| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এইচ এন নার্গিস
আমি একজন লেখক, সমাজ কর্মি , মা এবং মুক্তিযোদ্ধা
"বঙ্গ" এবং "বাঙ্গালি"
শেকড়ের খোঁজে (ধর্মে বিবর্তন ) ৪
প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে Austric-Asiatik জাতি এই বঙ্গে আসে। তারাই এই বঙ্গের ভূমি পুত্র ।
বঙ্গ তখন ছিল ঘন জঙ্গলে পরিপুর্ন । এখন কার সুন্দরবন যেমন ঘন জঙ্গল, তখন পুরো ভূখণ্ড ছিল সেই রকম জঙ্গলে ভরা ।
অপেক্ষা কৃত উঁচু জায়গায় তারা বসবাস করতে থাকে। বরেন্দ্র ভূমি, মধুপুরের গড়, ভাওয়ালের গড় , ময়মনসিংহ ,দিনাজপুর এবং সিলেটের উঁচু ভূমিতে ছিল তাদের বাড়ি ঘর।
বৈরী আবহাওয়া, ঝড় আর বন্যা থেকে ফসল রক্ষা করতে প্রকৃতি কে স্মরণ করে পূজা দিত ।আবার জঙ্গলে থাকা বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বনবিবির পূজা করত ।
বীজ বপন , ফসল কাটা, নবান্ন পালন করতে তারা পুরোহিতের স্মরণাপন্ন হত না। নিজস্ব কিছু প্রথা ছিল যা এখনো আছে সেই প্রথাই ছিল তাদের ধর্ম ।
প্রকৃতি পূজার অংশ ছিল বট পাকুড়ের পূজা, সন্ধ্যায় তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালানো ছিল প্রথা। একেক গোত্রের একেক প্রথা ছিল।
মানুষের মনে যে ভয় থাকে তা থেকে রক্ষা পেতে শিতলা,মনসা, এবং বন দুর্গার পূজা করা হত এবং এখনো হয়। পশু পাখীর পূজা করা ছিল নিয়ম। সাপ,গরু,সিংহ, বাঘ, হাঁস এবং পদ্ম ফুল তাদের পূজার অঙ্গ ছিল।
ষষ্ঠী পূজা, ব্রত পালন, চড়ক ,স্নান যাত্রা , ধর্ম ঠাকুর, পুর্নি পুকুর, ঘট লক্ষ্মী এবং জয় মঙ্গল ব্রত ছিল বাঙ্গালির ধর্ম আচরণের অঙ্গ যা অতি প্রাচীন। এবং বেশির ভাগ প্রথা Austric অনার্য গোত্র থেকেই আসা।
তবে এই প্রাচীন আচার আচরণ কে বৈদিকরা গালমন্দ করতো । তাদের গালমন্দ থেকেই বোঝা যায় এগুলো বৈদিক দের ধর্মীয় আচার আচরণ ছিল না।
বিষ্ণু ,গনেশ, লক্ষ্মী এগুলো বৈদিক দেবতা হলেও কলা গাছ, ধানদূর্বা, সুপারি পান, মঙ্গলঘট, আল্পনা আঁকা আদিম প্রথা। এবং প্রাচীন ধর্ম আচরণের অঙ্গ যা আর আলাদা করা যায় না।
যা তলিয়ে যাওয়া ভুলে যাওয়া বাঙ্গালির প্রথার ইতিহাস ।
Austroasiyatic অনার্য এবং দ্রাবিড় জাতি হল বাংলার ভূমিজ সন্তান ।তারা কে বলা হয় অনার্য । তাদের ধর্ম ,ভাষা এবং সংস্কৃতি অপসারণ করতে চেষ্টা করে আর্য । আর অপসরণ করার জন্য বাধা আসে অনার্য দের কাছ থেকে।
সনাতন ধর্মঃ
১৫০০ বছর আগে আর্য আসে ভারতে। এই বঙ্গে আর্য দের কাছ থেকে আসে ঘৃণা । যেহেতু অনার্য দের মুল পেষা ছিল কৃষি। কৃষি রক্ষা করতে তারা প্রকৃতি পূজা করতো।
আর্যরা বেশিদিন নিজেদের অনার্য দের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে নাই।
তাই নুতুন এক ধর্মের অবতরণ হয়। নাম সনাতন ধর্ম ।
আর্য আর অনার্য ভাবনায় ধর্ম পালনে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। ভারতীয় দের মন থেকে বৈদিক দেবতা অপসৃত হয় এবং তার বদলে ব্রাম্ভা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর কে নিয়ে নুতুন ধর্ম পালন শুরু হয়।
