নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নুরুল আবছার টিপু

নুরুল আবছার টিপু › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামাত-শিবির নিয়ে পুলিশ ও মিডিয়ার বাণিজ্য

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:০২

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা নতুন হাকডাক শুনতে পাচ্ছি।আর তা হলো শিবিরের জঙ্গি ততপরতা ও পুলিশের উপর হামলা।এই নিয়ে মিডিয়া তোলপাড় ও রাজনীতি অঙ্গন রীতিমত উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে।দু’একটি মিডিয়া বাদে প্রায়সব ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায়ই জামাত-শিবিরের মিছিল নিয়ে নীতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করছে।এইসকল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হচ্ছে যে,পুলিশের উপর জামাত-শিবিরের জঙ্গি হামলা,অথবা ঝটিকা হামলা ইত্যাদি।কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো যে,প্রথমে জামাত-শিবিরের লোকেরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল আরম্ভ করে আর এই মিছিলের উপর পুলিশ বাঁধা দেয়।তখনই হয় সংঘর্ষের সূত্রপাত,পুলিশ মিছিল হটানোর জন্য রাবার বুলেট,কাদানে গ্যাস,টিয়ার সেল ও লাঠিপেটা করে।এর প্রতিত্তুরে জামাত শিবিরের লোকেরা তাদের আত্মরক্ষার্থে ইট-পাটকেল ছুড়েঁ,আর এই সংবাদটিকে মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয় নীতিবাচকভাবে।এটাকি মিডিয়াগুলোর উপর সরকারের চাপের কারণে নাকি জামাত-শিবির বিরধিতার কারণে তা আমাদের বোধগম্য নয়।অথচ বাংলাদেশ জামাত-ইসলামীও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।বাংলাদেশে ভোটের হার এদের পক্ষে শতকরা ১৮-২০%।অথচ যে কোন শান্তিপূর্ণ মিছিল,সমাবেশ ও জনসভা করা সাংবিধানিক অধিকার।মিডিয়া কিভাবে একজন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দোষী ও নির্দোষ বানাতে পারে তা আমাদের ভাল করেই জানা আছে।গত ২৮ নভেম্বর ২০১২ ইং তারিখে আওয়ামী সরকারের অত্যাচার ও নীপিড়নের প্রতিবাদে ঢাকায় পল্টনে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়,এতে জোটের সকল নেতা কর্মী উপস্থিত থাকে।কিন্তু জামাত-ইসলামী বিদ্বেষী কিছু মিডিয়া প্রচার করে মহাসমাবেশে জামাত-শিবিরের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো।দেখা যাচ্ছে যে,জামাত-শিবিরের বিরূ্দ্ধে প্রায় মিডিয়াই নেতিবাচক সংবাদ উপস্থাপন করে,এটা তাদের মুদ্রা দোষে পরিণত হয়েছে।এটাকে হলুদ সাংবাদিকতা বলা হয়।যারা অর্থ বা ডোনোশনের বিপরীতে অনেক সত্যকেও চেপে ধরেন,আবার অনেক মিথ্যাকেও সত্যে পরিণত করার চেষ্টা করেন।নৈতিকতা না থাকলে যা হয় আরকি।অন্যদিকে পুলিশ ভাইদের একচেটিয়া জামাত-শিবিরদের পেটানো ও হয়রানী করার আচরণে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ শংকিত।”সেবাই পুলিশের ধর্ম”এটা পুলিশের একটি শ্লোগান।কিন্তু এই বাণীর সাথে বাস্তবতার বড় অমিল।পুলিশ ভাইয়েরা জান-মালের নিরাপত্তার পরিবর্তে যখন জনগনের জানমাল হরণ করে তখন সাধারণ জনগণ বড় অসহায় হয়ে পড়ে।পুলিশ জামাত-শিবির গেফতার নিয়ে ভাল বাণিজ্য করছে,তারা রাস্তা-ঘাটে যে কোন মানুষকে সন্দেহ হলেই ধরছে।এমনকি চাকরীজিবীদেরও ধরছে।অনেকে ইসলামীব্যাংকের আইডি কার্ড দেখালেও তাদের গ্রেফতার করছে।অথবা তাদের চাহিদামত টাকা-পয়সা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে।