| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এইচ এন নার্গিস
আমি একজন লেখক, সমাজ কর্মি , মা এবং মুক্তিযোদ্ধা
'বঙ্গ' আর 'বাঙ্গালী'
শেকড়ের খোঁজে
"বঙ্গ" নদী থেকে যার জন্ম ।
নদী সাধারণত একটি দেশের 'সীমানায়' থাকে । নদী দিয়ে দেশের এলাকা বোঝানো হয়।
কিন্তু এই 'বঙ্গ ভূমী' নদীর পলি থেকেই জন্ম । নদী থেকে বয়ে আসা পলি জমে জমে বঙ্গের সৃষ্টি। তাই নদীই এর বিশেষত্ব ,নদীই জীবন।
নদী ছাড়াও এই বঙ্গের জিয়োগ্রাফি আর আবহাওয়া ভারত উপমহাদেশের আর সব স্থান থেকে আলাদা করেছে।
হিমালয় থেকে নেমে আসা হাজার হাজার নদী ,পলি , প্লাবন, ঘন বর্ষা , খাল বিল, বন জঙ্গল , ঝড় ঝঞ্ঝা আর দক্ষীণের সমুদ্র থেকে উঠে আসা জলোচ্ছ্বাস এই বঙ্গ ভূমী কে এক অন্য রকম বৈশিষ্ট্য দান করেছে।
প্রতিটি জীবন আরম্ভ হয় নদী আর কাদা থেকে।
একদিন ধান হাতে আসে একদল মানুষ ।
অস্ত্র হাতে নয় ।
যে আবহাওয়াই ধান চাষ ভালো হয় সেই অঞ্চল খুঁজতে খুঁজতে পৌছে গেলো এই সব অঞ্চলে যা কিনা প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ।
চলবে
তারা আর কেউ নয় , তারাই অ্যাস্ত্র -এসিয়াটিক (Austro-Asiatic) জাতি গোষ্ঠী ।
বিশিষ্ট ভাষা বিজ্ঞানী সুনীতি কুমার চট্টপাদ্ধায় , ভাষাবিদ সুকুমার সেন আর anthropologist H N Risley, J H Hutton,B S Guha, SC Roy (Fathar Of Indian Ethnography) , P O Bodding Linghist)
গবেষণা করে পেলেন এই Austro -Asiatic জাতি গোষ্ঠী প্রশান্ত মহাসাগরের কোনও এক দ্বীপ থেকে ভিয়েতনাম , কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড , বার্মা হয়ে নেপাল,বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবাংলায় আসে । এবং এই সব অঞ্চলে এই ভাষা গোষ্ঠী এখনো বাস করে।
তারাই আমাদের আদি পুর্ব পুরুষ ।
বিখ্যাত চাইনিজ গবেষক (JianYu,xiamen university, Xiaohua Deng, Xiamen University) গবেষণায় দেখা যায় যে সমস্ত স্থানে তারা বসতি স্থাপন করে সেই সমস্ত এলাকায় একটি আবহাওয়া গত মিল আছে , মিল আছে প্রকৃতির সঙ্গে এবং এই স্থান গুলোতে জীবজন্তু আর গাছপালা , একই রকমের।
কি সেটা ?
পাহাড়ের পাদদেশে, জঙ্গল এবং নদীর তীরে এবং প্রচুর বৃষ্টি যেখানে হয়। ময়ূর, হাতি , গণ্ডার, বেজি, বানর এবং মোহিষ এসব অঞ্চলের কমন জীব জন্তু।
ভাষাবিদ ভাষা গবেষণা করে খুঁজে পেলেন এরা মুন্ডা ভাষা ভাষীর মানুষ। সাঁওতাল ভাষা মুন্ডা ভাষা থেকে আগত।
আর মুন্ডা ,সাঁওতাল, ওঁরাও , সব অ্যাস্ত্র - এশিয়াটিক জাতি গোস্টিক শ্রেণীর । চলবে
২|
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬
এইচ এন নার্গিস বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। আপনার উৎসাহ আমাকে লিখতে ইচ্ছা করে আরও । ভালো থাকবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এ লেখাটি শুধু ইতিহাসের তথ্যভিত্তিক আলোচনা নয়, বরং বঙ্গ ও বাঙালির শেকড়ের দিকে ফিরে
তাকানোর এক গভীর আহ্বান। নদীকে কেন্দ্র করে বঙ্গভূমির জন্ম ও বিকাশের যে ব্যাখ্যা আপনি তুলে ধরেছেন,
তা খুব সহজ ভাষায় হলেও ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। নদী এখানে কেবল ভৌগোলিক উপাদান নয়।এটি জীবন,
সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ধারক।
অ্যাস্ত্রো-এশিয়াটিক জাতিগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ, ভাষাবিদ ও নৃতত্ত্ববিদদের গবেষণার উল্লেখ লেখাটিকে তথ্যসমৃদ্ধ করেছে,
আবার একই সঙ্গে আমাদের আত্মপরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ধান হাতে মানুষ আসার যে
চিত্রটি এঁকেছেন, অস্ত্র নয়, চাষ আর জীবনের খোঁজে, তা বিশেষভাবে মন ছুঁয়ে যায়। এতে বোঝা যায়,
এই ভূখণ্ডের মানুষের শিকড় কতটা শান্তিপ্রিয় ও প্রকৃতিনির্ভর।
এই ধারাবাহিক লেখার পরবর্তী অংশে নিশ্চয় আরো অনেক কিছু জানব। আশা করি, সামনে আরও গভীরভাবে
জানার সুযোগ পাব, আমরা কারা, কোথা থেকে এলাম, আর প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে
উঠেছিল। এমন লেখা ইতিহাসকে শুধু জানায় না, অনুভব করায় এই কারণেই তা পাঠক হিসেবে আমাদের
মনে দাগ কাটে।
শুভেচ্ছা রইল