নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লুৎফর রহমান রনো

লুৎফর রহমান রনো › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনই শ্রেষ্ঠ শিল্পকলা(’ভাঙ্গাগড়া’র বাকি অংশ)

২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:৩৮

ভাঙ্গাগড়ার নিরবচ্ছিন্ন ছন্দের স্পন্দিত সমারোহে চলছে বা ঘুরছে মহাবিশ্বের স্তব্ধ বস্তুপূঞ্জ ও তারই ক্ষুদ্রতর কণাতুল্য পৃথিবীর বুকে বিস্ময়কর প্রাণের প্রবাহ।যাই হোক ফিরে আসতে হয় মূল কথায়।মানুষের সভ্যতার বিকাশ তথা বিদ্যাবুদ্ধি,জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবীয় বিকাশের বিবর্তনের পথে হাজার বছরের ভাঙ্গা-গড়ারই অবিরল নৃত্যছন্দ।উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে উত্তরণের চিহ্ন আজো বহন করছে মানুষ সময়ের পরম্পরায় ।সেদিন খবরের কাগজে পড়লাম,সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে পূর্ণিমা রাতে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে থাকে।তার কারণ,এমন রাতে মানুষের পূর্বসুরিরা ঘুমোতো না শিকারের রাত বলে।চাঁদের আলোয় দলে দলে শিকারের প্রয়োজনে চড়িয়ে পড়তো জলে জঙ্গলে।তারই প্রভাব ঘুচেনি আজো বা মুছে যায়নি ডিএনএ থেকে।

তাই বলা যায় হঠাৎ করে বা ইচ্ছে করলেই মানুষের জীবন-স্বভাব বদলে দেয়া যায় না আমূল।জোর করে জীবনের ছন্দ-তান ছিন্নভিন্ন করে ফেলার অপচেষ্টা যে ভালো ফল বয়ে আনবে না তা চোখ বুজে বলা যায়।মানুষ স্বভাবত স্বাধনি ও শিল্পী।অথচ মানুষের চিন্তা ও কর্মের স্বাধীনতা,আবেগ-অনুভূতির আকুলতা চেটে ফেলে দিয়ে মুনাফা লাভের মেশিনে নিরেট নাট-বল্টুতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এই বণিক শাসিত বিশ্বে।

প্রত্যেক মানুষই একেকজন শিল্পী বা স্র্রষ্টা।মানুষ মাত্রেই সে নিজেকে নিজের মত করে সৃষ্টি করে চলেছে।অর্থাৎ মানুষ তার জীবন গড়ার কারিগর সে নিজেই।তাই তো সে শিল্পী, আর জীবন হলো জগতের সর্বোৎকৃষ্ট শিল্পকলা।এই জীবন শিল্পকে যে যার গুণপনার সামর্থ্য অনুসারে (জীবনকে) শৈল্পিক সৌন্দর্যের শীর্ষ মাত্রায় উত্তরণের জন্যই আজীবন লড়াই করে চলেে।এ লড়াই জীবন শিল্পীর শিল্প-যু্দ্ধও বলা যায়।এই জীবন চর্চার বা শিল্প চর্যার অন্তঃগূঢ় শক্তির উৎস হলো বিচিত্র ছন্দের প্রাচুুর্য।কিন্তু জীবনে এখন ছন্দ কোথায়?জীবনের ছন্দকে যথাস্পন্দিত করার জন্যই আজীবন মানুষের লড়াই।বার্ণাড শ’ কোথাও যেন বলেছিলেন,জীবনের অর্থ নয় নিজেকে খোঁজা,জীবনের তাৎপর্য হলো নিজেকে সৃষ্টি করা।কিন্তু নিজেকে ’সৃষ্টি করা’বা জীবনকে সমৃদ্ধ করার মত সক্ষমতা আজকের পৃথিবীর মানুষের আছে কি? নেই।কিন্তু তা তো হবার কথা নয়।একজন কবি কবিতা লেখেন,চিত্রকার ছবি আঁকেন কিংবা বিশ্বের তাবৎ কথাশিল্প বা পুস্তক প্রতিবেদন সবই তো মানুষের জীবন থেকে রসদ সংগ্রহ করে শিল্পের ছোঁয়ায় অর্থাৎ আরো উন্নততর ও সুন্দর জীবনের অন্বেষণে শিল্পের উৎকর্ষতায় আকেন,লেখেন ও দেখেন।দর্শন বিজ্ঞানও তো ইৎসারিত ও উৎসাহিত চিরকালই মানুষের জীবনের জন্য বা জীবনকে আরো সুন্দর ও ছন্দশীল করে তোলার লক্ষ্যে।অথচ,এতো কিছু সত্বেও জীবন কোথায়?কোথায় জীবনের কাঙ্খিত ছন্দ?জীবন মানে তো যন্ত্রমুখরতা বা রোবটের মতো দিন যাপন নয়

