| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মামুনুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফার ডটকম
ইন্টারনেটে ‘ধর্মীয় উস্কানিমূলক’ লেখালেখির অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ব্লগার, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী দলের দাবির প্রেক্ষাপটে তিন ব্লগারকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে এক ব্লগার বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে সরকার ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারছে’।
ব্লগাররা বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
ইন্টারনেটে কথিত ‘ধর্মীয় উস্কানিমূলক’ লেখালেখির অভিযোগে সোমবার রাতে তিন ব্লগারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
ব্লগারদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে ‘হতাশাজনক ও আপত্তিকর’ অভিহিত করে ব্লগার আরিফ জেবতিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথম কথাটাই হচ্ছে তাদেরকে যেভাবে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো এবং দাগি আসামির মতো করে হাজির করা হলো, এটা হতাশাজনক এবং আপত্তিকর।”
এতে করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কা তার।
তিন ব্লগারকে গ্রেপ্তারের পর সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানলে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরিফ জেবতিক বলেন, “যারা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে হুজুগে পড়ে এমন কর্মকাণ্ড কোনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। যে কেউ এই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন।”
সরকারের পদক্ষেপকে ‘সুস্থ মত প্রকাশের ওপর চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ হিসাবে দেখছেন ব্লগার অমি রহমান পিয়াল।
এর মাধ্যমে কার হাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে- এ প্রশ্ন রেখে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকল্প ধারার এই চর্চাটা ছিল বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এমন একটা বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পেরেছে। এখন এইসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই আন্দোলনের উৎসমুখ বন্ধ করা হচ্ছে।”
বিষয়টিকে সরকারের একটি ‘অদূরদর্শী পদক্ষেপ’ হিসাবে অভিহিত করেন অমি রহমান পিয়াল।
তিনি বলেন, “এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সরকার। সেখানে বিচার বিবেচনা ছাড়াই কেবলমাত্র মৌলবাদী শক্তির চাপের কাছে নতি শিকার করে এই ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে।”
একইসঙ্গে এই ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্লগারদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ, ব্লগারদের বাসা তল্লাশি এবং হয়রানিরও নিন্দা জানান অমি রহমান পিয়াল।
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতিবাদই দেশব্যাপী গণজাগরণ সৃষ্টি করে এবং এই আন্দোলনে যুক্ত হয় বিভিন্ন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
শাহবাগে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর হেফাজতে ইসলামের নামে মাঠে নামে কয়েকটি ইসলামী দল, যারা ব্লগারদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ এনে তাদের শাস্তি দাবি করে।
গণজাগরণ আন্দোলনের সংগঠকরা অভিযোগ করে আসছেন, জামায়াতই পেছন থেকে ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলামী কয়েকটি দলকে মাঠে নামিয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে দেখছেন ‘মৌলবাদী অপশক্তির সঙ্গে আপস’ হিসেবে।
“এই ঘটনার মধ্য দিয়েই আপসের বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। আর আপসের এই বিষয়টি খুবই আশঙ্কাজনক।”
ব্লগার বাকী বিল্লাহ বলেন, “তাদেরকে (গ্রেপ্তারকৃত ব্লগার) দাগি অপরাধী, মাদক চোরাচালানিদের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে। যে কোনো বোধসম্পন্ন, বিবেকবান মানুষ এটার পক্ষ নিতে পারবেন না।
“পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আমরা আরো পিছনের দিকে যাচ্ছি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক ব্লগারদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে লেখালেখির পরামর্শ দেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবারই উচিত দায়িত্বশীলতার সাথে লেখালেখি করা। তার মানে এই নয় যে সরকার হেফাজতে ইসলামের মতোই ধার্মিক হয়ে উঠবে।”
হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখেই এই ব্লগারদের ধরা হয়েছে বলে মনে করেন ফাহমিদুল।
তিনি বলেন, “দাবির মুখে এটা করলে তো হবে না। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া যেমন দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার একটা ব্যাপার তেমনি লেখালেখির যে ট্রেন্ড দাঁড়িয়েছে সেটা সংশোধন হতে পারে কেবল আলোচনা সমালোচনার ভিতর দিয়ে। তার বদলে ফৌজদারি আইনে এরকম গ্রেপ্তার একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”
আর অভিযোগ প্রমাণের আগেই গণমাধ্যমের সামনে অভিযুক্তদের হাজির করাটাকে র্যাব-পুলিশের ‘অতি উৎসাহী মনোভাবের কারণেই’ ঘটেছে বলে মনে করছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ব্লগে ধর্মীয় উস্কানিমূলক লেখা প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এক্ষেত্রে সত্যিই যদি এরকম কেউ করে থাকে তার জন্য তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।”
“কিন্তু শাহবাগের চলমান আন্দোলন নিয়ে যে রকম প্রচারণা চালানো হচ্ছে সেক্ষেত্রে কোনো ধরণের উদ্দেশ্যমূলক কিংবা আক্রমণাত্মক জায়গা থেকে এটা করা হচ্ছে কি না এসব বিষয়গুলো বিচেনায় রাখতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে ফেইসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি রামুর সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
©somewhere in net ltd.