নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সম্পাদক, শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক ত্রৈমাসিক \'মেঘফুল\'। প্রতিষ্ঠাতা স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠন \'এক রঙ্গা এক ঘুড়ি\'।

নীলসাধু

আমি খুব সহজ এবং তার চেয়েও বেশী সাধারন একজন মানুষ । আইটি প্রফেশনাল হিসেবে কাজ করছি। টুকটাক ছাইপাশ কিছু লেখালেখির অভ্যাস আছে। মানুষকে ভালবাসি। বই সঙ্গে থাকলে আমার আর কিছু না হলেও হয়। ভালো লাগে ঘুরে বেড়াতে। ভালবাসি প্রকৃতি; অবারিত সবুজ প্রান্তর। বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে দুকুল উপচেপরা নদী আমাকে টানে খুব। ব্যাক্তিগতভাবে বাউল, সাধক, সাধুদের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। তাই নামের শেষে সাধু। এই নামেই আমি লেখালেখি করি। আমার ব্লগে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। শুভকামনা রইলো। ভালো থাকুন সবসময়। শুভ ব্লগিং। ই-মেইলঃ [email protected]

নীলসাধু › বিস্তারিত পোস্টঃ

সৃষ্টি!

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১২



সৃষ্টির খুব মনে আছে প্রথম দিনটির কথা!
সে এসেছিল এক বন্ধুর সংগে। তাকে দেখে আশফাক সাহেব খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিলেন।
পরে একটা সময়ে খুব মমতা নিয়েই বললেন ওকে ঠিক আছে। সৃষ্টি আমাদের সঙ্গে থাকুক। ও কাজ করবে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপেন স্কুলে। সেখানে আপাতত কদিন কাজ করার পর আমরা দেখবো ওকে আর কোথায় কোথায় কাজে লাগানো যায়।
সৃষ্টি কিছু বলেনি। খুব আস্তে করে আশফাক সাহেবকে বলেছিলেন 'থ্যাংক ইউ স্যার'
আশফাক সাহেব কাছে টেনে আদর করে দিয়েছিলেন।
সারা রাস্তা উড়ে উড়ে বাসায় ফিরে এসেছিল সৃষ্টি।
কি ভালো মানুষ তিনি। কত বড় মানুষ অথচ কোন অহংকার নেই। কেমন সুন্দর করে তাদের সাথে কথা বললেন।
এভাবে এতো সহজে চাকুরীটা হয়ে যাবে এটাও অবিশ্বাস্য!
সৃষ্টির কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না যেন!

সৃষ্টির বয়স কতইবা হবে তখন! ইন্টার পাশ করে ইউনিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র। শরীরটাও জেগে উঠেছে কেবল। আশেপাশের মানুষজনদের কামুক গা ঘিনঘিন করা দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারে সে অনেক কিছুই।
তার স্বভাব হচ্ছে মাথা নিচু করে চলা। ছোটবেলা হতেই বাবা মায়ের শাসন ও পারিবারিক শিক্ষার কারণে খুব উচ্ছলতা হৈচৈ এসব কোনকিছুতেই সে অভ্যস্ত ছিলনা।
প্রথম মাসটা বেশ ভালোই কেটেছে। সে মনের আনন্দ নিয়ে স্কুলের জন্য কাজ করতো। সুবিধা-বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে মেতে থাকতো পুরোটা সময়।
মাঝে মাঝেই আশফাক সাহেব আসতেন। কাজকর্ম দেখতেন।
তার সাথে কথা হতো নিয়মিতই।
একদিন কথা প্রসঙ্গে আশফাক সাহেবই বলেছিলেন, সৃষ্টি আগামী মাস হতে তুমি এখানেই থাকবে। বাসায় জানিয়ে দিও।
সৃষ্টি কিছু বলেনি। তার সংকোচ তখনো কাটেনি।
আশফাক সাহেবের কথার পরে আর কোন কথা নেই। স্যার যেহেতু বলেছেন তখন থাকতেই হবে।
সে তার পরের মাস হতে অফিসের লাগোয়া রুমেই রাত যাপন করতে শুরু করেছিল। বাসায় আপত্তি করেনি। এমনিতে নারায়ণগঞ্জ হতে প্রতিদিন অফিস করা তার জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। সৃষ্টি বেশ খুশীই হল এই ব্যবস্থায়।
সব মিলিয়ে তারা জনা দশেক মানুষ, এক পরিবারের মতোই থাকার ব্যবস্থা।

একদিন কি কারণে জানি আশফাক সাহেব অফিসের কাজ সেরে বাসায় ফিরতে পারেননি।
রয়ে গেলেন তাদের সাথেই। তাদের সেই অফিস কাম থাকার দোতলা বাড়িটিতে একটি বিশেষ রুম ছিল যা শুধু আশফাক স্যারই ব্যাবহার করতেন।
সে রাতেই প্রথম সৃষ্টি জানতে পারে আশফাক সাহেবের স্ত্রী নেই। সন্তান সন্তানাদি নেই।
তিনি একা একটি বিশাল বাড়িতে থাকেন।
কথায় কথায় আশফাক স্যার আরও অনেক কিছু জানিয়েছেন।
অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই কিনা তার কথাগুলো জড়িয়ে যাচ্ছিল। সৃষ্টি কি করবে কি বলবে বুঝতে না পেরে হ্যাঁ হু করে যাচ্ছিল।
.
.
.
সত্য ঘটনা অবলম্বন লিখা এই ধারাবাহিকটি চলবে ...

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৭:০০

চাঁদগাজী বলেছেন:


আসফাক সাহেব স্বস্টিকে ভালোবেসে ফেলতে পারে

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:১৬

নীলসাধু বলেছেন: চাঁদ্গাজী ভাই এখন বলা যাবে না। ধারাবাহিক তো - তবে সত্য কাহিনী

২| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৫৪

কামরুননাহার কলি বলেছেন: হুম আমরাও পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকবো।
শুরুটা ভালো লেগেছে। আসা করি শেষটাও ভালো হবে।

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:২৬

নীলসাধু বলেছেন: ধন্যবাদ।

দেখা যাক কি হয়।
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানবেন।

৩| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:০৯

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: ভালই লাগলো।

৪| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:০৫

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: ভালই লাগল।

৫| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৪

জাহিদ অনিক বলেছেন: সৃষ্টির পরের পর্ব দেখা যাক কি হয় --

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:২৬

নীলসাধু বলেছেন: শুভেচ্ছা রইলো সুপ্রিয় জাহিদ অনিক।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.