নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নুরুল আবছার টিপু

নুরুল আবছার টিপু › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমরা মনে হয় একটু বেশী বে-হায়া

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৭

আমাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে উদারতার দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়।স্বাধীনতার পরে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার উদাহরণই বেশী।এটা শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয় সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ক্ষমতা আকঁড়ে ধরার চর্চাই বেশী দেখা যায়।বঙ্গবন্ধুর বাকশাল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ব্যারিষ্টার মঈনুল হোসেন ও এম.এ.জি ওসমানী।এরপর সামরিক সরকার ক্ষমতা এলো।১৯৯০ সালে গনঅভ্যূত্থানে গণতন্ত্রের আগমন হলো।গণতন্ত্রের আগমনে জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হলো।জনগণ ভাবলো সামরিক অথবা সৈরশাসকের মতো ক্ষমতা কুক্ষিগত করবেনা,উদার গণতন্ত্র চর্চা হবে।কিন্তু গণতন্ত্রের চেহারা আরো হিংস্র ও জঘন্যভাবে উন্মোচিত হতে লাগল।অথচ অন্যান্য দেশে আমরা দেখতে পাই কোন সরকারী বা রাজনৈতিক কর্মকর্তার বিরূদ্ধে কোন অভিযোগ উঠলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পদত্যাগ করেন।চীনে,বৃটেনে,ভারতসহ অনেকদেশে এরকম অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে,অথচ অভিযোগ উঠলেই একজন ব্যক্তি অপরাধী হয়না।কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এরকম দৃষ্টান্ত বিরল।২০০৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে,বিচারপতি কে এম হাসান সম্মানবোধ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।আবার ২০০৬ সালে তত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে শফি সামি,সুলতানা কামালসহ ৪জন পদত্যাগ করেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে।২০০৯ সালে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ মন্ত্রী হওয়ার প্রায় ১ বছরের মাথায় পদত্যাগ করেন।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রী হিসেবে আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ ও মহজোটের শরীক রাশেদ খান মেননকে আহবান জানালে তারা অস্বীকৃতি জানান।তাদের মন্ত্রীত্বের লোভ থাকলেও হয়তো অভীমান অথবা দূর্নীতির বোঝা কিছুদিনের জন্য নিতে চাননি।তারপরও তারা দৃষ্টান্ত দেখাতে সক্ষম হয়েছেন।এইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশে ৪২ বছরের বিরল ইতিহাসমাত্র।অন্যদিকে ২০০১-২০০৬ সালে চারদলীয় সরকারের আমলে নৌ পরিবহন মন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরূদ্ধে মিডিয়া ও জনগণ ব্যাপক সমালোচনা করলেও তারা মন্ত্রীত্ব ধরে রাখার ব্যাপারে অটল ছিলেন।২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা আসার পর বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে নিয়োগ দিলেন মাওলানা সালাউদ্দিনকে।তার বিরূদ্ধে মুসল্লিদের ব্যাপক বিক্ষোভ হলেও এমনকি জুতো মিছিল করে প্রতিবাদ করলেও তিনি স্বপদে নিজেকে যোগ্য মনে করে খতিব পদ থেকে পদত্যাগ করলেন না।দ্রব্য মূল্যের দাম পাগলা ঘোড়ার মতো উঠতে থাকলেও মন্ত্রী মহাশয় পরামর্শ দিলেন জনগণকে কম খাওয়ার,পদত্যাগতো অনেক দূরের বিষয়।সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নাপারলেও তিনি দাবি করেন অতীতের সকল সময়ের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক ভাল।বাগাড়ম্বর আর কারে বলে?সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ড ও ইলিয়াস আলী নিখোজ।