| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এক
রাত ১১:৪৫। ঘুমানোর চেষ্টা করছি। হঠাৎ তোমার ফোন। কিছুটা অবাক হলাম। ভাবলাম এতদিন পরে কি এমন দরকার আমাকে? দ্বিধা-দ্বন্দে কলটা রিসিভ করলাম।
শুরুতেই তোমার কণ্ঠস্বরঃ
-কেমন আছো?
-এইতো একরকম। তোমার খবর কি? তুমি কেমন আছো?
-ভালো। তুমি কোথায়?
-আমি তো হল-এ।
যেদিনই তোমাকে ফোন দেই সেদিনই এই প্রশ্নটা কর। আমিও বোকার মতো উত্তর দিই। অনেকদিন পরে তোমার কণ্ঠ শুনছি। এতদিন পরে মনে পড়লো? তোমার সাথে তেমন যোগাযোগও হয় না। মনে হয় তুমি রাখতেও চাও না। আর মাঝে হঠাৎ একদিন ফোন দিয়ে আমার খবর জানতে চাও। অনেকক্ষণ ধরে কথা বল। হয়তো বা এতদিনের জমিয়ে রাখা প্রশ্ন গুলোর উত্তর চাও।
সেদিনের কথা কি তোমার মনে পরে? যেদিন তোমাকে দুটি গোলাপ আনতে বলেছিলাম। একটি আমার জন্য আর একটি তোমার। তুমি এনেও ছিলে। তবে আমাকে দেয়ার সময় আঙ্গুলে কাঁটা ফুটেছিল। কফি হাউসের প্রতিজোড়া চোখ আমাদের দিকে ছিল। কোন কিছুই কেয়ার করি নি তখন। মনে হয়েছিল যেন চির জীবন সাথে থাকব। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আজ আমরা আলাদা। আমাদের ইচ্ছা আলাদা, আমাদের হাসি আলাদা। তবে কষ্ট মনে হয় একই। সমবয়সী হওয়ার কষ্ট।
কত বোকা ছিলাম আমি। মিথ্যা আশ্বাসে ভুলে ছিলাম। পেছন ফিরে তাকালে বর্তমানকে বিস্বাদ লাগে। কত রঙ্গিন ছিল দিনগুলো। প্রতিটা বিকেল কেটে যেত ফড়িং- এর মতো। কত ভাবতাম তোমাকে। তোমার বলা ধাঁধাটা আজও লেখা আছে বাংলা বই-এ । পৃষ্ঠা নং – ৩৯। উত্তর জানার ইচ্ছাও হয়নি কখনো।
কেমিস্ট্রি পরীক্ষার আগেও দেখা করেছি। ঢাকা ফাস্ট ফুড-এ। কলার ছেঁড়া একটা শার্ট পরে । তখন টাকার খুব অভাব ছিল কি না? সাদার মাঝে আকাশী চেক। খুব আনাড়ি ছিলাম তখন। বিলটা মনে হয় আমাকেই দিতে হয়েছিল। বিলের স্লিপটা এখনও আছে। যত্ন করে রেখেছিলাম ফাইল –এ।
কত পাগল ছিলাম আমি। ভাবতেই অবাক লাগে। তোমার পাঠানো এসএমএসগুলো কখনো ডিলিট করতাম না। বারবার পরতাম। এক অজানা ভালো লাগা ছুঁয়ে যেত। ঠিক যেন প্রজাপতির মতো। এখনও কি তোমার সেই লাল সোয়েটারটা আছে? নাকি ছুঁড়ে ফেলেছ আমার মতো। তোমার দেওয়া ঘড়িটাও আর চলছে না। সেদিন কি যে হল। হঠাৎ হাত থেকে পরে গিয়ে থেমে গেল। বিশ্বাস কর ইচ্ছা করে করিনি। হয়তোবা সেটিও থেমে গেছে আমাদের ভালবাসার মতো।
খুব কি দুষ্ট ছিলাম আমি? তাহলে বাঁদর বলতে কেন? তোমার ডাকটি বারবার শুনতে চাইতাম। ভালবাসার ডাক। তোমারও একটা মিষ্টি নাম দিয়েছিলাম। অনেক আদর করে ডাকতাম। মেনি বিড়াল। যেটা আর ডাকা হয় না। তুমিও বদলে গেলে,বদলে গেলাম আমিও। ভুলে যেতে বসলাম নিজের অস্তিত্বকে।
তোমার কাছেই শিখেছিলাম কিভাবে ভালোবাসতে হয়। মানুষকে আপন করতে হয়। আমার জীবনে তুমি ছিলে এক ভালবাসার সাগর। ধীরে ধীরে যেটি শুকিয়ে গেছে। ঠিক চৈত্র মাসের মাটির মতই। যার জীবনে শ্রাবণ আর ফিরে আসেনি।
তোমার কাছ থেকেই শিখেছি কিভাবে বাঁচতে হয়। বাস্তবতার সাথে চলতে হয়। একজনের জন্য অন্যজনের জীবন থেমে থাকে না। আসলে প্রত্যেকের জীবনে এমনই একজন দরকার যে তাকে ভেঙ্গে চুরে আবার নতুন ছাঁচে গড়বে। আমার জীবনে তুমি ছিলে এমনই একজন।
তুমি বলেছিলে তোমাকে কেন এত ভালোবাসি ?
