নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জ্ঞান মনের জানালা খুলে দায় এবং সেই খোলা জানালা দিয়ে না জানা বিষয় গুলো দেখি যা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী দেখতে সাহায্য করে ।

এইচ এন নার্গিস

আমি একজন লেখক, সমাজ কর্মি , মা এবং মুক্তিযোদ্ধা

এইচ এন নার্গিস › বিস্তারিত পোস্টঃ

"বঙ্গ" আর "বাঙ্গালী" শেকড়ের খোঁজে, অস্টৃক জাতি গোষ্ঠী ছাড়া আরও যারা এসেছিল তাদের পরিচয়

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৭

7a19164_xlarge.jpg] "বঙ্গ"  আর "বাঙ্গালী" ৭ 

শেকড়ের খোঁজে (দ্রাবিড়) 

দ্রাবিড় ,হ্যাঁ দ্রাবিড় দের রক্তও আমাদের দেহে প্রবাহিত । 
দ্রাবিড় কারা ? কোথা থেকে এলো ? 

দ্রাবিররাও বঙ্গের প্রাচীনতম বাসিন্দা Asiatic-Austric দের কাছাকাছি সময়ে তাদের আগমন । 
দ্রাবিড় দের আগমন প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ভূমধ্যসাগর অঞ্চল থেকে দ্রাবিড় রা এদেশে এসেছিল। Austric দের সাথে এরা মিলে মিশে থাকতো । Austric রা তারাকে সাদরেই গ্রহণ করেছিল । 
এদের গায়ের রং কাল থেকে বাদামি ,মাথার চুল কারো কিছুটা ঢেউ খেলানো কারো সোজা কিন্তু একেবারে সোজা নয় । চোখের মনি কালো এবং চোখ গোলাকার। দেহ বেঁটে থেকে মাঝারি । মাথা গোলাকার কিন্তু কারো কিছুটা লম্বা । ঠোঁট মোটা নয় এবং নাক খাড়া ছিল । 

সিন্ধু মহেঞ্জাদারো সভ্যতা দ্রাবিড় দের হাতে গড়ে উঠেছিলো । ইতিহাসবিদ এবং নৃতত্ত্ববিদ রাখাল দাস বন্দোপাদ্ধায়ের মতে সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেলে তারা দক্ষিণ ভারতের দিকে চলে যায় এবং আর একটি শাখা এই বঙ্গে প্রবেশ করে। 

তারা Austric এশিয়াটিক দের চেয়ে সভ্যতায় এগিয়ে ছিল। এশিয়াটিক Austric গ্রাম অঞ্ছলে সাধারণ ভাবে বসবাস করতো এবং চাষবাস, শিকার, নৌকা বাওয়া এবং মাছ ধরা তাদের জীবিকা ছিল । মাটির ঘরবাড়ি তে থাকতো ।
 
কিন্তু দ্রাবিড় জাতি নগর সভ্যতার ধারক ছিল এবং তাদের নগরে রাস্তা,পয়প্রনালি,পায়খানা, জলাধার, গোসলখানা, পাকা ঘরবাড়ি থাকতো ।

এদের সভ্যতা উন্নততর থাকায় তারা Austric  জাতি কে গ্রাস করে। ধীরে ধীরে Austric আর দ্রাবিড় মিলে মিশে জন্ম হয় বাঙ্গালী জাতি । 

মনেকরা হয় মহাস্থানগড়, উয়ারী  বটেস্বর, পাণ্ডু রাজার ঢিপি  এবং চন্দ্রকেতুগড় তাদের করা স্থাপনা। 
পশ্চিম বঙ্গের বাঁকুড়া ,মেদিনিপুর এবং বর্ধমান  জেলায় অনেক প্রাচীন স্থাপনা আছে ,মনে করা হয় এগুলো হয়তো দ্রাবিড় দের করা। এগুলো নিয়ে যথেষ্ট  গবেষণা এখনো হয়নি । এগুলো প্রাচীন সভ্যতার ইঙ্গিত।  

দ্রাবিড়রা দ্রাবিড় ভাষায় কথা বলতো । দক্ষিণে  এখনও দ্রাবিড় ভাষা প্রচলিত । 
কিন্তু বঙ্গে তাদের ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় থাকলেও  বর্তমানে অনেক শব্দ সংস্কৃতি থেকে এসে বাংলা ভাষা হয়েছে বা বাংলায় মিশে গেছে।  
কারন পরবর্তি কালে আরিয়ান রা এখানে আসে এবং তাদের প্রভাব পড়ে । 
দ্রাবিড় দের ধর্মে স্ট্যাচু বা মূর্তি  ছিলনা । তারা মাতৃ পূজা করতো এবং নানা রকমের লোকজো প্রথা চালু ছিল ।

র্তমানে বাংলায় যে লালন নৃত্য বা ফোক নৃত্য আছে তা দ্রাবিড় দের ধারক এবং বাহক ।
 এশিয়াটিক Austrik আর দ্রাবিড় শত শত বছর ধরে থাকতে থাকতে মিশ্রণ ঘটে এবং আমাদের রক্তে  এই দুই জাতির রক্ত প্রবাহিত ।

