নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমার নিরক্ষর,কিন্তু বুদ্ধিমতি মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম,যথাযথ কর্তব্য পালন করেই উপযুক্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব। - মহাত্মা গান্ধি

পদাতিক চৌধুরি

হাই,আমি পদাতিক চৌধুরী।পথেঘাটে ঘুরে বেড়াই।আগডুম বাগডুম লিখি। এমনই আগডুম বাগডুমের পরিচয় পেতে হলে আমার ব্লগে আপনাদের আমন্ত্রণ থাকলো।

পদাতিক চৌধুরি › বিস্তারিত পোস্টঃ

মরীচিকা (শেষ-পর্ব)

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৩০




কথা বলতে বলতে সরুরাস্তা ফেলে অপেক্ষাকৃত বড়রাস্তা ধরতেই স্থানটি একটু চেনা চেনা বলে মনে হল। চলন্ত অটোর ভেতর থেকে একটু মুখ বাড়িয়ে উঁকি মারলাম। শহরের একটু নির্জন বড়রাস্তাগুলি ও আশপাশের বসতিগুলোকে দেখে আমি বেশ তালগোল পাকিয়ে ফেলি। কেন জানি প্রায়ই ক্ষেত্রে রাস্তাগুলিকে আমার একই রকম লাগে। যাইহোক কিছুটা মিল অনুভব করে খুব জোরে না বললেও একটু মৃদুস্বরে চালককে বললাম,
- ভাইয়া গাড়িটা একটু আস্তে চালাও দেখি।
-কেন দাদা আপনি কি স্থানটি চিনতে পেরেছেন?
-অনেকদিন আগে এসেছিলাম,অতটা মনে নেই। তবে এলাকাটা একটু চেনা চেনা লাগছে বৈকি।
ও আমার কথা মত সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটির বেগ অনেকটা কমিয়ে দিল। নাহ! আমার রাস্তা চিনতে ভুল হয়নি। আমি অস্ফুটে বলে ফেললাম,
-এইতো আমরা চলে এসেছি।
-দাদা এখানে তো কোন মিষ্টির দোকান দেখছিনা।
-আর মিষ্টির দোকানের প্রয়োজন নেই ভাইয়া। ওটাকে আমি ল্যান্ডমার্ক হিসেবে খুঁজছিলাম। আমরা পিছন দিক থেকে আমাদের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে গেছি।এই রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে গিয়েই দেখবে ডান হাতে বড় মিষ্টির দোকান আছে। যাইহোক অটো থেকে নেমে একটু আড়মোড়া খেয়ে চালককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে বিদায় দিলাম। ওদের বাড়ির বাইরের দিকটা এক ঝলক দেখে নিয়ে একটু ধীর স্থির ভাবে এক-পা দু-পা করে গেটের সামনে চলে এলাম। কলিংবেল টেপার আগে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ভিতরের কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায় কিনা সচেষ্ট হলাম। নাহ! কোন শব্দ বাইরে আসছে না। তবে বাইরে তালা ঝোলানো নেই মানে ভিতরে নিশ্চয়ই লোক আছে- এটা নিশ্চিত হয়ে কলিং বেলে চাপ দিলাম। তবুও কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। খানিক বাদে আরো একবার বেল টিপলাম।এবার অবশ্য ভেতর থেকে পা ঘষার শব্দ কানে এলো। সাথে সাথে একটি কমবয়সী মেয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। খুব করুণ স্বরে নাকে তুলে জানতে চাইলো,
- আপনি কোথা থেকে আসছেন?
আমার কি উত্তর হবে বুঝতে না পেরে পাল্টা প্রশ্ন করলাম,
- এটা শেফালী ম্যাডামের বাড়ি না?
-আজ্ঞে!
-উনি কি বাড়িতে আছেন?
যথারীতি আদুরে গলায় নাকে তুলে বললো,
-না আ...। দিদি একটু বার হয়েছেন।
-কখন আসবেন বলে গেছেন?
-না আ... । তেমন কিছু বলে যাননি।
উল্লেখ্য আমারও একটু ইচ্ছে হচ্ছিল ওর মত নাকে তুলে কথা বলি। কিন্তু নিজেকে সংবরণ করে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করি,
-উনি তোমার কি হন?
এবার ও নিরবে মুখ নিচু করে রইলো। বুঝতে পারলাম ও বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। আমি আবার প্রশ্ন করলাম,
- তোমার নাম কি?
-আজ্ঞে মুনিয়া আ.. ।
-মুনিয়া বাড়িতে আর কে কে আছেন?
-মাসিমা আ.. আর বড়দি ই..।
