| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নীল আগুন্তক
ঘুরতে আমার ভাল লাগে, তাই ঘুরে বেড়াই...শহর থেকে গ্রামে, নগর থেকে বন্দরে...
আজ মনটা বেশ খারাপ। গত কিছুদিনের মিথ্যাচার দেখতে দেখতে এমনিতেই মনের ভাল লাগার কোন কারন ছিল না। আজ মনে হচ্ছে তার চরম পরিণতি বা অবনতি ঘটে গেল। প্রবল দুঃখভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে দেখতে পেলাম বাংলার সাধারণ ধর্মভীরু মানুষদের নিয়ে কিরকম এক নির্লজ্জ খেলায় মেতে উঠেছে স্বার্থান্বেষী একদল কাপুরুষ। অবশ্য এটা ওদের জন্য নতুন কিছু না। সেই ১৯৪৭ সাল বা তারও আগে থেকেই এমনটা চলে আসছে বাংলা সাধারণ মানুষদের সাথে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তারা নির্লজ্জের মত ধর্মের দোহাই দিয়ে এই সব সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষদের ব্যবহার করছে। ন্যুনতম সত্য স্বীকার করার মত সৎ সাহসটুকুও নেই এই সব ধর্ম ব্যবসায়ীদের।
এমনিতেই বাংলাদেশের রাজনীতি আমার খুব অপছন্দের একটা বিষয়। কোন উছিলাতেই আমি রাজনীতি নিয়ে কথা বলা পছন্দ করি না। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব একটা ভাললাগা না লাগা, পছন্দ অপছন্দের একটা ব্যপার থেকে থাকে। বিষয়টাকে আমি এমন চোখেই দেখে থাকি। সেজন্য অনেকের শত প্রচেষ্টাতেও আমি কখনই পা হড়কেও রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আলাপচারিতায় প্রলুব্ধ হই নাই। কিন্তু গত কিছুদিন যাবৎ যেসব ঘটনাবলী আমাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা না বলাটাকে নিজের কাছেই অপরাধতুল্য মনে করছি। আর সেজন্যই আজ কম্পিউটারের কিবোর্ডে আঙ্গুল চালনা শুরু করতে ইচ্ছে হলো।
শাহাবাগ নিয়ে মানুষজন কম কথা বলে নাই। সবাই নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের মত করে বলেছেন বা বলে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার কান কথা বিশ্বাস করে সত্য মিথ্যা বিচার বিশ্লেষন না করেই নিজ নিজ ভাললাগা থেকে পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথামালায় নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছেন। অনেকেই একদম নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন টু শব্দটি না করেই। আমি তাদের কাউকেই সমালচনায় জর্জরিত করতে চাচ্ছি না। এমনিতেই আমার জ্ঞান গড়িমার বহর দেখে নিজের কাছে নিজেই সব সময় লজ্জিত থাকি। আমার আশেপাশে বসবাসকারী সকলেরই নানা রকম জ্ঞানী জ্ঞানী কথামালার ভিড়ে নিজেকে বড্ড বেশি মুর্খই মনে হয়। সকলেই কত না বিষয়ে পারদর্শী! আর তাদের ভিড়ে আমি একবারেই খড়কুটো বা তার চেয়েও অধম!!
এই অধম মনেই গত কিছুদিন যাবৎ কিছু প্রশ্নের উদয় হয়েছে। সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে ক’টা বিষয় আলোকপাত করতে চাচ্ছি।
১ম প্রশ্ন হচ্ছে, গণজাগরনের প্রথম যে দাবী (রাজাকারের ফাঁসি) কি আদৌ কোন অযৌক্তিক দাবী ছিল?
জানি না কেন পরবর্তি কালে অনেকগুলো দাবী দাওয়া ভিড় জমিয়ে সেই প্রথম দাবীর ভিতটাকে একটু নড়বড়ে করে তুললে সেটিকে সংশোধিত না করে এই মঞ্চকে বিতর্কিত করে তোলা হলো?
