| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাবো নাকি যাবোনা? চেষ্টা করেছি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ৭২ এর সংবিধান ও তার পরবর্তী পরিবর্তিত রুপ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। আমি কোন ডিসিশন দেইনি আতেল এর মত। আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম সমগ্র ব্যাপারটা। সম্পূর্ণ পোস্টটা পড়ে আপনি নিজেই নিতে পারবেন ডিসিশন। অন্যের মতামত এর উপর নির্ভর করতে হবে না।
৭২ এর সংবিধান ও বর্তমান সংবিধান এর পার্থক্য বুঝতে হলে আপনাকে সংবিধানের কিছু বেসিক দিক জানতে হবেঃ
যথাঃ
ক)সংবিধানের গঠন (এটা না বুঝলে বুঝবেনই না কোথায় কি কি পরিবর্তন এসেছে নান সময় এ। ফলে আমার এই লেখাটি পড়ে আপনার কোনই লাভ হবে না। যাস্ট অন্য মানুষের মুখে এতদিন শুনে যে ফল পেয়েছেন, তার বাইরে কিছু হবে না। সুতরাং কষ্ট করে হলেও অঅমাদের সংবিধান এর গঠনটা বুঝবেন। আমি খুব সহজ করে উপস্থাপন এর চেষ্টা করেছি।)
খ)সংবিধান পরিবর্তন এর পর্যাক্রমিক ইতিহাস(এটা খুব খুব ইম্পর্টান্ট। কারন তা না হলে সংবিধান এর কিছু পরিবর্তন এর কারন আপনি বুঝবেন না।)
গ)সংবিধানের পরিবর্তন সমূহ এবং এ কারন।
ঘ)সংবিধান ৭২ এ ফেরত গেলে কি কি পরিবর্তন আসবে বর্তমান সংবিধানে। এবার মূল আলোচনা শুরু করছি।
ক)সংবিধানের গঠনঃ
সংবিধান মূলত হয় ২ ধরনের। লিখিত আর অলিখিত। আমাদের দেশ এর সংবিধান লিখিত। পৃথিবীর অনেক দেশের সংবিধান ই অলিখিত। যেমনঃ বৃটেন, স্পেন প্রভৃতি। লিখিত সংবিধান আছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি রাষ্ট্রের।
এইবার এই লিঙ্কে যান, Click This Link
বাংলঅ সংবিধান একটি ডাউনলোড করে নিন। কারন লেখাটি বুঝতে হলে আপনাকে সংবিধান এর কিছু ব্যাপার হাতে কলমে জানতে হবে। আর তাছাড়া আমি চাইনা, আমার লেখা পড়ে আপনি বিভ্রান্তবোধ করেন। ডাউনলোড করে নিন। তারপর ডাউনলোডকৃত সংবিধানটির সাথে আমার লেখা মিলিয়ে মিলিয়ে পড়তে থাকুন।
প্রথমে আমাদের সংবিধান এর বেসিক গঠনটা আপনাকে বুঝতে হবে। আমাদের সংবিধান এ মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা ১১টি বিভাগে বিভক্ত। প্রতিটি বিভাগ কতগুলো সুনির্দিষ্ট ব্যাপার নিয়ে আলোচিত হয়েছে। একটু নিচে খেয়াল করুন।
বিভাগ আলোচিত বস্তু
প্রথম বিভাগ প্রজাতন্ত্র (অনুচ্ছেদ নং ০১-০৭)
দ্বিতীয় বিভাগ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (অনুচ্ছেদ নং ০৮-২৫)
তৃতীয় বিভাগ মৌলিক অধিকার(অনুচ্ছেদ নং ২৬-৪৭)
চতুর্থ বিভাগ নির্বাহী বিভাগ(অনুচ্ছেদ নং ৪৮-৬৪)
পঞ্চম বিভাগ আইনসভা(অনুচ্ছেদ নং ৬৫-৯৩)
ষষ্ট বিভাগ বিচার বিভাগ(অনুচ্ছেদ নং ৯৪-১১৭)
সপ্তম বিভাগ নির্বাচন(অনুচ্ছেদ নং ১১৮-১২৬)
অষ্টম বিভাগ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রন(অনুঃ ১২৭-১৩২)
নবম বিভাগ (ক) বাংলাদেশেরকর্মবিভাগ(অনুচ্ছেদ নং ১৩৩-১৪১)
নবম বিভাগ (খ) জরুরী বিধানবলী(অনুচ্ছেদ নং ১৪১ক - গ)
দশম বিভাগ সংবিধান সংশোধনী(অনুচ্ছেদ নং ১৪২- )
একাদশ বিভাগ বিবিধ(অনুচ্ছেদ নং(অনুচ্ছেদ নং ১৪৩-১৫৩)
১টা উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দেই কিভাবে সংবিধানটা পড়বেন আপনি?
যেমনঃ সংবিধান এর ১ম বিভাগের নাম "প্রজাতন্ত্র"। এই বিভাগটি প্রজাতন্ত্রের ব্যাপারে ৭টি অনুচ্ছেদ এর মাধ্যমে ৭টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।এই ৭টি অনুচ্ছেদের নাম যথাক্রমেঃ প্রজাতন্ত্র, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা, রাষ্ট্রধর্মরাষ্ট্র, ভাষা, জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক, প্রতিকৃতি, রাজধানী, নাগরিকত্ব প্রভৃতি ব্যাপার নিয়ে আলোচিত হয়েছে।
এবার আপনার ডাউনলোডকৃত সংবিধান এর সাথে নিচের কিছু ব্যাপার মিলিয়ে নিন। তাহলে সহজেই বুঝতে পারবেন সংবিধান এর কোথায় কিভাবে কি বলা হয়েছে।
যেমন ১ম অনুচ্ছেদে নাম "প্রজাতন্ত্র"। এখানে আমাদের দেশের নাম বলতে গিয়ে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ" নামে পরিচিত হইবে"।
আবার, ৩য় অনুচ্ছেদ এর নাম "রাষ্ট্রভাষা"। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, "প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা"।
আবার ৬নং অনুচ্ছেদের নাম, "নাগরিকত্ব"। এই অনুচ্ছেদের ২টি উপধারা। ২টি উপধারাতেই নাগরিকত্ব নিয়ে ২টি বেসিক নির্দেশনা আছে। যথাঃ "(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে।" এবং "(২) বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।"
সংবিধান মিলিয়ে পড়েছেন? না পড়ে থাকলে সংবিধান মিলিয়ে উপরের অংশটি পড়ুন আরেকবার।
এবার একটি ব্যাপার খেয়াল করুন। সংবিধান এর ১৫৩নং ধারার নিচে চলে যান। দেখবেন "প্রথম তফসিল" বলে একটি অংশ আছে। এই "তফসিল" জিনিসটি কি? একেবারে সহজ ব্যাপার। কোন ধারার যদি এক্সটেনশনের দরকার পড়ে বা কোন ধারার যদি বিস্তৃত পরিধির দরকার পড়ে তাহলে এই "তফসিল" দ্বারা তার এক্সটেনশন করা হয়। যেমন, "চতুর্থ তফসিল" টি খেয়াল করুন। আপনার ডাউনলোডকৃত সংবিধানটির একদম নিচের দিকে। পেয়েছেন? না পেয়ে থাকলে খুজুন, পেয়ে যাবেন।
এই "চতুর্থ তফসিল" এর নিচে লেখা আছে "১৫০ অনুচ্ছেদ"। তার নিচে লেখা আছে "ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী"। এখন ব্যাপারটি কি? আপনারা অনুচ্ছেদ নং ১৫০ এ চলে যান। খেয়াল করুন অনুচ্ছেদ নং ১৫০, "ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী"। এখানে বলা আছে, "এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও চতুর্থ তফ্সিলে বর্ণিত ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী কার্যকর হইবে।" এইবার নিচে নেমে আবার চতুর্থ তফসিলে চলে যান। এইবার "চতুর্থ তফসিল" টা খেয়াল করুন। এই তফসিলে বলা হয়েছে, ১৫০ নং এর এক্সটেনশন। অর্থাৎ অনুচ্ছেদ নং ১৫০এ বর্ণিত "ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী" কিভাবে হবে তা লেখা আছে এই "চতুর্থ তফসিল" এ।
আমি কি আপনাকে বোঝাতে পারলাম কিভাবে "সংবিধান" পড়তে হয়? যারা বুঝেছেন তাদের অনেক ধন্যবাদ। আর যারা আগেই বুঝতেন তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী এতক্ষন বিরক্তিকর কিছু সময় আপনাকে পার করতে হল বলে। এইবার আমরা মূল আলোচনায় আসি।
আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাবো নাকি যাবো না সে বিষয়ে সিদ্ধানাত নিতে গেলে আপনাকে ১৯৭২ এর সংবিধান এ কি কি পরিবর্তন এসেছে তা জানতে হবে। সংক্ষেপে ৭২ এর সংবিধান এর সঙশেঅধনীগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছিঃ
প্রথম সংশোধনীঃ ১৭জুলাই, ১৯৭৩
বিষয়ঃ যুদ্ধাপরাধীসহ অন্যান্য গণবিরোধীদের বিচার নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয় সংশোধনীঃ ২২সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
বিষয়ঃ অভ্যন্তরীন বা বহিরাক্রমন গোলযোগে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হলে সে অকস্থায় জরুরী অবস্থা ঘোষনার বিধান।
তৃতীয় সংশোধনীঃ ২৩ নভেম্বর, ১৯৭৪
বিষয়ঃ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী বেড়ুবাড়ীকে ভারতের নিকট হস্তান্তরের বিধান।
চতুর্থ সংশোধনীঃ ২৫জানুয়ারী, ১৯৭৫
বিষয়ঃ সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালুকরন এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন।
পঞ্চম সংশোধনীঃ ৬ এপ্রিল ১৯৭৯
বিষয়ঃ ১৯৭৫ সালের ১৫আগষ্টের সামরিক অভ্যুথ্থানের পর হতে ১৯৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকান্ডের ফরমান ও প্রবিধানের বৈধতা প্রদান।
এই সময় ই বেশ কিছু বেসিক পরিবর্তন আসে সংবিধান এর। যথাঃ
সংবিধানের মূলনীতি হতে "সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা" বাদ পড়ে ১৯৭৮ সালে।
এছাড়াও "বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে)" - এটা সংবিধানে সংযোজিত হয় ২২শে এপ্রিল, ১৯৭৮ সালে।
"বাঙালি" এর পরিবর্তে "বাংলাদেশী" জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করা হয় - ৩রা মার্চ, ১৯৭৮ সালে।
আর এই বিধানগুলো বৈধতা পায় পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে।
ষষ্ঠ সংশোধনীঃ ৯জুলাই, ১৯৮১
বিষয়ঃ উপরাষ্ট্রপতি পদ হতে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিতকরন।
এই সময়ও বেশ কিছু বেসিক পরিবর্তন আনা হয সংবিধানে। যথাঃ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় এই সময় ই। আর তা বৈধতা পায় এই ষষ্ঠ সংশোধনীর মাধ্যমে।
সপ্তম সংশোধনীঃ ১১নভেম্বর, ১৯৮৬
বিষয়ঃ ১৯৮২ এর ২৪শে মার্চের পর থেকে ১৯৮৬ সালের ১১নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক শাসনের অধীনে যে সমস্ত আদেশ জারি হয় তা অনুমোদনের জন্য।
অষ্টম সংশোধনীঃ ৯জুন, ১৯৮৮
বিষয়ঃ রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতি দান। ঢাকার বাইরে ৬টি জেলায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন। Dacca এর নাম Dhaka এবং Bangli এর নাম Bangla পরিবর্তন করা হয়।
নবম সংশোধনীঃ ১১জুলাই, ১৯৮৯
বিষয়ঃ প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট এর মেয়াদ সম্পর্কিত।
দশম সংশোধনীঃ ২৩জুন, ১৯৯০
বিষয়ঃ জাতীয় সংসদে ৩০টি আসন ১০ বছরের জন্য সংরক্ষিত রাখা।
একাদশ সংশোধনীঃ ১০আগষ্ট, ১৯৯১
বিষয়ঃ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের পূর্বপদে পিরে যাবার প্রসংগে।
দ্বাদশ সংশোধনীঃ ১৮সেপ্টেম্বর, ১৯৯১
বিষয়ঃ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন।
ত্রয়োদশ সংশোধনীঃ ২৮মার্চ, ১৯৯৬
বিষয়ঃ অবাধ, সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন।
চতুর্দশ সংশোধনীঃ ১৭মে, ২০০৪
বিষয়ঃ ৪৫টি নারী আসন, প্রতিকৃতি সংরক্ষন, বিচারপতির বয়সসীমা প্রমুখ বিষয়।
এইবার আলোচনা করা যাক। আমি বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত সূত্র থেকে আলোচনা করছি। আপনারা আমার কোন ভুল থাকলে তা শুধরে দেবেন আশা করি।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের কোন সংবিধান ছিল না। সে সময় "Proclamation of Independence"-এর মাধ্যমে সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয় এবং "Law Continuence Enforcement Order"-এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যেসব আইন বাংলাদেশে বলবৎ ছিল সেগুলোকে উপরোক্ত Proclamation এর সঙ্গে সঙ্গতি সাপেক্ষে অপরিবর্তিত অবস্থায় বলবৎ করা হয়।
পরে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি "Provitional Constitution Of Bangladesh Order" জারি করা হয়। এর মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন করা হয় এবং আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ পরিচালনার জন্য অস্থায়ী বিধান প্রণয়ন করা হয়।
এরপর ২৩মার্চ,১৯৭২ সালে গন পরিষদ এ সংবিধান তৈরীর নির্দেশ জারি করা হয়। সংবিধান কমিটির প্রধান ছিলেন, ডঃ কামাল হোসেন। কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২ হতে।
ভারত আর বৃটেন এর সংবিধান এর আলোকে তৈরী বাংলাদেশের সংবিধান, গণপরিষদে বিস্তারিত আলোচনা, পর্যালোচনা ও বিতর্কের পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর এ চুড়ান্তভাবে প্রণীত হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে সংবিধান প্রণয়নের আগ পর্যন্ত সময়ে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করতেন। সংবিধান প্রণয়নের পর বাস্তবতা বিবেচনায় এসব আদেশ ও তৎকালীন সরকারের সব কর্মকান্ডের বৈধতা দেয়ার প্রয়োজন ছিল। ফলে সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলি জারির ক্ষমতা দেয়া হয়।
অনুচ্ছেদ ১৫০-এ বলা হয়েছে, "এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী কার্যকর হইবে"। এই অনুচ্ছেদের ক্ষমতা অনুসারে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ক্রান্তিকালীন বিধান যুক্ত করা যায়। এই অনুচ্ছেদকে ব্যবহার করে এ পর্যন্ত সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে মোট ১৭টি অনুচ্ছেদ সংযোজিত হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদগুলোর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে প্রথম সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠান পর্যন্ত সব কার্যক্রমের বৈধতা দেয়া হয়। এর মধ্যে আছে গণপরিষদ ভঙ্গকরণ, প্রথম নির্বাচন, ধারাবাহিকতা রক্ষা ও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার জন্য ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে সংবিধান প্রবর্তনের তারিখের মধ্যে প্রণীত বা প্রণীত বলে বিবেচিত সব আইন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও অন্যান্য আইনের বৈধতা, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, বিচার বিভাগ প্রভৃতির বৈধতা।
সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের অধীনে চতুর্থ তফসিল প্রথম সংশোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে তফসিলের ১২ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করা হয়। এই অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারের বিধান ছিল।
এরপর দুটি সামরিক শাসনের সব রকমের বৈধতার জন্য এই অনুচ্ছেদের আশ্রয় নেয়া হয়। ১৯৭৯ সলের ৬ এপ্রিল পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এতে অনুচ্ছেদ ১৮ যুক্ত করে খন্দকার মোশতাক আহমেদ, বিচারপতি আবু সায়েম এবং মেজর জিয়ার সামরিক শাসনামলের সব কাজের বৈধতা দেয়া হয়। এতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রণীত সব ফরমান, আদেশ, সামরিক আইন, প্রবিধান, সামরিক আইন অধ্যাদেশ ও অন্যান্য আইন এবং এই সময়ে সরকার কর্তৃক কৃত সব কাজকে বৈধতা দেয়া হয়।