এমন সময় মাসীমা বেরিয়ে এলেন। আমি প্রণাম জানালাম। কিন্তু উনি আমাকে প্রথমে চিনতে পারলেন না। এবার মেসোমশায়ের অসুস্থতার কথা বলতেই তৎক্ষণাৎ চিনতে পারলেন এবং জিহবা কেটে দুঃখ প্রকাশও করলেন। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে মুনিয়াকে বকা দিলেন, কেন আমাকে এভাবে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে কথা বলছে বলে। আমি আপত্তি করলাম,
-না মাসিমা মুনিয়ার কোন দোষ নেই। ও আমাকে প্রথমে বলেছিল বসার কথা। কিন্তু আমিই ভিতরে ঢুকতে চাইনি।
আমার কথা শেষ না হতেই মাসিমা আমার হাত ধরে ভিতরে নিয়ে গেলেন। ড্রয়িংরুমটা বেশ ছিমছাম করে সাজানো গোছানো। দুটি সদৃশ্য ভাস ঘরের শোভা বেশ কিছুটা বৃদ্ধি করেছে। এক ঝলকে ঘরের টিপটপ সাজগোজ যে কারো ভালো লাগারই কথা। পাশের ঘরের থালাবাসনের ঝনঝনানি কানে এলো। বুঝতে বাকি থাকলো না যে পাশের ঘরে কিছু একটার আয়োজন চলছে। এমন সময় মাসিমা আবার এলেন,
আদরমাখা ভঙ্গিতে ইশারা করলেন ওনার সঙ্গে যেতে।
আমি মাসিমার নির্দেশ পালন করতে উঠে পড়লাম। দু-পা বাড়াতেই দেখি পাশের ঘরে জানালা লাগোয়া ডাইনিং টেবিল, যেখানে ইতিমধ্যে প্লেটে খাবার রেডি করা আছে। আমি মৃদু আপত্তি করলাম। এবার উনি আমার হাত ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। ওনার আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে হাত মুখ ধুয়ে বাধ্য ছেলের মত খাওয়া শুরু করলাম। খেতে খেতে নানান গল্প সমানে চলতে লাগলো। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠতেই অনুমান করলাম নিশ্চয়ই শেফালী ম্যাডাম বাড়ি ফিরেছে। আমার অনুমানে ভুল ছিল না। মুনিয়া গেট খুলতেই শেফালী ম্যাডাম ঘরে ঢুকলো। দূর থেকে এক ঝলক বিশুদ্ধ হাসি নিয়ে একেবারে পাশে চলে এলো,
-কতদিন পরে আবার দেখা। আমি তো ভেবেছিলাম এ জীবনে আর বুঝি দেখা হবে না।
-আমি কিন্তু এরকম ভাবি নি। আমার ভাবনা ছিল, সময়ে নিশ্চয়ই একদিন দেখা হবেই হবে।
-তো কেমন আছো তুমি? স্কুল কেমন চলছে?
- খুব ভালো আছি। স্কুলও খুব ভালো চলছে।
-বাহ! তোমরা সকলে ভালো আছে শুনে খুব ভালো লাগছে।
-আমি অবশ্য স্কুলটা ছেড়ে দিয়েছি।
- অ্যাঁ! স্কুল ছেড়ে দিয়েছি মানে? কেন ছাড়লে?
-আরে! এতটা ঘাবড়াচ্ছ কেন? তোমাকে একটা ভালো খবর দিতেই তো এলাম এখানে।
-কি খবর? এক্ষুনি বল!
-আমি একটা সরকারি স্কুলের নিয়োগ পত্র পেয়েছি।
-ওয়াও! দারুণ খবর! তবে এতক্ষণ কেন বললে না!
-আসলে বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যে অপেক্ষায় ছিলাম।
-না না। শুধু শুধু শুকনো মুখে খবর দিলে হবে না। মিষ্টিমুখ করাতে হবে।
- নিশ্চয়ই! বল কি মিষ্টি খাবে?
-মা দেখো ওর চাকরিটা হয়ে গেছে। ভীষণ দরকার ছিল চাকরিটা ওর।
মাসিমা আমাদের কথোপকথন আগে থেকেই শুনছিলেন। এখন শেফালী ম্যাডাম বলাতে আবার নতুন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আমাকে আশীর্বাদ করলেন। আমি আরো একবার মাসিমাকে প্রণাম করলাম। এবার আমি শেফালী ম্যাডামের কাছে জানতে চাইলাম,
- এবার তোমার খবর বল। সেদিন তোমার ওভাবে চলে আসার কারণটা জানতে না পারায় মনের মধ্যে যে খচখচানি তৈরি হয়েছিল তা আজও রয়ে গেছে।
আমার কথা শেষ না হতেই মুহূর্তেই শেফালী ম্যাডাম মানে আমার ফিরে পাওয়া শেলীর মুখ থেকে হাসি উধাও হয়ে গেল। সঙ্গে পরিবেশটিও একেবারে বদলে গেল। একটা গুমোট পরিবেশে মাঝে মাঝে কয়েকটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। আমরা চুপচাপ বসে রইলাম। কিছুক্ষণ পর শেলীই নীরবতা ভঙ্গ করলো,
-আসলে বাড়িতে বাবার শরীরটা সে সময় এতটাই খারাপ হয়েছিল যে বাবাকে ফেলে ওভাবে হোস্টেলে পড়ে থাকাটা আর সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এসেই বা কি করলাম। বাবাকে তো আর ধরে রাখতে পারলাম না। এখন আমি একটা ছোটখাটো হসপিটাল সামলাচ্ছি। দিদি তো আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। বাবা চলে যাওয়ার পর মায়ের নানান উপসর্গ লেগেই আছে। নতুন করে যোগ হল মুনিয়া। মুনিয়ার পরিচয় জানার জন্য মনে একটা কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। প্রসঙ্গ উঠতেই বলে ফেলি সে কথা।