এই দুঃখজনক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আজ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে অনুচ্চ কন্ঠকে উচ্চকিত করে বলা,এ সব সমস্যার আসল কারণ পূঁজিবাদ।পূঁজিবাদের চুড়ান্ত বিকশিত অবস্থার ভেতর দিয়ে এখন অতিক্রম করছে অস্থির পৃথিবী।বর্তমান বিশ্বের একক নিয়ন্ত্রক হলো বণিক গোষ্ঠী।বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি নয় এখন ওবামা বা পুতিন।আমেরিকার বণিক গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট না করে ওবামা অন্তত দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসতে পারতেন না।ঠিক একই ভাবে ভারতের মোদি কিংবা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথাও বলা যায়।এঁরা সবাই বণিক গোষ্ঠীর নেক নজরের সৌজন্যে ক্ষমতায় আসছেন,আছেন।গোটা বিশ্ব এখন একটি বাজার।আর রাষ্ট্রপ্রধানগণ বাজারের একেকটি গলির পাহারাদার মাত্র।ব্যবসায়ীরা স্রেফ তাদের সম্পদের পাহাড় আকাশভেদি করে তুলতে চায়।সে জন্য যা কিছু করা দরকার তাই তারা করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

অত্যন্ত সুচারুরূপে মানুষকে পণ্যে রূপান্তরিত করা হচ্ছে।যন্ত্র-মন্ত্রণায় মানুষকে যান্ত্রিক করে তোলা হচ্ছে যাতে মানুষের ভেতরের মানবীয় মূল্যবোধ,সত্যদৃষ্টি ও আত্মবিকাশের চিন্তাচর্চার স্পৃহা নস্যাৎ হয়ে যায়।এভাবে পাল্টে দেয়া হচ্ছে সৃস্টিশীল জীবন ভাবনা।জীবন এখন সৃষ্টি করার,বিকশিত করার,চর্চা করার জিনিস নয়।যার জীবন তার ইচ্ছার অধীন নয় জীবনযাপন।পূঁজিবাদের ফর্মুলা মত জীবনকে এখন শ্রেণী অনুযায়ী বিভিন্ন মূল্যের মানের ভিত্তিতে প্যাকেজ করে ফেলা হচ্ছে।শ্রমিক,পিয়ন-পেয়াদা,৫ম-৪র্থ-৩য় প্রভৃতি শ্রেণীর কর্মচারিদের জীবন কি মান-মাত্রায় যাপিত হবে,কার কতোটুকু পুষ্টি-শক্তি দরকার তাও বরাদ্দ করা হয়ে থাকে।অর্থাৎ এই মাপ-মান তেকে উত্তরণের আর কোনো রাস্তা খোলা থাকবে না।

কর্পোরেট গোষ্ঠীর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সমস্ত অর্থখাত--ব্যাংক-বাজার এমন কি গণমাধ্যমও।ব্যবসা-বানিজ্যের মত সিন্ডিকেটেড ভাবে পরিচালিত হয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও।যা হোক,কিছু লোক সব ক্ষেত্রেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয় বিশালাকার বেতনের বিনিময়ে,যারা আক্ষরিক অর্থে বণিকের সেবাদাসরূপে নিয়োযিত থাকে।শ্রমিক-কর্মচারি ও অধস্তনদের শোষণ-পীড়ন ও পূঁজির খেদমতই তাদের একমাত্র কর্ম।এমন এক দুষ্টচক্রের বৃত্তে আবর্তিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন।আর ভারি বেতনের সেবাদাসরাও হয়ে পড়ে এক ছদ্ম জীবনের অনুগামী।সন্তানদের ইংলিশ স্কুলে ভর্তি করে দেয় ভবিষ্যতের সেবাদাস গড়ে তোলার খায়েশে।আর তাদের বিনোদন বলতে সপ্তাহে অনাবশ্যক শপিংমলের

ক্রেতারূপে সপরিবারে ঘোরাফেরা।এক সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় সমস্ত অর্থ বণিকের মুঠোয় চলে যায়।দিনকে দিন মানুষ আবেগ-অনুভূতিহীন,মমত্বহীন হয়ে উঠছে,কারণ তাদের চিন্তা-চেতনা-আশা-আকাঙ্ক্ষা সবকিছুই অকার্যকর হয়ে ঝরে পড়ছে।

জীবন এখন জীবন নয়,শিল্প নয়,সৃস্টিশীল ও উত্তরণকামী নয়।পণ্যের মোড়কের মত প্রত্যক্ষ শাসকের সহায়তায় জীবনের ওপর শ্রেণী অনুসারে বিবিন্ন লেবেল লাগিয়ে দিচ্ছে।জীবন এখন আর তাই ভাঙ্গা-গড়ার ছন্দময়তার মধ্যেও নেই।পণ্য-পাথর-আবেগশূন্য জীবনের এই অন্ধযাত্রা কতদূর যাবে কে জানে।তবে একদিন বিস্ফোরণ ঘটবে যে তা সুনিশ্চিত।সভ্যতার ভাঙ্গা-গড়ার ইতিহাস তো তাই সাক্ষ্য দেয়।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:৪৬

লুৎফর রহমান রনো বলেছেন: মন্তব্য আশা করছি--।

২| ২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ১১:৪৭

আহসানের ব্লগ বলেছেন: আধখানা পড়লাম ।
বাকিটা কপি করে রাখলাম ;)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.