১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ১৯ যুক্ত করে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনামলের বৈধতা দেয়া হয়। ১৮ অনুচ্ছেদের মতো এই অনুচ্ছেদেও বলা হয় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চে জারিকৃত সব সামরিক ফরমান, আদেশ ও আইন বৈধ এবং এসব নিয়ে উচ্চ আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
এরপর একাদশ সংশোধনী আনা হয় ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর। এরশাদ সরকারের পতনের পর সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে তৎকালীন প্রধান বিচরপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, নির্বাচন পরিচালনা করেন এবং নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে তিনি আবার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফিরে যান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সরকারের নির্বাহী বিভাগের প্রধান আর প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের প্রধান। সরকারের এক বিভাগের প্রধানের পদ থেকে অন্য বিভাগের প্রধানের পদে যাওয়া এবং পুনরায় পূর্ববর্তী পদে ফিরে আসা যায় না। তাই তার এই পদ পরিবর্তনের ঘটনাটিকে সাংবিধানিক বৈধতা দেয়ার প্রয়োজন ছিল। একাদশ ও দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে কর্তব্য পালন ও স্বপদে পুনর্বহালকে বৈধতা দেয়া হয়। ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ২০-এর উপ-রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধান বিলোপ করা হয় এবং এই সংশোধনীর অব্যবহিত পূর্বের সংসদের বৈধতা দেয়া হয়।
এবং সর্বশেষ চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ-২৩ যুক্ত করে সংসদে মহিলা সদস্য সম্পর্কিত বিশেষ বিধান করা হয়।
এ হলো সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের অধীন চতুর্থ তফসিলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এখানে লক্ষণীয়, যতবার আমরা সংবিধান থেকে বিচ্যুত হয়েছি, ততবারই এর আশ্রয় নিয়েছি কেবল চতুর্থ ও চতুর্দশ সংশোধনী ছাড়া।
অর্থাৎ দুটি সামরিক শাসন ও সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের দায়িত্ব পালনের বৈধতা এর মাধ্যমে দেয়া হয়।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০-এ যদিও বলা নেই যে, কেবল সংবিধান প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত সব কর্মকান্ড এর মাধ্যমে বৈধতা পাবে, তবুও সংবিধান ব্যাখ্যার নীতি অনুযায়ী এটি প্রণয়নের পরিস্থিতি ও সে সময় সংবিধান প্রণেতাদের চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় বলা যায়, সংবিধান প্রণেতারা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে সংবিধান প্রণয়নের পূর্ববর্তী সব কর্মকান্ডের বৈধতা দেয়ার জন্যই এই অনুচ্ছেদ তারা যুক্ত করেন। আবার অনুচ্ছেদটি সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এতে বলা হয়নি যে সংবিধান প্রণয়নের পূর্ববর্তী কর্মকান্ডের বৈধতার পর আর কোন অসাংবিধানিক কর্মকান্ডের বৈধতার জন্য এর আশ্রয় নেয়া যাবে না। ফলে আইনের এই ফাঁক রয়েই যায় আর এই ফাঁকের সুযোগ বার বার নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামরিক শাসকরা এর আশ্রয় নিয়ে তাদের কর্মকান্ডকে সাংবিধানিক বৈধতা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে বিশ্বের সব দেশের সংবিধানেই জরুরি অবস্থার বিধান রাখা হয়।
আমাদের সংবিধানে এজন্য দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থা জারির বিধান করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির প্রেক্ষাপট হিসেবে অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) তে বলা হয়েছে "যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগকে। দেশে জরুরি অবস্থা বিদ্যমান থাকাকালে সরকারকে বিভিন্ন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে পারে। সেসব ব্যবস্থার বৈধতার জন্য এই অনুচ্ছেদের আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। দেশে সামরিক শাসন জারির প্রাক্কালে প্রথমে "অভ্যন্তরীণ গোলযোগ" এই অজুহাতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে সামরিক আইন জারি করা হয়। জরুরি অবস্থা জারির প্রেক্ষাপট নির্দিষ্ট করে বলা হলেও ক্রান্তিকালীন অবস্থা বলতে কী বোঝাবে তা বলা হয়নি।
ফলে সামরিক শাসকরা ক্ষমতা গ্রহণকালে "দেশ ক্রান্তিকালীন সময়ের মুখোমুখি" এই অজুহাত পেশ করেছে এবং এই অনুচ্ছেদের আশ্রয় নিয়ে নিজেদের সব কর্মকান্ডের বৈধতা দিয়েছে। তাই ক্রান্তিকালীন অবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করা, জরুরি অবস্থা ও ক্রান্তিকালীন সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করা এবং এদের মধ্যে পার্থক্য নির্দিষ্ট করাও জরুরি। নতুবা বার বার দেশে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার যে, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অকার্যকর করার জন্য সর্বপ্রথম বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ওই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করে তার চার স্তম্ভের অন্যতম "গণতন্ত্র" বিধ্বস্ত করেন।
এই সংশোধনীর জোরে তিনি নিজেদের দল বাকশাল ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন। সরকারি দু-একটি পত্রিকা বাদে সব পত্রপত্রিকা, এমনকি মাসিক পত্রিকা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেন এবং নিজের দল বাকশালের দরজা আনসার, মিলিটারি, পুলিশ ইত্যাদির জন্য উন্মুক্ত করে সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেন।
১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে যে জিয়াউর রহমান সামরিক কর্তাব্যক্তি হিসেবে ক্ষমতায় বসেন তিনি ছিলেন শেখ সাহেবের "বাকশাল"-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এদিক থেকে বলা চলে, শেখ সাহেব যে বীজ বপন করেছিলেন, জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন আমলেই তা প্রস্ফুটিত হয়েছিল।
কিন্তু এটা মনে করা আবার এক চরম মূর্খতা যে, শেখ সাহেব শুধু একজন স্বৈরতন্ত্রী ছিলেন বলেই তিনি চতুর্থ সংশোধনী পাস করে এক চরম অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন। এ চিন্তা অবাস্তব। সংক্ষেপে বলা চলে, আওয়ামী লীগের তিন বছরের শাসনকালের মধ্যেই সরকার থেকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও নব্য শাসকশ্রেণীর সমগ্র অংশ লুটতরাজ, চুরি, দুর্নীতি, প্রতারণা ইত্যাদির মাধ্যমেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল যা সামাল দেয়ার জন্য শেখ মুজিবকে চতুর্থ সংশোধনী পাস করতে হয়েছিল। স্বৈরতন্ত্রের তাগিদ সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির মধ্যে আরও পরিবর্তন ঘটতে থাকায় তার শেষ রক্ষা হয়নি। চতুর্থ সংশোধনীর ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই পাস হয়েছিল বিভিন্ন সরকারের আমলে একের পর এক অগণতান্ত্রিক সংশোধনী।
মোটামুটি বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭২ এর রুপ আর বর্তমান রুপ, এবয় ২রুপের বিরোধের প্রেক্ষাপট হল এই।
সুতরাং ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সহজ হতে পারে। এখানে একটা কথা উল্লেখযোগ্য যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে যে, ৭২ এর সংবিধানেই ফেরত যেতে হবে এমন কোন কথা নেই। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব।
সুতরাং যদি সরকার শুধুমাত্র এই কারনে ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যায় তাহলে, কিছু ব্যাপার সামনে চলে আসে। যেমনঃ সমাজতন্ত্র,ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" থাকবে কিনা, বাঙালী-বাংলাদেশী বিতর্ক, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক ইত্যাদি সরকারের সামনে চরে আসবে।
এখন এই ব্যাপারগুলো নিয়েও সরকার পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। সুতরাং আপনিই চিন্তা করুন আপনি ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যেতে চান কিনা বা ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যেতে হলে সরকারকে কোন কোন বিষয়ে পরিস্কার একটা পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্যাক্তিগতভাবে আমি মনে করি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর "চতুর্থ তফশীল" এর অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার সংবিধানে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে অবশ্যই সমাজতন্ত্র,ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" থাকবে কিনা, বাঙালী-বাংলাদেশী বিতর্ক, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক প্রভৃতি বিতর্ক এর একটা আনুষ্ঠানিক মতৈক্যে পৌছানোর পর।'
[কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য কমেন্ট নং ১৬ এবং ১৭ পড়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।]
ধন্যবাদ সবাইকে পড়ার জন্য।
তথ্যসূত্রঃ
গভর্নমেন্ট ওযেবসাইট http://www.pmo.gov.bd/constitution
ল.গভ.বিডি Click This Link
বিডি.ল.গভ http://bdlaws.gov.bd
উইকিপিডিয়া http://bn.wikisource.org
http://taiyabs.com/
বিডি লিড নিউজ.কম http://bdleadnews.com
ইউকে বিডি নিউজ http://www.ukbdnews.com
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ
একরামুল হক শামীম ভাই Click This Link
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৫
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: সংবিধান জিনিসটা আমি এককালে পুড়া দিবার চাইছিলাম। ফেরত গেলেই কি আর না গেলেই কি? আমার বাড়ী সামনের ভাঙ্গা রাস্তা তো আর এতে ঠিক হইতাছে না।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধাক্কা খাইলাম। কথা তো সত্য। :-&
৩|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
আমি মদন বলেছেন: ধন্যবাদ এই চমৎকার উপস্থাপনার জন্য। বিষয়টা অবশ্যই গভীর চিন্তা এবং সতর্ক সিদ্ধান্তে দাবী রাখে।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫১
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ। বিষয়টা অবশ্যই গভীর চিন্তা এবং সতর্ক সিদ্ধান্তে দাবী রাখে। সহমত।
৪|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০০
সুধাসদন বলেছেন: জনগুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটি স্টিকি করা হোক।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৩
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: প্রবলেম নেই। যাদের দরকার তারা পড়লেই হবে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
৫|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৪
একরামুল হক শামীম বলেছেন: পড়তাছি।
আপাতত একটা প্রশ্ন- আপনি লিখেছেন- "আমাদের সংবিধান এ মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ বা ধারা রয়েছে"
অনুচ্ছেদ আর ধারা কি এক হলো?
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১২
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
আমি সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ করেছি মাত্র।
"আজকের বিশ্ব" ২০০৭ নভেম্বর এডিশন এর ১৩৩ নং পৃষ্ঠার ২নং প্রশ্নের তথ্যানুযায়ী, " বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫৩টি ধারা বা অনুচ্ছেদ রয়েছে"।
উক্ত বইয়ে ভুল তথ্য থাকতে পারে। আপনি নির্ভরযোগ্য সূত্র দেখালে আমি পোস্টটিতে কারেকশন করে দেব।
ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।
৬|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: পড়লাম।
আপনি লিখেছেন- "৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সহজ হতে পারে। এখানে একটা কথা উল্লেখযোগ্য যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হলে যে, ৭২ এর সংবিধানেই ফেরত যেতে হবে এমন কোন কথা নেই। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব।"
এই বিষয়টা ক্লিয়ার হলো। একটু বুঝিয়ে বলবেন কি?
আমারতো মনে হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠিকভাবে করতে হলে প্রথম সংশোধনীটা দরকারী।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৯
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: আপনার সাথে মোটেও দ্বিমত করছি না। কারন জিয়া ও এরশাদের আমলে করা ৫ম ও ষষ্ঠ সংশোধনীর সময় নেয়া কিছু সিদ্ধান্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সমস্যা করতে পারে।
সুতরাং ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ৭২ এর সংবিধানে গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সহজ হবে।
দেখুন আমি বলতে চেয়েছি নানা সময়ে ব্যক্তি বা দলের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন হয়েছে। তাই বলে সব সংশোধনীই কিন্তু অপ্রয়োজনীয় নয়। আমি মনে করি প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলোর ব্যাপারে ডিসিশন নিয়ে তারপর ৭২ এর সংবিধানে যাওয়া যেতে পারে।
৭|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৪
শয়তান বলেছেন: ৭২ এর সংবিধানে ফেরতযাওয়া মানে কি টাইম মেশিনেকরে ৭২ সালে যাওয়া ?