-অনির্বাণের বোন। কিছুদিন আগে মেসোমশাই মারা গেছেন। ওদের তেমন কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। যে কারণে দেশে ফিরে ও বোনকে আমার কাছে রেখে গেছে।
এত বিষন্নতার মাঝে অনির্বাণের প্রসঙ্গ উঠতেই আমি কিঞ্চিৎ প্রসন্ন হলাম। শেলী আবার বলতে লাগলো,
-মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন বাবা আমাকে বিয়ে দিতে না পারার যন্ত্রণায় কথা জানিয়ে শিশুর মত কাঁদতেন।একদিন তো আমার হাত ধরে বেশ কয়েকবার ঝাঁকুনি দিয়ে প্রতিশ্রুতি চাইছিলেন যাতে আমি বিয়ে করতে সম্মতি দেই। আমি বাবাকে বোঝাতে ব্যর্থ হই যে মা দিদিকে অসহায় ভাবে ফেলে রেখে স্বার্থপরের মতো বিয়ে করে সংসার ধর্ম পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বরং এসব অহেতুক চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বাবাকে কত করে বোঝাতে থাকি। কিন্তু কিছুতেই ওনাকে বোঝাতে পারেনি। একদম শেষের দিকে আমি পাশে গেলে বাবার নির্লিপ্ত আচরণ আমাকে যেন কুরে কুরে খেত। আমার অসহায়ত্ব কিছুতেই বাবাকে বোঝাতে পারিনি।
শেষের দিকে কথাগুলি বলার সময় শেলীর গলা ধরে এলো। বুঝতে পারছিলাম কিছুতেই নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। বেশ কয়েকবার গলা খাকারি দিয়ে গলা পরিষ্কার করেও নিলো। আমি মাথা নিচু করে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটু দূরে একটা চেয়ারে মাসিমা বসে আছেন। ঘরে অদ্ভুত রকমের নীরবতা। শেলী আবার বলতে লাগলো,
-বিয়ের পিঁড়িতে বসতে আমার আপত্তি ছিল না। কিন্তু দিদি ও মায়ের কথা ভেবে ও পথ না মাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই।সে সময় বাবাকে কথা দিতে না পারলেও উপরওয়ালা বোধহয় বাবার প্রার্থনা মঞ্জুর করেছিলেন।তাই বাবার মৃত্যুর কয়েক মাস পরে হঠাৎ একদিন অনির্বাণ মুনিয়াকে নিয়ে হাজির হয়। দুই ভাই-বোনের এমন অপ্রত্যাশিত আগমনে প্রথমে অবাক হয়েছিলাম।পরে জানতে পারি মেসোমশাই তার কিছুদিন আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। অনির্বাণেরও জাপানে বেশ কিছু কাজ এখনো পড়ে আছে। ওর কথা অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জাপানের পর্ব পাকাপাকিভাবে সাঙ্গ হতে চলেছে। এভাবেই বাবা-মা হারা ছোট্ট মুনিয়ার আমাদের সংসারে নতুন সদস্যে পরিণত হওয়া। শেলীর কথা শুনতে শুনতে বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সময় অনেকটা অতিবাহিত হয়েছে। পাশে রাখা সাইড ব্যাগটি কাঁধে নিয়ে,
-না আর বসবো না। এবার আমাকে উঠতে হবে বলতেই,
বেশ চপলতার সঙ্গে বসতে বলে শেলী আবার পাশের ঘরে চলে গেল।ওর এখনো কিছু বলা বাকি আছে ভেবে ব্যাগটি আবার নিচে নামিয়ে মাসিমা ও মুনিয়ার সাথে গল্প করতে লাগলাম। হাবিজাবি গল্পও একসময় শেষ হয়ে গেল তবুও শেলী না আসায় এবার একটু একটু করে বিরক্ত হতে লাগলাম। একসময় চোখ তুলে তাকাতেই দেখি পাশের ঘরে ম্যাডাম কি সব লেখালেখিতে ব্যস্ত। দূর থেকে চোখাচোখিও হয়ে গেল। ইঙ্গিত করে অনুরোধের সুরে আরও একটু বসতে বলল। আরো কিছুক্ষণ পরে ধীর স্থির ভাবে পাশে এল। ঠোঁটের ফাঁকে মৃদু হাসি নিয়ে দুটি এনভেলাপ আমার হাতে দিয়ে বলল,
-এখানে খোলা যাবে না।পথে যেতে যেতে পড়তে হবে মশাই।
আমি এনভেলাপ দুটি ব্যাগের মধ্যে নিরাপদ স্থানে রেখে দ্রুত পা বাড়িয়ে রাস্তায় নামতেই সঙ্গে সঙ্গে একটি অটো পেয়ে গেলাম। চলে এলাম সোজা স্টেশনে। কিছুক্ষণ পর ট্রেনের খবর হল। সুবিধামতো একটা বসার জায়গাও পেয়ে গেলাম। আমার মন পড়েছিল এনভেলাপের ভিতরে। কাজেই প্রথম চিঠিটি খুললাম,

