নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.nafaji.com

বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল। [১৭:৮১-পবিত্র কুরআন]

নাফাজি

পেশা: সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

নাফাজি › বিস্তারিত পোস্টঃ

পবিত্র কুরআনের ছোট সূরাগুলোর অবতীর্ণ হবার ইতিহাস - সূরা আল ইখলাস

০৩ রা আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৩৬

সূরা আল ইখলাস (الإخلاص‎) পবিত্র কুরআনের ১১২ নম্বর সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। এই সূরায় ইসলামের প্রাথমিক ও মৌলিক বিশ্বাসকে (তাওহীদ) ছোট ছোট চারটি বাক্যের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে, যা শুনার সাথে সাথেই মানুষের অন্তরে গেঁথে যায়। ইখলাস শুধু এ সূরাটির নামই নয়, এখানে আলোচ্য বিষয়বস্তুর শিরোনামও। কারণ, এখানে খালেস তথা নির্ভেজাল তাওহীদের আলোচনা করা হয়েছে।



এই সূরাটি মক্কী ও মাদানী হবার ব্যাপারে মতভেদ আছে। এ সূরাটি অবতীর্ণ হবার কারণ হিসেবে যেসব হাদীস উল্লেখিত হয়েছে সেগুলোর ভিত্তিতেই এ মতভেদ দেখা দিয়েছে। নীচে পর্যায়ক্রমে সেগুলো উল্লেখ করা হলো,



হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন, কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলে, আপনার রবের বংশ পরিচয় আমাদের জানান। তখন এ সূরাটি নাযিল হয় (তাবারানী)।



আবুল আলীয়াহ হযরত উবাই ইবনে কাবের (রা) বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, মুশরিকরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলে, আপনার রবের বংশ পরিচয় আমাদের জানান। এর জবাবে আল্লাহ এ সূরাটি নাযিল করেন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে আবী হাতেম, ইবনে জারীর, তিরমিযী, বুখারী ফিত তারীখ, ইবনুল মুনযির, হাকেম ও বায়হাকী)



হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন, এক গ্রামীণ আরব (কোন কোন হাদীস অনুযায়ী লোকেরা) রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলে, আপনার রবের বংশধারা আমাদের জানান। এর জবাবে আল্লাহ এ সূরাটি নাযিল করেন (আবু ইয়ালা, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, তাবারানী ফিল আওসাত, বায়হাকী ও আবু নু’আইম ফিল হিলইয়া)



ইকরামা হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে রেওয়ায়াত করেন, ইহুদীদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (সা) এর খেদমতে হাযির হয়। তাদের মধ্যে ছিল কা’ব ইবনে আশরাফ ও হুই ইবনে আখতাব প্রমুখ লোকেরা। তারা বলে, “হে মুহাম্মাদ! আপনার যে রব আপনাকে পাঠিয়েছেন তিনি কেমন সে সম্পর্কে আমাদের জানান।” এর জবাবে মহান আল্লাহ এ সূরাটি নাযিল করেন। হযরত আনাস (রা) প্রায় অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেন (ইবনে আবী হতেম, ইবনে আদী, বায়হাকী ফিল আসমায়ে ওয়াস সিফাত)



আমের ইবনুত তোফায়েল রসূলুল্লাহকে (সা) বলেন : হে মুহাম্মাদ! আপনি আমাদের কোন জিনিসের দিকে আহবান জানাচ্ছেন ? তিনি জবাব দেন, “আল্লাহর দিকে।” আমের বলে : “ভালো, তাহলে তার অবস্থা আমাকে জানান। তিনি সোনার তৈরি, না রূপার অথবা লোহার?” একথার জবাবে এ সূরাটি নাযিল হয়।



যাহহাক, কাতাদাহ ও মুকাতেল বলেন, ইহুদীদের কিছু আলেম রাসূলুল্লাহ (সা) কাছে আসে। তারা বলে : “হে মুহাম্মাদ! আপনার রবের অবস্থা আমাদের জানান। হয়তো আমরা আপনার ওপর ঈমান আনতে পারবো। আল্লাহ তাঁর গুণাবলী তাওরাতে নাযিল করেছেন। আপনি বলুন, তিনি কোন বস্তু দিয়ে তৈরি ? কোন গোত্রভুক্ত ? সোনা, তামা পিতল, লোহা, রূপা, কিসের তৈরি ? তিনি পানাহার করেন কি না ? তিনি উত্তরাধিকারী সূত্রে কার কাছ থেকে পৃথিবীর মালিকানা লাভ করেছেন ? এবং তারপর কে এর উত্তরাধিকারী হবে ? এর জবাবে আল্লাহ এ সূরাটি নাযিল করেন।



ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, নাজরানের খৃষ্টানদের সাতজন পাদ্রী সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে সাক্ষাত করে। তারা তাঁকে বলে : “আমাদের বলুন, আপনার রব কেমন ? তিনি কিসের তৈরি ?” তিনি বলেন, “আমার রব কোন জিনিসের তৈরি নন। তিনি সব বস্তু থেকে আলাদা।” এ ব্যাপারে আল্লাহ এ সূরাটি নাযিল করেন।