সাগর-রুনি হত্যার বিচার ৪৮ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে দাবি করলেও সেই ৪৮ঘন্টা আসতে আসতে তিনি অন্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর হলেন।যোগাযোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সড়ক পথের দুরাবস্থা নিয়ে জনগণ ও মিডিয়া অনেক বিক্ষোভ করলেও তিনি হাস্যজ্জ্বলভাবে তার পদে বহাল থাকলেন।এরপর পদ্মা সেতু নিয়ে দূর্নীতির অভিযোগ উঠলে যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে স্থানান্তর করা হয় অন্য মন্ত্রণালয়ে এবং ড:মশিউর রহমানকে ছুটিতে পাঠানো হয়,আমাদের পদ্মা সেতু এখনো স্বপ্নই রয়ে গেল।এই বছর রেল মন্ত্রণালয়ের দূণীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠে এমনকি রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত বাবু ও রেলকর্মকর্তাসহ প্রায় ৭০লক্ষেরও বেশী টাকার কেলেংঙ্কারীর সাথে জড়িয়ে পড়েন।মিডিয়া ও জনগণের ব্যাপক চাপের মুখে সুরঞ্জিত বাবুকে আওয়ামীলীগের গুরুদের নির্দেশে আবার দফতরবিতীন মন্ত্রী করা হয়।তবুও বাবু সাহেব মন্ত্রীত্বপদ ছাড়েননি।কি ছেছঁড়া ! শেয়ারবাজার লুটপাটের জন্য বিনিয়োগকারীরা অনেক আন্দোলন করে,এবং অনেকে আত্মহত্যাও করে।অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজরে বিনিয়েগকারীদের কে 'ফট' ও রাবিশ বলে ধীক্ষার দিলেন।অবশ্য রাবিশ শব্দটি অর্থমন্ত্রীর প্রিয়শব্দ।অতি সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের বিরূদ্ধে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার দূর্ণীতির অভিযোগ উঠলে অর্থমন্ত্রী বলেন সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা কিছুই না।অবশ্য পরে সংসদে ও মিডিয়ায় ব্যাপক সমালেচনার তোপে পড়ে ক্ষমা চান।অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করে অনেক আন্দোলন হলেও তিনি স্বপদে বহাল থাকেন হাতীর মতো। দীর্ঘ ৬মাস ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ বুয়েটের ভিসি এবং প্রোভিসির অপসারণের দাবীতে ছাত্র ও শিক্ষকরা একযোগে লাগাতার আন্দোলন করেও এই বিরক্তিকর ব্যক্তিদ্বয়দের পদত্যাগ করাতে পারেনি।ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের রক্ত দিয়ে প্রতিবাদ করে কোন ফল হয়নি।অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রো-ভিসিকে পদচ্যুত করা হয়।গন্ডারের চামড়া মনে হয়,নূন্যতম ব্যক্তিত্ব থাকলে আমার মনে হয় তারা অশ্যই পদত্যাগ করতেন।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের হায়া একটু কম হতে পারে তাই বলে যারা জাতির বিবেক তারাও যদি এরকম ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করে তাহলে জাতি আর কার থেকে শিক্ষা নেবে।অবশ্য যে সকল ব্যক্তির বিরূদ্ধে গণক্ষোভ ছিল তাদের পিছনের শক্ত খুটি হিসেবে কাজ করেছে সরকার।আরো দু:খের বিষয় হলো যে সরকারের কর্তা-ব্যক্তিরা যখন কোন দূর্ণীতি বা অপরাধ করে সরকার সেই অপরাধ-দূর্ণীতিকে ঢাকার চেষ্টা করে।যার ফলে এই সকল দূর্ণীতিগ্রস্থ ব্যক্তিগণ আরো প্রশ্রয় পায়।ক্ষমতার মোহে আমাদের বিবেকের পচন ধরেছে।বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও মিথ্যাচার বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।কিন্তু অবশেষে বিশ্ব ব্যাংকের ফর্মূলামত সিদ্ধান্ত নিতে সরকার বাধ্য হলো।আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলন আছে-"গাধা পানি ঘোলা করে খায়"।সরকারের এই অবস্থা দেখে বলতে হয়-"সেইতো মল খসালি,তবে কেন লোক হাসালি"?আমরা মনে হয় একটু বেশি বে-হায়া হয়ে গেছি,আমাদের চামড়া-গন্ডারের চামড়ার মতো হয়ে গেছে।আশা করবো আমাদের মানষিকতার পরিবর্তন হবে।



মোহাম্মদ নূরূল আবছার (টিপু)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.