প্রিয় বন্ধু,

জানিনা এই চিঠিটি কোনদিন তোমার হাতে পৌঁছাবে কিনা। কিন্তু যদি কোনদিন পৌঁছায়, তাহলে সেদিন তোমার মনের অনেকগুলি জিজ্ঞাসার উত্তর পেয়ে যাবে।
সেদিন হোস্টেল ছেড়ে চলে আসার সময় খুব করে বিষয়টি তোমাকে জানাতে ইচ্ছে করছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি।মনে হয়েছিল তোমাকে জানাতে গিয়ে উল্টে যদি চিঠির বিষয়টি জানাজানি হয় তাহলে লোকলজ্জার পাশাপাশি তোমার উপরেও নেমে আসতে পারে আক্রোশের খাঁড়া। অথচ তোমাকে জানানোর জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলাম। একারণেই ওরকম চিঠি লেখার নাটক করে চিঠি দিই। আমার ভাবনা ছিল হয়তো রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে চিঠির কিনারা ধরে তুমি আমার বাড়ি পর্যন্ত চলেও আসবে। যদিও আমার সে প্রত্যাশা সে সময় পূরণ হয়নি।

শিক্ষক প্রশিক্ষণের নাম করে সভাপতি মহাশয় আমাকে নিয়ে গেছিলেন উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে। মনে একরাশ প্রত্যাশা নিয়েই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। উনিও গেছিলেন আমার সঙ্গে একজন আয়োজক হিসেবে। আমরা হোটেলে পৃথক রুম নিলেও ঘটনার দিন একটু রাতের দিকে বিশেষ দরকারে উনি আমার রুমে আসেন। নেহাৎই বিদ্যালয় প্রধান,সৌজন্যবশত আমি ওনাকে ভিতরে ঢুকতে বলি।ওনার ইপ্সিত লক্ষ্য কি সেদিন আমি ঘূণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি। যাইহোক একথা-সেকথা বলতে বলতে কিছুক্ষণের মধ্যে উনি জল খেতে চাইলেন। আমি জল দিতে গেলাম উনার পাশে। অমনি বেরিয়ে পড়লো ওনার আসল চেহারা। যেন এই সুযোগটির জন্যই উনি অপেক্ষায় ছিলেন।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে দুবাহুর মধ্যে জড়িয়ে ধরে।আমি আমার শরীরের সাধ্যমত শক্তি প্রয়োগ করি। চিৎকার করতে যাওয়ায়, জোরে গলা টিপে ধরলে উপর্যুপরি কাশিতে আমার প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।বুঝতে পারি সহজে ওর হাত থেকে রেহাই মিলবে না বরং কৌশলের আশ্রয় নিতে হবে। কাজেই চিৎকার করার রাস্তা ছেড়ে পরবর্তী ঘটনার জন্য আমি মাথা ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা করি। মনের মধ্যে অহরহ বিভিন্ন কৌশল ডানা মেলতে থাকে। কিন্তু তবুও শেষ পর্যন্ত কোন রাস্তা খুঁজে না পেয়ে একসময় অসহায় ভাবে ওর কাছে আত্মসমর্পণ করি। কার্যত প্রায় সারারাত জানোয়ারটার লালসার শিকার হয়ে কখন যে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলাম তারও আর খেয়াল ছিলনা। ভোররাতে চোখ খুলে দেখি দরজা হাট করে খোলা। অবিন্যস্ত জামাকাপড় সামলিয়ে সেদিন সকালে হোটেল থেকে সোজা হোস্টেলে গিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

ইতি-
এক হতভাগিনি

দ্বিতীয় চিঠিটির লেখাটি বেশ উজ্জ্বল। উভয় ক্ষেত্রে চিঠিদুটির কোন তারিখ উল্লেখ করা নেই। বুঝলাম একটু আগে ঘরে বসেই চিঠিটা লিখেছে।

প্রিয় বন্ধু,

সে সময় আমার হঠাৎ গৃহে প্রত্যাবর্তনে তোমার মত বাবা-মাও খুব অবাক হয়েছিলেন। যদিও আমি কাউকে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানানোর প্রয়োজন অনুভব করিনি। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে গেছি। একেবারে শুরুতে মনে ভাবনা ছিল অন্তত স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ করি। কিন্তু পরক্ষণেই আইনি জটিলতায় পড়ে যদি বাবা-মা চাপ নিতে না পারেন, উল্টে বিপরীত ফল হওয়ার আশঙ্কায় সে রাস্তা ত্যাগ করি। এভাবেই পারিপার্শ্বিকতার চাপে পড়ে অবশেষে নিজের সব অদম্য জেদকে জলাঞ্জলি দিতে বাধ্য হই।

আমার এভাবে গুটিয়ে যাওয়া দেখে বাবা-মা অন্য ভাবনা ভাবতে থাকেন।যে বয়সে বিয়ে-শাদী করে সংসার ধর্ম পালন করার কথা অথচ তা না করায় বিষন্নতা আমাকে গ্রাস করছে বলে বাবা-মায়ের ধারণা হয়। তাদের আচরণে আমি সে কথা বুঝতে পারি। অথচ আমি নিজের অসহায়ত্বের কথা কাউকে প্রকাশ করতে পারিনি। নিজের মানসিক অবস্থার সঙ্গে অহরহ সংগ্রাম করতে থাকি।কোন অবস্থায় যেন বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে দাঁড়ানো দুজন মানুষের সামনে ধরা না পড়ি। নিজেকে প্রবোধ দেই,আমাদের সমাজে এরকম হাজারো শেফালী আছে যারা প্রতিনিয়ত কোন না কোন ভাবে যৌন লাঞ্ছনার শিকার হয়ে পারিপার্শ্বিকতার চাপে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে।

আমার এই বিষণ্ণের দিনগুলোতে তোমাকে পাশে পাওয়ার স্বপ্নে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকি।আসলে নিজের যন্ত্রণার কথা কাউকে শেয়ার করতে না পারায় মনের মধ্যে মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। কখনো মনে হয়েছিল অব্যক্ত কথাগুলি মাঝেমাঝে পেটের মধ্যে যেন গুমরে গুমরে উঠছে। আর এ কারণেই দরকার ছিল তোমার মত কোন বিশ্বস্ত সুহৃদের। যদিও আমার অব্যক্ত যাতনা একসময় অবদমিত হয়। ক্রমশ একাকীত্বই আমার সাথী হয়ে ওঠে। আমার সমস্ত চাওয়া-পাওয়া গুলো নিঃসঙ্গতা নামক একটা বিন্দুতে এসে মিলিত হয়। এরই মধ্যে একদিন বাবা চলে গেলেন অমৃতলোকে।নিজের শিক্ষা-দীক্ষা বিবেক বুদ্ধি নিয়ে যখন নিজেই নিজেকে উপহাস করতে থাকি। এমনই এক প্রভাতে অনির্বাণ মুনিয়াকে নিয়ে হাজির হয়। বাবা-মা হারানো অভাগিনী মেয়েটি বয়সে খুবই ছোট্ট ঠিকই কিন্তু উপরওয়ালা ওর হৃদয়কে আকাশ সমান মায়ায় ভরিয়ে দিয়েছেন। ওই এখন আমাদেরকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর করে তুলেছে।যে কারণে আমি এখন স্বপ্ন দেখি এক নতুন প্রভাতের....


