| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী
"প্রত্যেক প্রাণীই মরণের স্বাদ ভোগ করবে ... এই পার্থিব জীবন কিছু বাহ্যিক ছলনার মাল সামানা ছাড়া আর কিছুই নয়।" {সূরা আল-ই-ইমরান, আয়াত ১৮৫} "সত্যিকার ঈমানদার ব্যক্তি হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান আনে, অতঃপর (আল্লাহ তায়ালার বিধানে) সামান্যতম সন্দেহও পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে; এরাই হচ্ছে সত্যনিষ্ঠ।" {সূরা আল হুজুরাত, আয়াত ১৫}
‘যাকাত’ অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্রতা ইত্যাদি। পারিভাষিক অর্থে ঐ দান, যা আল্লাহ্র নিকটে ক্রমশঃ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং যাকাত দাতার মালকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে। ‘ছাদাক্বা’ অর্থ ঐ দান যার দ্বারা আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ হয়। পারিভাষিক অর্থে যাকাত ও ছাদাক্বা মূলতঃ একই মর্মার্থে ব্যবহৃত হয়।
যাকাত ও ছাদাক্বার উদ্দেশ্য :
যাকাত ও ছাদাক্বার মূল উদ্দেশ্য হ’ল দারিদ্র্য বিমোচন ও ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ। রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাদের উপরে ছাদাক্বা ফরয করেছেন। যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে নেওয়া হবে ও তাদের গরীবদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে’।*১*
যাকাতের প্রকারভেদ :
যাকাত চার প্রকার মালে ফরয হয়ে থাকে। ১. স্বর্ণ-রৌপ্য বা সঞ্চিত টাকা-পয়সা ২. ব্যবসায়রত সম্পদ ৩. উৎপন্ন ফসল ৪. গবাদি পশু। টাকা-পয়সা একবছর সঞ্চিত থাকলে শতকরা আড়াই টাকা বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ হারে যাকাত বের করতে হয়। ব্যবসায়রত সম্পদ ও গবাদি পশুর মূলধনের এক বছর হিসাব করে যাকাত দিতে হয়। উৎপন্ন ফসল যেদিন হস্তগত হবে, সেদিনই যাকাত (ওশর) ফরয হয়। এর জন্য বছরপূর্তি শর্ত নয়।
যাকাতের নিছাব :
১. স্বর্ণ-রৌপ্যে পাঁচ উক্বিয়া বা ২০০ দিরহাম। ২. ব্যবসায়রত সম্পদ-এর নিছাব স্বর্ণ-রৌপ্যের ন্যায়। ৩. খাদ্য শস্যের নিছাব পাঁচ অসাক্ব, যা হিজাযী ছা‘ অনুযায়ী ১৯ মণ ১২ সেরের কাছাকাছি বা ৭১৭ কেজির মত হয়। এতে ওশর বা এক দশমাংশ নির্ধারিত। সেচা পানিতে হ’লে নিছফে ওশর বা ১/২০ অংশ নির্ধারিত। ৪. গবাদি পশু : (ক) উট ৫টিতে একটি ছাগল (খ) গরু-মহিষ ৩০টিতে ১টি দ্বিতীয় বছরে পদার্পণকারী বাছুর (গ) ছাগল-ভেড়া-দুম্বা ৪০টিতে একটি ছাগল।*২*
যাকাতুল ফিৎর :
এটিও ফরয যাকাত, যা ঈদুল ফিৎরের ছালাতে বের হওয়ার আগেই মাথা প্রতি এক ছা‘ বা মধ্যম হাতের চার অঞ্জলী (আড়াই কেজি) হিসাবে দেশের প্রধান খাদ্যশস্য হ’তে প্রদান করতে হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছা.) স্বীয় উম্মতের স্বাধীন ও ক্রীতদাস, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় সকলের উপর মাথা পিছু এক ছা‘ খেজুর, যব ইত্যাদি (অন্য বর্ণনায়) খাদ্যবস্তু ফিৎরার যাকাত হিসাবে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আমাদেরকে জমা দেয়ার নির্দেশ দান করেছেন’। ছোট-বড়, ধনী-গরীব সকল মুসলিম নর-নারীর উপরে যাকাতুল ফিৎর ফরয। এর জন্য ‘ছাহেবে নিছাব’ অর্থাৎ সাংসারিক প্রয়োজনীয় বস্তুসমূহ বাদে ২০০ দিরহাম বা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা কিংবা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণের মালিক হওয়া শর্ত নয়।
ছাদাক্বা ব্যয়ের খাত সমূহ :
পবিত্র কুরআনে সূরায়ে তওবা ৬০নং আয়াতে ফরয ছাদাক্বা সমূহ ব্যয়ের আটটি খাত বর্ণিত হয়েছে। যথা-
