| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিশ্ব কি আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে? সম্ভাব্য এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হবে কোন দেশ?
অতি সম্প্রতি একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে রাশিয়ার কাছে হেরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া যেভাবে তার তাবৎ সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে তাতে মনে হচ্ছে এ যুদ্ধে তারা নিজেদেরকে বিজয়ী দেখতে চায়।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের ভাষ্যকার জেমস কনকার মতে, পারমাণবিক ক্ষমতায় রাশিয়া ওয়াশিংটনকে ছাড়িয়ে গেছে। এবং এটা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলেও মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া!
রাশিয়া তার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়নে অকাতরে অর্থ ঢালছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে- রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া নিশ্চিত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের মাধ্যমে নিজেদেরকে রক্ষা করা।
দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কাছে যে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে তার চেয়ে রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রগুলো অনেক ভাল বলেই ভাবছে মস্কো।
রাশিয়ার রয়েছে ৫,০০০ বিভিন্ন শ্রেণীর কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে মাত্র ৩০০ রণকৌশলগত বি-৬১ বোমা।
কনকার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, নবায়নকৃত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার সমান পর্যায়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত কঠোর চাপের সম্মুখীন হতে হবে। কেননা ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় নির্মিত যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ পারমাণবিক মিসাইল ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র তার আরো পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন ক্ষমতা সীমিত রাখতে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে।
রাশিয়ার আনুকূল্য?
কনকা তার প্রতিবেদনে বলেন, ‘সম্প্রতি স্বাক্ষরিত স্টার্ট-৩ চুক্তি ব্যাপকভাবে রাশিয়ার অনুকূলে রয়েছে।’
মস্কো পরবর্তী প্রজন্মের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ করেছে এবং খুব শিগগির এই ক্ষেপণাস্ত্র কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ান সাবমেরিন ও কাস্পিয়ান সাগরে ফ্লোটিলা জাহাজে স্থাপন করা হবে।
রুশ কর্মকর্তারা জানান, দূরপাল্লার কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন উপকূলের নিকটবর্তী মেক্সিকো উপসাগরে পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন তারা।
পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধ কিংবা সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিনিরাও একই অভিযোগ আনছে পুতিনের বিরুদ্ধে।
কনকা মনে করেন যে, রাশিয়ার নিজেদেরকে দুর্বল দেখাতে ভয় পাচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়া যতটা সম্ভব তার ক্ষমতা ব্যবহারে প্রবৃত্ত হবার কথাও জানান দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু পরিকল্পনায় ঘাটতি
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করতে মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কনকা।
উদাহরণস্বরূপ, ছয় সদস্যের একটি বি-৫২ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিমানটির ক্রুরা জানত না যে, এতে মিসাইল ছিল এবং এমনকি যারা এটির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তাদেরও কেউ বুঝতে পারেনি যে, সেগুলো অনুপস্থিত ছিল।
উপরন্তু এ দুর্ঘটনায় তাদের দুর্বল মনোবলের অনেক প্রমাণ রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র পরিচালনায় মার্কিন সৈন্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব হেগেল এই সুপারিশের ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেন, সুপারিশের ভাবনাগুলো পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে। তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য পারমাণবিক তহবিল প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেন।
পরমাণু কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দে কিছু পরিবর্তন আনতে পেন্টাগন একমত হয়েছে। তবে এটা হবে খুবই অপ্রতুল।
আর এক্ষেত্রে খুব বেশি দেরি হয়ে যেতে পারে যদি রাশিয়া কোনো রকম সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে।
©somewhere in net ltd.