রাতের আধারে মেসগুলোতে হানা দিয়ে নীরিহ ছাত্রদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।পুলিশ এইসকল ছাত্রদের মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হওয়ার সময় ইসলামী কিছু বই-লিফলেট দিয়ে তাদেরকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়।এতে সাধারণ ছাত্র ও জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হয়েছে।ছাত্রদের পড়ালেখা হুমকির মুখে পড়েছে।ছাত্রাবাসগুলো এখন পুলিশের ফাড়িতে পরিণত হয়েছে।দাড়ি,টুপি অথবা ধর্মীয় ব্যাক্তিত্ব যারা তাদের গ্রেফতার ও হয়রানী করা হচ্ছে নানাভাবে।অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে,আগের হিন্দু শাসনামলের মতো দাড়ির উপরে টেক্স বসাবে,অথবা জামাত শিবির ধরার জন্য খতনা করা আছে কিনা তা দেখে গ্রেফতার করা হবে।এই দেশে অন্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় আচার ভালভাবে পালন করতে পারলেও শুধু মুসলমানরা পালন করতে যত সমস্যা।সেখানে জঙ্গিবাদের গন্ধ খুজে পান।পুজা,মেলা,কনসার্ট ও অশ্লীল নৃত্যে কোন বাধা নেই,বাধা শুধূ জামাত-ইসলামের সমাবেশে, তাফসীর মাহফিলে।গত ২৮ নভেম্বর ২০১২ সালে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সাথে নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে তারা দাবী জানাল বাংলাদেশ জামাত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে।অবশ্য নির্বাচন কমিশনার তাদের এই অগনতান্ত্রিক দাবি প্রত্যাক্ষান করেছেন।এই দেশে নাস্তিকরা দল করতে কোন বাধা নেই,বাধা শুধু ইসলামী দল করতে।হায়রে মুসলিম দেশ!ইসলামী বই পেলে হয় জঙ্গি, আর অশ্লিল বই,ক্যাসেট ও অস্ত্রসহ ধরা পড়লেও তারা হয় সোনার ছেলে।পুলিশ ভাইয়েরা চাকরী বাচানোর জন্য নাকি প্রমোশনের জন্য এমন করছে পুলিশই ভাল বলতে পারবে।অথচ জামাত শিবির নামে যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের নামে থানায় কোন হত্যা,চুরি,ছিনতাই,ইভটিজিং ও ধর্ষনের কোন অভিযোগ পাওয়া যাবেনা।অথচ হত্যা মামলার আসামীদের রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা করে দিচ্ছেন,স্বাধীনতার পরে মোট ২৫ জনকে সাধারণ ক্ষমা করলেও শুধূ বর্তমান সরকারের সময়ই ২১জনকে ক্ষমা করা হয়েছে।এই ঘৃণ্য উদারতা জাতি দেখতে চায়না।জামাত-শিবিরের উপর এইরকম সরকারের পৈশাচিক হামলার বিরধিতা করে দেশের বিশিষ্ট ব্যাক্তি ড:আকবর আলী খান বলেছেন,জামাত শিবিরের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে,মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন,নিবন্ধিত দল হিসেবে জামাত ইসলামীর উপর সরকারের দমন মূলক আচরণ গণতান্ত্রিক হচ্ছে না।সরকারের পোষা ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে সাধারণ ছাত্রদের গুলি করলেও প্রশাসন নির্বিকার। আমাদের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড:মহিউদ্দিন খান আলমগীর অবশ্য শিবিরকে মোকাবেলা করার জন্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে ৭১এর চেতনায় ঝাপিয়ে পড়ার আহবান করেছেন।এই আহবানে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগ শিবির সন্দেহে বিশ্বজিতকে প্রকাশ্য দিবালোকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।অবশ্য আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে যাদের মেরুদন্ড আছে তারা এই মন্তব্যের বিরধিতা করেছেন।আবার আমাদের প্রধানমন্ত্রীর গোয়েন্দা জ্ঞানের প্রশংশা করতেই হয়,তিনি আশুলিয়া গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুনের ঘটনার সাথে জামাত-শিবিরের গন্ধ খুজেঁ পান।আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শপথ নিয়ে মিথ্যা বিবৃতি দেন,ডিসেম্বর ০৩ তারিখ ২০১২ ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন জামাত ইসলামী সমাবেশ করার জন্য অনুমতি নেননি তাই সমাবেশের উপর ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।এর প্রতিবাদে ০৪ তারিখে জামাত ইসলামী হরতাল আহবান করে,আর এই হরতাল মোকাবেলে সরকার তার সর্বপ্রকার ফোর্স নিয়োগের পাশাপাশি ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও আওয়ামীলীগকেও নিয়োগ করেছে।হরতাল গনতান্ত্রিক অধিকার,অথচ প্রশাসন ও আওয়ামীলীগ একসাথে জামাত শিবিরের উপর পৈশাচিক কায়দায় আক্রমণ করে,এই হচ্ছে বর্তমান সরকারের গণতন্ত্র।আর মিডিয়া বেশিরভাগ মিডিয়া হরতালে বিরুদ্ধে রিপোর্ট ফলাও করে প্রচার করে,অথচ প্রকাশ্যে সরকারের ক্যাডার ও প্রশাসন যেরূপ আচরণ করেছে তার কোন রিপোর্ট মিডিয়াগুলো প্রকাশ করেনি।এই মাসে সরকার ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ২০জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে এবং ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।২০১৩ সালে সরকারের পুলিশ বাহীনী দিয়ে আবার ১৩জন নারী নেত্রীকে গ্রেফতার করেছেন যাদের মধ্যে অধ্যাপিকা চেমন আরা ও ছিলেন।তারা পূর্বে গ্রেফতার হওয়া ২০নারীর মুক্তির জন্য সাংবাদিক সম্মেলন করছিল।জানুয়ারী মাসে শুরুতে পুলিশ বাহিনী জামাত শিবিরের ওপর পুলিশ বাহিনী দিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে আক্রমন করে।তারা শিবির দমন করার জন্য গ্রেনেডও ব্যবহার করেন।এইসব নিউজ বামপন্থি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াগুলো গোপন করে,প্রকাশ করে না।এই হলো আমাদের বামপন্থিদের নিরপেক্ষতা।সম্প্রতি ধর্ষনের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে,গ্রেফতার হওয়া নারীরা নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শালীন জীবন যাপনের জন্য আন্দোলন করছিল।তারা চায় পর্দা পালেনর মাধ্যমে সামাজিকভাবে নারীদের সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে।অথচ অনৈতিক কাজের অসংখ্য তথ্য থাকা সত্বেও যারা দেহব্যবসা ও অশ্লীল কাজ করে সরকার তাদের গ্রেফতার করেনা।যারা শালীনভাবে ধর্মকে চর্চা করতে চায় তারাই আজ সরকার ও মিডিয়ার শত্রু হয়ে দাড়িয়েছে।তাই এ বিক্রিত রাজণীতি থেকে জাতি মুক্তি চায়।সরকার মিডিয়া ও প্রশাসন দিয়ে জামাত-শিবির তথা ইসলামী আন্দোলনকে দমন করতে চাইলেও তা সম্ভব নয়,কারণ দ্বীনের দায়িত্ব সয়ং আল্লাহ নিয়েছেন।মহান আল্লাহ কোরআনে ঘোষনা করেছেন”তারা চায় ফুঁ দিয়ে ইসলামের আলো নিভিয়ে দিবে,কিন্তু আল্লাহ তার দ্বীনকে বিজয় করবেনই,কাফেরদের তা যতই অসহনীয় হোক না কেন?



লেখক

মোহাম্মদ নূরূল আবছার (টিপু)



মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৬

িট.িমম বলেছেন: তারা চায় ফুঁ দিয়ে ইসলামের আলো নিভিয়ে দিবে,কিন্তু আল্লাহ তার দ্বীনকে বিজয় করবেনই,কাফেরদের তা যতই অসহনীয় হোক না কেন?
আমিন

২| ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:২৪

প্রগতিশীল ইকবাল বলেছেন: িট.িমম বলেছেন: তারা চায় ফুঁ দিয়ে ইসলামের আলো নিভিয়ে দিবে,কিন্তু আল্লাহ তার দ্বীনকে বিজয় করবেনই,কাফেরদের তা যতই অসহনীয় হোক না কেন?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.