নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নুরুল আবছার টিপু

নুরুল আবছার টিপু › বিস্তারিত পোস্টঃ

বন্ধু তুমি বড়ই নির্মম

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৮

বন্ধু শব্দটি খুবই কাছের ও নিকটবর্তী সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে।আর এই জন্যই যুগে যুগে মানুষ তার স্বাভাবিক প্রয়োজনে বন্ধু বেছে নিয়েছে।এইজন্য বলা হয়ে থাকে Man can’t live alone, So he wants to a company. তাই মানুষ ও রাষ্ট্র তার প্রয়োজনে বন্ধুত্ব করছে বিভিন্ন মানুষ,দেশ ও জাতি গোষ্ঠীর সাথে।তেমনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের তাদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ অর্জনের জন্য সাহায্য করে বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতি,অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বিশেষ প্রভাব রাখছে।যার কারনে আমরা বৃটিশ ও পাকিস্তান হতে স্বাধীনতা অর্জন করলেও আবার সেই সাম্রাজ্যবাদি শক্তি ভারতের নিয়ন্ত্রনেই আছি।তাই ভারতের সাবেক সেনা প্রধান শিব শংকর বলেছিলেন ঢাকাকে দিল্লির রাডারের বাইরে যেতে দেয়া যাবেনা Delhi can’t afford to let Dhaka slip off it radar. বন্ধু যখন প্রভুসূলভ কর্তৃত্বপূর্ন আচরন করে তখন তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য খুবই অবমাননাকর। ২০০০ সাল থেকে জুলাই ২০০৮ পর্যন্ত বিএসএফের হাতে খুন হয়েছে ৭৬৭জন,আহত হয়েছে ৭৮৬ জন,অপহৃত হয়েছে ৬৭৫জন।গ্রেফতার ৫১৩ জন,ধর্ষিত১০ জন,নিখোজ ৮২জন এবং লুট হয়েছে ৬১টি।২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সালের জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র ফেন্সিডিলের বোতল আটক করা হয়েছে ১৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৪০২টি।(বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল)।ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার একর জমি দখলে রেখেছে।গত ৪ দশকে প্রায় ১০হাজার বাংলাদেশীর মৃত্যু হলেও তেমন কোন প্রতিবাদই হয়নি।২০১১ সালে ৭ই জানুয়ারী মাসে বাংলাদেশের একটি যুবতী মেয়েকে ভারতের বিএসএফ বাহিনীর সদস্যরা নির্মমভাবে হত্যা করে।তারা ফেলানীকে ধর্ষন করে হত্যা করে কাটা তারের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।২০১২ জানুয়ারী মাসে বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ী হাবীবুর রহমানকে ধরে নিয়ে যায়।এর পর তার উপর অমানুষিক নির্যাতন করে,বিএসএফ সদস্যরা তাকে উলঙ্গ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় হাতপা বেধে প্রচন্ড ভাবে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে।তাকে মৃত ভেবে সীমান্তে ফেলে রাখে,এর পর তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় সীমান্তবাসী তাকে উদ্ধার করে তাকে পাঠিয়ে দেয়।এর কিছুদিন পরে ভারতীয় চোরাকারবারীদের সদস্যদের আক্রমনের জবাবে বাংলাদেশী সীমন্ত রক্ষাবাহিনী বিজিবি সদস্যদের গুলিতে একজন ভারতীয় চোরাকারবারী মারা যায়।এর পর ভারতীয় জনগণ বাংলাদেশী এক হাবিলদারকে তুলে নিয়ে যায় এবং ভারতীয় জনগণ ও বিজিবি সদস্যরা মিলে হাবিলদারের উপর নির্যাতন চালায়।এরপর বিজিবি ও বিএসএফ পতাকা বৈঠকের পর তারা হাবিলদারকে ফেরত দেয়।এর পরের দিন সীমান্তে এক বাংলাদেশীকে বিজিবি গুলি করে হত্যা করে।কিছুদিন আগে পঞ্চগড় সীমান্তে ৩৪ একর জায়গা বিএসএফ দখল নিয়েছে।এখনো কোননা কোনদিন বিএসএফ এর হাতে বাংলাদেশীরা আহত অথবা নিহত হচ্ছে।তারা ফেলানীকে ঝুলিয়ে অথবা হাবিবুর রহমানকে অলুঙ্গ করেনি তারা পুরো বাংলাদেশী জাতিকেই বিবস্ত্র ও ঝুলিয়ে রেখেছিল।কিছুদিন আগে ও সীমান্তে বাংলাদেশের জনগণের উপর গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।অনেক পতাকা বৈঠক হলো রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে ও অনেক সমযোতা বৈঠক হলো কোন প্রতিকার হলোনা।এগুলো হলো অসংখ্য ঘটনার মধ্যে সামান্য নমুনামাত্র।এই হলো ভারতের বন্ধুত্বের নমুনা।এই আচরন স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যেক্ষ করছে।তবে আমাদের বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ও ভারতের প্রতি নতজানু আচরন করছে।সরকারের কিছু কিছু ব্যাক্তির বক্তব্যে জনগনকে সন্দিহান হতে হয় তারা কি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি নাকি ভারতের?হাবিবুর রহমানের উপর অমানুষিক নির্যাতন করার পর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বলেছেন,রাষ্ট্র এইসব নিয়ে ব্যস্ত নয়,রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।আর এই ধরনের হত্যাকান্ড অতীতেও ঘটেছে,বর্তমানেও ঘটছে ভবিষ্যতে ও ঘটবে।২০১৩ সালে তারা বাংলাদেশকে লাশ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা দিল বন্ধুরাষ্ট্র ভারত।২০১৩ ৭ই জানুয়ারী ফেলানী হত্যার ২বছর পূর্ণ হয়।আমাদের নিম্নের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।আনুমানিক দুই দশক আগের ঘটনা,ফিলিপেনো এক তরুনী পেটের দায়ে গৃহপরিচিকার কাজ নিয়ে গিয়েছিল উপসাগরীয় এক ধনাড্য দেশে,সম্ভবত বাহরাইন কি আরব আমিরাতে।গৃহকর্তার উপর কুনজর পড়ে মেয়েটির উপর।সুযোগ বুছে একসময়ে গৃহকর্তা মেয়েটিকে ব্যাভিচার করতে উদ্যাত হয়।ইজ্জত রক্ষায় মেয়েটিও হামলা চালায়,প্রতিরোধের মুখে নিহত হয় গৃহকর্তা।আদালত খুনের দায়ে মেয়েটিকে মৃত্যদন্ড দেয়।এই বিচারকার্যক্রমের বিরুদ্ধে ফিলিপাইন সরকার প্রবল প্রতিবাদ জানায়।এবং বিচার সুষ্ঠু হয়নি এই অভিযোগে সরকার কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায়।কিন্তু সরকার মৃত্যদন্ডে অটল থাকে।এতে দুদেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।এবং শ্রমিক বহিষ্কারের হুমকিতে পতিত হলো ফিলিপাইন সরকার।তারাও সাফ জানিয়ে দিল সকল শ্রমিকের বহিষ্কারের বিনিময়ে হলেও ফিলিপাইন মেয়েটির জীবন রক্ষায় প্রস্তুত।বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করলে শেষ পর্যন্ত মৃত্যদন্ড বাতিল করা হয়।মেয়েটি দেশে প্রত্যাবর্তন করলে ম্যনিলা বিমানবন্দরে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট তাকে রিসিভ করে।জাতীয়ক্ষেত্রে আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন নতুবা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।



মুহাম্মদ নুরুল আবছার(টিপু)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.