| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি এবং আমার Aim In Life
মানুষ যখন ছোট থাকে তখন সে স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে সে কি হবে
আমিও ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে কি হবো। আমার স্বপ্ন গুলো ছিল আকাশের রং এর মতো পরিবর্তনশীল বিদ্যালয়ের শ্রেণী পরিবর্তনের সাথে সাথে আমার স্বপ্নেরও পরিবর্তন হতো।
তখন ৩য় শ্রেনীতে পড়ি। ভাবতাম বড় হয়ে দোকানদার হবো তাহলে আর চকোলেট আর আইসক্রিম কিনে খেতে হবে না আর দোকানদারি করে ভাল টাকাও পাওয়া যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ দোকান হতে চকোলেট আইসক্রিম কিনে এনে বাসায় আব্বু-আম্মুর কাছে কয়েক গুন বেশি দামে বিক্রি করতাম। একটা সময় বুঝতে পারলা এই কাজ যদি অন্য কোথাও করি তাহলে আমার খবর আছে। তাই এই স্ব্প্নের অবসান এখানেই ঘটে।
তখন ৫ম শ্রেনীতে পড়ি। ভাবতাম বড় হয়ে Electrical mechanic হবো। ছোট ভাইয়ের সকল খেলনা ভেঙ্গে তার মধ্য হতে মটর আর ছোট ছোট লাইট গুলো নিয়ে নিতাম।দৈনিক কতোবার যে কারেন্টের লাত্থি খাইছি তার হিসাব নাই। বাসার ক্যাসেট প্লেয়ার , টেলিভিশন খুলে দেখতাম এর ভিতর কি আছে। অবস্থা এমন এমন হইছিলো যে আমার যন্ত্রনা থাইকা বাঁচার জন্য আম্মু আমার হাত বাইধা রাখতো।
তখন ৯বম শ্রেনীতে পড়ি। অনেক ইচ্ছা ডাক্তার হবো। তাই বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ি। কিন্তু দশম শ্রেনীতে উঠার পর একদিন জীববিজ্ঞান ল্যাব ক্লাশে দিল ব্যাঙ কাটতে যা আমাকে দিয়ে সম্ভব হয়নি। আমি সামান্য রক্ত দেখলেই ঘাবরে যাই মাথা ঘুরে। তাই আমার এই স্বপ্নেরও সলীল সমাধি ঘটে।
কলেজে ভর্তি হবার পর স্বপ্ন দেখতাম মেরিন অফিসার হবো।তাই HSC পাশের পর একদিন এক বন্ধুর সাথে ঘুরতে গেলাম নারায়নগন্জ মেরিন একাডেমীতে।একটা ছোট নৌকা দিয়ে কোন রকম নদীর বিশাল টেউ পার হয়ে একাডেমীতে প্রবেশ করলাম। গিয়ে দেখলাম তিন জন ছাত্রকে নিয়ম ভঙ্গ করার দায়ে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।আর তাদের শাস্তি হচ্ছে নদীর প্রস্থের এই পার হতে ঐ পার সাতার কেটে যেতে হবে এবং আসতে হবে।আমি তখন মনে মনে বলছিলাম “আমার ভিক্ষা লাগবো না বাবা তুমার কুত্তা সামলাও”। এই স্বপ্নেরও সলীল সমাধি ঘটে।
তারপর বছর কয়েক স্বপনহীন হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি।
আমার বাবার খুব ইচ্ছে ছিল আমি ব্যারিষ্টার হই কিন্তু আমি জানি তা আমাকে দিয়ে হবে না।
এখন তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে পড়ছি। স্বপ্ন আছে ভালো কিছু করার।
মানুষের জীবনটাই এমন সর্বদা পরিবর্তনশীল
©somewhere in net ltd.