নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লোকে যাই বলুক, যাই অনুভব করুক, নিজের কাছে আমি অনন্য।

ফারহান নাছির নির্ণয়

ফারহান নাছির নির্ণয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্ম সৃষ্টি ও মানব সভ্যতা

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪১



পৃথিবীতে মানব অস্তিত্ব আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক ধর্ম এসেছে। যেমনঃ প্যাগান ধর্ম, খ্রিষ্টান ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, বাহাই ধর্ম, মুসলমান ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, জৈন ধর্ম, শিখ ধর্ম, তাও ধর্ম, কনফুসীয় ধর্ম, খ্রিষ্ট ধর্ম, ইহুদি ধর্ম ইত্যাদি ইত্যাদি।

বেশিরভাগ ধর্মেরই একজন প্রবর্তক থাকেন অতএব এই ধর্মগুলোকে আমরা খুব সহজেই মানবসৃষ্ট বলতে পারি। যেমনঃ শিখ ধর্ম - গুরু নানক, কনফুসীয় ধর্ম - কনফুসিয়াস, বৌদ্ধ ধর্ম - গৌতম বুদ্ধ, বাহাই ধর্ম - বাহাউল্লাহ, তাও ধর্ম - তাওজু, জৈন ধর্ম - ২৪ জন তীর্থঙ্কর ইত্যাদি। এসব প্রবর্তকগণ তাঁদের নিজেদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, চিন্তা, আদর্শ, জীবন পন্থা ইত্যাদিকে লিপিবদ্ধ করে একটি ধর্ম বা মতাদর্শ হিসেবে প্রবর্তন করেন। এবং ধীরে ধীরে তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সেই ধর্ম বা মতাদর্শের অনুসারী বৃদ্ধি পায়। এভাবে একজন বা কয়েকজন ব্যাক্তির লিপিবদ্ধ বা সুবিন্যস্ত কিছু প্রত্যাদেশ ধর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়।

আর কিছু ধর্মের সৃষ্টি হয় সংস্কৃতি বা কোনো বিধান ও সংস্কৃতির মিশ্রনের ফলে। যেমনঃ হিন্দু ধর্ম ও মুসলমান ধর্ম।

হিন্দু ধর্মঃ
২য় শতাব্দীতে রচিত 'কল্পদ্রুম' এর মন্ত্রে 'হিন্দু' বলা হয়েছে সে জাতিকে যে হীন কাজ ত্যাগ করে। প্রাচীন কালে 'হিন্দু' বলা হতো দক্ষিণ এশিয়ার 'সিন্দু নদ' এর তটের আদিবাসীদের। মধ্যযুগেও এই ধারা অব্যাহত থাকে অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার ভারতীয় উপমহাদেশের সেই জাতি যারা প্রাচীন ও সনাতন সভ্যতাকে পালন করে। 'হিন্দু' শব্দটি তখনো সামাজিক ও ভৌগোলিক ভাবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে 'ভক্তি আন্দোলন'র সময় কবি, বিদ্যাপতিদের ধারা 'হিন্দু' শব্দটি ধর্মীয় রূপ লাভ করে। সনাতন ধর্মেও প্রাচীন গ্রীক, মিশরীয়, রোমান বা নর্স পুরাণের মতন নানা পৌত্তলিক ও পৌরণিক কাহিনী এবং দেব দেবীর পূজার প্রচলন হয়। বর্তমানে 'হিন্দু' বলতে হিন্দু ধর্ম পালনকারীদের বুঝানো হয়। সময় পরিক্রমায় একটি 'স্থানিক' শব্দ 'ধর্মীয়' শব্দে রূপ নেয়।

মুসলমান ধর্মঃ
'মুসলমান' বলা হয় আত্মসমর্পণকারীআনুগত্য স্বীকারকারীকে। 'ইসলাম' নামক একটি দ্বীন বা জীবন বিধান বা জীবন পাথেয় রয়েছে। এই জীবন বিধানের অনুসারীদের বলা হয় 'মুসলিম'। অর্থাৎ সেই ব্যক্তি যে স্বেচ্ছায় চলবে না বরং স্রষ্টার নিকট আত্মসমর্পণ এবং স্রষ্টা ও তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধির আনুগত্য স্বীকার করবে। এই 'ইসলাম' জীবন বিধানের অনেকগুলো শাখা রয়েছে। যেমনঃ দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ইত্যাদি ইত্যাদি।

এখন 'হিন্দু ধর্ম' ও 'মুসলমান ধর্ম' উভয়ের এক জায়গায় মিল রয়েছে। উভয় ধর্মই স্থান ও পাত্রভেদে বিভিন্ন এবং কালের পরিক্রমায় পরিবর্তনশীল।