১. ফক্বীর : নিঃসম্বল ভিক্ষাপ্রার্থী, ২. মিসকীন : যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন মিটাতেও পারে না, মুখ ফুটে চাইতেও পারে না। বাহ্যিকভাবে তাকে সচ্ছল বলেই মনে হয়, ৩. ‘আমেলীন : যাকাত আদায়ের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ, ৪. ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তিগণ। অমুসলিমদেরকে ইসলামে দাখিল করাবার জন্য এই খাতটি নির্দিষ্ট, ৫. দাসমুক্তির জন্য। এই খাত বর্তমানে শূন্য। তবে অনেকে অসহায় কয়েদী মুক্তিকে এই খাতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন (কুরতুবী), ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি : যার সম্পদের তুলনায় ঋণের অংক বেশী। কিন্তু যদি তার ঋণ থাকে ও সম্পদ না থাকে, এমতাবস্থায় সে ফক্বীর ও ঋণগ্রস্ত দু’টি খাতের হকদার হবে, ৭. ফী সাবীলিল্লাহ বা আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করা ৮. দুস্থ মুসাফির : পথিমধ্যে কোন কারণবশতঃ পাথেয় শূন্য হয়ে পড়লে পথিকগণ এই খাত হ’তে সাহায্য পাবেন। যদিও তিনি নিজ দেশে বা বাড়ীতে সম্পদশালী হন। ফিৎরা অন্যতম ফরয যাকাত হিসাবে তা উপরোক্ত খাত সমূহে বা ঐগুলির একাধিক খাতে ব্যয় করতে হবে। খাত বহির্ভূতভাবে কোন অমুসলিমকে ফিৎরা দেওয়া জায়েয নয়।*৩*
বায়তুল মাল জমা করা :
ফিৎরা ঈদের এক বা দু’দিন পূর্বে বায়তুল মালে জমা করা সুন্নাত। ইবনু ওমর (রা.) অনুরূপভাবে জমা করতেন। ঈদুল ফিৎরের দু’তিন দিন পূর্বে খলীফার পক্ষ হ’তে ফিৎরা জমাকারীগণ ফিৎরা সংগ্রহের জন্য বসতেন ও লোকেরা তাঁর কাছে গিয়ে ফিৎরা জমা করত। ঈদের পরে হকদারগণের মধ্যে বণ্টন করা হ’ত।*৪*
যাকাত-ওশর-ফিৎরা-কুরবানী ইত্যাদি ফরয ও নফল ছাদাক্বা রাষ্ট্র কিংবা কোন বিশ্বস্ত ইসলামী সংস্থা-র নিকটে জমা করা, অতঃপর সেই সংস্থা-র মাধ্যমে বণ্টন করাই হ’ল বায়তুল মাল বণ্টনের সুন্নাতী তরীকা। ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এ ব্যবস্থাই চালু ছিল। তাঁরা কখনোই নিজেদের যাকাত নিজেরা হাতে করে বণ্টন করতেন না। বরং যাকাত সংগ্রহকারীর নিকটে গিয়ে জমা দিয়ে আসতেন। এখনও সঊদী আরব, কুয়েত প্রভৃতি দেশে এ রেওয়াজ চালু আছে।
সৌজন্যেঃ আত-তাহরীক
*১* মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৭৭২ ‘যাকাত’ অধ্যায়।
*২* বিস্তারিত নিছাব দ্রঃ ‘বঙ্গানুবাদ খুৎবা’ ‘যাকাত’ অধ্যায়।
*৩* ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৮৬; মির‘আৎ হা/১৮৩৩-এর ব্যাখ্যা, ১/২০৫-৬।
*৪* দ্রঃ বুখারী, ফাৎহুল বারী হা/১৫১১-এর আলোচনা, মির‘আৎ ১/২০৭ পৃঃ।
০৯ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:৩৫
মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন: জ্বী আছে, আল্লাহ বলেন, “তোমাদের নিকট রসূল যা কিছু নিয়ে এসেছেন তোমরা তা গ্রহণ করো আর তিনি যা কিছু তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকো” {সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭}
আল্লাহ আরো বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণের কোন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” {সূরা আল আহযাব, আয়াত ৩৬}
এবার উক্ত আয়াতদুটো মনে রেখে সহীহ হাদীছগুলো দেখুন। আপনার জবাব পেয়ে যাবেন।
আবু রাফে (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) এরশাদ করেন, 'আমি যেন তোমাদের কাউকে এরূপ না দেখি যে, সে তার গদীতে ঠেস দিয়ে বসে থাকবে, আর তার কাছে আমার কোন আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা পৌঁছলে সে বলবে যে, আমি এসব কিছু জানিনা। যা আল্লাহ্র কিতাবে পাব, তারই অনুসরণ করব'। {আহমাদ, আবুদাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী; সনদ ছহীহ, মিশকাত, আলবানী হা/১৬২; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/১৫৪ 'ঈমান' অধ্যায়, 'কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা' অনুচ্ছেদ।}
২|
০৯ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:২৪
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
ধন্যবাদ উত্তর দেয়ার জন্য।
তাহলে আপনিও মেনে নিলেন যে এই বিষয়গুলি কোরআনে নাই, তবে আপনার দ্বাবি এ'গুলি আছে রাসুলের কাজ, কথা, নির্দেশ তথা হাদীসে, তাই তো?
