| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পৃথিবীতে প্রজন্মের পর পজন্ম আসে।এটা এক চরম বাস্তবতা।তবে পজন্মকে যদি সঠিকপথে পরিচালনা করা যায় তাহলে তা জাতির জন্য খুবই মঙ্গলজনক হয়।আবার এই প্রজন্মকে যদি ভুলপথে পরিচালনা করা হয়,তাহলে তা জাতির জন্য হয় কলংঙ্কজনক।এইজন্যই বলা হয়ে থাকে ”ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে”।এইজন্যই ইতিহাসকে সঠিকভাবে এবং সত্যভাবে প্রকাশ বা উপস্থাপন করা জরুরী।তবে ইতিহাস কখনোই সঠিকভাবে উপস্থাপন হতে পারেনি।কোননা কোনভাবে তাকে ”মিথ্যা” বা ”বিক্রিত” করার মাধ্যমে আঘাত করা হয়েছে।এই বিক্রিত ইতিহাসকে প্রজন্ম লালন ও পালন করে।কোনমতে টিকে থাকে।তবে এই ইতিহাস যদি বেশিরভাগই বিক্রিত ও মিথ্যা দিয়ে আবৃত থাকে তাহলে তা প্রজন্মের জন্য বিরাট অশনি সংকেত।তবে এই ইতিহাস বিক্রিত হওয়ার মূল কারণ হলো ক্ষমতাশীলরা।যারা তাদের অপকর্মকে দাপট দিয়ে ঢেকে রাখে অথবা অন্যকে কলংঙ্কিত করে নিজেরা ফায়দা লুটার চেষ্টা করে।এটা যুগে যুগে হয়েছে,এখনো হচ্ছে।যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা নিয়ে আমরা এখনো বর্তমান প্রজন্ম দ্বিধাবিভক্ত।স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০লক্ষ নাকি ৩লক্ষ শহীদ হয়েছে তাও আমাদের সঠিকভাবে জানা নেই।মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত ইসলাম ও বামপন্থি রাজনৈতিক দলের অবস্থান কেমন ছিল?জামাত ছাড়াকি অন্য কোন দল যুদ্ধের বিরধীতা করেনি?করলে তাদেরকে কেন ধরা হচ্ছেনা?কেনই বা জামাত ইসলামীকে ৪২ বছর পরে এসে যুদ্ধপরাধী বলে শাস্তি দেয়ার পায়তারা করছে?বঙ্গবন্ধু কেন ৭ই মার্চের ভাষনের পর পাকিস্তানীদের সাথে আলোচনা করতে গেলেন?বঙ্গবন্ধু কেন ভারতের বিরধিতা সত্বেও লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিলেন?কেন মতিয়া চৌধুরীর মত শেখ মুজিব বিদ্বেষী,যিনি বলেছিলেন:বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাবেন,তাকে কেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডয়াম করা হলো?কেনই বা বঙ্গবন্ধু সকলদল নিষিদ্ধ করে বাকশাল গঠন করলেন?কেনই বা বঙ্গবন্ধূ ১৯৫জন যুদ্ধপরাধীদের ক্ষমা করলো?কেন পাকিস্তানিরা ভারতের মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করলো?কেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো?আবার কেনই বা জামাত ইসলামীর সাথে আওয়ামীলীগ ৮৫,৯৬তে একসাথে আন্দোলন করেছিল?জাসদের ৪০ হাজার নেতাকর্মীকে কারা,কেন হত্যা করলো?কেন জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হলো?কেন আওয়ামীলীগ তত্ববধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করে আবার তা বন্ধ করে দিল?আওয়ামীলীগের ভিতরে চিহ্নিত যুদ্ধপরাধীদের কেন বিচার করা হচ্ছেনা?তাহলে কি ধরে নিব আওয়ামীলীগ যারা করে তারা যুদ্ধপরাধী হলেও মুক্তিযোদ্ধা হবে,আর বিরধী দল মুক্তিযোদ্ধা হলেও যুদ্ধপরাধী হবে এমন?ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের স্কাইপি সংলাম ফাঁস হওয়ার পরেও কি এই বিচার নিরপেক্ষ থাকে?কেন আদালত থেকে স্বাক্ষী গুম হয়ে যায়?কেন ২০০৯ সালে বিডিয়ার বিদ্রোহ করে সেনা অফিসার মেরে ফেললো?কার সহযোগীতায় মারলো?কেন ভারত আমাদের সীমান্ত দখল ও মানুষকে পাখির মতো মারছে?আর কেনইবা সরকার এই নিয়ে কোন প্রতিকার নিচ্ছেনা?কেন সাগর-রূনি সাংবাদিক দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো?কেন আমরা প্রতিকীভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারী,২৬শে মার্চ,১৬ই ডিসেম্বর পালন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কৃত্রিম অভিনয় করি?অথচ বাস্তবতায় দেশপ্রেমের কোন চিহ্ন নেই।এইসকল প্রশ্নের উত্তর তোমাদের মতো আমারও অজানা তবে আমাদের সবারই উচিত সঠিক তথ্যকে উদঘাটন করা।