় হয়ে উঠে সহকর্মীদের প্রাণরক্ষার তাগিদ। আটকেপড়া সহকর্মীদের উদ্ধারে তার এগিয়ে যাওয়ার এমন চেষ্টা দেখে উপস্থিত অনেকেই হতবাক। সহকর্মীদের প্রতি এ যেন সত্যি তার বিরল ভালোবাসা।



একজন স্বল্প শিক্ষিত গার্মেন্টস কর্মীর তার সহকর্মীদের প্রতি এই ভালোবাসা থাকতে পারে, তাহলে আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এত বড় বড় ডক্টরেট ডিগ্রীওয়ালা রাজনীতিবিদদের কি প্রয়োজন, যারা কারনে-অকারনে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষ নিয়ে সাধারন মানুষকে লাশ বানিয়ে দেয় এবং তাদের স্বীয় স্বার্থে দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পায়তারা করে। এর চেয়ে অনেক শ্রেয় ঐ স্বল্প শিক্ষিত গার্মেন্টস শ্রমিকটি অন্তত: যার সহকর্মীদের প্রাণরক্ষার তাগিদে নিজের অসুস্থতার কথা ভুলে গিয়ে সহকর্মীদের উদ্ধারকাজে অংশ নিতে চায়।



ওরা অকুতোভয়। নেই প্রতিদানের আশা। নেই কোন প্রশিক্ষণ। নেই জীবনের মায়া। তবুও ওরা মৃত্যু ঝুকি নিয়ে কাজ করছেন। প্রকৃত ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছেন। অসহায় ও বিপন্ন জীবনের মুক্তির নেশায় নিজের জীবনকে ফেলেছেন ঝুঁকির মধ্যে। অবিশ্বাস্য সাহসিকতায় ধ্বংসস্তূপের সুড়ঙ্গ কেটে একে একে বের করে আনছেন জীবন্ত প্রাণ। এমন অকুতোভয় অন্তত বিশটি স্বেচ্ছাসেবক দলের তরুণ রাত-দিন অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সাবাইকে জানাই আমার শ্রদ্ধা আর স্যালুট।



মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, কিন্তু মনের চিকিৎসা সুলভ হচ্ছে না। লোভের জিহ্বায় ফোস্ফা পড়ছে, চিকিৎসা হচ্ছে না। এখনও বেশিরভাগ গার্মেন্টের্স চলছে জনবহুল এলাকায়। কিছু গার্মেন্টেসভবনে অতিরিক্ত সিঁড়ি বানানো হয়েছে বটে সেগুলো থাকছে তালাবন্ধ।



সাভারের ভবনটিতে একদিন আগেই ফাটল দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেটাকে সুস্থ হিসেবে সনদ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ভবনের ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে ভবন মালিক। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। অসহায় এ শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

তাহলে কি ঐ ভবনটিকে সুস্থ হিসেবে সনদ দেয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্বে কোন আইনি ব্যবস্থা হবে কি?



আমরা জানিনা এতগুলো হত্যাকান্ডের সাথে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষেভাবে জড়িত আছে তাদের আদৌ বিচার হবে কি না?



আমরা এও জানিনা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো তাদের ক্ষতিপূরন ও পুনর্বাসন পাবে কি না?



তবে এটা জানা আছে অতীতের মত অনেক স্বান্তনার ফুলঝুরীর অভাব হবে না , কিন্তু দিনশেষে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার তার প্রিয়জনের লাশ নিয়ে শুন্যহাতে নি:শ্ব হয়ে যন্ত্রনার বোঝা, বুকভরা চাপা কষ্ট, অনিশ্চিত,অস্বচ্ছল, অনিরাপদ ভবিষ্যতের অন্ধকার পথ নিয়ে তার গন্ত্যব্যে পৌছাবে।



লাশ আসছে লাশ যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ খাবার, পানিসহ অন্যান্য জিনিস দিয়ে স্বজনহারাদের অন্তত শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। শত শত মানুষ যে যেভাবে পারছেন সাহায্য করছেন অসহায় মানুষগুলোকে।

কিন্তু এত সাহায্য, এত করুণার পর কি স্বজনরা তাদের প্রিয়জনকে খুঁজে পাবে? বিচার হবে কি সেই নর পিশাচদের? শেষ হবে কি এ ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের? এমন প্রশ্ন এখন শুধু অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আসা স্বজনদের নয়, সারাদেশের মানুষের।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:০৪

এ অলিন্দ বলেছেন: উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সাবাইকে জানাই আমার শ্রদ্ধা আর স্যালুট।

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:২২

এম ইয়াকুব বলেছেন: সহমত

২| ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:১৬

সাউন্ডবক্স বলেছেন: Ar mante parchi na .... Majhe majhe mone hoy sob koyta rajnoitik neta jodi durghotonay mara jaito.....

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:২৭

এম ইয়াকুব বলেছেন: তবে একটা প্রবাদ আছেনা, অন্যর জন্য গর্ত করলে সেই গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়। আমার মনে হয়, সেই দিন বেশী দূরে নয়- যে দিন ঐ তথাকথিত বস্তাপচাঁ রাজনীতিবিদদের আস্তাচলে নিক্ষেপ করবে এই সাধারন শ্রমিক জনতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.