আপনার সুদীর্ঘ্য পোষ্ট কিন্তু এরকমটাই অনেকটা মীন করতেছে । অথচ মুল ব্যপারটা হৈলো ৭২ এর সংবিধানের ভাবধারায় ফেরত যাওয়া । ভাবধারা আর সংশোধনি বিহিন দুটোর মাঝে কিন্তু আছে ভালো ।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৮
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য। ভুল বুঝেছেন। ৭২ এর সংবিধানে যাওয়া মানে টাইম মেশিনে করে ৭২ এ ফেরত যাওয়া এই টাইপ এর কথা অনেকেই বলছেন। বিশেষত যারা সংবিধান পরিবর্তন এর পক্ষেনা তারা। আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি।
কখনোই ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাওয়া মানেই টাইম মেশিনে করে ৭২ এ ফেরত যাওয়া নয়। ১৫ কোটি মানুষ আজ। লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী দেয় এস.এস.সি. এইচ.এস.সি পরীক্ষা। মোবাইল ইউজার প্রায় ৪কোটি। এত টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র। বিদেশে থাকেন প্রায় ৫০লক্ষ মানুষ। এত বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল কলেজ। দেন কিভাবে ৭২ এর সংবিধানে যাওয়া মানে ৭২ এ ফিরে যাওয়া হয়?
কখনোই না।
তবে এটাও মনে রাখতে হবে, সংবিধানের সব পরিবর্তন ই কিন্তু অপ্রয়োজনীয় না। ৭২ এর সংবিধানের ভাবধারায় যাওয় বলেই কিছু নেই। এটা একটা ডকুমেন্ট। লিখিত ব্যাপার। সুতরাং ৭২ এর সংবিধানে ফেরত গেলে "স্থানীয় সরকার" থাকবে কিনা, আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতাতে ফেরত যাবো কিনা, বাঙারী বা বাংলাদেশী কি হিসেবে আমরা পরিচিত হব, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি থাকবে কিনা, এই ব্যাপারগুলোর কি হবে?
তাই আমি বলেছি এই ব্যাপারগুলো নিস্পত্তি করতে করতেই সরকারের ৭২ এর সংবিধান এর দিকে অগ্রসর হতে হবে।
ধন্যবাদ।
৮|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৯
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
৯|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২১
হরিসূধন বলেছেন:
আমি ব্যক্তিগত ভাবে ৭২রের সংবিধানের বিরুধী। তার মানে এই নয় যে আমি বর্তমান সংবিধানের পক্ষে.....,
১৯৭২ সালে রচিত সংবিধানের উপরে কোন গনভোট অনুষ্ঠিত হয় নি। যা অগনতান্ত্রিক।
মাত্র কয়েক জন লোকের চিন্তা চেতনা ৭ কোটি(১৯৭২ সালের জনসংখ্যা) মানুষের উপর ভর করতে পারে না। আর এখন তো সে জনসংখ্যা ১৬/১৭ কোটিতে! ডা. কামালেরা নিজেরাই পবিত্র নয়! অথচ তাদের রচিত সংবিধান কে পবিত্র বলতে হবে! পবিত্র জিনিষ কিভাবে সকাল বিকাল পরিবর্তিত হয়? বর্তমান সংবিধানে অনেক গোজা মিল আছে।
বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে সেক্যুলার নামের ভূততন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করে নাই। যারা বলে সেক্যুলারের জন্য তারা পুরা ভন্ড মিথ্যেবাদী এবং দালাল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ শোষন এবং বন্চনার জন্য যুদ্ধ করেছে। এটা যে মিথ্যে নয় তার প্রমান কিন্তু ২৪/২৫ পুর্বের ১৯৪৭ এর দিকে তাকালেই পাওয়া যায়। অথচ আমাদের নেতারা ভারত কে খুশি করার জন্য ১৯৭১ সালে সেক্যুলার ভিত্তিক চেতনা ধার করে।
এই কিছু দিন আগে পিনাক বাংলাদেশে সেক্যুলারি চেতনার উন্নতিতে আনন্দিত হয়েছেন। মুলত ১৯৭২ সালের সংবিধানই এই দেশের মানুষের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা কে কলংকিত করেছে। শোষন এবং বন্চনা কে পদ্ম পাতার রঙে রঙ লাগানো হয়েছে। ১৯৪৭ কেন আমাদের জাতীয় নেতারা পাকিস্তানের বিরুধীতা করে নি? তখন বঙ্গবন্ধু কি পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন না? তার মানে তিনি তখন ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন?
কিন্তু ২৪ বছর পর তিনি ক্ষমতা কেন্দ্রিক দন্ধে সেক্যুলারিজমে কনভার্ট হয়েছেন? আগরতলা যে ষড়যন্ত্র ছিলো না! তা কিন্তু সত্য।
আমার এই সব কথা কিন্তু বানানো না! পুরা সত্য ইতিহাস।
যাই হোক ১৯৭২ সালে শেখ হাসিনা এবং সাজেদা বয়স কত ছিলো? তারা কিছু দিন পরে পরপারে চলে যাইবেন। যেভাবে অন্যরা গিয়েছে। কিন্তু আমাদের কে ১৯৭২ সালের বিধান নিয়ে পড়ে থাকতে হবে!! দেশের মানুষের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন ঘটেছে তাই গনতান্ত্রিক নিয়মে কোন বিধানই চিরস্হায়ী নয়। আ.লীগ যেহেতু ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে চায় তাহলে সেটা নিয়ে রাজনীতি করার কি দরকার? সোজা গনভোট দিয়ে দাও.. মাত্র ১ বছর আগে আপনারা বিপুল ভোট বিজয়ী হয়েছেন! গনতন্ত্র এত ভালোবাসো অথচ সংবিধানের উপর ভোট দিতে ভয় কেন? কারন হাসিনা নিজেই জানে যে দেশের মানুষ( অন্ধ আ.লীগার বাদে) ১৯৭২ সালের সংবিধানের বিরুধী।
প্রতি ১৫/২০ বছর পর পর সংবিধান পরিবর্তন করে গনভোটের ব্যবস্হা করা হোক। কারন আমার ছেলে মেয়ে আমার চিন্তা চেতনার উপর ভর করে চলতে পারে না অথবা তারা চলবে ও না। রাষ্ট্র কোন ভাবেই তার কোন নাগরিক কে শেকল পরিয়ে কিছু মানতে বাধ্য করতে পারে না। যদি গনতন্ত্র বিশ্বাসী হইতে হয়......
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৩
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ভালো প্রস্তাব দিযেছেন শেষ প্যারাতে। সমর্থনযোগ্য।
১০|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৯
একরামুল হক শামীম বলেছেন: * উপরের ৬ নং কমেন্টে 'এই বিষয়টা ক্লিয়ার হলো না' হবে।
আজকের বিশ্বে লেখা আছে আর তাই ঠিক হয়ে যাবে? সংবিধানটাই একটু দেখেন। তাহলে ব্যাপরটা বুঝতে পারবেন, অনুচ্ছেদ নাকি ধারা।
আর্টিকল এবং সেকশন দুইটার পার্থক্যকে আজকের বিশ্ব গুলিয়ে দিয়েছে।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: অনুচ্ছেদ সঠিক হবে। ঠিক করে দিচ্ছি।
অনেক ধন্যবাদ।
১১|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: আপনি লিখেছেন- "জিয়া ও এরশাদের আমলে করা ৫ম ও ষষ্ঠ সংশোধনীর সময় নেয়া কিছু সিদ্ধান্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সমস্যা করতে পারে।"
৫ম এবং ৬ষ্ঠ সংশোধনীর সাথে যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের কনফ্লিক্ট কোথায় ঠিক বোধগম্য হলো না।
৫ম সংশোধনী হলো - বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন, বাঙালি এর পরিবর্তে বাংলাদেশী, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ।
৬ষ্ঠ সংশোধনী হলো- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম , উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন সংক্রান্ত একটি বিষয়।
এইখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে বিরোধ করে এমন কোন বিধান তো দেখলাম না।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৪
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ। আমি মূল পরিবর্তন গুলোই এখানে বলেছি মাত্র। কিন্তু নির্বাহী আদেশ ছিল অসংখ্য। যেগুলো সংবিধানে আলোচিত হয়নি। আমার কথা না। আনেকেই মনে করেন জিয়া ও এরশাদের আমলে হওয়া কিছু নির্বাহী আদেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সমস্যা তৈরী করতে পারে। এই বিষয়ে পোস্ট ও আমরা অনেক দেখেছি এই সামুতেই।
১২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৮
অমিত হাসান বলেছেন: প্রিয়তে
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৩|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৮
শয়তান বলেছেন: পঞ্চম সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের একটা রায় আছে । এটি সম্ভবত বাতিলের দিকে আছে এমুহুর্তে ।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৬
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ৬ষ্ঠ সংশোধনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে কতক্ষন? শুধু যে ৫ম সংশোধনীই যে ভুল তা তো আর না। ৬ষ্ঠ সংশোধনীও তো সেম এ্যাজ ৫ম সংশোধনী। তাহলে ৬ষ্ঠ সংশোধনী নিয়ে কথা হচ্ছে না কেন?
শুধু ৫ম সংশোধনী বাতিল করলেই কি সংবিধান এর আর কোন নেগেটিভ দিক থাকে না?
আমি মনে করি, সংবিধান এর সকল নেগেটেভ দিক ই পর্যালোচনা করতে হবে সরকারের। ৪র্থ, ৫ম বা ৬ষ্ঠ যে কোন পরিবর্তন এর ই নেগেটিভ দিক থাকতে পারে। আর তা থাকলে সমান ভাবেই তা ট্রিট করতে হবে। অনলী ৫ম সংশোধনী বাতিল করাই তো আর সমাধান না।
১৪|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪১
একরামুল হক শামীম বলেছেন: ব্লগার শয়তান এর কমেন্টটির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আপনার সুদীর্ঘ্য পোষ্ট কিন্তু এরকমটাই অনেকটা মীন করতেছে । অথচ মুল ব্যপারটা হৈলো ৭২ এর সংবিধানের ভাবধারায় ফেরত যাওয়া । ভাবধারা আর সংশোধনী বিহীন দুটোর মাঝে কিন্তু আছে ভালো ।
এই অংশের সাথে সহমত। সেইসাথে বলতে হচ্ছে এই অংশের উত্তর দিতে গিয়ে আপনি ভুলভাবে পুরো বিষয়টাকেই ব্যাখ্যা করেছেন।
কনস্টিটিউশনাল স্পিরিট বলে একটি টার্ম প্রচলিত। মূলত ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া মানে ৭২ এর কনস্টিটিউশনাল স্পিরিটে ফিরে যাওয়া বুঝানো হয়। এইখানে অবধারিতভাবে রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো আলোচনায় আসবে। (কনস্টিটিউশনাল স্পিরিটকেই ব্লগার শয়তান সংবিধানের ভাবধারা বুঝাচ্ছেন)
তবে ৭ এর রিপ্ল্যাই দিতে গিয়ে শেষদিকে আপনি গুরুত্বপূর্ণ দিকে আলোকপাত করেছেন।
"তাই আমি বলেছি এই ব্যাপারগুলো নিস্পত্তি করতে করতেই সরকারের ৭২ এর সংবিধান এর দিকে অগ্রসর হতে হবে।"
এইটা ৭২ এর সংবিধানের স্পিরিটের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৪
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: এটা আপনার ব্যক্তিগত অভিমত।
"৭২ এর সংবিধান এর স্পিরিট" বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন? স্পেসিফিকলী বলেন।
১৫|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৯
একরামুল হক শামীম বলেছেন: আমার কমেন্টের মধ্যেই তো বিষয়টা কিছুটা বলা হয়েছে।
কনস্টিটিউশনাল স্পিরিট সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গেলেতো এইট অ্যামেনমেন্ড কেস সম্পর্কে বলতে হবে। খুব সহজভাবে সংবিধানের ভাবধারাও বলতে পারেন।
নিচের লিংকের লেখাটি দেখতে পারেন। যদিও লেখাটি ইউএস এর সংবিধানের সংশোধন এবং কনস্টিটিউশনাল স্পিরিট নিয়ে লেখা।
Click This Link
আপনি বললেন- এটা আপনার ব্যক্তিগত অভিমত। জ্বী না, এইটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত না। ল'এর ক্লাসে টিচারও এমনটা বলেছেন।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: আমি বলতে চেয়েছি, আমাদের সংবিধান এর ক্ষেত্রে ৭২ এর স্পিরিট বলতে কি বুঝবো আমরা? জাস্ট ইটস আন ওপেন ডিসকাশন। শুধু আমি না, আমি নিশ্চিত আমার মত অনেকেই এই "৭২এ স্পিরিট" টার্মটা বুঝবে না। একটু ক্লিয়ার করেন প্লিজ। (আপনার লিংকটি পড়ার ট্রাই করছি)। আমাদের দেশের কন্সটিটিউশনাল স্পিরিট নিয়ে কোন লিংক দিতে পারেন? ক্লিয়ার হত ব্যাপারটা আরো।
১৬|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৮
একরামুল হক শামীম বলেছেন: আলোচনা বেশ ভালো এগুচ্ছে দেখে প্রাসঙ্গিক একটি প্রতিবেদন যোগ করছি।
আইন কমিশনের সুপারিশই হবে দিকনির্দেশনা
সংবিধানের কোন কোন বিধানে কী ধরনের পরিবর্তন করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিভিন্ন দফায় গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী যেসব পরিবর্তন সংবিধানে আনা হয়েছে সেগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সম্পর্কে আইন কমিশনের সুপারিশ গ্রহণের যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তাকে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করবে বলে জানা গেছে। আর এজন্য পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় সম্পর্কে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। যদিও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আইন কমিশনের পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ সম্পর্কে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শভিত্তিক সংবিধান থেকে আমরা অনেক দূরে সরে গেছি। সুশাসন ও গণতন্ত্রের স্বার্থেই সংবিধানকে যুগোপযোগী করা দরকার। সংবিধানে এর মধ্যেই নানা রকম পরিবর্তন পরিবর্ধন করা হয়েছে। পরিবর্তন যা হয়েছে তাতে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার বলেই আইন কমিশনকে দায়িত্বটি দেওয়া হচ্ছে।
যদিও তিনি বলেছেন, পঞ্চম সংশোধনীসহ যেসব বিষয় আদালতে বিচারাধীন সেগুলো বাদ দিয়ে সংবিধানে অস্পষ্টতা কিংবা অসামঞ্জস্য রয়েছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে এখন আইন কমিশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এ জন্য সময় লাগবে। ইচ্ছা করলেও দু'চার মাসে সম্ভব হবে না। তাছাড়া পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না।
বিগত ৩৮ বছরে সংবিধানের মোট ১৪টি সংশোধনী বিল সংসদ পাস করেছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার অনেক বিধান বদলে গেছে। সংশোধনীগুলোর অধিকাংশই আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়নি। হাইকোর্টের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ের মধ্য দিয়ে এর প্রকাশ ঘটেছে। বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুসরণ না করেই সংবিধান সংশোধন করা হয়ে গেছে দাবি করে হাইকোর্টের এ রায়ে সাংবিধানিক বিধান পাল্টে দেওয়ার এ প্রক্রিয়াকে মেনে নেওয়া হয়নি। তারা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সাংবিধানিক নির্দেশের একটিমাত্র দিক বিবেচনায় এনেই বিশাল ত্রুটি দেখতে পেয়েছেন। সংশোধনের অন্য দিকগুলো নিয়ে এখনও আদালতে প্রশ্ন ওঠেনি। উঠলে কি হবে আগেভাগে তা নিয়ে মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অতীতের সব সংবিধান সংশোধনী
সম্পন্ন হয়েছে কি-না তাও পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ধারণা পাওয়া গেছে, সরকারের একটি অংশ সংবিধান সংশোধন করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে আগ্রহী। কিন্তু তাদের আশঙ্কা অনেক স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত থাকায় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে বিষয়টি করতে গেলে বিতর্ক দেখা দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে সেক্ষেত্রে '৭২-এর সংবিধানে ফেরা সরকারের জন্য সহজ হয়ে যাবে। তখন সংসদে এসব অংশ সংশোধনের প্রয়োজন হবে না। পরবর্তী সংশোধনী বাতিল হলে আপনাআপনি আগের অবস্থা বহাল হয়ে যাবে।
বাহাত্তরের মূল সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে জাতীয় মুক্তির জন্য দীর্ঘ ধারাবাহিক ঐতিহাসিক সংগ্রামকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সংবিধানে উল্লেখ ছিল, '১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।" কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের এ সাংবিধানিক ঘোষণাকেই বদলে দেওয়া হয় সামরিক ফরমান জারির মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনা সংশোধন করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস সাংবিধানিকভাবে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা-পরবর্তী যুদ্ধের মধ্যে। 'জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে' শব্দগুলো তুলে দিয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনার এই স্থানটিতে লেখা হয় 'জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে' স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।