এ সমস্ত হাদীস থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যে মাবুদের ইবাদাত ও বন্দেগী করার প্রতি লোকদের আহবান জানাচ্ছিলেন তার মৌলিক সত্তা ও অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক প্রশ্ন করেছিল। এ ধরনের প্রশ্ন যখনই এসেছে তখনই তিনিই জবাবে আল্লাহর হুকুমে লোকদেরকে এ সূরাটিই পড়ে শুনিয়েছেন। সর্বপ্রথম মক্কায় কুরাইশ বংশীয় মুশরিকরা তাঁকে এ প্রশ্ন করে। তাদের এ প্রশ্নের জবাবে এ সূরাটি নাযিল হয়। এরপর মদীনা তাইয়েবায় কখনো ইহুদী, কখনো খৃষ্টান আবার কখনো আরবের অন্যান্য লোকেরাও রসূলুল্লাহকে (সা) এই ধরনের প্রশ্ন করতে থাকে। প্রত্যেকবারই আল্লাহর পক্ষ থেকে ইশারা হয় জবাবে এ সূরাটি তাদের শুনিয়ে দেবার। হাদীসসমূহের রাবীগণ এ জিনিসটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, যখন অমুক সমস্যা দেখা দেয় বা অমুক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় তখন এ আয়াত বা সূরাটি নাযিল হয়। একে বারংবার অবতীর্ণ হওয়া অর্থাৎ একটি আয়াত বা সূরার বারবার নাযিল হওয়াও বলা হয়।



কাজেই সঠিক কথা হচ্ছে, এ সূরাটি আসলে মক্কী। বরং এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্তা করলে একে মক্কায় একেবারে প্রথম যুগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা যায়। আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনের কোন বিস্তারিত আয়াত তখনো পর্যন্ত নাযিল হয়নি। লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা) এর আল্লাহর দিকে দাওয়াতের বার্তা শুনে জানতে চাইতো : তাঁর এ রব কেমন, যার ইবাদাত - বন্দেগী করার দিকে তাদেরকে আহবান জানানো হচ্ছে। এর একেবারে প্রাথমিক যুগে অবতীর্ণ সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হবার আর একটি প্রমাণ হচ্ছে, মক্কায় হযরত বেলালকে (রা) তার প্রভু উমাইয়া ইবনে খালাফ যখন মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকার ওপর চিৎ করে শুইয়ে তার বুকের ওপর একটা বড় পাথর চাপিয়ে দিতো তখন তিনি “আহাদ” “আহাদ” বলে চিৎকার করতেন। এ আহাদ শব্দটি এ সূরা ইখলাস থেকেই গৃহীত হয়েছিল।



এই সূরাটিকে ইসলামের শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ (সা) বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাৎপর্যের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই আয়াতে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব ও সত্তার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে লোকদের বলেছেন, এ সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান - এ মর্মে হাদীসের বইগুলোতে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে।



সূরাটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো,

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ﴿١

(১) বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,

ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ﴿٢

(২) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣

(৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি

وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ﴿٤

(৪) এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।





বিখ্যাত ক্বারী মিশারী রশিদের তেলাওয়াত - সূরা আল ইখলাস



তথ্যসূত্রঃ

www.quran.com

en.wikipedia.org/wiki/Al-Ikhlas

bn.wikipedia.org

www.banglatafheem.com

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:০৬

নাঈমুল হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সুন্দর উপস্থাপনের জন্য। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:১১

নাফাজি বলেছেন: এই রামাদান মাসে পবিত্র কুরআন অর্থ ও তাফসীর সহ পড়ার চেষ্টা করছি। পবিত্র কুরআনের ছোট সূরাগুলোর অবতীর্ণ হবার ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ্।

২| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪১

নাঈমুল হাসান বলেছেন: "And We have certainly made the Qur'an easy for remembrance, so is there any who will remember?" [Al Qur'an 54:17]
___________________________________________________________________
Narrated Abu Huraira:
The Prophet said, "Allah says: 'I am just as My slave thinks I am, (i.e. I am able to do for him what he thinks I can do for him) and I am with him if He remembers Me. If he remembers Me in himself, I too, remember him in Myself; and if he remembers Me in a group of people, I remember him in a group that is better than they; and if he comes one span nearer to Me, I go one cubit nearer to him; and if he comes one cubit nearer to Me, I go a distance of two outstretched arms nearer to him; and if he comes to Me walking, I go to him running.' " [Bukhari::Book 9::Volume 93::Hadith 502]


I hope we can manage to spend some time to see the site. I think it might be an easy way to understand The Holy Qur'an.

http://understandquran.com/

গতকাল এই সাইট টি পাই, আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে সহজ ভাবে কোরআন বোঝার জন্য। তারপর উপরের লিখাটুকু আমার গুগল+ এ শেয়ার করি, সামুতে দেয়ার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় যাতে অনেকের আগ্রহ হয়। আপনার যদি মনে হয় এই সাইট টি আরো অনেকের কাজে আসতে পারে[বিশেষ করে অনারবীয় দের], তাহলে দয়া করে বিবেচনা করবেন এটি নিয়ে একটি পোস্ট দিতে পারেন কিনা।

অনেক ধন্যবাদ।

[এই কমেন্ট আপনি চাইলে মডারেট করে রাখতে পারেন]

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১২:৩৪

নাফাজি বলেছেন: নাঈম ভাই আমি চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ্। সুন্দর একটি হাদীস শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

৩| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৭

আবদুল্লাহ্‌ আল মামুন বলেছেন: Thank you very much for such nice post....

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৩

নাফাজি বলেছেন: আপানাকে স্বাগতম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.