নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পথহারা পথিক আমি

কৈশোর হারানো এক হতভাগ্য যুবক

পথহারা পথিক আমি › বিস্তারিত পোস্টঃ

কনৌজ রাজ

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:৩৭

কনৌজ রাজ্যের রাজা যশোবর্মা সাম্রাজ্যবাদী মানুষ। সেই সাথে সামান্য খেয়ালিও। যখন যেটা ভাবেন তখন সেটাই তাঁর মুখ্য কাজ হয়ে যায়। বাকি সব গৌণ। তাঁর সুবিশাল সেনাবাহিনী যুদ্ধ-বিগ্রহের ব্যাপারে অত্যন্ত দক্ষ। মনে মনে বিষয়টি তিনি বেশ উপভোগ করেন। এটি যেমন তাঁকে বেশ আরাম দেয় তেমনি সমানভাবে তাঁদের লুণ্ঠন করার স্বভাব চরম পীড়ায় রাখে তাঁকে। নিজে প্রতাপশালী রাজা হলেও তার প্রজাপ্রীতি মন এটাতে একেবারেই সায় দেয় না। তবে ক্ষমতায় থাকতে হলে যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলাই উত্তম। একবার যিনি সিংহাসনে বসেন, ষড়যন্ত্র বা মৃত্যু ব্যতীত তিনি কখনো সেখান থেকে নামেন না। ব্যাপারটা যতটা না রাজনৈতিক তার চেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক।
৭২৬ সালের শীতকাল। রাজা যশোবর্মার মাথায় মগধরাজ্য জয়ের নেশা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়েছে। তার কারণ যিনি মগধরাজ্য শাসন করেন একই সাথে তিনি গৌড়পতিও। তাঁকে পরাজিত করতে পারলে একসাথে যেমন বহু সীমানা পাবেন সেই সাথে অধিকারী হবেন বিশাল ক্ষমতার। সমানতালে সেনাবাহিনীতে লোক-সংখ্যার পরিমাণও বাড়বে তাঁর। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষে তিনি কূট-সভার ডাক দিয়েছেন।
কনৌজরাজ বারংবার সিংহাসনের সামনে পায়চারী করছেন। একবার পুবে যাচ্ছেন তো আরেকবার পশ্চিমে। তাঁর পায়ের আওয়াজে খসখস করছে চারপাশ। পশ্চিমে থাকা অবস্থায় হঠাৎ থেমে গেলেন। সেনাপতির দিকে মুখ করে গম্ভীর গলায় বললেন-
কি সেনাপতি সাহেব, আপনি যে কিছুই বলছেন না। তাহলে কি অনুমান করে নেব আপনার কাছে আমার ইচ্ছার কোনই গুরুত্ব নেই। অত্যধিক উত্তেজিত না হলে তিনি এমন বাক্য উচ্চারণ করেন না। ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি সেনাপতিকে খানিকটা চাপে ফেললেন।
সেনাপতি দেবশর্মা বেশ গম্ভীর মানুষ। কথাটা শুনে তিনি আরও গম্ভীর হয়ে গেলেন। কনৌজ রাজ্যের সাত হাজার সৈনিককে তিনি একরকম হাতের তালুতে রেখে পরিচালনা করছেন। কেউ সামান্যতমও অভিযোগ করার ছুঁত খুঁজে পায় না।
দেবশর্মা পূর্বেও বহুবার এরকম পরিস্থিতিতে পড়েছেন। প্রথম প্রথম বেশ ভড়কে যেতেন। কিন্তু এখন আর তেমন ভড়কান না। কারণ জবাবটা তাঁর তৈরিই থাকে। তবে এবারকার পরিস্থিতি অন্যবারের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। তাই তিনি কিছুক্ষণ গভীর চিন্তার ভান করলেন। অবশেষে মুখ তুলে চাইলেন। বললেন-মহারাজ, বেয়াদবি মাফ করবেন। আমাদের বাহিনীর অনেক সৈনিকই এখন বয়সের ভারে নীত। তাদের পক্ষে এ অবস্থায় যুদ্ধ করা অনেক কঠিন শুধু তাই নয় একেবারেই অসম্ভব। এ পর্যন্ত বলে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলেন তিনি।
(চলবে.)

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:২৫

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: :D রুপকথা!

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:০৮

পথহারা পথিক আমি বলেছেন: হ্যাঁ ভাই। রূপকথা লেখতে ইচ্ছে করল হঠাৎ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.