| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এইচ এন নার্গিস
আমি একজন লেখক, সমাজ কর্মি , মা এবং মুক্তিযোদ্ধা
"বঙ্গ" আর "বাঙ্গালি" ,শেকড়ের খোঁজে ৯
বঙ্গের "জনপদের" বৈচিত্র্যময় যাত্রা
এই বঙ্গে কারা ছিল আমাদের পূর্বপুরুষ? জনপদের সৃষ্টি
কি ভাষায় কথা বলতো?
কি ছিল তাদের বিশ্বাস?
এসব জানলাম।
এখন একটা সরকারের দরকার ।
কেন ?
যখন এক দল মানুষ এক জায়গায় স্থিতি হয় এবং মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন তাদের নানা রকমের পেশা সৃষ্টি হতে থাকে।
কেউ করে বাড়িঘর নির্মান করে ,কেউ হাড়ি পাতিল বা পটারি বানাই , কেউ কাপড় বুনে, কাঠের কাজ, চাষবাস ইত্যাদি ইত্যাদি ।
যখন উৎপাদন বেশি হয়ে পড়ে তা বাজারে বিক্রির দরকার পড়ে । অর্থাৎ বাণিজ্য ব্যাপারটি শুরু হয়।
নিজেদের চাহিদা পুরন হয়ে গেলে সেগুলো অন্য দেশে কি ভাবে পাঠানো যায় এই ব্যাপার টি মাথায় আসে ।
এই কর্ম কাণ্ড শুরু হওয়া মানে নুতুন নিয়ম নীতির যেমন দরকার এবং তা পরিচালনার জন্য পরিচালকেরও দরকার ।
যখন মানুষ স্থায়ী ভাবে বসবাস আরম্ভ করে তখন তাদের কে চালানোর জন্য দরকার নানা রকমের নিয়ম নীতি ।
আর এমন একজনের দরকার যে কিনা এই মানুষদের কে পরিচালনা করবে সেই নিয়ম নীতি অনুযায়ী এবং আদেশ নির্দেশ করবে ।
তার সাথে দরকার বিচার বিভাগ ।
কেন?
যারা এই নিয়ম নীতি মানবে না বা অন্যায় করবে তখন বিচার আর শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনতে হবে সমাজে। এই ভাবেি সৃষ্টি বিচার বিভাগের।
তারপরে সৃষ্টি হয় সরকারের, কেনোনা একটা জনপদ কে পরিচালনার জন্য দরকার শাসকের ।
এখন দেখবো এক জায়গায় বসবাসে ফলে এই বঙ্গে কখন জনপদের সৃষ্টি হল এবং সেগুলোর নাম কি ।
কখন জনপদের সৃষ্টি হয়ঃ
জনপদের সৃষ্টি হয় প্রাচীন কালে । প্রাচীন কাল ধরা হয় খ্রিস্টীয় কয়েক শতাব্দী আগে থেকে শুরু করে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতক পর্যন্ত সময় কাল কে।
অঞ্চল ভেদে প্রাচীন কালের সময় ধরায় তারতম্য লক্ষ্য করা যায় । যেমন প্রাচীন কাল থেকে খ্রিস্টীয় ১৩ শতক পর্যন্ত দির্ঘ সময় কে প্রাচীন কাল বলে।
পুরো বঙ্গে অর্থাৎ বর্তমান কালের পশ্চিম বঙ্গ এবং বাংলাদেশ মিলে যে অঞ্চল তাকে বঙ্গ বলা হয়।
সাঁওতাল পরগনা, ছত্রিস গড়, বীরভূম, বর্ধমান পুরুলিয়া, মেদিনীপুর, মালদা এবং বাঁকুড়া , দিনাজপুর , রাজশাহীর উঁচু অঞ্চল ছিল আদিবাসীদের পছন্দের বাসভূমি ।
কিন্তু প্রাচীন কালে কোন রাজ্য তখন এখানে ছিল না।
বঙ্গের বিভিন্ন অংশ সে সময় ছোটো ছোটো অংশে বিভক্ত ছিল। বিভিন্ন অংশের যেমন বিভিন্ন নাম ছিল তেমন বিভিন্ন শাসকও ছিল ।
বিভিন্ন জনপদ গুলো বিভিন্ন গোত্র দ্বারা পরিচালিত হত কিন্তু অনেক সময় পাশের শক্তিশালী জনপদ থাকলে দুর্বল জনপদ টিকে দখল করে নিত এবং তার সাথে বিলীন হয়ে নুতুন জনপদের সৃষ্টি করতো ।
এই ছোটো ছোটো অংশ কে "জনপদ" বলা হতো ।
যে ভাবে ইতিহাসবিদরা এই নাম গুলো পায়ঃ
এই "জনপদের" নাম গুলো ইতিহাসবিদ রা পায় বিভিন্ন শিলালিপি, বিদেশী পর্যটক দের বিবরণ, এবং প্রাচীন সাহিত্য থেকে। মোট ১৬ টি জনপদের নাম পাওয়া যায় ।