একই ভাবে বাহাত্তরের মূল সংবিধানের প্রস্তাবনায় এ দেশের স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে যারা আত্মত্যাগ করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি ছিল। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে শুধু স্বাধীনতার জন্য আগের প্যারায় উল্লেখ করা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা-পরবর্তী যে যুদ্ধ হয় সেই যুদ্ধ তথা মুক্তিযুদ্ধে আত্মনিয়োগ ও প্রাণোৎসর্গকারীদের বীর শহীদ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইতিহাস বিকৃতির সাংবিধানিক রূপ হিসেবে স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণোৎসর্গকারীদের যে চার মূলনীতি ও আদর্শ উদ্বুদ্ধ করেছিল সেই 'জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা'কে বদলে দেওয়া হয়। বলা হয়, 'আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদের প্রাণোৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র।' আবার সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞাও নির্ধারণ করে দিয়ে বলা হয় '...সমাজতন্ত্র অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচারের সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।'
তাছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন বহাল রাখতে সংবিধানের বিধানকে গত দু'বছরে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার অবসান ঘটাতে আগ্রহী সরকারের অনেকেই। ভবিষ্যতে গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে এর সুযোগ যেন আর কেউ না নিতে পারে সংবিধানে তেমন ব্যবস্থা আনতে আগ্রহী তারা।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ নিজেও বলছেন, সংবিধান থেকে ১২ অনুচ্ছেদটি তুলে দেওয়ার পর এবং ইসলামকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করার পর রাষ্ট্রীয় চরিত্র বদলে গেছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ পরিপন্থী রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার অবকাশ রয়েছে। এমনকি ইসলামী জঙ্গিবাদ দমনের অংশ হিসেবে সরকার বর্তমানে উগ্র জঙ্গিবাদী ধর্মীয় দল হিসেবে যেসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে তারা সাহস করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বসলে সরকার নাজুক অবস্থায় পড়বে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত বিধান হিসেবে সংবিধানের এই ১২ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, 'ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, (ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।'
আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আরও ধারণা পাওয়া গেছে, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনকে স্থায়ী ও অর্থবহ করার জন্য সংসদকে আরও ক্ষমতাসম্পন্ন করতে কী ধরনের সাংবিধানিক বিধান রাখা উচিত এ নিয়েও তারা ভাবছেন। বিশেষ করে সংসদে স্বাধীনভাবে অভিমত প্রকাশের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের সামনে যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো কীভাবে কতটা দূর করা যায় তা নিয়ে চিন্তা চলছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই সমালোচনা করছেন। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্যপদ হারানোর এ বিধানের কারণে সরকার সংসদকে কার্যত 'রাবার স্ট্যাম্প' হিসেবে ব্যবহার করে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে এর পরিবর্তন কীভাবে করা যায় সে সম্পর্কেও আইন কমিশনের পরামর্শ আশা করছেন আইনমন্ত্রী।
একইভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার পর এই বিভাগের ওপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতীকী ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের কথাও ভাবা হচ্ছে। সামরিক শাসকদের ইচ্ছায় সংবিধান পরিবর্তন করে বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব দেশের তিন শীর্ষ বিচারপতি সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়। অথচ মূল সংবিধানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবেই জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে গ্রহণ করা প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের বিধান ছিল। জানা গেছে, এ বিষয়টিও সংবিধান সংশোধনের সময় বিবেচনা করা হতে পারে।
এছাড়াও অষ্টম সংশোধনী মামলার রায় এবং মাসদার হোসেন মামলাসহ বেশকিছু মামলার রায়ে যেসব সাংবিধানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী বেশকিছু অসঙ্গতি সংবিধানে রয়ে গেছে। এসব অসঙ্গতি দূর করে সংবিধানকে স্ববিরোধী অবস্থামুক্ত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলেও সরকারের অনেকেই মনে করছেন। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার লক্ষ্যেই সরকার আইন কমিশনকে দায়িত্ব দিতে চায়। আর এজন্য পঞ্চম সংশোধনী সংক্রান্ত বিচারাধীন বিষয়টির নিষ্পত্তিকেও জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের মতে, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে '৭২-এর সংবিধান বহুলাংশে পুনর্বহাল হবে। এ জন্যই সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে আপিল বিভাগের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা হবে। রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলেও সংবিধানে বিসমিল্লাহ বহাল থাকবে। আবার সংবিধান সংশোধনীর যেসব ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান আছে তাও অপসারিত হবে, অর্থাৎ গণভোটের আর প্রয়োজন হবে না।
মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদনে হাইকোর্ট এই রায় দেন। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্টের এ রায়ে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও এটিএম ফজলে কবির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি দেন। সেদিনই তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের ইচ্ছা প্রকাশ করে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন করলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি রায়টি স্থগিত ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ে খোন্দকার মোশতাক আহমেদ থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান পর্যন্ত সব সামরিক সরকারের ক্ষমতা দখল ও তাদের কার্যক্রমকে আইন ও সংবিধানবহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। রায়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৬, ৮, ৯, ১০, ১২, ২৫, ৩৮ ও ১৪২ অনুচ্ছেদের যেসব পরিবর্তন সামরিক ফরমান দিয়ে করা হয় সেগুলো ক্ষমার অযোগ্য ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। রায়ে ফরমান জারি করে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত ৯৫ অনুচ্ছেদের যে সংশোধন করা হয়েছিল তার বৈধতা দেওয়ায় এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে যেসব মামলা মোকদ্দমার রায় হয়েছে এবং হচ্ছে তা বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কেটে যায়। যদিও রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশ চলেছে অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারীদের ইচ্ছা অনুযায়ী।
পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের দাখিল করা লিভ টু আপিল গত ৪ মে বর্তমান সরকার প্রত্যাহার করার আবেদন করে। কিন্তু বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী তাজুল ইসলাম, মুন্সি আহসান কবির, কামরুজ্জামান ভূঁইয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে বিষয়টি ঝুলে যায়। গত ৫ মে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তাদের লিভ টু আপিল দায়েরের অনুমতি দিয়ে সরকারের আপিল প্রত্যাহারের আবেদনটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রেখেছেন। আগামী ৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট খোলার পর এ লিভ টু আপিলের শুনানি হতে পারে।
এদিকে আইন কমিশনকে দিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর বিপক্ষে মত প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। পাশাপাশি বিশিষ্ট আইনজীবী ড. এম জহির বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য আইন কমিশনের পরামর্শ নেওয়া অযৌক্তিক। কমিশনের কাজ আইন সম্পর্কে গবেষণা করে সংবিধানের আলোকে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া। সংবিধান সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া নয়। সংবিধান পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজটি করতে অন্য কোনো কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এ সম্পর্কে যে কোনো সিদ্ধান্ত সবাই মিলে নেওয়া উচিত। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ অনেক বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে।
আবার দেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামের মতে, আইন কমিশনের পরামর্শ চাওয়া যথেষ্ট যৌক্তিক। কারণ সংবিধানে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে দেশে কখনও সামরিক শাসন না আসে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল বা সংশোধন কীভাবে হওয়া উচিত এসব নিয়ে ভেবেচিন্তেই অগ্রসর হওয়া দরকার। তবে যাই করা হোক না কেন এসব নীতিগত বিষয়ে সংশোধন করতে হলে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই করতে হবে।
সূত্র : দৈনিক সমকাল
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২১
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: অসাধারন। অনেক কিছু জানা হল। আপনার এই একটি কমেন্ট ই অনেক আলোচনার দাবি রাখে।
ধন্যবাদ শামীম ভাই।
১৭|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৭
একরামুল হক শামীম বলেছেন: পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় নিয়ে লেখা গুরুত্বপূর্ণ একটি লেখা।
পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোটের রায়
পঞ্চম সংশোধনী সংক্রান্ত রিট মামলাটির সূত্রপাত একটি সিনেমা হলকে কেন্দ্র করে। তৎকালীন ওয়াইজঘাটে (হোল্ডিং নং ১১) ‘পাকিস্তান ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি ছিল। তারা সেখানে তৈরি করে মুন সিনেমা হল। একাত্তরের ডিসেম্বর মাসের দিকে একদল লোক সেটি দখল করে নেয়। পরবর্তীকালে শিল্প মন্ত্রণালয় এটাকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্টকে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু মুন সিনেমা হলের মালিকরা তাদের সম্পত্তি ফেরত চান।
এতদুদ্দেশ্যে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, এটা আসলে কোনো পরিত্যক্ত সম্পত্তি নয়। কমিটি ৬ জানুয়ারি ১৯৭৫ সম্পত্তিটি মূল সিনেমা হলের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় এই সুপারিশ মানতে অস্বীকার করে। তাই পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৭৬ সালে প্রথম একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগ ১৫ জুন ১৯৭৭ পরিত্যক্ত সম্পত্তি ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায় অনুসারে শিল্প মন্ত্রণালয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ বাড়িটিকে অবমুক্তকরণের জন্য প্রজ্ঞাপনও জারি করে। কিন্তু বাস্তবে হস্তান্তর বাকি থাকে।
এরপর ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ জিয়াউর রহমান ৭নং এমএলআর (মার্শাল ল’ রেগুলেশনস) জারি করেন। এখানে বিধান ছিল, সরকার যেসব বাড়ি পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করবে, সেটাই চূড়ান্ত। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। এরূপ বিধান জারি হওয়ার পর শিল্প মন্ত্রণালয় সুর পাল্টে ফেলে দাবি করে, সামরিক আইনের কারণে হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে গেছে।
১৯৯৪ সালে মুন সিনেমার মালিকরা দ্বিতীয় একটি রিট মামলা দায়ের করে সিনেমা হল হস্তান্তরের আরজি জানান। কিন্তু এই রিট আবেদনে জিয়াউর রহমানের ওই এমএলআরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে জিয়ার সামরিক ফরমান কার্যকর থাকার কারণে হাইকোর্ট তাদের আরজি সরাসরি খারিজ করে দেন। আপিল করলে আপিল বিভাগও ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের খারিজ আদেশ বহাল রাখেন।
মুনের মালিকরা ২০০০ সালে তৃতীয় রিটটি দায়ের করেন। এবার তারা তাদের হলকে পরিত্যক্ত ঘোষণাকারী সামরিক আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ দুই মাসের মধ্যে মুন সিনেমা হলের সম্পত্তি রিট মামলাকারীর কাছে হস্তান্তর করতে সরকার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্টকে নির্দেশ দেন এবং একই সাথে জিয়াউর রহমানের সেই সামরিক ফরমানকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং সামরিক ফরমানকে বৈধতাদানকারী সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে।
পরবর্তী আইনি লড়াই
রায় ঘোষাণার রাতেই (২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট দিবাগত রাত) তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরীর বাসভবনে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার আবেদন নিয়ে হাজির হন। বিচারপতি পরদিন সকাল পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। ৩০ আগস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে স্থগিত আদেশ তিন মাসের জন্য বাড়ানো হয়। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিতাদেশ বর্ধিত হতে থাকে।
এর মধ্যে সরকার বদল হয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে। তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা আপিল প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ৩ মে তারা প্রত্যাহারের আবেদন করে। এদিকে বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং তিনজন আইনজীবী- অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মুন্সী আহসান কবীর ও অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামলাটিতে পক্ষভুক্ত হয়ে নিয়মিত আপিল দায়ের করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। তাদের যুক্তি, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে দেশে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হবে, বাকশাল কায়েম হবে এবং একটা সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হবে। আপিল বিভাগ ৪ মে তাদের আবেদন মঞ্জুর করে চার সপ্তাহের মধ্যে লিভ টু আপিল দায়েরের নির্দেশ দেন। ২৫ মে তারা লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
পঞ্চম সংশোধনী
পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংবিধানের শুরুতেই ‘বিসমিল্লাহ হির রহমানির রহিম’ যুক্ত করা, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক মূলনীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ শব্দগুলো যুক্ত করা, সমাজতন্ত্র কথাটির শেষে ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার’ কথাগুলোকে লেজুড় লাগানো এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করা। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে করা সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট থেকে ’৭৯-এর ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের জারি করা সকল ফরমান এবং কাজকে বৈধতা দেয়া হয়। এই পুরো সময়টা জুড়েই সামরিক শাসন জারি ছিল। এখানে উল্লেখ্য, পঞ্চম সংশোধনীর কারণেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা কিংবা জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বিচার শুরু করতে অনেক বছর সময় লেগেছে। কারণ, এই সময়ে কৃত সব কাজই ছিল বৈধ। হত্যা, নির্যাতন এমনকি ধর্ষণ সবই বৈধ।
