নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জ্ঞান মনের জানালা খুলে দায় এবং সেই খোলা জানালা দিয়ে না জানা বিষয় গুলো দেখি যা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী দেখতে সাহায্য করে ।

এইচ এন নার্গিস

আমি একজন লেখক, সমাজ কর্মি , মা এবং মুক্তিযোদ্ধা

এইচ এন নার্গিস › বিস্তারিত পোস্টঃ

"বঙ্গ" আর "বাঙ্গালী" ,শেকড়ের খোঁজেঃ পুণ্ড্র নগর একটি প্রাচীন সভ্যতার ভিত্তি ,যা আরম্ভ হয় আনার্য বাঙ্গালীদের শ্রমে ঘামে

০১ লা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭

বঙ্গের "পুণ্ড্র নগর" একটি প্রাচীন সভ্যতার ভিত্তি । কি ভাবে এই সভ্যতার বিকাশ হয়?  কে ছিল এর পেছনে? কি তাদের পরিচয় ? (12,  B পর্ব ) 


বরেন্দ্র অঞ্চলের দক্ষিণে প্রায় সারে তিন হাজার বছর আগে পুণ্ড্র নগরের গোড়া পত্তন হয়। 
প্রথমে শুধু সাধারণ Austrik Asiatic ভাষা গোত্রের মানুষ এই নগরের চার  দিকে বসবাস আরম্ভ করে। তারা পেষায় ছিল কৃষিজীবী । 

তারা ধান রবি শস্য, কার্পাস, রেশম এবং আখ উৎপাদন করতো । নিজেদের চাহিদা পুরন করে এই করতোয়া নদী দিয়ে বাড়তি ফসল অন্য স্থানে রফতানি করতো। 

করতোয়া নদী সে সময় ছিল প্রমত্তা এবং বিশাল। এই বন্দর কে কেন্দ্র করে আর বাড়তি ফসল সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন স্থানে রফতানি করাকে নিয়ে বেশ জমজমাট কর্ম কান্ড শুরু  হয়।

কেউ কাপড় বুনে কেউ তুলা থেকে সূতা তৈরি করে, কেউ আখ উৎপাদন ,কেউ আখ থেকে রস করে কেউ তা থেকে গুড় বানায়। রেশম গুটি উৎপাদন রেশম দিয়ে সিল্ক সূতা তৈরি এবং বুনন । কেউ পটারি বানাতো , কারুকার্জ করা শিল্পীর সৃষ্টি, ধর্মের প্রিস্ট ধর্ম পরিচালনা করা ,পাথর কেটে মূর্তি বানানর পেশা  এই রকম নানান পেশার সৃষ্টি হতে থাকে এবং  তাদের জন্য ঘরবাড়ি বানানো আর এক কাজের সৃষ্টি h। 

এত মানুষ কে সুরক্ষা দেওয়া, নিয়ম নীতি তৈরি এবং তা পরিচালনা করা, বহিঃ শত্রু থেকে রক্ষা করতে দরকার একটা  দুর্গ এবং সৈন্য বাহিনী । একজন শাসক আর তার পরিষদ । এই ভাবে শুরু হয় একটি সভ্যতা । 
বলেন বিশিষ্ট সমাজ বিদ হেনরি পিরেন,(Henri pirenne,   আর্নলড টয়েনবি Arnold Toynbee) এবং  Robart Park । 

এই পুণ্ড্র নগরের সৃষ্টি এর ব্যাতিক্রম নয়। তবে তা  আরম্ভ হয় বাঙ্গালীর  পূর্বপুরুষ Austrik ভাষা গোত্রের হাত দিয়েই। 

তারা যে এখানে বাস করতো সাড়ে  তিন হাজার বছর আগে তার প্রমাণ খুঁজে পান নৃবিজ্ঞানী গন গবেষণা করে। কি সেই গবেষণা এখন তা আলোচনা করা হবে। 

তাদের গণনা রীতি ছিল গণ্ডা (এক গণ্ডায় চারটি) , কুড়ি 
(এক কুড়ি,  দুই কুড়ি অর্থাৎএক কুড়ি মানে  বিশ টি, যা  গণনার একক ) 
যা কিনা অস্ট্রিক ভাষা গোস্টির অন্তর্গত । যা কিনা এই বরেন্দ্র অঞ্চলে মুসলিম শাসনের আগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। এবং এখন গ্রামের দিকে এই ভাবেই গণনা করে। 

এথেকে প্রমাণিত হয় এবং বোঝা যায় এরা প্রোটো অষ্টলয়েড মানুষ ছিল এবং এরাই বাঙ্গালীর পূর্ব পুরুষ। 
এভাবেই নৃবিজ্ঞানী তাদের ভাষা ,জীবিকা, পেশা, গণনা, খ্যাদ্যাভাস এবং  সংস্কৃতি থেকে খুঁজে পান এরাই বাঙ্গালীর পুর্ব পুরুষ। 