-এর কোন উত্তর খুঁজে পাইনি। হয়তো এটার কোন উত্তরও হয় না। শুধু যেটা হয় সেটা হল “ভালোবাসা”।
তোমাকে আর জ্বালাতন করব না। গল্পও শোনাব না। তুমি নাকি অনেক ব্যস্ত। ক্লাসের চাপ। নতুন জীবনের হাতছানি। নিরন্তর ব্যস্ততা। বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে দিতেই নাকি তোমার সময় চলে যায়। আমাকে নিয়ে ভাবার সময় কই তোমার? তবে একটি কথা তোমাকে বলা হয়নি। আমাকেও নাকি একজন পছন্দ করে। আমাকে নিয়ে ভাবে। সবসময় সাথে থাকতে চায়।
খুব তোমার কথা শুনতে চায়। শোনাবো ওকে?
-ওর নাম নিয়তি। আমার হারিয়ে যাওয়া নিয়তি। যাকে কখনো ভালবাসা হয়নি। উল্টো সেই আমাকে বেসেছে। পাশে থেকেছে সারাক্ষণ।
মানুষ বড় অদ্ভুত। যার কাছে পাত্তা পায় তাকে পাত্তা দেয় না। বরং যার কাছে পায় না তার পিছনেই ঘুরঘুর করে।
দুই
প্রিয় নিয়তি,
তুমি যার কথা জানতে চেয়েছিলে সে আজ আমার নেই। হারিয়ে গেছে আমার স্কুলের মোড়ে। পিচ ঢালা পথের মাঝখানে। শুধু চেয়ে দেখেছি। আটকাতে পারিনি তাকে। এক অবুঝ ভালবাসার অকাল মৃত্যু ধ্বনি।
মাস তিন আগে ঘুরতে গেছিলাম। রেস্টুরেন্টটির যেখানে আমরা বসতাম সেটা খালিই ছিল। খুব বসতে ইচ্ছে করছিল কিন্তু বসিনি । তাছাড়া তাকে ছাড়া বসতেও মন সায় দিচ্ছিল না। আর স্মৃতিতে শূন্য চেয়ারটাকেও বাঁধতে চাইনি। শুধু চারণ করতে এসেছিলাম স্মৃতি গুলোকে। চলে গেলাম সেই মধুর দিনে। সেই পলকহীন চাহনি। মোমের আলোয় উজ্জ্বল মুখ। অসম্ভব সুন্দর হাসি। আর অস্থির কিছু মধুর সময়। আমাদের একান্ত আপন করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়। শুধু সে আর আমি। বুঝতেই পারতাম না কিভাবে চলে যেত সময়। ঘণ্টাগুলো কে মনে হত যেন এক একটি মিনিট। ঠিক যেন পলকেই কেটে যেত সবকিছু। ভালোবাসা আসলেই স্মৃতি, মধুর স্মৃতি। বাস্তবে যা বোঝা কঠিন। আর তাই হয়ত বিয়ের পরে সবারই মনে হয়, সে আমাকে আর আগের মতো ভালবাসে না।
নিয়তি, অনেক রাত হয়েছে, ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু করছে। আরেকদিন না হয় লিখব? তুমি হয়তো ভাবছ কখনো আর বলব না। কিন্তু বিশ্বাস কর আমাকে এটা বলতেই হবে। বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমার ভালবাসাকে।

©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৩৮
ভ্রমরের ডানা বলেছেন: জীবনের কিছু মুহুর্ত ঘিরে আবর্তিত হয় সময়ের কক্ষপথ, জীবন পথ। সে পথের যাত্রায় স্বাগতম! লেখাটি অত্যন্ত হৃদয় আকর্ষক!