এই জনপদ গুলো হল ১) পুণ্ড্র ২) গৌড় ৩) বঙ্গ ৪) সমতট ৫) বরেন্দ্র ৬) হেরিকেল ৭) রাঢ় ৮) চন্দ্রদ্বীপ ৫) সপ্তগাঁও ৬) কামরূপ ৭) তাম্রলিপ্ত ৯) রুস্ম ১০) বিক্রমপুর ১১) বাকেরগঞ্জ ১২) সুস্ম
প্রধান কয়েকটি জনপদের বিবরণঃ
পুণ্ড্র বা পুণ্ড্র বর্দ্ধনঃ পৌন্দৃক শব্দ থেকে পুণ্ড্র নামের উৎপত্তি । এর অর্থ আখ বা চিনী । বঙ্গের সবচেয়ে পুরানো জনপদ ছিল পুণ্ড্র । বিহারের পুর্নিয়া , বগুড়া ,রাজশাহী, রংপুর, মালদহ ,উত্তর দিনাজপুর এবং দিনাজপুরের কিছু স্থান নিয়ে ছিল পুণ্ড্র জনপদ । এবং এর রাজধানী ছিল পুন্দ্রবর্ধন বা পুণ্ড্র নগর।
পুণ্ড্র বর্ধনের প্রতিষ্ঠা কালঃ
ঠিক কোন সময় এই জনপদের প্রতিস্টা কাল তা না জানা গেলেও এটা জানা যায় যে বৈদিক গন এখানে আসার আগেও এই জনপদ ছিল এবং তাদের শাসক আর এখানে বসবাস কারি মানুষ ছিল অনার্য।
তারা বৈদিক আচার আচরণ পালন করতো না। তারা তান্ত্রিক আচার পালন করতো এবং সংস্কৃতি ছিল শক্তিশালী আর উন্নত।
বৈদিক রা আসার আগেও পুণ্ড্র নগর ছিল একটি শক্তিশালী জনপদ।
"ঐতরের ব্রাম্ভনে" প্রথম "পুণ্ড্র"র উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে অনার্য এই পুণ্ড্র বাসিকে "দস্যু" জাতি বলে বর্ণনা করা হয়।
কারন এখানে আর্য বৈদিক রা প্রভাব বৃদ্ধি করতে অনার্য দের কাছ থেকে প্রচণ্ড বাধা প্রাপ্ত হয়।যার জন্যই এই "দস্যু" নাম দেওয়া ।
অনার্য রাজার নাম পাওয়া যায় "রাজা বলি" । অনার্য রা বর্ন প্রথা পালন করতো না।
এই বৈদিক সাহিত্য সংকলিত হয় খ্রিঃ পুর্ব ১০০০ বছর আগে ।
তাই বলা যায় পুণ্ড্র জনপদ খ্যাতিমান হয় ১৫০০ খ্রিঃ পূর্ব সময়ে অর্থাৎ এই জনপদ এবং সভ্যতার বয়স ৩৫০০ বছরের বেশি ।
বর্তমানে বগুড়া জেলায় "মহাস্থান গড়" এই পুণ্ড্র নগর ।নৃবিজ্ঞানী গন খোঁড়া খুঁড়ি করে মর্যৌ আমলের অনেক মুর্তি পান। তবে আরকেওলজিসস্ট এবং ইতিহাসবিদ রাখালদাস এর মতে মহাস্থান গড়ের আশপাশে ভালো মতো খনন কাজ চালালে মর্য পুর্ব আদিবাসীদের চিহ্ন পাওয়া যাবে। পুরো এলাকাটি প্রায় নয় মাইল লম্বা।
১২০০ খ্রিঃ পুর্বে আর্য রাজ "বিদেখ মাথর" অনার্য রাজ কে পরাজিত করে পুর্ব ভারত প্রথম করতল গত করে।
সম্রাট অশোকের সময় পুণ্ড্র নগরের স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয় । বগুড়া জেলার মহাস্থান গড়ে প্রাপ্ত শিলা লিপি তে সম্রাট অশোকের নাম পাওয়া যায় এবং এটা পুণ্ড্র নগরের একটা দুর্গ নগরী এবং পুণ্ড্র নগরের রাজধানী হিসেবে ব্যাবহার হত ।
বৈদিক সাহিত্য এবং মহাভারতে এই জনপদের উল্লেখ আছে।
বরেন্দ্রঃ
পাল রাজারা এই বরেন্দ্র ভূমীকে নিজেদের পিতৃভূমি বলে মনে করতো ।
এর নাম তখন ছিল "বরিন্দ্রী" । "বরিন্দ্রী" থেকেই বরেন্দ্র নামের উৎপত্তি ।
করতোয়ার এবং গঙ্গার পশ্চিম পাড় থেকে লাল মাটির বিরাট অঞ্চলে "বরেন্দ্র জনপদ" এর অবস্থান।
"রামায়নে" "বারীন্দ্র মণ্ডল" বলে এর উল্লেখ আছে।
গৌড়ঃ
'পানীনির গ্রন্থে' সর্ব প্রথম গৌড় জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