এই ছাড়া প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুধু ভুলের উপরেই থেকে যাবে।যারা শাহবাগ চত্বরে আজকে জড়ো হয়েছ তোমাদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন?তোমরা কি সত্যকে প্রকাশের জন্য লড়াই করছো?নাকি মিথ্যা অপবাদে আরেকজন নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেয়ার চেষ্টা করছো?প্রথমদিকে তোমাদের আন্দোলন নিরপেক্ষ মনে হলেও দিন যত যাচ্ছে তোমাদের আন্দোলনের উদ্দ্যেশ্য ততই জাতির সামনে স্পষ্ট হচ্ছে।তোমরা যুদ্ধপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি চাইতে গিয়ে তোমরা ইসলামের বিরুদ্ধে রীতিমতো ১৪৪ ধারা জারি করেছ।তোমাদের গুরূ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি (তোমাদের ভাষায়) জনাব জাফর ইকবাল শপথ বাক্য পাঠ করালেন নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বর্জন করার জন্য।তোমাদেরকে শপথ করানো হলো-ইসলামীক টিভি,দিগন্ত টিভি,আমার দেশ পত্রিকা,দিগন্ত পত্রিকা এবং ইসলামী ব্যাংকসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানকে বর্জন করার।বাংলাদেশে ৮৫%লোক মুসলিম,ইচ্ছায় হোক অথবা অনিচ্ছায় হোক এই দেশের জনগণের সাথে ইসলাম কোননা কোন ভাবে সম্পৃক্ত।যারা তোমাদেরকে শপথ পড়ালো তাদের সংখ্যা কত পারসেন্ট তা একটু ভেবে দেখা উচিত।তোমাদের এই কিছু ছেলে-মেয়েদের উম্মাদনায় মেয়েরা লাঞ্চিত হয় এটা তোমাদের আন্দোলনের সবচেয়ে বড় কলংঙ্ক।আবার তোমাদেরকে আন্দোলনে উজ্জীবীত রাখতে তোমরা মদপানসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করছো,নাচ-গান করছো।তোমাদের নৈতিকতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ জাতির কাছে।অথচ তোমরা যে ধর্মের বিরূদ্ধে অবস্থান করেছ,সেই ধর্মীয় সর্বোচ্চ সমাবেশ পবিত্র হজ্জ্ব যেখানে লাখ লাখ নারী-পুরুষ সমবেত হয়,সেখানে কোন নারীকে লাঞ্চিত হয়েছে বলে আজও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।এখানেই পার্থক্য ধর্মহীন ও ধার্মিকদের মধ্যে।ধর্মহীনরা মন দ্বারা তাড়িত হয় আর ধর্মে বিশ্বাসীরা স্রষ্টা,বিধাতা ও আধ্যাত্নিক গুরু দ্বারা পরিচালিত হয়।ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে নৈতিকতা মূখ্য আর ধর্মহীনদের কাছে নৈতিকতা গৌন বিষয়।তোমাদেরকে দিয়ে কেউ ফায়দা লুটছে কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার।আবেগ থাকা ভাল তবে সেটা জন্য সত্যকে ঢেকে না দেয় এবং অন্যকে কলংকিত না করে।নিজের আবেগের প্রতি যেমন সম্মান আছে,তেমনি অন্যের আবেগের প্রতিও সমান শ্রদ্ধা থাকতে হবে।আবেগ যেন উগ্রতায় পরিনত না হয়।তোমাদের হঠাত এই উম্মাদনা কিছু প্রশ্ন জেগেছে সবার মনে।তা হলো-দেশের এতদিন ধরে বিরাজমান অনেক সমস্যাকে তোমরা এড়িয়ে এই প্রশ্নবিদ্ধ বিতর্কিত বিষয় নিয়ে তোমরা কেন মেতে উঠলে?তোমরা প্রকৃতপক্ষে Biased।তোমরাও তো সাম্প্রদায়িক,তোমরা প্রচলিত ধর্মের বিরধী সম্প্রদায়।আর প্রচলিত ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বষমূলক আচরণ করা হচ্ছে তোমাদের সাম্প্রদায়িকতা।তোমাদের ভাষায় যে যত ধার্মিক সে তত বেকডেটেড,আর যে যত নাস্তিক সে তত মডার্ণ। তোমাদেরকে ছাত্রলীগ ওরফে সরকার সরাসরি মদদ দিচ্ছে।আরো মদদ দিচ্ছে বামপন্থী সংগঠন ও বামঘরানার বুদ্ধিজীবি ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াগুলো।সেদিন একটি বেসরকারী চ্যানেলের রিপোর্টার শাহবাগ চত্বরের দৃশ্যকে উপস্থাপন করছিল শিশু থেকে ৭০ বছরের তরূন নাকি সেখানে উপস্থিত হয়েছে।আমার প্রশ্ন হলো ৭০ বছরের বৃদ্ধ কিভাবে তরূন হয়?তাহলে যারা নাস্তিক হয়,ধর্ম বিদ্বেষী হয়,তারা যত বয়সই হোক তারা তরূন আর যারা ধর্মীয়মনোভাব সম্পন্ন ধর্মকে চর্চা করতে চায় তারা ২০-২৫ বছরের তরূন হলেও তারা তোমাদের কাছে বৃদ্ধ।তারূণ্যের কি বিচিত্র সংজ্ঞা যা কবি নজরূলকে ও হার মানায়।