ইতি-
শেফালী

বিশেষ দ্রষ্টব্য:-টাইপো থাকলে সময় নিয়ে ঠিক করা হবে।






মন্তব্য ৫৮ টি রেটিং +১৩/-০

মন্তব্য (৫৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৪২

আনমোনা বলেছেন: শেষ পর্বে প্রথম হলাম।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রথম মন্তব্যে আলাদা ভালোলাগা। আপনাকে এতদিন পর প্রথম কমেন্টে দেখে আমিও আনন্দিত। ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
পোষ্টটিতে লাইক করায় প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শুভেচ্ছা নিয়েন।

২| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৪৫

শের শায়রী বলেছেন: ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম ভাই।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শুভ সকাল প্রিয় শের শায়রী ভাই। আমার কোন পোস্টে আপনার প্রথম কমেন্ট সু-স্বাগতম আপনাকে। পোস্টটি ভাল লাগাতে আনন্দ পেলাম ধন্যবাদ আপনাকে ।

শুভকামনা জানবেন।

৩| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৪৬

শের শায়রী বলেছেন: শুরুতে আগের পর্বগুলোর লিঙ্ক দিলে ভালো হত।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনার পরামর্শের জন্য আবারো ধন্যবাদ। একদম শুরুতে কোন পোস্টে লিংক না দেওয়ায় শেষের দিকে আর লিংক দেওয়া যথাযথ মনে করিনি। তবে যদি আপনার হাতে একটু সময় থাকে তাহলে কষ্ট করে আমার ব্লগে পুরানো পর্বগুলো একবার ঢুঁ মারার অনুরোধ করবো।

নিরন্তর শুভেচ্ছা ভাই আপনাকে।

৪| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৫২

আনমোনা বলেছেন: শেফালী ম্যাডাম এইভাবে পালিয়ে গেলো? মানতে পারছিনা। মি টু মুভমেন্ট যে কতখানি দরকার তা আবার বুঝা গেলো।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হ্যাঁ আপু আপনার সঙ্গে সহমত এভাবে মেনে নেওয়াটা পলায়নের নামান্তর। বহু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা পারিপার্শ্বিকতার চাপে সব কিছুই মেনে নেয়। যারা নিজেদের অদম্য জেদকে মূলধন করে প্রতিবাদের রাস্তা ধরে তাদের বহু জনের ক্ষেত্রে নেমে আসে অত্যাচারের পরবর্তী পর্ব,যা তাদের পরবর্তী জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
পূর্ণাঙ্গ কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
শুভকামনা জানবেন।

৫| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০৩

মা.হাসান বলেছেন: ৩২ নম্বর পর্ব পড়ে আসছি।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় মা.হাসানভাই,

হ্যাঁ আপনার আগের পর্বে কমেন্ট আমি ইতিমধ্যে দেখেছি। সময় নিয়ে প্রতিমন্তব্য দিয়ে আসছি।
শুভেচ্ছা নিয়েন।

৬| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ২:২৩

মা.হাসান বলেছেন: এটা কি রকম শেষ হলো? ছোট গল্পে এরকম শেষ মানায়। উপন্যাসে এরকম সমাপ্তি মেনে নিতে কষ্ট হয়।

মানুষের চেহারার অমানুষ সব কালে সব দেশেই আছে, ছিলো, থাকবে। জগতের সব সমস্যা আমরা দূর করার ক্ষমতা রাখি না। জীবন বয়ে যায়। দুঃখ, বেদনা, আনন্দ- সব মিলিয়েই জীবন। ভালোবেসে কেউ হাত ধরলে দুঃখ সাগর পাড়ি দেয়া সহজ হয়।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন উপন্যাসের শেষে প্রধান দুটি চরিত্রের মিল হওয়াটা স্বাভাবিক। আর তা না হলে আমাদের মধ্যে একটা অস্বস্তি ভাব চলে আসে। কিন্তু জীবনের গতিপথে মানুষ সর্বদা কোন না কোন অবলম্বন পেতে চায়।তাই গল্পে নিগৃহীত হয়ে যখন দরকার ছিল এক প্রকৃত বন্ধুর সাহচার্য তখন কিন্তু শেলী তা না পাওয়ায় মনোজগতে বিরাট এক শূন্যতা তৈরি হয়। অপরদিকে অনির্বাণ তার কলেজ জীবনের বন্ধু ছিল।তাই এমন যুগসন্ধিক্ষণে অনির্বাণের আবেদন তার কাছে সম্মান পেয়েছে।
কাজেই আপনার শেষ কথাটি,"ভালবেসে কেউ হাত ধরলে দুঃখ সাগর পাড়ি সহজ হয়।" চমৎকার লাগলো।

শুভকামনা প্রিয় মা.হাসানভাইকে।

৭| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৩৭

আরোগ্য বলেছেন: এ কি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। মরীচিকার শেষ পর্ব! :( এখনও পড়িনি, হঠাৎ ব্লগে এসে পোস্ট দেখে অবাক হলাম। পড়তে পড়তে ঘুম এসে যাবে তাই তড়িঘড়ি একটা মন্তব্য করে নিলাম। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল পূর্ণাঙ্গ মন্তব্য করবো। শেষ পর্ব লেখাটি দেখে মনটা উদাস হয়ে গেল ভাইটি।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আরোগ্য,

হ্যাঁ ঠিকই দেখেছো মরীচিকার শেষ পর্ব। দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হতে চলল। কাজেই একদিন তো শেষ করতেই হত। সময় পেলে পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করবে, আশা করি। তোমার অভিব্যক্তি, মরীচিকার প্রতি তোমার প্রেম দেখে আমি অভিভূত। আপাতত একটি ভ্রমণ কাহিনী দিয়ে পরে তোমাদের জন্য নতুন পর্ব প্রস্তুতি করতে চলেছি।
আগামীতেও এভাবেই তোমাদের পাশে পাওয়ার আশা রাখি।

একইসঙ্গে আরেকটি কথা তোমার বলার,
ব্লগ ডে-তে তোমার যাওয়া চাই চাই। আমি কোন অজুহাত শুনতে চাই না। আমার প্রতি তোমার বিশ্বাস থেকে থাকে তাহলে বড় ভাইয়ের স্থান থেকে আশা করবো তুমি আমার অনুভূতিকে মূল্য দেবে। অগ্রিম শুভেচ্ছা রইল। আর সেদিনের বিপরীত ধর্মী অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্লগে একটি জমজমাট পোস্ট দেবে। আমি তোমার সেই পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম....