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্ল্লেখ ছিল, ‘আমরা, বাংলাদেশের জনগণ... জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি’, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে হয়তো উভয় শব্দগুচ্ছের মধ্যে কোনো পার্থক্য নজরে পড়বে না। কিন্তু কেউ যদি একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করেন তাহলেই বিষয়টা নজরে আসবে। আমাদের স্বাধীনতা নিছক কোনো সামরিক বাহিনীর একক যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি। সংশোধনী এনে ‘মুক্তির সংগ্রাম’-এর পরিবর্তে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে জনগণের সেই অবদানকে অস্বীকার করা হয়েছে। এর পেছনে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত ‘মুক্তির সংগ্রাম’ শব্দগুলোকে বাদ দেয়াসহ অন্য কোনো সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
সংবিধান সংশোধন বনাম মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংবিধানের যে কোনো বিধান সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন বা প্রতিস্থাপন করা যাবে। মোদ্দাকথা, সংসদের ৩০০ জনের মধ্যে যদি ২০০ জনের সমর্থন থাকে তাহলে সংবিধান সংশোধন করা যাবে। অন্যদিকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দেশের মালিক হলো জনগণ। তাদের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন। অন্য কোনো আইন যদি সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তাহলে সেটা বাতিল হবে অথবা যতখানি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না ততখানি বাতিল বলে গণ্য হবে। এই অনুচ্ছেদের মূল কথা হলো, সব আইনের ওপরে সংবিধান। ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান সংশোধন করে এমন কোনো বিধান করা যাবে না যা ৭ অনুচ্ছেদের বিধানকে খর্ব করে। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে কতগুলো সামরিক ফরমানের বৈধতা দেয়া হয়। এই ফরমানগুলোর বেশিরভাগই সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এর অর্থ হলো, ওই ফরমানগুলোকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেয়া হলো। এর ফলে ৭ অনুচ্ছেদের বিধান স্পষ্টভাবেই লঙ্ঘিত হলো।
পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ে মূলত এই বিষয়টিই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই মামলার রায়ে ‘বিসমিল্লাহ’ বাতিল করা হয়নি, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে পুনরায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়নি কিংবা বাকশালও কায়েম করা হয়নি। বরং সাংবিধানিক প্রাধান্যকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যহীন সামরিক ফরমান জারির সংস্কৃতিকে বাতিল করা হয়েছে।
হাইকোর্টের রায় ও পরবর্তী রাজনীতি
হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন যে, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট থেকে ’৭৯-এর ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সব ফরমান অবৈধ। খন্দকার মোশতাক আহম্মেদ, বিচারপতি আবু সায়েম এবং মেজর জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ ও সামরিক শাসন জারি অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে রায়ে উল্লেখ করা হয়। তৎকালীন জোট সরকার ঐদিন রাতেই কেন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করলো এবং বর্তমান সরকার কেন সেই আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল? আবার বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং তিনজন আইনজীবী এতদিন পরে এসে কেন মামলার পক্ষভুক্ত হওয়ার আগ্রহ পোষণ করলেন, এর পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে- তা অবশ্যই আমাদের ভেবে দেখতে হবে। আইনি মারপ্যাঁচ কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির ঠেলাঠেলিতে না গিয়ে শুধু একটি বিষয়ের দিকে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চাই। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন করা হয়েছিল তার সব বাতিল হবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে দেশে যাতে আর সামরিক শাসন কায়েম না হয় এই রায় তাতে একটা বড় ভূমিকা রাখবে, যা গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রাসঙ্গিক কথা
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল মামলা এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। কিন্তু এ নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করতে চায় বেশ কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক দল। এরই মধ্যে ১৬টি দল বৈঠক করে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে। দলের নেতারা মনে করেন, আন্দোলন জোরদার হলে আদালতের সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে যেতে পারে। অথচ এসব দলের অনেক নেতাই হাইকোর্টের রায় পড়ে দেখেননি। খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায় পড়িনি। তবে রায় যদি কার্যকর হয় তাহলে দেশ ’৭২ সালের সংবিধানের অধীনে চলে যাবে’ [ওয়াসেক বিল্লাহ্ ‘পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছে ১৬ ইসলামি দল’ প্রথম আলো, ১৭ মে ২০০৯]। কেন তারা আন্দোলনে যাবেন? উত্তর খুব সহজ, এসব দলের জন্ম হয়েছিল ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে। পঞ্চম সংশোধনীর পূর্বে সাংবিধানিকভাবেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দ্বার উন্মোচিত হয়। সুতরাং পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে যদি তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়-এই ভয়েই তাদের আন্দোলনের হুমকি। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটা আপিল বিভাগের রায়েই পরিষ্কার হবে। তবে একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে, ইসলামের দোহাই দিয়ে যারা নারী উন্নয়ন নীতিকে ঠেকানোর চেষ্টা চালাতে পারে, বাউল সাধক লালনের মূর্তিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারে তাদের আন্দোলন সম্পর্কে জনগণকে আরো সতর্ক হতে হবে।
তথ্যসূত্র : আইন ও সালিশ কেন্দ্র বুলেটিন।
১৮|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৭
নিউজকাস্টার বলেছেন: ৭২’র সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সরকারী উদ্যোগ : কে,কী বলেন
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির পক্ষ হতে সংবিধান পরিবর্তন ও ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রর্বতন করার কথা বলে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন গবেষক ও বিশিষ্ট আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা বলেন, এমন মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারকে অবশ্যই জনমতের কথা বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় ঐক্যমত ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে যে সংকট সৃষ্টি হবে তা দেশপ্রেমিক কোন নাগরিকের কাম্য নয়।
সুদীর্ঘ ৩৭ বছর পর দেশের দেশের সংবিধানের পরিবর্তনকে তারা অতীত আশ্রয়ী উল্লেখ করে বলেন, এটা হবে পশ্চাৎ ভ্রমণ। পাশ্চাত্যসহ বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পরিচয় একটি উদার গণতান্ত্রিক মুসলিম দেশ হিসেবে। সংবিধান পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ পরিচয় সংকটে পড়বে। বর্তমান সংবিধানে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মৌলিক বিশ্বাস ও চেতনার সাথে সম্পর্কিত যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ’৭২-এর সংবিধান পুন:প্রবর্তন করা হলে সেগুলো বাদ পড়বে। ঐ সংবিধানে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক সমাজ কায়েমের মাধ্যমে সাম্যবাদ তথা কমিউনিজম চালুর কথা বলা ছিল। অথচ সমাজতন্ত্র আধুনিক বিশ্বে ব্যর্থ এবং নির্বাসিত একটি মতবাদ হিসেবে প্রমাণিত সত্যে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে তা আবার যুক্ত করা হলে, বিষয়টি হবে হাস্যকর, আর এ ফলে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্খাপনায় যে নৈরাজ্য ফের চালু হবে তা জনগণ মেনে নিবে না। সরকার এমন সিদ্ধান্ত দিলে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ্
বিশিষ্ট সমাজ উন্নয়ন গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, কিছু লোক প্রচারণা চালাচ্ছেন ১৯৭২ সালের সংবিধানকে সংশোধনের নামে কাঁটাছেঁড়া করা হয়েছে। তাদের জানা উচিত ১৯৭৫ সালের আগে স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান চার বার সংবিধান সংশোধন করেছেন। শেষ বার তিনি চরম ফ্যাসিবাদী কায়দায় গণতন্ত্রকে বিদায় দিয়ে একদলীয় শাসক কায়েম করতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে পরিবর্তন করেন। কোন প্রকার আলোচনার সুযোগ না দিয়ে তিনি মাত্র ১২ মিনিটে ফ্যাসিবাদী কায়দায় একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করেন। এতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকেও সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। বর্তমান সংবিধানে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন-‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস’কে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রবর্তন করলে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস’এর বদলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ পুন:প্রবর্তিত হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যদি এ কাজ বর্তমান সরকার করে, করুক, আমরাও দেখবো জনগণ বিষয়টিকে কী ভাবে নেয়। তিনি আরো উল্লেখ করেন সংবিধান পরিবর্তন ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে তিনি ইতোপূর্বে জাতীয় পত্রপত্রিকায় একাধিক নিবìধ লিখেছেন আরো লিখেবেন। এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে তিনি মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
ড. শাহদীন মালিক
এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক জানান, সংবিধান পরিবর্তনের কথা সরকার বলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্খার পরিবর্তন এবং সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর কমানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্য কোন বিষয়ে সংবিধানের কোন অংশে পরিবর্তন করতে চায় সে সম্পর্কে কোন সুনিদিষ্ট প্রস্তাব এখনো জাতির সামনে উপস্খাপন করেনি। আর প্রস্তাব পাওয়ার আগে মন্তব্য করব কি ভাবে? ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, ’৭২-এর সংবিধানে হুবহু ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। সংবিধানের কোন অংশে ফিরে যেতে চায় তা সরকার পরিষ্কার করেনি। ৩৬ বছর পরে চাইলেই সংবিধানের সব কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংবিধানের মূল চেতনায় ফিরে যাওয়া স্বাধীনতার ভিত্তি। তিনি বলেন, সরকারকে পরিষ্কার করে বলতে হবে তারা কী পরিবর্তন করতে চায়। আমি মনে করি এখানে দু’টি প্রশ্ন জড়িত। একটি, ধর্মনিরপেক্ষতায় কিভাবে ফিরে যাওয়া যাবে। অন্যটি, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান হওয়া উচিত কি না? আমি বলতে চাচ্ছি,সরকারের পক্ষ হতে আগে সুস্পষ্ট প্রস্তাব করতে হবে, তার আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক
সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, পাশ্চাত্যসহ বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয় একটি উদার গণতান্ত্রিক মুসলিম দেশ হিসেবে। সংবিধান পরিবর্তন করে ১৯৭২ সালের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফিরে গেলে দেশ পরিচয় সংকটে পড়বে। এটা হবে আমাদের জন্য পশ্চাৎ ভ্রমণ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। ইচ্ছে করলে তারা সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু এর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়াটা ঠিক হবে না। কারণ ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে কোনো রায় নেয়নি। জনগণের রায় ছাড়া এ কাজ করা ঠিক হবে না। সংবিধানে যেসব পরিবর্তন বর্তমান সরকার আনতে চাচ্ছেন তা ঘোষণা করতে হবে, এরপর সে ব্যাপারে জনগণের মেন্ডেট বা রায় নিতে হবে। এটা না করে সংবিধানে কোন মৌলিক পরিবর্তন করলে, জনগণ তা মেনে নিবে না। আর এটা করা ঠিকও হবে না।
আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা সেক্যুলারিজমের দিকে আবার ফিরে যাওয়াটা জনগণ মেনে নেবে না। এতে করে রাষ্ট্রের মধ্যে একটা সংঘাত সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেন, পরিবর্তনের জন্য জাতীয় ঐকমত্যের দরকার। আর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংবিধান পরিবর্তন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দরকার জনগণের মেন্ডেট। ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রবর্তন করে ইসলামি রাজনীতি বìধ করে দেয়া হলে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে, তা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে বলে আমি মনে করি না।
ড. আসিফ নজরুল
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সব দেশেই সংবিধান সংশোধন হয়। উন্নত দেশে সংবিধান সংশোধন করা হয় জনকল্যাণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পদক্ষেপ হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো অনুন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশে বারবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত বা অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের আগে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও এরশাদসহ যারা সংবিধান সংশোধন করেছেন প্রত্যেকেই রাষ্ট্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত বা অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য। আর এ জন্য সংবিধান সংশোধনের কথা উঠলেই জনমনে দুর্ভাবনার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, সরকার যদি নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করে এবং ওই কমিটি জনমতের ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং সেই উদ্যোগ জনমত ও দেশের স্বার্থে করা হয় তা হলেই কেবল তা গ্রহণযোগ্য হবে। ’৭২-এর সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং পরে ‘আল্লাহর ওপর আস্খা ও বিশ্বাস’ ও ‘বিসমিলাহির রাহমানির রাহিম’ যোগ সবই রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যে করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে সে সময় সরকার সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে।
বদরুদ্দিন ওমর