৬০ পারসেন্ট  উপাদান Austric - এশিয়াটিক ভাষা গোষ্ঠীর উপাদান   বাঙ্গালীর রক্তে । 

 তার সাথে আরও যোগ হয় অনেক কিছু । 


দ্রাবিড় শব্দ যা বাংলায় মিশে আছে  এবং এ নিয়ে গবেষণা চলমান। মুড়ি ,   কুড়ি, ধান, চুলা , কাটা ইত্যাদি দ্রাবিড় শব্দ । 

মঙ্গলয়েড বা ভোট চিনীয়ো  

দক্ষিণ এবং পশ্চিম চীন থেকে এদের আগমন। পার্বত্য অঞ্চলের চাকমা,মনিপুরী , খাসিয়া, হাজং, মরং এই সব নামে পরিচয় এই জনগোষ্ঠী । 
আর্য দের আগমনের আগেই তারা বঙ্গে আসে। তারপরে এখানে বসবাস রত জনগোষ্ঠীর সাথে মিশ্রণ হয়। 

আলপাইন জনগোস্ঠী 

এরাকে আর্য শ্রেণীর শাখা হিসেবে ধরা হয়। জাতিতে তারা বৈদিক না হলেও তারা আর্য ভাষায় কথা বলতো । আল্পস পর্বত,পামির মালভূমি এবং পুর্ব ভারত থেকে এরা বাংলায় আসে। 

আর্য দের আগমনের পুর্বেই এরা উন্নত সভ্যতার বিকাস ঘটায় । বিখ্যাত ইতিহাসবিদ "অতুলসুর" বলেন Austric এবং দ্রাবিড় দের পরেই এরা বাংলায় আসে। এদের ভাষা ছিল ইন্দো -ইউরপিয়ান এবং আর্য। 
কালক্রমে উড়িষ্যা, বিহার, কাশী এবং আসামে বসতি স্থাপন করে। 
ইতিহাসবিদ  এবং নৃতত্ববিদ   দের মধ্যে আর্য নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কেউ বলে এরা ভারতীয় কেউ বলে এরা বিদেশী । 

যাই হোক এদের আগমোনে স্থানীয়রা নিজেদের দুর্বল ভেবে অরণ্যে চলে যায় । 
ঐতিহাসিক বেসমের মতে এরা ইন্দোইউরোপীয় ভাষা গ্রুপের এবং এই ভাষায় যারা কথা বলে তারা আর্য নামে পরিচিত ।

জার্মান নৃতত্ত্ববিদ ম্যাক্স (Max)এর মতে পশ্চিম এশিয়া এদের বাস ভূমী,  এখান থেকে এরা এশিয়া মাইনর হয়ে ইউরোপে যায় আর একদল খাইবার গীরি পাশ  দিয়ে ভারতে আসে ।

খ্রিস্ট পুর্ব ১৫ শত অব্দে সাড়ে তিন হাজার বছর পুর্বে আর্যরা ভারতে প্রবেশ করে বলে অধিকাংশ পণ্ডিত এবং গবেষকরা  মনে করেন ।   
তবে বাংলায় তারা আসে অনেক পরে। 
খ্রিস্ট পুর্ব ১ম শতাব্দীতে,   রামেসচন্দ্র মজুমদার মনে করেন ধর্ম প্রচার ,ব্যাবসা উপলক্ষ্যে বহু আর্য এখানে আসে। 

তবে তারা অনেক বাধা প্রাপ্ত হয় অনার্য দের দ্বারা ।  
দুর্গা পূজায় দেখা যায় দুর্গা অসুর দমন করছে বল্লম দিয়ে । তা আর কিছু নয় অসুর হল অনার্য তাই গায়ের রং কালো। এবং অসুর  দমনের মাধ্যমে এই বঙ্গে যে অনার্য রা  বিদ্রোহ করে  ছিল সেই গল্পই দেখানো হয়েছে।
 
আর্যরা ছিল বলিষ্ঠ,সুঠাম দেহের অধিকারী ।তাদের ভাষা,কালচার, রীতিনীতি এবং ধর্ম বাংলার মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। 

আর্যিকরনের পালা 

মোর্য বংশ থেকে গুপ্ত বংশ অধিকার পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পঞ্চম অব্দ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ বছর ধরে ক্রমে ক্রমে আর্য করনের পালা চলে। 

চতুর্থ এবং পঞ্চম শতাব্দীতে গুপ্ত যুগে বাংলায়  বা বঙ্গে ভাষা এবং সংস্কৃতি শক্ত হয়। 

কিরাত জনগোষ্ঠী 
হিমালয়ের পাদদেশে একটি অঞ্চলে এরা বাস করে। 

কিরাত জনগোষ্ঠী একটি অতি প্রাচীন জনগোষ্ঠী । প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থে এদের উল্লেখ আছে । এরা তিব্বতি বংসভুত । বঙ্গের উত্তর অঞ্চলের জেলা সমূহে এদের দেখতে  পাওয়া যায় ।  রংপুর দিনাজপুর এলাকায় অনেক মানুষের চেহারায় এদের ছাপ আছে  মিল দেখা যায় চোখের আকৃতিতে । 
চলবে








 
  
 

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

রাসেল বলেছেন: বাংলার মানব ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.