নিরন্তর শুভকামনা ও ভালোবাসা জানবে।





৮| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:২৫

নজসু বলেছেন:



শুভ সকাল।
দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেলো মরীচিকা। অনেক ব্লগ স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই উপন্যাসটিতে।
ভালোবেসে ফেলেছিলাম স্কুল মাস্টার আর শেফালীকে। পরে কি ঘটেছে জানিনা।
আমার ইচ্ছে আছে অবসরে আমি মরীচিকা পুরোটা পাঠ করে নেবো।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় নজসু ভাই,

আপনি যখন কমেন্ট করেছিলেন তখন ছিল সকাল। কিন্তু আমার প্রতিমন্তব্য দেওয়ার সময় সময়টা গড়িয়ে হয়ে গেছে সন্ধ্যা। কাজেই আপনাকে জানাই শুভ সন্ধ্যা। হ্যাঁ দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হতে চললো ব্লগে সিরিজটি দিয়েছিলাম। সে দিক থেকে একটু দীর্ঘতর হয়ে গেল বৈকি। কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাদেরকে যারা আমার দীর্ঘসূত্রতার সত্বেও ধৈর্য ধরে পর্বগুলো একটার পর একটা পড়ে গেছেন এবং মূল্যবান মতামত দিয়ে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। আপনাদের এই ঋণ কোনদিন পরিশোধের যোগ্য নয়। আপাতত ছোট্ট একটি ভ্রমণ কাহিনী আছে। এই পরে আবার একটি পর্ব শুরু করার ইচ্ছা আছে। আপনাদেরকে যথারীতি পাশে পেতে চাই।

শুভকামনা ও ভালোবাসা প্রিয় নজসুভাইকে।


৯| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৪৮

ইসিয়াক বলেছেন:



শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ.....।
দুঃখ রইলো তাই অনিঃশেষ।
ভালোবাসায় মোড়া ছিলো দীর্ঘ পথচলা,
আর হয়তো হবেনা দেখা,হবেনা কথা বলা।।


শেষটা এভাবে হবে ভাবিনি।একটা নরপিশাচ অমানুষের জন্য শেফালির জীবনটা এভাবে .....।সত্যি সমবেদনা জানাবার ভাষা নেই।
পোষ্টে ভালোলাগা।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৩৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় ইসিয়াকভাই,

বিলম্বিত উত্তর দেওয়ার জন্য দুঃখিত।
অনেক কিছুর শেষ আমাদের মনমতো হয়না। পাঠক হিসেবে আপনার স্থানে থাকলে আমিও এমনটা আশা করতাম। কিন্তু জীবনের কঠোর বাস্তবতা যে আমাদেরকে কখনোবা মেনে নিতে হয়।আলোচ্য গল্পে তেমনই একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাঠকের চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে গল্পের গতিপ্রকৃতি নিয়ে পৃথক ভাবনার।

পোস্টে লাইক দিয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শুভকামনা রইল।

১০| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৩৯

নুরহোসেন নুর বলেছেন: বিষন্নতা ছুঁয়ে গেল শেষটায়!
সমাজের শত শত সহজ সরল শেফালী ,
অমানুষদের লালসার শিকার হয়ে লাঞ্ছিত জীবন যাপন করছে।
দুঃখজনক।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় নুরহোসেন ভাই,

আপনার ছোট্ট আবেগ ধর্মী মন্তব্যে মুগ্ধ হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে। গল্পের ছোট্ট মেসেজটা আপনার সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে ধরা পড়ায় আনন্দ পেলাম। আবারো ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি যেহেতু ব্লগে অনেকটা নূতন কাজেই আমার অন্যান্য পর্বগুলোও পড়ার অনুরোধ রইল।

নিরন্তর শুভেচ্ছা আপনাকে।

১১| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩২

নীল আকাশ বলেছেন: মাইন্ড করবে না। না, মোটেও ভালো ফিনিস হয় নি। চমক হিসেবে দেখাতে চাইলে সেটাও হয় নি!
ছোট গল্পে বা বড় গল্পতে এরকম শেষ মানায়। উপন্যাসে এরকম সমাপ্তি মেনে নিতে কষ্ট হয়।
আমি নিশ্চিত আপনি অন্য কোন ধান্দায় আছেন। অথবা ধৈর্য্য হারা হয়ে পড়েছেন। লেখাটা পড়লেই বুঝা যাচ্ছে প্রচুর তাড়াহুড়া করেছেন। বানানের কথা তো বাদই দিলাম। মানবীয় অনুভূতির জায়গা গুলিতেও অস্পষ্টতার ছাপ দেখা যাচ্ছে।
এই বিষয়ে আমি পরে আপনার সাথে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো।
ধন্যবাদ।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় নীল আকাশ ভাই,