যখন ফেলানীকে হত্যা করে কাটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়,যখন হাবীবুর রহমানকে বিবস্ত্র করে বিএসএফ পেটায় তখন আমাদের দেশের সম্মান কোথায় যায়?১০ বছরের শিশু যখন ধর্ষিত হয় তখন আমাদের জাতি কলংঙ্কিত হয়না?ইডেন কলেজের ছাত্রীদের যখন ছাত্রলীগের নেতাদের বিনোদনের জন্য যেতে বাধ্য করা হয়,তখণ তোমাদের এই চেতনা কই থাকে?মহিলা পুলিশকে যখন ছাত্রলীগের ছেলেরা ধর্ষন করে,বাসে যখন নিরীহ গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষন করা হয়,নিরপরাধ লিমনকে যখন র্যায়ব ক্রসফায়ার দিয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু করে,বিশ্বজিতকে যখন প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের ছেলেরা পদ পাওয়ার জন্য কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে,শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী যখন ধর্ষিত হয়,ইভটিজিং এর বিরধীতা করার জন্য শিক্ষক মিজানুর রহমান যখন হত্যা হয়,যৌতুকের জন্য যখন নারীরা লাঞ্চিত ও হত্যা হয়,দ্রব্য মুল্যের বৃদ্ধির কারণে জনগণের যখন নাভিশ্বাস হয়,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা যখন গুম হয়ে যায়,সরকারের দূর্ণীতির কারণে যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়,রেলমন্ত্রী দূর্নীতি করার পরও যখন দফতরবিহীন মন্ত্রী থাকে,ব্যাংক লুট করে যখন হলমার্ক কোম্পানী হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়,সালমান এফ রহমানরা শেয়ার বাজার লুট করে যখন ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়,যখন মৃত্যদন্ডপ্রাপ্ আসামীদের রাষ্ট্রপতি বিশেষ ক্মমতাবলে ক্মমা করে দেন,পাশ্চাত্য ও হিন্দি সংস্কৃতির আগ্রাসন যখন আমাদের সংস্কৃতিকে গিলে ফেলে,নকলের কারণে বহিষ্কার কারণে ছাত্র যখন শিক্ষককে হত্যা করে,রাস্তার পাশে অসংখ্য মানুষ যখন না খেয়ে মারা যায়,দেশের ভাল প্রকৌশলী থাকতে তেল,গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনের দায়িত্ব যখন বিদেশী কোম্পানীকে দেয়া হয়,তখন তোমাদের এই তারূন্যের জৌলুস কোথায় থাকে?আসলে সরকার তার ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যদিকে ফেরানোর জন্য তোমাদের দিয়ে শাহবাগের নাটক সাজিয়েছে,যা পূর্বপরিকল্পিত।আর কিছু উছৃংঙ্খল তরুণ তরূনী এখানে জড়ো হয়েছে Enjoy করার জন্য,যাদের মদ, গাজা,হিরোইন,ফেনসিডিল,ইয়াবা,কবিতা,নাচ ও গান হচ্ছে উজ্জ্বিবীত হওয়ার খোরাক।কিছু মিডিয়া শাহবাগ চত্বরকে তাহরীর স্কয়ার হিসাবে তুলনা করেছে,এটাকে পাগলের প্রলাপ ও contradictory ছাড়া কিছুই বলা যায়না।কারণ তাহরীর স্কয়ারে ইসলামপন্থীরা বিজয়ী হয়েছে,তাদের উজ্জ্বীবিত হওয়ার খোরাক ছিল কোরআন অধ্যয়ন,তাদের মহিলারা ছিল হিজাব পরা।আর তোমাদের শাহবাগ স্কয়ার থেকে নারীরা ধর্ষিত হয় এই আরকি।হিটলারের সহকারী গোয়েবলস এর একটি সূত্রকে বর্তমান সরকার কাজে লাগাচ্ছে,তা হলো ”যদি তুমি একটা মিথ্যাকে ১০০ বার প্রচার করো তাহলে তা সত্যে পরিণত হবে”। "Propaganda is power"।মহামনিষী রাসুল (সা)বলেছেন,কোন ব্যক্তির মিথ্যা হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট,সে যা শুনেছে বিবেচনা না করে তাই প্রচার করে”।আমি তরূনদের দলে,আমি য়ৌবণের গান গাই,কারন-"It is a golden period of life"।কিন্তু এই তারূন্যকে যেন ভূলভাবে পরিচালিত করা না হয়।যারা তোমাদেরকে সবক দিচ্ছে,তাদের নৈতিকতা কেমন তা একটু যাচাই করে দেখ।নৈতিকতাই তারূণ্যর প্রধান চালিকাশক্তি।”তারূন্য হলো বাধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো,যা সকল অন্যায় ও মিথ্যাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়,সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে।”।
লেখক
মোহাম্মদ নুরূল আবছার (টিপু)
©somewhere in net ltd.