বর্তমান বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম এবং পশ্চিম বাংলার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত ।
বাংলাদেশে চাঁপাই নবাব গঞ্জ এবং এর সন্নিকটের অনেক স্থান, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বীরভূম এবং বর্ধমান গৌড়ের অন্তর্ভুক্ত ।
গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণ সুবর্ণ যা বর্তমানের মালদহের বহরমপুরে অবস্থিত ।
রাজা শশাঙ্ক এর সময়ে কর্নসুবর্নর রাজবাড়ী ডাঙ্গা এবং রাক্ষসী ডাঙ্গা ধ্বংসস্তূপ খননে বৌদ্ধ বিহারের ভিত্তি চিহ্ন পাওয়া গেছে যা মুর্সিদাবাদে অবস্থিত।
বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের গোদাগাড়ী অঞ্চলে পুরানো মন্দির, এবং দুর্গের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে যা কিনা পুরানো গৌড় জনপদের চিহ্ন বহন করে।
এটি ছিল একটি শক্তিশালী সমৃদ্ধ জনপদ । তাদের রাজারা ছিল শক্তিশালী এবং তখন এই জনপদ ছিল সমৃদ্ধের শীর্ষে ।
গৌড় জনপদ ২৫০০ বছরের পুরানো এবং প্রথমে মহাভারতের যুগে, পুণ্ড্র জনপদের অংশ ছিল এবং পরে আলাদা হয় ।
অস্তিত্ব লাভঃ
গুপ্ত আমলে ৩য় -৬য় শতাব্দী তে গৌড় অস্তিত্ব লাভ করে।
গৌড় জনপদের বিখ্যাত রাজা শশাঙ্ক ছিল ৭ম শতাব্দী তে এই জনপদের রাজা ।
পাল দের অধীনে আসে ৮ম -১২ শতকে।
গুপ্ত সম্রাট সমুদ্র গুপ্ত ৩৩৫-৩৫০ শতকে সমতট বাদ দিয়ে সমস্ত বাংলা তাঁর দখলে আনে।
কিন্তু ৭ম শতাব্দীতে বাঙ্গালি রাজা শশাঙ্ক গুপ্ত শাসন থেকে গৌড় স্বাধীন করে। শশাঙ্কের নামে মুদ্রা, শিলালিপি এবং তাঁর দরবার কবি বনভটটো
ষষ্ঠ শতাব্দী তে "বঙ্গ" এবং "গৌড়" দুটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য সৃষ্টি হয়।
এই জনপদের পতন হয় ১২শ শতাব্দীতে মুসলিম শাসক দের অধীনে।
গৌড়ের সংস্কৃতি এবং ইতিহাস এই অঞ্চলে এখনো বেঁচে আছে এবং এটি এখনো পশ্চিমবাংলা এবং বাংলাদেশের একটি গুরুত্ব পুর্ন স্থান ।
পুণ্ড্র ,গৌড় এবং বরেন্দ্র এই তিনটি জনপদের নাম দিয়ে এখনো এই অঞ্চলে বহু শিক্ষা প্রতিস্টান, নিউজ পেপার, অরগানাইজেসান চালু আছে।
যেমন বরেন্দ্র কলেজ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, পুণ্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ,বরেন্দ্র বাস সার্ভিস।
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে এই অঞ্চলের কৃষিজাত পণ্য এবং শিল্পজাত পণ্য উৎপাদনের কথা উল্লেখ আছে।
বঙ্গঃ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ,পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ এবং পটুয়াখালীর নিন্ম জলাভূমি বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যশোর, কুষ্টিয়া, নদীয়া, শান্তিনগর, ঢাকার বিক্রমপুরও এই বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিক্রমপুরে পাওয়া শিলা লিপিতে বিক্রমপুর এবং নাব্য নামে দুটো অঞ্চলের উল্লেখ আছে।
রামায়ণ, মহাভারত, এবং কালিদাসের রঘুবংশ গ্রন্থে "বঙ্গ" নাম দেখা যায় ।
