| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
“৮ নাম্বার বাস” নিয়ে লিখবো এরকম একটা ইচ্ছে বহুদিন ধরেই পুষে আসছি। লেখা হয়ে উঠেনি। কারণ নেই, স্রেফ হয়নি।
ইচ্ছে ছিল ৮ নাম্বার বাসের ঐ হেল্পারের দৃঢ় কন্ঠ নিয়ে গল্প লিখবো, যে কিনা অবিরত বলে চলে, “ঐ যাত্রাবাড়ি-মতিঝিল-পল্টন-শাহবাগ-ফারামগেট-কলেজগেট কিংবা গাবতলি-কল্যানপুর-শ্যামলী-ফারামগেট-মতিঝিল-শাহবাগ।“ বলবো তার খিস্তি খেউর খাওয়ার গল্প। কিভাবে যাত্রীরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় প্রায়শই গালিগালাজ করে। আর বলবো তার এসব ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করার গল্প। তার তো চটে গেলে চলবেনা, তার আরো কিছু রোজগার দরকার আরেকটু ভালো করে চলার জন্য। তাই সে এসব গ্রাহ্য না করে নিজের মত ডেকে যায় গলা খাকড়িয়ে, “ঐ যাত্রাবাড়ি……………………………,
ইচ্ছে ছিল দু চার লাইন লিখবো কন্ডাকটারকে নিয়ে। কিভাবে ভাড়া নিয়ে তার নিয়ত যুদ্ধ চলে। কিভাবে তাকেও অশ্রাব্য ভাষার গালি শুনতে হয়, শুনতে হয় নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সম্ভাষণ তুই কিংবা তুমি তা যাত্রি যতই কম বয়সী হোকনা কেনো। বলবো দিন শেষে তার মলিন মুখের কথা আর ফুটে উঠা সেই শব্দহীন শব্দগুচ্ছ, “আর যদি কয়টা টাকা হইতো!”
ইচ্ছে ছিলো হেল্পার কন্ডাকটারকে নিয়ে লিখার পর দু-চার লাইন লিখবো চালককে নিয়েও। যার কান কিনা “ঐ যাসনা/যাওনা ক্যান? ঐ মাদারচোদ গেলি? খানকির পোলা আর কত দেড়ী করবি যা“ এসব শব্দ বাক্য শুনে অভ্যস্ত। অথচ কোন প্রতিবাদহীন কন্ঠনালী! প্রতিবাদ করলে চলবে কেনো!! সে তো মানুষ নয়, সে নিম্নবিত্ত!
তারপর লিখার ইচ্ছে ছিল কিছু যাত্রীদের নিয়ে। যারা কিনা জীবন সংগ্রামের সৈনিকদের মত, অপরের জন্যে এতটুকু ছাড় দিতে রাজি নয়। ছাড় দিলে তার চলবে কেনো! তার তো গন্তব্যে পৌছুতে হবে তাও যত দ্রুত সম্ভব,
বাসের সীটে আসীন কিংবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাদের মুখে চিন্তা, শরীরে ঘাম, বিভ্রান্ত বচন ভঙ্গির কথা। কপাল বেয়ে টুপ টুপ করে পরা ঘামের কথা কিংবা সেই রুমালের কথা যা সেই ঘামের সাক্ষী হয়ে থাকে এই সব কিছুর কথাই লেখার ইচ্ছে ছিল,
পরিশেষে লিখতেই হোত “৮ নাম্বার” বাসকে নিয়ে, যে কিনা প্রতিদিন বয়ে বেড়ায় হাজারো লক্ষ প্রাণ বিনা অহমিকায়। শরীরে শত ক্ষত বিক্ষত নিয়েও তার প্রাণ বয়ে বেড়ানোর গল্প। আর দিন শেষে তার একাকীত্ত্বের কথা। সারাদিন যে প্রাণের মেলায় সদা সরব দিন শেষে তারই প্রাণহীন নিথর হয়ে রাস্তার এক পাশে পড়ে থাকার গল্প,
লিখার ইচ্ছে ছিলো অসম্পূর্ণ এরকম কিছু গল্প। যা কিনা শেষ করবার নয়,
২|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:০১
মুক্তকণ্ঠ বলেছেন: সে তো মানুষ নয়, সে নিম্নবিত্ত!
৩|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৭
আমিনুর রহমান বলেছেন:
আমার কাছে মনে হয় বাসের হেলপার কন্টাক্টর/ড্রাইভার বা বাসযাত্রী দুই শ্রেনীর মাঝেই সমস্যা আছে। বাসওয়ালাদের টাকা কামাই করতে হবে আর যাত্রীদের তাড়াতাড়ি পৌছাতে হবে। কিন্তু কেউ আপস করতে রাজি না বলেই এই সমস্যাগুলো প্রকপ আকার ধারন করছে দিনে দিনে।
তবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বলব পরিবহন খাতে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে যার ভোগান্তি আমাদের মাঝে পড়ছে। যারা গালিগালাজ করছে তাদের পক্ষে নই আমি তবে ভালোভাবে বললেও কিন্তু ওরা শুনে না। আগে নিয়মিত বলতাম এখন চুপ করে থাকি কে গালি দিলো আর কে বাস অধিক সময় ধরে থামিয়ে রেখে প্যাসেঞ্জার উঠালো।
৪|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:১৯
মঈন 11 বলেছেন: ভাইরে প্রতিটা মানষকে বদলাতে হবে
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:১১
হেডস্যার বলেছেন:
বাসের ষ্টাফ, কন্ডাক্টর, হেল্পার, ড্রাইভার রা মানুষের বাচ্চা না......
ওরা গালি খাওয়া ডিজার্ভ করে।
আগে এই সমস্ত লোকজন আর ড়িকশা ওয়ালাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাইতাম।
বিভিন্ন ঘটনায় ওরাই চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া দিছে ওরা মানুষের বাচ্চা না......