শেখ মুজিবুর রহমানই ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অকার্যকর করার জন্য সর্বপ্রথম বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ওই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করে তার চার স্তম্ভের অন্যতম গণতন্ত্র বিধ্বস্ত করেন। এই সংশোধনীর জোরে তিনি নিজেদের দল বাকশাল ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন। সরকারি দু-একটি পত্রিকা বাদে সব পত্রপত্রিকা, এমনকি মাসিক পত্রিকা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেন এবং নিজের দল বাকশালের দরজা আনসার, মিলিটারি, পুলিশ ইত্যাদির জন্য উন্মুক্ত করে সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেন। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে যে জিয়াউর রহমান সামরিক কর্তাব্যক্তি হিসেবে ক্ষমতায় বসেন তিনি ছিলেন শেখ সাহেবের ‘বাকশাল’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এদিক থেকে বলা চলে, শেখ সাহেব যে বীজ বপন করেছিলেন, জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন আমলেই তা প্রস্ফুটিত হয়েছিল।
নাইমুল ইসলাম খান
দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সম্পাদক জনাব নাইমুল ইসলাম খানও বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ৭২ এর সংবিধানের সরাসরি ফিরে গেলে শুধু বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে না, ঐ দিকে হাঁটতে শুরু করলেই বিশৃঙ্খলা শুরু হবে এবং সে বিশৃঙ্খলা কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সে বিষয়টি কল্পনা করতে গেলে আমি শিহরিত হই ।
ফরহাদ মজহার
বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার বলেছেন, যেহেতু এটিতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নেই , জনগণের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে এটি প্রণীত হয়নি সেহেতু এটিই প্রথম ভুল বা ক্রটি । নির্বাচনোত্তর কালে যাদেরকে সংবিধান প্রণয়ণের জন্যে পাঠানো হয়েছিল তারা স্বঘোষিতভাবে সংবিধান সভা শেষে সংবিধান তৈরী করেছে । অর্থাৎ কিভাবে একটি জাতিকে বিদেশী আধিপত্যের অধীন থেকে শাসন করতে হবে এটারই সমষ্টি হচ্ছে ১৯৭২ এর সংবিধান । আমি আবারও খুব স্পষ্টভাবে বলছি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জনগণ সংবিধান প্রণয়ন করেনি । ৭২ সালে তো সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন করে কোনো সংবিধান সভা ডেকে সংবিধান করা হয়নি
বাংলাদেশের সংবিধান সভা ডাকা হয়েছিল ৪ মার্চে । আর এটি করা হয়েছিল ভারতে বসে । এর পরের সরকার ছিল আওয়ামী লীগের সরকার । তারা ছিল ভারতের দালাল মার্কা সরকার । জনগণের সরকার তারা কখনই ছিল না । ফলে তাদের নির্মিত সংবিধান কিভাবে জনগণের সংবিধান হয় ! এটি ছিল আওয়ামী লীগের সংবিধান । আর বাংলাদেশে গত ৩৮ বছরের ইতিহাসের লড়াই কিন্তু সেটাই ।
আ.স.ম রব
সংবিধানের মূলনীতির অন্যতম নীতি ‘গণতন্ত্র’কে রাতারাতি একদলীয় বাকশালে রূপান্তর, বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যা, সাংবিধানিক শাসনের আওতায় বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রপতি হিসাবে খন্দকার মোশতাকের শপথ গ্রহণ, সংবিধান স্থগিত করাসহ এসবকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করলেই দেখা যায় ১৯৭২ সালের সংবিধানের কাঠামোগত সহজাত সীমাবদ্ধতা ছাড়াও ১. সংসদের অভ্যন্তরীণ স্বনিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যহীনতা, ২. সংবিধানের ধারাবাহিকতা সুরক্ষার জন্য শক্তিহীনতা, ৩. সংবিধানের চার মূলনীতি বাস্তবায়ন ও প্রয়োগে বাধ্যবাধকতার অভাব, ৪. সংবিধান লঙ্ঘনের প্রতিরোধের প্রশ্নে বিচারবিভাগের শক্তিহীনতার সীমাবদ্ধতা ও ৫. এককেন্দ্রীক সরকার ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে নির্বাহি ব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সীমাবদ্ধতায় বারবার ৭২ এর সংবিধান ব্যর্থ, অকার্যকর ও অসহায় প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনী ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথম মৌলিক পরিবর্তন। স্বাধীনতাত্তোর ক্রম উত্তরণের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ সংশোধনী ছিল দেশ ও জাতির জন্য চরম আত্মঘাতী পদক্ষেপ। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং পরবর্তীসময়ে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাজনীতিতে যে অশুভ ধারার সূচনা হয়েছিল তা থেকে জাতি আজো মুক্ত হতে পারেনি। এর দায় কতদিন বহন করতে হবে তাও আমাদের জানা নেই।
Click This Link
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩২
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: সব কিছুর পর.............. আমরা আসলে কি চাই............. সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার পোস্ট এর পর শামীম ভাই এর ১৬ ও ১৭নং কমেন্ট পড়েন। অনেক কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ধন্যবাদ।
কোন প্রশ্ন থাকলে তা উত্থাপনও করতে পারেন। কারো জানা থাকলে সে উত্তর দেবে। অনুরোধ থাকবে অন্ধের মত কোন ধারনা ধরে না থেকে নিরপেক্ষভাবে ব্যাপারগুলো দেখা। এটা আমি আপনাকে শুধু না। আমাকেও বলছি।
বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা আর না। যুক্তিপূর্ণ সমাধান এর দিকে এগোতে চাই।
আপনার কমেন্টটিও মনোযোগের দাবী রাখে। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
১৯|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৯
একরামুল হক শামীম বলেছেন: ১৬ নং কমেন্টের প্রতিবেদনটা পড়েন। তাহলে ১৫ তে করা প্রশ্নগুলোর কিছুটা জবাব পাবেন। অন্তত কিছু বিষয় আপনার কাছে ক্লিয়ার হবে।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: হুমমম পড়ছি। আমার মত অনেক সাধারন মানুষ এর ই এই ব্যাপারগুলো অজানা। অনেকেই না জেনে বিরোধিতা করছেন। কারন জানার সোর্স নেই। আরো মনোযোগ দিয়ে আরেকবার পড়ছি প্রতিবেদনটা।
২০|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৬
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: @বেঁচে আছি.................. মেইল করতে পারেন চাইলে। যে কোন ব্যক্তিগত ব্যাপার জানতে চাইলে। [email protected]
কমেন্টটা মুছে দিলাম। মেইল এ কথা হবে। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
২১|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৮
শয়তান বলেছেন: একরামুল হক শামীম এর কাছে একটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন । পঞ্চম সংশোধনী বাতিল বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার ? সংসদের, রাষ্ট্রের না সুপ্রীমকোর্টের ?
২২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৮
চাষী বলেছেন: ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া অবাস্তব। সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এসব জনগন গ্রহন করবেনা।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৪
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ মতামতের জন্য। তবে পুরো পোস্ট টা পড়ুন। মন্তব্যগুলো পড়ুন। বিশেষত কমেন্ট নং ১৬. ১৭, ১৮. তারপর আপনার সুচিন্তিত মতামত দিন।
সমাধান দরকার। সম্ভব্য সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান এর ব্যাপারে আলোচনা হোক।
২৩|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৪
স্বপ্নকথক বলেছেন: ব্যাপারটা এমন দাড়িয়েছে, সংবিধানকে দেহপশারীনির মতো যে যেভাবে চেয়েছে ব্যবহার করেছে।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি ৭২এর সংবিধানের কিছু সমর্থন করি, পুরোটা না। আর পরিবর্তন যদি করতেই হয় তবে তা যেন দেশের জনগনের উপকারের জন্য হয়। কোন রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য বা অপকর্মকে বৈধ করার জন্য না হয়।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: সেইটাই। "পরিবর্তন যদি করতেই হয় তবে তা যেন দেশের জনগনের উপকারের জন্য হয়। কোন রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য বা অপকর্মকে বৈধ করার জন্য না হয়"।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
২৪|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৫
শয়তান বলেছেন: বাংলাদেশের স্বাধীন হওনটাও আপনাদের মত লোকদের কাছে একসময় অবাস্তব ছিল@চাষী
২৫|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৮
একরামুল হক শামীম বলেছেন: @ শয়তান ভাই (শয়তান এর পরে ভাই লিখতে কেমন জানি লাগে
)
২১ নং কমেন্টের জবাবে,
পঞ্চম সংশোধনী বাতিল বাস্তবায়নের দায়িত্ব অবশ্যই সংসদের। সংসদের দায়িত্ব কার্যতভাবে রাষ্ট্রের উপরেই পড়বে।
মূলত উচ্চ আদালত সংশোধনী বাতিলের রায় দিতে পারে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করে দিবে না।
যেমনটা বলা হচ্ছে - "অনেক স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত থাকায় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে বিষয়টি করতে গেলে বিতর্ক দেখা দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে সেক্ষেত্রে '৭২-এর সংবিধানে ফেরা সরকারের জন্য সহজ হয়ে যাবে। তখন সংসদে এসব অংশ সংশোধনের প্রয়োজন হবে না। পরবর্তী সংশোধনী বাতিল হলে আপনাআপনি আগের অবস্থা বহাল হয়ে যাবে।"
তবে কার্যকরণ হলো 'আপনাআপনি' বিষয়টি নিশ্চিত করবে আদতে সংসদ অর্থাৎ লেজিসলেটিভরা।
২৬|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০৯
একরামুল হক শামীম বলেছেন: ২৪ নং কমেন্টের জন্য জাঝা ![]()
২৭|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৫
শয়তান বলেছেন: সিমিলার কেস কি উধাহরন হিসাবে আর আছে । আই মীন এ্যাজ রেফারেন্স@একরামুল হক শামীম
২৮|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৭
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: @একরামুল হক শামীম ভাই আপনার ১৬ ও ১৭ নং কমেন্ট দুটি মূল পোস্টে এ্যাড করতে পারি ?
২৯|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৬
একরামুল হক শামীম বলেছেন: কমেন্ট ২৭ এর রিপ্ল্যাই,
এই ধরণের কোন রেফারেন্স কেস আমার জানা নেই। খুঁজে দেখতে হবে।
কমেন্ট ২৮ এর রিপ্ল্যাই,
হ্যা পারেন। তবে বিষয় হলো পোস্টের ওয়ার্ড লিমিট থাকে। দেখেন মূল পোস্টে যোগ করতে পারেন কি না।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: সিস্টেম করে দিলাম একটু। ![]()
ধন্যবাদ।
৩০|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৬
বিডি আইডল বলেছেন: পর্যবেক্ষণে পাঠালম....এককালে সংবিধান নিয়ে ঘাটা-ঘাটি করেছিলাম...
৩১|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৬
বিডি আইডল বলেছেন: আজকের সমকালের খরবটি সংশ্লিষ্ট মনে হওয়া দিলাম এইখানেঃ
'৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
গতকাল বুধবার সংবিধান দিবসে সংসদ অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনায়
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইনশাআল্লাহ, আমরা '৭২-এর সংবিধান এখানে (সংসদে) পাস করবই। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে '৭২-এর সংবিধান নিয়ে চলতে চাই।"
তবে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রেখেই '৭২-এর সংবিধান কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
সাজেদা চৌধুরী বলেন, 'জিয়াউর রহমান গোলাম আযমকে নিয়ে এলেন। আর তার স্ত্রী গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব দিলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী বানালেন, লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা দিলেন। কে দিল তাদের এই অধিকার, তাদের বিচার করতেই হবে?'
অনির্ধারিত এই আলোচনায় প্রথম বক্তব্য রাখেন শেখ সেলিম। তিনি বলেন, "ধর্মের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রেখে '৭২-এর সংবিধান কার্যকর করতে হবে। আমরা '৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন করব। সংবিধান জনগণের জন্য।"
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: হুমমম। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
৩২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২৮
হিটলারের সাগরেদ বলেছেন: আপনি কাদের পক্ষে থাকতে চেয়েছেন?? প্রথমেই যখন বলেছেন আপনি নিরপেক্ষ তখন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি।
আমি আপনার পোষ্টের সব মন্তব্য পড়েছি, তাই কোন রেফার করবেন না।
আমার কতগুলো প্রশ্ন। সব ব্লগাররে প্রতি। সংবিধানের কি পরিবর্তন হল বা হবে তাতে আমাদের কিছু আসেও না যায় ও না। আমরা দেখতে চাই রাষ্ট্রের কার্যক্রমের কোন পরিবর্তন হয় কিনা।
১. প্রথমেই আমি বলতে চাই একজন ব্যক্তির জমিজমা সংক্রান্ত মামলা থেকে এত বড় একটা সংশোধনী বাতিল করার হাই কোর্টের এখতিয়ার এ প্রশ্নের দাবী রাখে।
২. হাই কোর্টের চেয়ারে বসে অনেক বড় বড় নীতা কথা বলা সম্ভব যা বাস্তবের সাথে কোন সংগতি নেই। এই সব বিচারপতিদের রায় দেয়ার সময় আরও চিন্তা করা উচিত কিনা আপনি মনে করেন?
৩. এই লেখার এক পর্যায়ে এরকম কথা এসেছে যে সামরিক সরকারের অবৈধ কর্মকান্ডের বৈধতা দিতেই এই এই সংশোধনী। এই খানে এক জন বলেছেন খুন ধর্ষন হলেও। এখানে আরও একজন বলেছেন সামরিক কর্ততৃত্ব কমানোর প্রসংগে। যে ই সব ব্যক্তি এত চিল্লা চিল্লি করছেন তারা এগারো জানুয়ারীর পরে কাকে সাপোর্ট দিয়েছেন? আমার তো মনে পড়ে বাম আর আলীগ এটা তাদের বিজয় বলে উল্লেখ করেছিল। তাহলে আর্মীর দোষ দেন কেন?
৪. এর একজন বলেছে এই সব সরকার জনগনের না বলে এই ধরনের আইন সংশোধনীতে জনগনের কোন চিন্তার প্রতিফলন নাই। আমার কথা হল কোন সরকার জনগনের কথা চিন্তা করে আইন করে??
৫. ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলে বাহ্যিক কি পরিবর্তন হবে?? আযান বন্ধ হয়ে যাবে?? শুরু হবে সরল সহজ মুসলমানদের উপর নির্যাতণ?? তুরষ্কের দিকে তাকিয়ে দেখুন।
৬. দুর্গন্ধ পচা সমাজতন্তের মুল্য কি দুনিয়ার কোথাও আছে?? বাংলাদেশের মানুষই কি সমাজতন্ত্রীদের দুইটা ভোট দেয়? বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিগুলো কয়টা ভোট পায়? আমি তো জানি আলীগের সাপোর্ৃ না পেলে মেনন আর ইনুর জামানত বাজোপ্ত হয়।
৭. আলীগকে কি মানুষ সমাজতান্ত্রিক সেকুলার হিসাবে ভোট দিয়েছিল??
৮. সর্বশেষ এ্বং গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন। ৭২এর সংবিধানের কি আদও কোন বৈধতা আছে?? যেই সংবিধানের উপর আজও কোন জনমত যাচাই হয়নী্।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৮
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: আমি মূল পোস্টেটি নিরপেক্ষভাবেই লিখেছি। পরবর্তীতে কমেন্টের রিপ্লাই এ কথা বলেছি। আর কার পক্ষ নিয়ে বলেছি মানে? নিরপেক্ষভাবে দেখার চেষ্টা করছি পুরো বিষয়টিকে।
আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন.................. তা ৭২ এর সংবিধানের পক্ষে যারা তাদের কাছে আপনি রাখতে পারেন। দেখা যাক তারা কি বলে। কারন আপনার পয়েন্টগুলো খুব বি স্পেসিফিক।
নিরপেক্ষতা মানে কারো কথাই না শোন.............. এমন না হয়ে সবার কথা শোনাই কি হতে পারে না?
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৩৩|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪৩
ফেরেস্তা বলেছেন: আরও পড়ি। আগেই মন্তব্য করতে চাই না।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৩৪|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪৫
বল বীর বলেছেন:
ভালো লেখা...