নৃবিজ্ঞানী গন মনে করেন দুই স্তরে তাদের আগমন ঘটে । খ্রিস্ট পুর্ব ৭/৮ হাজার বছর আগে একটি স্তর আসে এবং তার কয়েক হাজার বছর পরে আর একটি স্তর আগমন করে। এবং তারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। 

Holding le Mons এর মতে তারা সিন্ধু মহেঞ্জদারোর  দিকে চলে যায় এবং সেখানে যে কারনেই হোক বাধা প্রাপ্ত হয়ে আবার পুর্ব দিকে চলে আসে।

কারন সিন্ধু মহেঞ্জদারো তে প্রাপ্ত নর কংকাল পরীক্ষা করে তার মাথার খুলির যে আকৃতি পাওয়া যায় তা প্রোটো অষ্ট্রলয়েড দের মতো । 

ইতিহাসবিদ এবং নৃবিজ্ঞানী রাখাল দাস বন্ধপাদ্ধায় মনে করেন পুণ্ড্র নগরের সীমানা প্রাচীর এর বাইরে খনন কাজ চালালে তাদের ইতিহাস পাওয়া যাবে। 

এবং এটাই সঠিক কারন সম্প্রতিক  কালে দুর্গের বাইরে অনেক দুর পর্যন্ত গভীর ভাবে  খনন  কাজ চালিয়ে পাওয়া যায় মাটির ঘরের ভিটি ,ঘরের খুঁটির গর্ত , পাত কুয়ো , পাথরের যাঁতা এবং কালো আর  লাল মাটির  পাত্র। 

দ্বিতীয় স্তরে আসা এশিয়াটিক অস্টৃক ভাষা গোত্রের মানুষ,   এই বরেন্দ্র এলাকায় মাছ ধরা এবং শিকারি থেকে কৃষিতে মননিবেশ করে এবং থিতু হয়ে কৃষিতে মনোনিবেশ করে এবং একটি গ্রামীণ সভ্যতা গড়ে তুলে। 

তারা শুধু কৃষি কাজই করে নাই কাপড় বুনোনে পারদর্শী হয়ে ছিল এবং এই  করতোয়া নদীর ধারে ব্যাবসা বাণিজ্য গড়ে তুলেন। 

কি ভাবে তারা এখানে আসেঃ 

কি ভাবে Austric ভাষা গোস্টি এবং সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক মানবকূল এখানে আসে তা অজানা,  তবে পণ্ডিত দের ধারনা অস্ট্রেলিয়ার সাথে সংযুক্ত একটি ভূমি কোনো  কারনে সমুদ্রে তলিয়ে গেলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তারা পানি পথে  এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে আসে। 

এই আদিম মানুষরা নারিকেল ,তাল এসব গাছের গুড়ি দিয়ে বানানো ভেলা দিয়ে সমুদ্র পাড়ি  এবং মাছ ধরার কাজ করতো ।   যাকে তারা বলে  "ডোঙ্গা" এবং "ডোঙ্গা" শব্দ টি Austric ভাষার । এই "ডোঙ্গা" ভাষাটি এখনো এই অঞ্চলে প্রচলিত । 

ভাষাতত্ত্ববিদ এবং নৃবিজ্ঞানী MeLoni এবং ভট্টাচার্য মনে করে প্রথম চালান টি,  ২য় চালানের কয়েক হাজার বছর আগে থাইল্যান্ড,বার্মা, কম্বোডিয়া ,আসাম, বঙ্গ হয়ে বর্তমান ভারতের পুরুলিয়া,ঝারখন্ড ,সাঁওতাল পরগনা প্রভৃতি জায়গায় আসে। 

এরাই মুন্ডারি ভাষা সংস্কৃতির মূল স্রস্টা এবং এরাই কোল, মুন্ডা , সাঁওতাল, পোদ, শবর, খেরওয়ারি,জুয়াং প্রভৃতি নামে পরিচিত উপজাতি গুলির আদি পুর্ব পুরুষ ছিল। 

প্রথমে তারা নব্য প্রস্তর যুগের মানুষ ছিল । খ্রিস্টপুর্ব দশম শতাব্দীতে তারা আরন্যচারী বা জলাশয়চারী জীবন বাদ দিয়ে চাষবাসের সূচনা করে। 

ঠ্যাং, জাং, পাগাড় (পুকুর) ডুমুর, দা, করাত, ধনু, বান, ঝোপ ঝাড় এই শব্দ গুলো আজও বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ ব্যাবহার করে এবং
বরেন্দ্র অঞ্চলের
মানুষদের নিত্য জীবন, সমাজের সাথে এগুলোর যোগ আছে । 

বাঙ্গালী রা তাদের উত্তরাধিকারি তাই সেই হিসেবে এখানকার মানুষ এখনও তাদের চাষ করার অভ্যাস বজায় রেখে চলেছে এবং চাষ করে লাউ,কুমড়া,কচু, ধান, কলা, মরিচ, বেগুন, পান এবং এসব উৎপাদনের সুনিপুণ চাষী হিসেবে আজও বাঙ্গালী বিখ্যাত ।

 

চলবে


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.