না না কেন মাইন্ড করবো আপনি ঠিকই বলেছেন। পাঠকের নিজস্ব স্বাধীনতা থাকবে; তারা তো তাদের মতো ভাববে। আর এই জন্যই তো ব্লগিং মিথস্ক্রিয়া।
অনির্বাণ চরিত্রটি কথা আপনার কতটা মনে আছে জানিনা তবে তার আবেদন কিন্তু গল্পের শেফালী ম্যাডাম উপেক্ষা করতে পারেনি। গল্পের অপর একটি প্রধান চরিত্র স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে মিলনকে যদি দেখানো হতো সে ক্ষেত্রে আর পাঁচটা সাধারণ উপন্যাসের মতোই পাঠক হৃদয় কতটা রেখাপাত করত সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। যাইহোক পাঠকের নিজস্ব ভাবনার শক্তির মতোই লেখকেরও নিজস্ব চিন্তাশক্তির স্বাধীনতা থাকাটা স্বাভাবিক।
সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য একরাশ মুগ্ধতা।

সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে গিয়ে বানানোর দিকটা নজর দেইনি। পোস্টের শেষে উল্লেখও করেছি সে কথা। পরেরদিন সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। এরপরও যদি কিছু টাইপো থেকে থাকে দয়া করে উল্লেখ করবেন।

আর মানবিকতার যেহেতু কোনো মাপকাঠি নেই কাজেই ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। যদিও আমি পরে কিছু সংযোজন করেছি। সময় থাকলে অনুরোধ করবো আর একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়ার।
পোস্টটিতে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।



অফুরান শুভেচ্ছা জানবেন।

১২| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: ৩৩ পর্বে শেষ হলো মরীচিকা।
টুংটাং শব্দ শুনেই বুঝে গেলেন চা নাস্তার ব্যবস্থা হচ্ছে !

পরপর দুইবার পড়লাম।

আপনার এই ধারাবাহিকের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি থাকতে পেরেছি। এজন্য আমি আণন্দিত।

দাদা নতুন একটা ধারাবাহিক আজই শুরু করেন দেন প্লীজ। জানি আপনি খুব ব্যস্ত। তারপরু দাদা আমাদের জন্য।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বিলম্বিত উত্তর দেওয়ার জন্য দুঃখিত। তবে এই বিলম্ব যত বেশি না আমার কারনে তার চেয়েও অনেক বেশি আমার ব্রাউজারের সমস্যার কারণে। হ্যাঁ টুংটাং শব্দ যেহেতু চা পানকে বোঝায় কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল নাস্তা জাতীয় খাবার পরিবেশন করা, যে কারণে পরে ওই শব্দটি সরিয়ে দিয়েছি।
পরে পোষ্টটির বহু স্থানে প্রয়োজন মতো কিছু সংযোজন করেছি। প্রিয় ছোট ভাইকে অনুরোধ করবো পোস্টটি আর একবার পড়ার।
এই ধারাবাহিকের সঙ্গে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত থেকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
সেইসঙ্গে ধন্যবাদ জানাই তাদের সকলকে যারা ভাইয়ের মতো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়ে আমাকে উপন্যাসটির সমাধা করতে সহযোগিতা ও অনুপ্রাণিত করেছেন। তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে রইল বিমুগ্ধ ভালোবাসা ও নিরন্তর শুভকামনা।

মন্তব্যের একেবারে শেষপ্রান্তে ভাইয়ের অনুরোধটি মাথা পেতে নিলাম। আবার একটি বড়গল্পের কাজে হাত দিয়েছি। তবে পোস্ট আকারে দিতে এখনো যথেষ্ট সময় লাগবে। তার আগে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি ভ্রমণ কাহিনী দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আশাকরি ভাইকে বরাবরই পাশে পাব।

অফুরান শুভেচ্ছা প্রিয় ছোট ভাইকে।



১৩| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫১

ঢাবিয়ান বলেছেন: শেষ পর্বটা এত কষ্টের হবে বুঝতে পারিনি।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় ঢাবিয়ান ভাই,

আপনার ছোট্ট আবেগময়ী মন্তব্য হৃদয় ছুঁয়ে গেল। গল্পে গতি প্রকৃতি অনুযায়ী হয়তো বুঝতে পারেননি শেষ পরিণতিটি গল্পের প্রধান
নারী চরিত্র শেফালী ম্যাডামের এতটা করুণ হবে। কিন্তু অপ্রত্যাশিত আঘাতও আমাদের মাঝে হাজার সইতে হয়। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানবেন।

শুভেচ্ছা নিয়েন।

১৪| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১৬

জুন বলেছেন: প্রিয় পদাতিক আপনার মরিচীকা উপন্যাসের পিছু পিছু ছিলাম সেই প্রথম থেকেই। মাঝে অনেকগুলো পর্বে মন্তব্য করা হয়নি বটে তবে পড়ে গেছি এক অদম্য আগ্রহে। কিন্ত আমার প্রিয় চরিত্র শেফালী ম্যাডামের এই করুন পরিনতি মানতে কষ্ট হচ্ছে। আর এই পর্বটি লিখতে অনেক তাড়াহুড়ো করেছেন তা লেখার ভংগীতেই স্পষ্ট। যাক তারপর ও ব্লগের পাতায় এত ধৈর্য ধরে একটা উপন্যাস শেষ করা সত্যি বিরাট ব্যাপার। আমাদের পাঠকদের মত আপনিও অবশ্যই একে ছাপার অক্ষরে দেখতে চাইবেন। তখন এক্টু পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করবেন আশা করছি। আর তাতে যে অবস্থা দাড়াবে তখন আমরা গর্বের সাথে বলবো আমরা পদাতিক চৌধুরীর সহ ব্লগার :)
+