ধন্যবাদ।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪২
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
৩৫|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৬
শয়তান বলেছেন: হিটলারের সাগরেদের টোন দেখি ১০০ ভাগ জেএমবি টাইপ !
৩৬|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৭
রোহান বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট। সত্যি বলতে কি পুরোটা পড়া হয় নাই তবুও স্রেফ ১৬, ১৭ নাম্বার কমেন্টের জন্যই প্রিয়তে যেতে পারে। সুস্থ্য আলোচনা অনেকদিন দেখি না, ভালো লাগলো তাই। ২৪ + ৩৫ নাম্বারে শয়তানরে জাঝা। আলোচনাগুলো পড়ছি...
কিছু লোকজন ফাউল বিরোধীতা স্রেফ বিরোধীতার খাতিরে কিংবা কান নিয়েছে চিলে এমন ইস্যুতে করবে। সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা মানে আজান বন্ধ হয়ে যাওয়া.... হাহাপগে
আচ্ছা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা উঠানোর আগে মানুষ কি নামাজ পরা বন্ধ করে দিয়েছিলো??
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
তর্কের খাতিরে তর্ক করে লাভ নেই। "ধর্মনিরপেক্ষতা"র বিরোধিতা যারা করেন তারা এ কারনে বিরোধিতা করেন না। পাল্টা প্রশ্ন করা যেতে পারে, "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" এই অবস্থায় অন্য ধর্মে ধর্মানুসারীরা কি নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছেন না?
৩৭|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩১
অলস ছেলে বলেছেন: ভালো লেগেছে। পড়ছি আবারো।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
৩৮|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭
নির্বাসন বলেছেন: প্রিয় তে
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
৩৯|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০০
আমি আমার বলেছেন: মাহমুদভাই ও শামিম ভাই আপনাদের উভয়কেই ধন্যবাদ;এমন সুন্দর ;চমৎকার পোষ্ট ও আলোচনার জন্য। এরজন্যইতো সামুতে নাম লেখানো আর শালার কিছু ছাগু দিনে ৪/৫টা ৮ বা১০ লাইনের পোষ্ট দিয়া জিগায়, আমি বীর তুমি কি? আবার মাইনাস দিলে
;ছাগু বলে/ভাবটা এইরকম যে উনার পোষ্ট পাইয়া জাতিধন্য।
ব্যাক্তিগতভাবে আমি মনে করি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর "চতুর্থ তফশীল" এর অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার সংবিধানে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে অবশ্যই সমাজতন্ত্র,ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" থাকবে কিনা, বাঙালী-বাংলাদেশী বিতর্ক, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক প্রভৃতি বিতর্ক এর একটা আনুষ্ঠানিক মতৈক্যে পৌছানোর পর।'
সহমত নতুবা আরেকজন আবার উল্টা পথধরবে যা জাতির ঊন্নতির জন্য বাধা।
অনেক কস্টের জন্য ধন্যবাদ+
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৪০|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৪
তানভীর চৌধুরী পিয়েল বলেছেন: নিউজকাস্টার কিছু পন্ডিতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে দিলেন। ফলে আমার সিদ্ধান্ত নেয়াটা সহজ হল।
ড. আসিফ নজরুল
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সব দেশেই সংবিধান সংশোধন হয়। উন্নত দেশে সংবিধান সংশোধন করা হয় জনকল্যাণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পদক্ষেপ হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো অনুন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশে বারবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত বা অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের আগে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও এরশাদসহ যারা সংবিধান সংশোধন করেছেন প্রত্যেকেই রাষ্ট্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত বা অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য। আর এ জন্য সংবিধান সংশোধনের কথা উঠলেই জনমনে দুর্ভাবনার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, সরকার যদি নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করে এবং ওই কমিটি জনমতের ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং সেই উদ্যোগ জনমত ও দেশের স্বার্থে করা হয় তা হলেই কেবল তা গ্রহণযোগ্য হবে। ’৭২-এর সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং পরে ‘আল্লাহর ওপর আস্খা ও বিশ্বাস’ ও ‘বিসমিলাহির রাহমানির রাহিম’ যোগ সবই রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যে করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে সে সময় সরকার সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে।
এটাই আমার কাছে বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হলো...
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৬
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মতামত দেয়ার জন্য।
৪১|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭
সুবিদ্ বলেছেন: ৭২-এর সংবিধানের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো তা একজন প্রধানমণ্ত্রীকে বিশাল ক্ষমতাশালী করেছিল........এই ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনে সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে........তবে আমাদের দেশে ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতিতে এটা আদৌ সম্ভব নয় বোধহয়......
আর ধর্মনিরপেক্ষতা অধিষ্ঠিত হলেও তা যে secularism নয় এটা কনফার্ম করা দরকার.......secularism অর্থ কিন্তু ধর্মহীনতা......
আর নাগরিকতা হিসেবে বাংলাদেশী-কে স্থাপণ করতে হবে, জাতীয়তা হিসেবে নয়.......
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: খুব স্পেসিফিকলী কিছু পয়েন্ট বলেছেন। এজন্য ধন্যবাদ। তবে আরো কিছু প্রসংগ আছে, সবদিক বিবেচনা করে সাশ্ভাব্য সম্পূর্ণ সমাধান কি হতে পারে পারলে তা আলোকপাত করবেন।
৪২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৪
আশিক১১৪ বলেছেন: আপনি পোষ্ট নিরপেক্ষ লেখার চেষ্টা করেছেন হয়ত!!!
কিন্তু মন্তব্য করার সময় কি নিরপেক্ষ ছিলেন???
যাক আপনার চেস্টাকে সাধুবাদ জানাই.
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে ................অর্থাৎ নিজেদের সুবিধার জন্য.খুববেশি হলে চেতনা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কি উক্ত চেতনায় হইছে?
তারা নিজেদের স্বার্থে '৭২ ৭২ করছে এর বেশি কিছু না.
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৬
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ। পোস্টটা চেষ্টা করেছি নিরপেক্ষভাবে লেখার জন্য। তবে মন্তব্যে আমি নিরপেক্ষতা ধরে রাখিনি। ধরার প্রয়োজনও মনে করিনি। কারন এক ই সাথে দুটি ব্যাপারই তো আর সত্য হতে পারে না। আমি আলোচনাতে অংশ নিতেই নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে চাইনি।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৪৩|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০০
জর্জিস বলেছেন: নাহিদ@
আপনার ৭ দিনের পরিশ্রম সার্থক।
ধন্যবাদ এবং আপনার কাছে আরো এমন পোষ্ট চাই।
+++++++++++++++++++++++++++++++++++
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেক কৃতজ্ঞতা।
৪৪|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮
নাজনীন১ বলেছেন: "১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান সংশোধন করে এমন কোনো বিধান করা যাবে না যা ৭ অনুচ্ছেদের বিধানকে খর্ব করে। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে কতগুলো সামরিক ফরমানের বৈধতা দেয়া হয়। এই ফরমানগুলোর বেশিরভাগই সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এর অর্থ হলো, ওই ফরমানগুলোকে সংবিধানের ওপরে স্থান দেয়া হলো। এর ফলে ৭ অনুচ্ছেদের বিধান স্পষ্টভাবেই লঙ্ঘিত হলো।"
-- এই সামরিক ফরমানগুলো কি কি, এগুলো কি আরেকটু বিস্তারিত বলা যাবে। হাইকোর্টের রায় ঠিক কোন ব্যাপারগুলো বাদ দিয়েছে? @ শামীম
আর ১ম, দ্বাদশ, চতুর্দশ সংশোধনী -- এইগুলো কি বাদ দেয়া যাবে বা যুক্তি সংগত হবে? আবার ১৩শ সংশোধনী বাদ দিলে এ সরকার সহ আগের তিন সরকারের বৈধতা কিরূপে নির্ধারিত হবে?
৩য় সংশোধনীর ব্যাপারে কি হবে?
৬ষ্ঠ, ৮ম -এর রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারে কি হবে? যদিও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, কিন্তু আইনগুলো পুরোপুরি ইসলামিক না, এই দ্বৈত ব্যাপারটা ঠিক বুঝি না।
৬ষ্ঠের "উপরাষ্ট্রপতি" পদ এখন তো নাই, এ সংশোধনী কি এখনো কার্যকর আছে?
১১শ সংশোধনী একেবারে ব্যক্তিগত ব্যাপার মনে হয়েছে।
আর ৭২ এর ভাবধারা বা কন্সটিটিউশনাল স্পিরিটের ব্যাপারে আরো স্পেসিফিকলী জানতে চাই।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: আপু ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। এই জন্যই অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞই সংবিধান এর পূর্বাবস্থায় যাওযার চাইতে সংশোধনীর দিকেই বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইভেন কেউ কেউ নতুন সংবিধান প্রনয়ন এর কথাও বলছেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করিনা তার কোন দরকার আছে।
আসলে সামগ্রিক বিবেচনাতে সংবিধানে ফেরত যাওয়াটা দুরহ। একারনেই দুরহ যে, "সামরিক ফরমান" এবং "নির্বাহী আদেশ" বলে করা সকল নির্দেশই "যাবতীয় কর্মকান্ডের ফরমান ও প্রবিধানের বৈধতা প্রদান" উল্লেখ করে সংশোধনী এনে জায়েজ করা হয়েছে। সেই কারনে নতুন সমস্যা তৈরী হতেই পারে।
১/১১ এর পরবর্তী সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি কি? সেই ক্ষেত্রে ২৯ডিসেম্বর এর নির্বাচনকে কি অবৈধ বলা যাবে? এখানেই চলে আসে সেই বহুল আলোচিত "ডকট্রিন অফ নেসিসিটি" এর কথা।
মোটামুটি সব সংশোধনীরই যেমন নেগেটেভ দিক আছে তেমন আছে পজেটিভ দিকও। তাই এটাই আমাদের বুঝতে হবে সংবিধান পরিবর্তন মানেই আমুল পরিবর্তন না। কারন তা সম্ভবও না।
আর তাই এখানেই চলে আসে "কন্সটিটিউশনাল স্পিরিট" এর কথা। নেট ঘাটলাম। যা বুঝলাম তা হল........ "এটা অনেকটা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এর পররাষ্ট্র নীতির মত একটা ব্যাপার"। অর্থাৎ কোন দেশের সাথে সরকারের আচরনের চরিত্রটা কেমন হবে, অনেকটা সে রকম।
আমার মনে হয় এটা একটা বিতর্ক সামনে আনতে পারে। কারন যেহেতু এটা "স্পিরিট" এর ব্যাপার সুতরাং বি.এন.পি এর কর্মীরা যে স্পিরিট এর মানসিকতা রাখেন, আওয়ামীলীগ তার ভিন্ন হতেই পারেন। একটা সহজ উদাহরন দেই, ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে, এটার প্রশ্নে আওয়ামীলীগ ও বি.এন.পি. এর সাপোর্টাররা কি দ্বিধাবিভক্ত না?
সেম অ্যাজ, "রাষ্ট্রধর্ম থাকবে নাকি থাকবে না" এটার ক্ষেত্রে কন্সটিটিউশনাল স্পিরিট বলতে আমি কি বুঝবো?
রাজাকারদের ক্ষেত্রে আমাদের আচরন কি হবে.........তা নির্ধারন করতে অন্য কিছুর দরকার নেই। কিন্তু যে বিভাজনগুলো তৈরী হয়েছে স্বাধীনতার পরে, যেমন "বাঙালী-বাংলাদেশী" বা "ধর্মনিরপেক্ষতা" বিতর্ক এর ক্ষেত্রে কন্সটিটিউশনাল স্পিরিট কি খুব কাজে লাগবে? এই সব ক্ষেত্রে কিন্তু আইন দিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না। জনগন কথা বলবেই। অর্থাৎ মতভিন্নতা তৈরী হবেই।
তাই আমার মনে হয় সরকারের উচিত সকল বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে একটা কমিশন গঠন করা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ধাপে ধাপে তাদের কাজ বিন্যস্ত করে চুড়ান্ত ডিসিশন নেয়া।
আর কোন ব্যক্তি বা দলীয় সংশোধনী যেন না আসে, কারন আবারো যদি এই ধরনের কোন কাজ কোন সরকার করে, তাহলে পরবর্তী সরকারেরা এই সুযোগটাই গ্রহন করবে বারবার। ইতিহাস অন্তত তাই বলে।
৪৫|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০
মামুনুর রহমান খাঁন বলেছেন: শোকেসে রাখলাম পরে পড়ব
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
৪৬|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭
মহসিন৭১ বলেছেন: যে সময় যায় তা আর কখনও ফিরে আসে না। সংবিধানকে ১৪ বার কাটা হয়েছে। এই ক্ষত আর কেউ ঘুচাতে পারবে না। আমাদের শরীরের কোন অঙ্গ কেটে গেলে সেখানে সেলাই করা যায়। ক্ষতটা কিন্তু থেকেই যায়। সংবিধানও অনেকটা সে রকমই। এ যাবত যতবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে তার কোনবারই জনস্বার্থে করা হয়েছে কী? সব কিছুই করা হয়েছে শাসক শ্রেনীর সুবিধার্থে। সামনে যদি কিছু করা হয় তাও হবে তাদেরই জন্য। অথচ শাসকরা সব সময় জনগণের ধুয়া তুলে মিথ্যা বুলি আওরায়। তাদের অন্তরে এক আর বাহিরে আর এক।
৭২ চলে গেছে। সেখানে কিভাবে ফিরে যাবে। তবে আবার সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে সরকার। এই পরিবর্তনের বিষয়টি সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। উল্টাপাল্টা কিছু করলে তা বেশী দিন টিকবে বলে মনে হয় না।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৮
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: সেইটাই। জনগন, মিডিয়া এখন অনেক সতর্ক। অনেক সচেতন। সরকারকে এটা অনুধাবন করতে হবে।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
৪৭|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪
লুথা বলেছেন: Click This Link
৪৮|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪
লুথা বলেছেন: Click This Link
তথ্যবহুল পোস্ট, পুরোটুকু পড়লাম। আপনার লেখার বিশ্লেষণ ভালো লাগল। ++++ এবং প্রিয়তে।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৪৯|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯
নীলপদ্দ বলেছেন: সুন্দর ও সহজ করে লেখার জন্য ধন্যবাদ। পুরোটুকু পড়লাম এবং প্রিয়তে। একটা কাজ করবেন, পারলে লেখাটা এর থেকেও সহজ করে লিখে আরও একটা পোষ্ট করবেন কারন এখানে অনেক অতি শিক্ষিত মানুষ আছে যারা আপনার এই লেখাও না বুঝে অনেক কিছু মনে করে বসবে। ![]()
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৩
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ভয় ধরায় দিলা।
৫০|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৬
মোহাম্মদ লোমান বলেছেন: সবটুকু পড়ার সুযোগ হয়নি। যা পড়েছি ভাল লাগল। প্রিয়তে রাখলাম।
বর্তমান সংবিধানের আওতায় যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্ভব হলে সংবিধান পরিবর্তন তথা ৭২ এ ফিরে না গেলেই ভাল হয়। পোস্টের জন্য +
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৫১|
০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৮
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: পোস্ট কিছুটা বড়, তাই সময় নিয়ে পড়ছি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবার প্রয়োজন নেই। এখনকার সংসদেই সেরকম আইন পাশ হতে পারে।
আমার মনে হয় ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া খুব সহজ কিছু নয়। সরকার পরিষ্কার করে বলছে না ঠিক কি করে ফেরত যাবে। সেজন্য সব কিছু এখনও বেশ ঘোলাটে।
০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৮
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ৭২ এর সংবিধানে যাওয়া অবশ্যই সহজ না। অনেক অনেক সমস্যা আছে। সরকার কিছু বলছে না। বাট বললেও তো কিছু বুঝবো না। কারন সংবিধানই বুঝি না আমরা।
গতকাল একটা এন.জি.ও. এর প্রোগ্রাম শুনছিলাম। তারা সারা দেশে ৫০০০ সংবিধান কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার পারমিশন দেয়নি। এটা শুধু এবার ই না। গত সরকারের সময়ও বলেছিলেন। বাট তখনও পারমিশন পাওয়া যায়নি।
সরকার বলে এতে সংবিধান বিকৃত হওয়ার সম্ভবনা আছে।
হাস্যকর কথা। দেশে কি আইন নাই? সংবিধান এ ভুল তথ্য ঢুকিয়ে দেয়া কি এতই সহজ? আর আইন তো আছেই।
আসলে সরকারও কখনোই আন্তরিক না এই ব্যাপারে যে আমরা সংবিধান বুঝি। তাহলে তো তাদের মিথ্যা ধরা পড়ে যাবে। যখন ইচ্ছা তখন চাপা মারা যাবে না। এটা সব সরকারেরই কমন ক্যারেকটার।
তাই আমাদের উচিত নিজ উদ্যেগে সংবিধান বোঝার চেষ্টা করা। বুদ্ধিজীবিরাও তো একেক সরকারের এজেন্ট। কাকে বিশ্বাস করবেন? কার কথাকে বিশ্বাস করবেন?