চিন্তা করুন ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি অথচ সে ব্যাপারে কোরআনে পরিষ্কার কোন নির্দেশই নাই - ব্যাপারটা কি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে?
আচ্ছা আপনার কথাই মানলাম - বিষয়টা হাদীসে আছে, দয়া করে হাদীসগুলো উল্লেখ কবেন কি? বুখারী শরীফের যাকাত অধ্যায়ে আমি সুনির্দিস্ট কিছু পাই নি। অন্য হাদীসগ্রন্থ গুলোতে যদি উল্লেখিত চারটি বিষয়ে সুনির্দিস্ট বক্তব্য থাকে তাহলে উল্লেখ করুন।
বিশেষ করে আমরা যে বিষয়গুলি মানি -
১. স্বর্ণ/রৌপ্য, নগদ টাকা, ব্যাবসার পুঁজি
২. নিসাব পরিমান তথা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা ৫২ তোলা রৌপ্য সঞ্চিত থাকলে
৩. ২.৫% হারে দ্বান করা - এ'গুলো কোন হাদীসের ভিত্তিতে কে ঠিক করেছে জানালে ভাল হয়।
১৬ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:২৪
মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন: যাকাতের নেসাব ও কি পরিমাণ যাকাত দিতে হবে তার দলীলঃ
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ছা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তোমার নিকট যদি দুশত দিরহাম থাকে এবং তা একবছর জমা থাকে, তবে তাতে পাঁচ দিরহাম যাকাত দিবে। আর বিশ দীনার স্বর্ণ থাকে এবং একবছর জমা থাকে তবে তাতে অর্ধেক দীনার যাকাত আদায় করবে। এর চেয়ে যা বেশী হবে তা হিসাব করে যাকাতস দিবে।” তিনি আরো বলেন, যে সম্পদে বছর পূর্তি হয়নি তাতেস যাকাত নেই।” {হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, অধ্যায়: যাকাত, অনুচ্ছেদ: মাঠে চরে খাওয়া পশুর যাকাতের বিবরণ, দ্র: সহীহ আবু দাউদ- আলবানী হা/১৫৭৩}
মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন জাহাশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা.) যখন মু’আয বিন জাবাল (রা.)কে ইয়ামানের গভর্ণর হিসেবে প্রেরণ করেন, তখন তাকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রত্যেক ৪০ দীনার স্বর্ণ থেকে ১ দীনার, প্রত্যেক ২০০ দিরহাম রৌপ্য থেকে ৫ দিরহাম যাকাত আদায় করবে।” {হাদীছটি বর্ণনা করেছেন দারাকুতনী, হা/২০০। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে সহীহ বলেন, দ্র: ইরউয়াউল গালীল, হা/৮১৩}
বর্তমান হিসেব অনুযায়ী দুশ দিরহাম রৌপ্য হচ্ছে ৫২ তোলা বা ৫৯৫ গ্রাম।
আর ৪০ দীনার স্বর্ণ হচ্ছে সাড়ে সাত ৭.৫ ভরি তথা ৮৫ গ্রাম।
যেহেতু নগদ টাকা স্বর্ণ-রৌপ্যের মতই, তাই ঐ দুটি বস্তুর যে কোন একটির মূল্য পরিমাণ টাকা থাকলে তাতে যাকাত ফরয।
আর শতকরা আড়াই হারে দিতে হবে, তা আমরা এই হাদীছ থেকেই বুঝতে পারছি। ২০০ দিরহামে পাঁচ দিরহাম যাকাত হলে ১০০ দিরহামে আড়াই দিরহাম।
আর ব্যবসায়ীক পণ্য তথা যে পণ্যগুলোর বেচা-কেনা হয়, স্থীর থাকে না। বছর শেষে সেই পণ্যের মূল্য হিসাব করে উক্ত স্বর্ণ বা রৌপ্যের নেসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে কিনা সে সম্পর্কে বিদ্বানদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। এ প্রসংগে বর্ণিত হাদীছটি কোন কোন মুহাদ্দিছ যঈফ বলার কারণে তাতে যাকাত ওয়াজিব নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আরেক দল বিদ্বান এই হাদীছ, কিছু যুক্তি, সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য বিদ্বানদের বিভিন্ন উক্তির ভিত্তিতে যাকাত ওয়াজিব বলেছেন। হাদীছটি এরূপ:
সামুরা বিন জুন্দুব বলেন, নবী (ছা.) আমাদেরকে সে সকল বস্তুর যাকাত আদায় করতে আদেশ করতেন, যা আমরা বেচা-কেনা তথা ব্যবসার জন্যে প্রস্তুত করতাম। (হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ) কিন্তু হাদীছটি যঈফ।
৩|
১৫ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৫২
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: উল্লেখিত বিষয়ে কোন সহীহ হাদীস খুঁজে পেয়েছেন কি? পেলে দয়া করে জানান।
৪|
১৬ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:২৫
মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন: ইসলামের যাবতীয় বিষয়ের খুটিনাটি কুরআনে থাকতে হবে তা আবশ্যক নয়। যেমনটি আমরা জানি যে, সালাতের মত এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের তেমন কিছুই কুরআনে নেই। সালাত কত রাকাত, কোন কোন সময়, কি পদ্ধতিতে, কখন কি করতে হবে, কি বলতে হবে ইত্যাদি কোন কিছুই কুরআনে নেই। যাকাতের বিষয়টিও ঠিক সেরূপ।
এ সকল বিষয় নিয়ে যারা পোষ্ট দেয় তাদের উদ্দেশ্য ভাল নয়। তারা পরোক্ষ ভাবে রাসূল (ছা.)এর হাদীছকে অস্বীকার করার প্রতি মানুষকে আহবান জানায়। তাই এদের থেকে সাবধান। শুধু কুরআনের নাম ইসলাম নয়। বরং কুরআন ও হাদীছের সমষ্টির নাম ইসলাম। দুটি বিষয় একটির সাথে আরেকটি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। একটি বাদ দিয়ে আরেকটিকে কল্পনাই করা যায় না। অতএব যারা হাদীছ বাদ দিয়ে মানুষকে কুরআন মানার প্রতি আহবান জানায় তারা বিভ্রান্ত ও ইসলাম থেকে বহিস্কৃত।
৫|
১৮ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ১১:৩১
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন - যে হাদীসগুলি উল্লেখ করলেন তা কত দুর্বল!! সহিহ বুখারী বা সহীহ মুসলিমের কোন হাদীস নাই। এটা কিভাবে সম্ভব হল? সিয়াহ সিত্তার মধ্যে একমাত্র আবু দাউদের একটি মাত্র হাদীসের ভিত্তিতে প্রনিত একটা বিধান কিভাবে পঞ্চস্তম্ভের একটি হয়??
আপনি সালাতের কথা বল্লেন - অথচ সালাতের দুটি মুল অংশ রুকু এবং সিজদাহ এর কথা কোরআনে আছে। আছে আজান শুনে মসজিদে যাওয়ার কথাও। অথচ জাকাতের ব্যাপারে শুধুমাত্র 'যাকাত' শব্দটি ছাড়া আর কিছুই নাই। আবার সেই শব্দটির অর্থও সরাসরি অর্থসম্পদকেন্দ্রীক নয় বরং 'পবিত্রতা', যা ব্যাপক অর্থবহ একটি শব্দ।
আর একটা বিষয়, রাসুল(স.) ইসলামের মুল বিষয়গুলি যেমন ইমান, সালাত, সাওম, হজ্জ, দাওয়াত, জিহাদ ইত্যাদি নিজে করে দেখিয়েছেন। আপনি এমন কোন রেফারেন্স কি দেখাতে পারবেন যে আমরা যেভাবে জাকাত দেই সেই ভাবে রাসুল(স.) নিজে দিয়ে দেখিয়েছেন? অথবা খোলাফায়ে রাশেদীনের কেউ এই ভাবে জাকাতের বিধান নিজ জীবনে বাস্তবায়িত করেছিলেন?