এটি পুরোটাই ছিল জনগণের মঞ্চ (আমার বিশ্বাস মতে, ভুল হলেও হতে পারে!!)। এখানে যে কেউ এসে নিজের দাবী বা মতামত জানাতে পারেন। এখন কেউ যদি এখানে না উপস্থিত হয়ে সেটাকে অমুকে কেন আসলেন, তমুকে কেন ওটা বললেন এই সব আগলা ওজনহীন, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নিজেকে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন তাহলে সেটার দায় কেন এই মঞ্চ বহন করতে যাবে?
স্বাভাবিক ভাবে যাদের বিচার চাওয়া হচ্ছিল তাদের পোষা চ্যালা চামুন্ডা এটাকে প্রোপগন্ডা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার ন্যুনতম সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইবে না। সেক্ষেত্রে কেন তাদের সেই সুযোগ করে দেয়া হবে? (আমার মতে মঞ্চ ছেড়ে দেবার ঘোষনা দিয়েই আমরাই তাদের সে সুযোগ করে দিয়েছি।)
যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই জনজাগরণ মঞ্চ স্থাপিত হয়েছে, বাংলার ধর্মপ্রাণ বা ধর্মভীরু মানুষ, (যে নামেই নামাঙ্কিত করি না কেন) তাদের কাছে এই দাবীর সঠিক ব্যাখ্যা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হলাম কেন?
এরকম অসংখ্য প্রশ্ন আমার এই ক্ষুদ্র মনে ঘুরপাক খাচ্ছে কানাগলির মতই। জানি এর কোন উত্তর আমি পাব না। তারপরও এই অধম মন মানতে চায় না। বারবার প্রশ্ন উপস্থাপন করেই চলে নিজের অগোচরে।
আজ যে সহিংস ঘটনা ঘটে গেল, তার দায়ভার কে নেবে? গনজাগরন মঞ্চে কি কোন প্রকার সহিংস ঘটনা ঘটানোর কোন প্রকার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল? যদি নাই চালানো হয়ে থাকে তাহলে কেন এই সহিংসতা?? আজ বাহান্নোর মত করেই শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলা হলো, জাতীয় পতাকা অবমাননা করে ছিড়ে ফেলা হলো, মসজিদের ভিতরে বোমা (ককটেল) বিষ্ফোরণ করা হলো, অসংখ্য নিরিহ মানুষদের জিম্মি করে তাদের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলো। অথচ এর কোন প্রতিরোধমূলক পূর্ব ব্যবস্থা গ্রহন করা হলো না! আমার প্রশ্ন হলো কেন?? কেন মসজিদের মাঝে ককটেল বিষ্ফোরিত হবে? আমরা কি এখনও মধ্যযুগে বসবাস করছি?? এই আধুনিক নিরাপত্তা বেষ্টিত বলয় ভেদ করে কি ভাবে মসজিদের মাঝে ককটেল (একুশে খবরে দেখলাম গ্রেনেড!!!) প্রবেশ করে??? নিরাপত্তা কর্মীরা তখন কি করছিল??? জামায়াতের পালিত কুকুরেরা কোনদিনও শান্তিপূর্ণ মিছিল করে নাই, করতে পারেনা এইটা জানার পরেও কিভাবে প্রশাসন তাদের নামাজের পরেই মিছিল করার অনুমতি প্রদান করে???
আজও দেখলাম আমার অনেক সমঝদার বন্ধুরা তাদের ফেসবুকে জামাতের এই নির্লজ্জ কর্মকান্ডকে নৈতিক সমর্থন করে তাদের সমর্থিত বিভিন্ন মন্তব্যকে শেয়ার করে যাচ্ছেন। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আর কতকাল নিজেকে অন্ধকার জগতে নিমজ্জ্বিত রাখবেন?? আর কতকাল মুর্খের মত চোখ কান বন্ধ করে থাকবেন? এইবার অন্তত চোখ খুলুন, নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখুন কেন নিজেকে তাদের স্বার্থে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছেন যারা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মকেও ব্যবহার করতে পিছপা হয় না!!!
রবিবাবু এমনি এমনি বলেন নাই, সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙ্গালী করে মানুষ করনি...!!!
সময়ের পরিক্রমায় সেই সাত কোটি সন্তান এখন প্রায় পনের কোটিতে পরিনত হলেও বাঙ্গালীই থেকে গেছে, মানুষ হয়ে ওঠেনি...!!!
©somewhere in net ltd.