এটাই ভালো তাই। নিজে পড়ে শেখা। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৫২|
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০৭
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "তাই আমাদের উচিত নিজ উদ্যেগে সংবিধান বোঝার চেষ্টা করা। বুদ্ধিজীবিরাও তো একেক সরকারের এজেন্ট। কাকে বিশ্বাস করবেন? কার কথাকে বিশ্বাস করবেন?
এটাই ভালো তাই। নিজে পড়ে শেখা। "
সংবিধান বোঝা কি আর এত সহজ? সংবিধান বিশেষজ্ঞদের তর্ক/বিতর্ক থেকে অনেক সময় অনুমান করার চেষ্টা করি।
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৭
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: ওভারঅল কনসিকিউএন্স নিয়ে কথাটা বলেছি। যা হোক, আপনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক।
৫৩|
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৭
আল্লাহ রাখা বলেছেন: ছাগাইডেশন...... একটা কমন সিনড্রম
একটা ভয়াবহ...... সিনড্রমের কথা এত দিন অজানাই থেকে গেছে লুকচোক্ষুর আড়ালে।অবশ্য এখন এটা ধ্রুব এক সত্য.............
নতুন সিনড্রম ছাগাইডেশন।
এটা এমন এক সমস্যা যা থেকে পরিত্রাণের উপায় এখন পর্যন্ত ব্লগ জগৎ এ অমীমাংসিত......
দীর্ঘ দিন ধরে ছাগাইডেশন সিনড্রম নিয়ে গবেষণার ফলে এটাই শেষ পর্যন্ত বের হয়ে এসেছে যে.....
মডারেশন প্রক্রিয়াটা এমন ভাবে ছাগলদের দ্বারা বা ছাগু সম্প্রদায়ের প্রভাব দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে ..... তা আর মডারেশন নামক নীতিমালা ভিত্তিক কিছু থাকে না,তখন এটা হয়ে পরে ছাগাইডেশন।
এই ছাগাইডেশন নামে চলতে থাকে...... ছাগুদের পুনর্বাসন।রাখাল নিধন ক্ষেত্র বিশেষে তাদেরকে খোয়াড়ে বন্দি করে আবাসিক করে ফেলা।
অনেক তথাকথিত রাখালের নাম উদাহরণ দেয়া যাবে...... আদতে ওরা এখন খোয়াড়বাসি..... আবাসিক,ছাগু পালের বৃদ্ধ কুকুর।
এই ছাগাইডেশন রোগের উৎপত্তি সাধারণত দেখা যায় ছাগু সংস্পর্শে আসার ফলেই হয়,ক্ষেত্র বিশেষে লুকানো ছাগুদের দ্বারা,আর অহরহ এটা হয় আবাসিক বৃদ্ধ ছাগু পালের সাথে থাকা লোম ওঠা কুকুর দ্বারা।
আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি এর প্রতিশোধক বের করার ..... যদিও জানি এখন পর্যন্ত যা দাড়িয়েছে তা অমিমাংসীত।তবুও চেষ্টায় আছি।
আপাতত এর থেকে নিরাপদে থাকার উপায় হল... খুব খেয়াল করে চলবেন আর চেষ্টা করবেন ভুলেও ছাগু ব্লগে পা মাড়াবেন না,আবাসিকদের থেকে সাবধান,আর লুকানো গুলাতো ভয়াবহ.... উপার ওয়ালার উপর আস্তা রাখবেন।এই আর কি.....
আল্লাহ মাবুদ রক্ষা কর মালিক এই ছাগাইডেশন সিনড্রম থেকে। ছাগাইডেশন...... একটা কমন সিনড্রম
একটা ভয়াবহ...... সিনড্রমের কথা এত দিন অজানাই থেকে গেছে লুকচোক্ষুর আড়ালে।অবশ্য এখন এটা ধ্রুব এক সত্য.............
নতুন সিনড্রম ছাগাইডেশন।
এটা এমন এক সমস্যা যা থেকে পরিত্রাণের উপায় এখন পর্যন্ত ব্লগ জগৎ এ অমীমাংসিত......
দীর্ঘ দিন ধরে ছাগাইডেশন সিনড্রম নিয়ে গবেষণার ফলে এটাই শেষ পর্যন্ত বের হয়ে এসেছে যে.....
মডারেশন প্রক্রিয়াটা এমন ভাবে ছাগলদের দ্বারা বা ছাগু সম্প্রদায়ের প্রভাব দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে ..... তা আর মডারেশন নামক নীতিমালা ভিত্তিক কিছু থাকে না,তখন এটা হয়ে পরে ছাগাইডেশন।
এই ছাগাইডেশন নামে চলতে থাকে...... ছাগুদের পুনর্বাসন।রাখাল নিধন ক্ষেত্র বিশেষে তাদেরকে খোয়াড়ে বন্দি করে আবাসিক করে ফেলা।
অনেক তথাকথিত রাখালের নাম উদাহরণ দেয়া যাবে...... আদতে ওরা এখন খোয়াড়বাসি..... আবাসিক,ছাগু পালের বৃদ্ধ কুকুর।
এই ছাগাইডেশন রোগের উৎপত্তি সাধারণত দেখা যায় ছাগু সংস্পর্শে আসার ফলেই হয়,ক্ষেত্র বিশেষে লুকানো ছাগুদের দ্বারা,আর অহরহ এটা হয় আবাসিক বৃদ্ধ ছাগু পালের সাথে থাকা লোম ওঠা কুকুর দ্বারা।
আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি এর প্রতিশোধক বের করার ..... যদিও জানি এখন পর্যন্ত যা দাড়িয়েছে তা অমিমাংসীত।তবুও চেষ্টায় আছি।
আপাতত এর থেকে নিরাপদে থাকার উপায় হল... খুব খেয়াল করে চলবেন আর চেষ্টা করবেন ভুলেও ছাগু ব্লগে পা মাড়াবেন না,আবাসিকদের থেকে সাবধান,আর লুকানো গুলাতো ভয়াবহ.... উপার ওয়ালার উপর আস্তা রাখবেন।এই আর কি.....
আল্লাহ মাবুদ রক্ষা কর মালিক এই ছাগাইডেশন সিনড্রম থেকে।
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: শেষ পর্যন্ত সফল হোন এই প্রার্থনাই করি। কারন ইতিহাস কোন ব্যর্থ মানুষকে মনে রাখে না।
শুভ কামনা থাকলো।
৫৪|
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৬
কুচ্ছিত হাঁসের ছানা বলেছেন: পোস্ট আর সবগুলা কমেন্ট পড়া শেষ করলাম। ![]()
৫৫|
২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৭
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: তুমি তো নাই। পোস্টের জবাবও দিতে পারবে না। মাহমুদুর রহমানের লেখা পড়লাম, "৭২ এর সংবিধানে গিয়ে বেরুবাড়ী ফেরত আনুন"।
আচ্ছা, বেরুবাড়ী কি সত্যিই পাওয়া যাবে সে সংবিধানে ফেরত গেলে?
৫৬|
০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৫
লালসালু বলেছেন: ফাটাফাটি লেখা
৫৭|
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪১
সুধাসদন বলেছেন: "৭২ এর সংবিধানে গিয়ে বেরুবাড়ী ফেরত আনুন"।
৫৮|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৮
গরম কফি বলেছেন:
ভাল লাগলো তাই প্রিয়তে নিলাম মাইন্ড খাইয়েন না।
চমতকার ভাল লাগল। প্লাস না দিলে অন্যায় হবে আপনার প্রাপ্য ছিল একাধিক প্লাস সীমাবদ্ধতার কারনে একটা দিলাম।
৫৯|
০১ লা মে, ২০১০ রাত ১:০৬
কে. এম. মাহদী হাসান বলেছেন: প্রিয়তে। মন্তব্যগুলোই এই পোষ্টের মান অনেক সমৃদ্ধ করে তুলেছে। সকল মন্তব্যকারীগনকে তাই ধন্যবাদ।
৭২'এর সংবিধানে ফিরে গেলে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুর জন্য ভাল হবে ঠিক কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, আমাদের বর্তমান সরকার কি শুধুমাত্র এ উদ্দেশ্যেই ৭২'এর সংবিধান পরিবর্তন করছেন?
-------------------------------
সরকার ৭২'এর সংবিধান নিয়ে যতটা ব্যস্ত যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়ে ততটা ব্যস্ত নন।
----------------------------------
কারণ,
যুদ্ধাপরাধ বিচার একটি জাতীয় দাবিঃ
যা কোন দল মত দেখে না, (যুদ্ধাপরাধী যেই হোক তার বিচার করতে হবে এটিই দাবি, হতে পারে তা জামায়াতের, বিএনপির, আওয়ামীলীগের, অন্য কোন দলের বা হোক সে নির্দলীয়) যুদ্ধাপরাধী যুদ্ধাপরাধীই তাদের কোন দল নেই।
---------------------------------------
আবার, এটি হতে পারে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এক মোক্ষম হাতিয়ারঃ সাপও মরবে লাঠিও ভাঙ্গবেনা......
তাই যুদ্ধাপরাধ ইস্যু সম্পন্ন হলে শুধু তাদের কিছু কেলেঙ্কারী হবে কিন্তু ৭২'এর সংবিধানে ফিরে যেতে পারলে তাদের গঠনতন্ত্র তথা গোটা দলকেই নিষিদ্ধ করা সহজ হবে।
কেননা, যখন ৭২'র সংবিধান কায়েম হয় তখন সকল ইসলামী দল নিষিদ্ধ হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী সহ সকল ইসলামী দলের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। (এরপর, ১৯৭২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী সকল রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করে এক দলীয় বাকশাল কায়েম করা হয় যার মূল কথা ছিল 'একটি মাত্র জাতীয় দল ও অন্যান্য দলের অবলুপ্তি। প্রথমে ইসলামী তারপর সকল।)
------------------------------------------
এ কারণেই ৭২'এর সংবিধান নিয়ে এত ব্যতিব্যস্ত সরকার।
"যুদ্ধাপরাধ বিচার একটি জাতীয় দাবি" এ বিবেচনায় যুদ্ধাপরাধের বিচার করা উচিত সরকারের।
জাতিও একটি জনপ্রতিনিধিত্বকারী সরকারের কাছে তাই আসা করে।
----------------------------------------------
কিন্তু আমার মনে হয় এ বিবেচনায় বিচার করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়.....
কেন নয়? কারণটা সবাই জানেন।
পাছে থলের বিড়াল বেড়িয়ে পরে.......
৬০|
১১ ই মে, ২০১০ সকাল ৮:৫৭
আল জাহান বলেছেন: ৭২ এর সংবাধানে ফেরত যাওয়ার কোন দরকার নেই ।
৬১|
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৪৪
প্র।ইভেট বলেছেন: View this link
৬২|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০২
কিরিটি রায় বলেছেন:
আরে এত আইন বোঝ হেন বোঝ তেন বোঝ...
৪র্থ সংশোধনী বাতিল করনা কেন??? যেইটা দিয়া জাতির গলাচিপা ধরছিল জাতির পিতাই!!!!
৫ম সংশোধণী ছিল সময়ের বাধ্যবাধকতা। ঐ সংশোধণীর ফলে রাজনীতিতে পুর্ণবাসিত আওয়ামীলীগ অহন কত বাহান করে রে ![]()
![]()
৬৩|
২৫ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৮:৫৪
রমিত বলেছেন:
আমার ক্যাডেট কলেজ
Click This Link
৬৪|
২৬ শে মার্চ, ২০১১ সকাল ৭:৩১
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন: খুব ভাল উদ্যোগ... সময় করে পুরোটা পড়ব... ভাল কথা আর্টিকেল ১১৬ এর ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে একটু জানাবেন?
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪২
উমর বলেছেন: তথ্যবহুল পোস্ট, পুরোটুকু পড়লাম। আপনার লেখার বিশ্লেষণ ভালো লাগল। ++++ এবং প্রিয়তে।