সম্ভবত পারবেন না - কারণ তেমনটি হলে বুখারী বা মুসলিম শরিফে কিছু হাদীস অবশ্বই থাকত। তাহলে যে কাজ রাসুল(স.) তার নবুয়তী জীবনে কোন দিন করে দেখালেন না, খোলাফায়ে রাশেদীন নিজেরা করলেন না - সেটা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি হল কিভাবে??
আমার মনে হয় এখানে আমাদের মারাত্মক কোন ভুল হচ্ছে। সম্ভব হলে আপনি বিষয়টি নিয়ে বড় কোন আলেমের সাথে কথা বলুন - হয়ত কোন সঠিক জবাব পাওয়া যাবে। যৌক্তিক গ্রহনযোগ্য কোন জবাব পেলে জানোর অনুরোধ রইল।
১৯ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:০১
মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য
৬|
১৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৪৩
মাহফুজশান্ত বলেছেন: কাঙ্গাল ভাই ও আলম ভাই!
দুটো লিংক দিলাম। কামে লাগতে পারে-
১/ 'Obligatory Charity Tax (Zakat)' of Sahih Bukhari.
534: Narrated Anas: When Abu Bakr; sent me to (collect the Zakat from) Bahrein, he wrote to me the following:-- (In the name of Allah, the Beneficent, the Merciful). These are the orders for compulsory charity (Zakat) which Allah's Apostle had made obligatory for every Muslim, and which Allah had ordered His Apostle to observe: Whoever amongst the Muslims is asked to pay Zakat accordingly, he should pay it (to the Zakat collector) and whoever is asked more than that (what is specified in this script) he should not pay it; for twenty-four camels or less, sheep are to be paid as Zakat; for every five camels one sheep is to be paid, and if there are between twenty-five to thirty-five camels, one Bint Makhad is to be paid; and if they are between thirty-six to forty-five (camels), one Bint Labun is to be paid; and if they are between forty-six to sixty (camels), one Hiqqa is to be paid; and if the number is between sixty-one to seventy-five (camels), one Jadh'a is to be paid; and if the number is between seventy-six to ninety (camels), two Bint Labuns are to be paid; and if they are from ninety-one to one-hundred-and twenty (camels), two Hiqqas are to be paid; and if they are over one-hundred and-twenty (camels), for every forty (over one-hundred-and-twenty) one Bint Labun is to be paid, and for every fifty camels (over one-hundred-and-twenty) one Hiqqa is to be paid; and who ever has got only four camels, has to pay nothing as Zakat, but if the owner of these four camels wants to give something, he can. If the number of camels increases to five, the owner has to pay one sheep as Zakat. As regards the Zakat for the (flock) of sheep; if they are between forty and one-hundred-and-twenty sheep, one sheep is to be paid; and if they are between one-hundred-and-twenty to two hundred (sheep), two sheep are to be paid; and if they are between two-hundred to three-hundred (sheep), three sheep are to be paid; and for over three-hundred sheep, for every extra hundred sheep, one sheep is to be paid as Zakat. And if somebody has got less than forty sheep, no Zakat is required, but if he wants to give, he can. For silver the Zakat is one-fortieth of the lot (i.e. 2.5%), and if its value is less than two-hundred Dirhams, Zakat is not required, but if the owner wants to pay he can.'
২/ THE ZAKAT - (Obligatory Charity)
ধন্যবাদ-
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:১৮
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: ভাই যাকাত বিষয়ে আমার একটি প্রশ্ন ছিল - যাকাত আদায়ের জন্য চারটি মৌলিক বিষয় যথা - ১. কোন কোন সম্পদ ২. কত পরিমানে সঞ্চিত থাকলে ৩. কী হারে যাকাত ৪. কাদেরকে দিতে হবে - এসবের ব্যাপারে কোরআনের সুনির্দিস্ট কোন রেফারেন্স আছে কি? যদি থাকে দয়া করে উল্লেখ করুন।