"ঐতিরিয়া আরণ্য" গ্রন্থে বঙ্গ নামের উল্লেখ পাওয়া যায় ।
সমতটঃ
চাইনিজ পর্যটক হিউয়েনসাং এর বিবরণে সমতটের বিবরণ আছে। দক্ষিণ পুর্বাংশের এটি একটি নুতুন রাজ্য। কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং মেঘনার মোহনা এই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কুমিল্লার বড় কামতা এর রাজধানী ।
রাঢ়ঃ
বাংলার আর একটি প্রাচীন জনপদ । ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীর থেকে গঙ্গা নদীর দক্ষিণ এর অন্তর্ভুক্ত ।
অজয় নদী রাঢ় কে দুই ভাগ করেছে।
মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং বর্ধমানের কাটোয়া নিয়ে উত্তর রাঢ় এবং দক্ষিণে ছিল দক্ষিণ রাঢ় ।
চীনা ভ্রমণকারী ইপসিনের মতে সিলেট,ত্রিপুরা এবং চট্টগ্রাম এই জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে রক্ষিত দুইটি শিলা লিপিতে এই জনপদের নাম আছে।
তাম্রলিপ্তঃ
তাম্রলিপ্ত রাঢ়ের দক্ষিণে আর একটি জনপদের নাম। তাম্রলিপ্তে একটি বিখ্যাত নদী বন্দর ছিল । মেদিনীপুরের "তমলুক" এলাকা তাম্রলিপ্তের কেন্দ্রস্থলে ছিল।
'পেরিপ্লাস' নামক গ্রন্থে, টলেমী ,ফাহিমী, হিউয়েন সাং এবং ইপসিনের বিবরনে 'তাম্রলিপ্তের' বর্ণনা আছে বিরাট বন্দর হিসেবে।
সপ্তম শতকে দন্ডভুক্তি নামে এটি পরিচিতি পায় এবং অষ্টম শতকে এর সমৃদ্ধি নষ্ট হওয়ে যায় ।
চন্দ্রদ্বীপঃ
আইনী আকবরী তে পাওয়া এই জনপদ বর্তমানের বরিশালে অবস্থিত । মধ্য যুগে বরিশালের মূল ভূখণ্ড, বলেশ্বর এবং মেঘনা নদীর মধ্যেখানে জনপদের সীমানা ছিল।
পাল আমলে এই ভূখণ্ড ত্রৈলক্য চন্দ্রের শাসনাধীনে ছিল।
প্রাচীন কালে ৬/৭ শতক পর্যন্ত রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক কারনে বঙ্গের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন নামে পরিচিত ছিল । একেক অংশ একেক গোত্র দ্বারা পরিচালিত হত ।
শশাঙ্কঃ
সপ্তম শতকের প্রথম, "শশাঙ্ক" মুর্শিদাবাদ এবং উড়িষ্যা পর্যন্ত সমগ্র এলাকা সংগ বদ্ধ করেন। এরপর থেকে বাংলা প্রধানত তিনটি নাম ১) পুণ্ড্র বর্ধন ২) গৌড় এবং ৩) বঙ্গ এই তিন ভাগে ভাগ হয় ।
বাকি জনপদ গুলো এই তিনটি জনপদের সাথে বিলিন হয়ে যায় । পাল আর সেন আমলে এই তিন জনপদ বিভক্ত জনপদ গুলোকে এক করার ব্যাপারে পরিপুর্নতা পায় ।
'রাঢ়া ধিকার' বা "গৌড়েশ্বর" উপাধি নিয়ে রাজা তার ক্ষমতা নিতেন। যার ফলে "গৌড়" নামটি প্রশাসনিক ইউনিটিতে পরিণত এবং রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে সহায়ক হয় ।
এই ছিল বঙ্গের জনপদ । একেক জনপদে একেক রকমের গোত্র ছিল।
অনেক সময় ছোটো ছোটো দুর্বল জনপদ বিলীন হওয়ে যেতো অপেক্ষা কৃত শক্তিশালী জনপদের সাথে।
শক্তিশালী জনপদ নিজেদের কে রক্ষার জন্য দুর্গ বানিয়ে জনপদ রক্ষা করতো।
তবে সে সময় কেন্দ্র থেকে রাজ্য পরিচালনা করা রাজ্য গ্রে উঠে নাই।
এর মধ্যে শক্তিশালী এবং পুরানো জনপদ গুলো হল পুণ্ড্র, গৌড় ,বঙ্গ এবং বরেন্দ্র ।
পরবর্তী তে এই পুরানো জনপদ গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
চলবে
©somewhere in net ltd.