| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এরিস্টটল কবিতা ও কবি বিরোধী ছিলেন কারন তিনি মনে করতেন কবিরা জ্ঞানের দ্বারা নয় নিজের সৃজনীক্ষমতা এবং অনুধাবন দ্বারা চালিত হয়। প্লেটো তাঁর রিপাবলিক বইতে এরিস্টটল এবং কবিদের একটা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। একদিন সক্রেটিস কয়েকজন কবির কাছে গিয়ে কবিতার একটা অনুচ্ছেদের সত্যিকার অর্থ জিজ্ঞেস করলেন। বললেন, এই কবিতার যথার্থ মর্মকথা বুঝিয়ে দাও আমায়। দূর্ভাগ্যবশত তারা এরিস্টটলকে বুঝাতে ব্যর্থ হয় যার কারনে এরিস্টটল এর এই ধারনা।
অনেকটা সক্রেটিসের শিষ্য হওয়ার কারনে স্বভাবতই প্লেটোও ছিলেন কবি ও কবিতা বিরোধী। রিপাবলিক বইতে তিনি বলেছেন, কবিতার প্রকৃত অর্থে কোনো কাজ নেই। অর্থাৎ কবিতা অর্থহীন, মূল্যহীন। পরে অবশ্য বলেছেন কবিতা কেবলই ঈশ্বরের স্তূতি বর্ণনার কাজে লাগে। প্লেটো নিজেও বেশ কিছু কবিতা রচনা করেছেন। তাই এটি একটি প্যারাডক্স।
এখন তাঁরা কেনো এমন মনে করতেন তার প্রকৃত কারণটাও জানা দরকার। এরিস্টটল এবং প্লেটো যে সময়ের মানুষ ছিলেন তাঁরা যে গ্রীসে বসবাস করতেন সেই সময় পর্যন্ত এবং সেখানে কবিতার চর্চা হতো সাধারণত কোনো ইতিহাস, যুদ্ধ, ঘটনা, পৌরণিক কাহিনী কিংবা ইশ্বরের প্রশংসায়। এসব বিষয়বস্তুতেই রচনা হতো কবিতা। মহাকবি হোমারের রচনা ইলিয়ড এবং ওডিসি এই কবিতাদ্বয় তার যথার্থ উদাহরণ। এরিস্টটল, হোমারের ইলিয়ড বাচ্ছা, যুবকদের পড়ানোর বিরোধীতা করতেন। কারন যারা ইলিয়ড পড়েছেন কিংবা প্রাচীন গ্রীক বা রোমান পৌরণিক সম্পর্কে জানেন তারা জানেন যে সেখানের দেবী-দেবতাদের অনেক নেতিবাচক বৈশিষ্ট ছিলো যেমন তারা প্রতিশোধপরায়ন, হিংসাত্বক, কামুক ইত্যাদি। আর মহামতি এরিস্টটল মনে করতেন, ঈশ্বর কেবল পূণ্য ও মঙ্গলকর।
অতএব এরিস্টটল বা প্লেটোর কথা দিয়ে তাদের পরবর্তী সময়ের কবি ও কবিতাদের বিবেচনা করলে কবিতার প্রতি অবিচার হবে বটে। প্লেটো বলেছেন, কবিতা এবং দর্শনের একটা বিরোধ রয়েছে। কথাটি তিনি দার্শনিক ছিলেন বলে বলছেন কিনা আমি জানি না। তবে আপনি যদি মহাকবি জালালউদ্দীন রুমি তাঁর প্রায় ৪৪ হাজার লাইনের মসনবী ও ৫০ হাজার লাইনের দেওয়ান-ই-শামস-তাবরিজি তে মহাকবি ইকবাল তাঁর 'আসরারে খুদি' এছাড়া মহাকবি আলাউল, কবি হাফিজ সিরাজী সহ অনেকের এর কবিতা পড়ে থাকেন তবে দেখবেন তাঁরা কবিতার মাধ্যমেই দর্শন চর্চা করেছেন। জীবনানন্দের কবিতায় প্রকৃতি প্রেম পাবেন, নজরুলের কবিতায় বিপ্লব-প্রতিবাদ পাবেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মানব প্রেম, নাজিম হিকমতের কবিতায় বিপ্লব-প্রেম পাবেন, মির্জা গালিবের কবিতায় নারী-প্রেম-মদ্য-বেদনা পাবেন, হেলাল হাফিজের কবিতায় প্রেমিকাকে না পাওয়ার কষ্ট পাবেন।
কবিতা শুধুমাত্র প্রেম, নারী, প্রকৃতি নিয়ে নয়। কবিতার মাধ্যমে সমাজ, মানুষ, সংস্কৃতির কথা বলা যায়। মানুষের চিন্তা-চেতনাকে তুলে যেমন ধরা যায় তেমনি পরিবর্তনও করা যায়। কবিতার মাধ্যমে বিপ্লব, বিদ্রোহ, প্রতিবাদ করা যায়। সত্যকে উন্মোচন করা যায়।
©somewhere in net ltd.