ভারতের হিন্দুদের রীতিনীতি এক ধরনের আবার বাংলাদেশের হিন্দুদের রীতিনীতি অন্য ধরনের। ভারতে দিল্লীতে এক, মুম্বাইয়ে আরেক, চেন্নাইয়ে এক কোলকাতায় আরেক রীতিনীতি। বলতে গেলে প্রতিটি রাজ্যে বিভিন্ন। কেউ পূজো করে কালির, কেউ করে শিবের, কেউ বা গনেশের। স্থানভেদে ধর্ম পালনের নিয়ম বিভিন্ন। একইভাবে 'মুসলমান ধর্ম'ও বাংলাদেশে এক রীতিনীত, ইরানে আরেক, সৌদিতে এক পাকিস্থানে আরেক। অবশ্য কিছু 'কমন ফেক্টর'ও আছে। একইভাবে আজ থেকে হাজার বছর আগে যে 'মুসলমান ধর্ম' বা 'হিন্দু ধর্ম' তা পরিবর্তিত হয়েছে বিভিন্ন মানুষের হাতে, বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাবে। ধর্মের এই বিভিন্নতার কারনে জীবনযাত্রাও হয় বিভিন্ন।

এই যে পরিবর্তন বা বিভিন্নতা, এর কারন কি?
কারণ এখানে ধর্মের মূলভিত্তি হলো সংস্কৃতি। শত শত বছর ধরে আপনার বাবা, তার বাবা, তার বাবা এভাবে পালন করে এসেছে তাই আপনিও পালন করছেন। আর এটাকেই আপনি ধর্ম হিসেবে জানেন এবং মানেন। আর এটা গড়ে উঠেছে আপনি যেখানে বসবাস করছেন, সেই স্থানের দীর্ঘকালের সংস্কৃতি থেকে। যদি প্রশ্ন করা হয় এই সংস্কৃতি কার বা কাদের তৈরি? নিঃসন্দেহে উত্তুর হবে 'মানুষ'। 'মুসলমান' ধর্ম গড়ে উঠেছে 'ইসলাম' জীবন ব্যবস্থার একটি শাখা ধর্মের কিছু নির্দিষ্ট প্রত্যাদেশ এবং বাকিটা সেই স্থানের সংস্কৃতি নিয়ে। ধর্মীয় প্রত্যাদেশ থেকে সৃষ্ট অংশটুকুন সারা বিশ্বে অভিন্ন আর বিভিন্নতা যার কথা বলেছি সেটা এই আপন আপন সংস্কৃতির সৃষ্ট। বিভিন্নতার এই কথাটি একইভাবে 'হিন্দু ধর্ম'র ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আবার বিভিন্ন শাসকদের হাত ধরে পরিবর্তন হয় ধর্মীয় রীতিনীত, তাদের সুবিধার্থে এবং ক্ষমতার স্বার্থে। এই কারনেই খ্রিষ্ট ধর্মের পোপের আবির্ভাব ঘটে। বিভিন্ন দেশে মাওলানারা সরকারের পক্ষে মাঝে মাঝে ফতোয়া জারি করে থাকেন। হিন্দু ধর্মগুরুরাও বিভিন্ন আদেশ দিয়ে থাকেন, নির্বাচনের সময়ও দেখে থাকবেন। সম্রাট কনস্টান্টিন যখন খ্রিষ্ট ধর্মের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব এবং শক্তিমত্তা অনুধাবন করলো তখন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তার প্রজাদের 'প্যাগান' ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহনে বাধ্য করতে থাকে। বর্তমান 'খ্রিষ্ট ধর্ম' অনেকটা প্যাগান ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। আজকের দিনে যে 'ইস্টার সানডে' পালন করা হয় বা সপ্তাহিক দিনের নাম 'সানডে' করা হয়েছে তা প্যাগানদের 'সূর্যদেবতা'র নামানুসারে করা হয়েছে। 'ইহুদী ধর্মের পাঁচটি ধর্মীয় গ্রন্থের সমন্বিত 'তোরাহ' বা খ্রিষ্ট ধর্মের 'বাইবেল' যা 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' ও 'নিউ টেস্টামেন্ট' হলো বর্তমানে মূল ধর্মীয় গ্রন্থের পরিবর্তিত রূপ।

এই ধর্মগুলো অনেকটা রাষ্ট্রের সংবিধানের মত। স্থানভেদে ভিন্ন, সময়ের এবং ব্যক্তির পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তনশীল (সংযোজন ও বিয়োজন)। ক্ষীণস্থায়ী এবং মানব সৃষ্ট এসব ধর্ম বা সংবিধান মানুষের জীবনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। স্থান, কাল ও পাত্রভেদে সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয় না। মানুষ সৃষ্ট মাত্রই পরিবর্তনশীল। তাই মানবের এই পৃথিবীতে মানবই এতো সমস্যার স্রষ্টা, এতো বিভাজন।

এ থেকে উত্তরনের জন্য প্রয়োজন এমন এক ধ্রুব সত্য যা স্থান, কাল ও পাত্রভেদে সকল মানুষের জন্য, সকল সময়ের জন্য সমভাবে প্রজোয্য হবে, যার কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না এবং তা অবশ্যই মানব সৃষ্ট বা রচিত নয়।

এই ধ্রুব সত্য খোঁজার গুরু দায়িত্ব পাঠকদের উপরই রইল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.