মহেশ্বরই অনার্য দেবতা শিব । আর্য রা অনার্য দেবতা শিব কে গ্রহণ করতে অনেকটা বাধ্য হয়। অনার্য বিষ্ণু কে গ্রহণ করে নাই। শিব কে দেবতা বলে মনে করাটা আর্যদের সঙ্গে অনার্য দের একটা বিরাট বিজয়। আর বিষ্ণু কে মানা হয় আর্য অধ্যুষিত উত্তর ভারতে।
বেদ ছিল আর্যদের। ঋগ বেদ, যদু বেদ, সামবেদ, অথর্ব বেদ আর দেবতার নাম বিষ্ণু,অগ্নি,বরুন, মিত্র, পূষন এবং রুদ্র। তবে এখন পূজিত হয় শুধু বিষ্ণু। ভারতে আর্যরা দীর্ঘ কাল ধরে রাম কৃষ্ণ কে বিষ্ণুর অবতার মনে করতো । তাই নিয়ে আর্য আর অনার্য দের মধ্যে ঘাত প্রতিঘাত চলে।
বৈদিক সাহিত্যে দেখা যায় বঙ্গ এবং বাঙ্গালি কে গালমন্দ করা হচ্ছে বা নিচু চোখে দেখা হচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় আর্যরা এদেশের মানুষকে ভালো চোখে দেখত না।
মহা ভারত রচয়িত রা এদেশর বীরদের কে স্বীকার করে নিতে পারে নি। এই বীর হল শ্রী কৃষ্ণ এবং অসুর । এ থেকে বোঝা যায় এদেশে প্রবেশ করতে আর্যদের অনেক বাধা পেতে হয়েছে এবং সে বাধায় জয়লাভ না করায় বাঙ্গালি দিয়ে বঙ্গের বীর রাকে রাক্ষস এবং হীন বানিয়ে রেখেছে ।
এবং তারাই হল উঁচু স্তরের ব্রাম্ভন এবং ক্ষত্রীয় ।
আর্য রা পাঞ্জাবের সমতলে এসে বসতি করে। আর উত্তর ভারতের নাম দায় "আর্য বর্ত" অর্থাৎ আর্যদের বাসভূমি।তারপরে সেখান থেকে গঙ্গার পথ ধরে পুর্ব দিকে ধাবিত হয়। তবে বঙ্গে আসা এবং মিশ্রণ হওয়া ক্ষীণ হয়ে পড়ে ।
তবে আর্য দের বঙ্গে আসতে এবং তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে বেশ বাধাগ্রস্ত হতে হয়। বর্তমানে তাদের ধর্ম কে বর্জন করতে বেশ আলোড়ন শুরু হয়েছে।
হিন্দু বাঙ্গালির দেবতাঃ
আজ হিন্দু বাঙ্গালি যে দেব দেবতার পূজা করে তা কিন্তু আদি বাঙ্গালির দেবতা নয়।
উপর তলায় চলে গিয়েছে বাঙ্গালির ধর্ম পালনের পালা। কিন্তু নিচু তলায় থেকে গেছে বাঙ্গালির আদিম ধর্মাচার। গুপ্ত যুগ থেকে উত্তর ভারতের ধর্মা চার সমাজের উপর তলায় চলে গেছে। শারদীয় দুর্গা উৎসব মহারাস্ত্র,মধ্য প্রদেশ, গুজরাট সংলগ্ন অঞ্চলে। তারপরে বঙ্গে আসে কৃত্যিবাসের রামায়ণের হাত ধরে।
বাঙ্গালির রক্তে এশিয়াটিক Austric ভাষা গোস্টির রক্ত বেশি অর্থাৎ তাদের উপাদান বাঙ্গালির রক্তে বেশি। তাই বাঙ্গালির পূজা পূর্ণতা পায় না কলা,ধান দুর্বা ,নারকেল, কলা গাছ, ছাড়া। আজও সাধারণ বাঙ্গালি ষষ্ঠী, মনষা শিবলিঙ্গ, পৌষ পার্বণ, বৈশাখী এবং নবান্ন উৎসব পালন করে।
বিয়ের সময় গায়ে হলুদ, কড়ী খেলা Austric দের থেকেই আসা।
দামোদর,শিলাইদহ, ঝিনাইদহ, পোড়াদহ, কলা,মরিচ ,বেগুন, লেবু, ডুমুর, লাঙ্গল ইত্যাদি শত শত শব্দ Austric শব্দ থেকে আসা।
"গঙ্গা" এবং এই "বঙ্গ" শব্দ টি পর্যন্ত Austric শব্দ থেকে এসেছে ।
এখনো বাঙ্গালি Austric দের রীতিনীতি ভাষা এবং কালচার অনুসরণ করে । দেবদেবীর বাহন পদ্ম ,হাঁস, ভেড়া, সিংহও, সাপ, ময়ূর এবং গরু হল আদি বাঙ্গালির প্রকৃতি পূজার অংশ । বৈদিক দের মুর্তি তারা নিলেও অনার্য দের বাহন সেখানে ব্যাবহার করে বৈদিক দের তা মানতে পেরেছে।
সেইসব ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে দেবদেবীর বাহন হিসেবে।
চলবে
©somewhere in net ltd.