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আপু,

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি বিলম্বিত উত্তর প্রদানের জন্য।দিনের বেলা একটু ব্যস্ত থাকি ঠিকই কিন্তু রাতের বেলা ব্লগিং করতে গিয়ে দেখি নিজের পোস্টে প্রতিমন্তব্য করার জন্য সবুজ বাটন অনুপস্থিত। একবার মনে হয়েছিল সামুর ফেসবুক পেজে এই নিয়ে একটা পোস্ট দিই। কিন্তু তা আর শেষ মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে আজ থেকে আবার সব স্বাভাবিক দেখছি।
পোস্ট প্রসঙ্গে:-
আপনার সুন্দর গঠনশৈলী মন্তব্যের জন্য একরাশ মুগ্ধতা। প্রসঙ্গত জানাই,গত এক বছর ধরে যে লেখাটাকে নিজের সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে লালন পালন করেছি, কিন্তু শেষ করতে গিয়ে ওরকম একটি করুণ পরিণতি তৈরি করাতে আমি নিজেও যারপরনাই ব্যথিত। তবে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় গল্পের দুটি প্রধান চরিত্রের যদি মিল হতো সেক্ষেত্রে পাঠক মনে কতটা রেখাপাত করতো সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সংশয় আছে।আর একারণেই গল্পের শেষ পরিণতি একটু আন ইজি করার চেষ্টা।

নিজের সৃষ্টিকে মলাটবন্ধ করার স্বপ্ন যেকোনো খুদে লেখাকের থাকে। কাজেই অস্বীকার করবোনা যে আপু আমারও সেই স্বপ্ন নেই। হ্যাঁ আছে! স্বপ্ন দেখি। উপরওয়ালা সহায় হলে নিশ্চয়ই একদিন সে প্রত্যাশা পূরণ হবে।
পোষ্টটিতে লাইক করায় প্রেরণা পেলাম ; কৃতজ্ঞতা জানবেন।

শ্রদ্ধা ও শুভকামনা প্রিয় আপুকে।


১৫| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১৬

হাবিব স্যার বলেছেন: এভাবে সমাপ্তি বেমানান। আসলেই তাড়াহুড়া করেছেন। শেষ পর্বে আপনার সেই চিরচেনা ঢংয়ের ঘাটতি বেশ লক্ষণীয়।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহাহা.. পাঠকের মতো লেখকেরও নিজস্ব স্বাধীনতার থাকবেই থাকবে। লেখাপড়া শিখলেও যে সব সময় সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায় তা নয়, জীবনে চলার পথে বহু ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিকতার চাপে পড়ে আমাদেরকে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়। যদিও আমরা চাই সবার জীবন সুখকর ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক।
মন্তব্যের শেষ অংশ সম্পর্কে, আরেকবার পোস্টটি পড়ার অনুরোধ করবো। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কিছু যদি চোখে পড়ে তাহলে পৃথক মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম..

পোষ্টটিতে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম। কৃতজ্ঞতা জানবেন।
অফুরান শুভেচ্ছা প্রিয় হাবিব ভাইকে।

১৬| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১৯

হাবিব স্যার বলেছেন: জুন আপুর মন্তব্যটা বেস্ট ছিলো। নীলআকাশ ভাইয়ের মন্তব্যটা ভালো লেগেছে।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সহমত প্রিয় ভাই আপনার সঙ্গে। পোস্টটিতে অনেকের মন্তব্য খুবই ভালো হয়েছে। তাদের মধ্যে জুনাপু ও নীল আকাশ ভাইয়ের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। এমন গঠনমূলক মন্তব্য যে কোন ব্লগারকে তার সঠিক দিশা দেখাতে পারে। এজন্যই দরকার ব্লগিং মিথস্ক্রিয়া।
ধন্যবাদ আপনাকে।
ভালোবাসা সতত।

১৭| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এটা কি হলো?

না পেল ঘর না পেল বর!
আর এত আবেগ নিয়ে ছুটে যাওয়া সুখবর না দিয়েই পত্রহাতে বিদায় !
হবে না!
ধর্মট হবে :P

জুনাপু আর হাবিব স্যারের সাথে সহমত। জলদিই শেষ করার তাড়া ছিল কি?

পঠক মতামত ভেবে দেখবেন আশা করি।
শুভেচ্ছা অফুরান

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শ্রদ্ধেয় কবি ভাই,

হাহাহা. ‌‌‌....

জীবনের সব অঙ্কের যে উত্তর মেলে না। হা-হুতাশ করা ছাড়া তখন যে আমাদের কিছু করার থাকেনা। তবে ম্যাডাম যে বর পাইনি তা কিন্তু নয়। স্পষ্ট একটা ইঙ্গিত আছে অনির্বাণকে নিয়ে। আর চাকরি পাওয়ার খবরটি এক সমুদ্র দুঃখের মধ্যে না বলার প্ল্যান ছিল।ওখানে বরং তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম যে মাস্টারমশাই নিজের সুখবরটি দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি। যদিও আপনি বলার পরে ভাবনাটা পরিবর্তন করলাম। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনে কিছু সংযোজন এনেছি। যদি সময় থাকে তাহলে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করবো।

জুনাপু এবং হাবিব স্যার দু'জনেই বিচক্ষণ ব্লগার। ওনারা সুন্দর মন্তব্য করেছেন। পাঠকের মন্তব্যের অতি সূক্ষাতিসূক্ষ বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকেও।
পোষ্টটিতে লাইক করায় প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।

শ্রদ্ধা ও শুভকামনা আপনাকে।




১৮| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৩

জুল ভার্ন বলেছেন: আপনার 'মরিচিকা' সিরিজের প্রথম থেকে আমি ছিলাম না। তবে কয়েকটা পর্ব আমি পড়েছি গত কয়েক দিনে। খুব ভালো লেগেছে।

সাধারণত, লম্বা সিরিজের লেখাগুলো বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই 'টেনেটুনে লম্বা' করার প্রবণতা থাকে লেখকের অজান্তেই। যেটা আপনার এই সিরিজ লেখায় একেবারেই ঘটেনি বরং শেষ পর্যন্ত পাঠকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হতে দেয়নি আপনার সাবলীল উপস্থাপনা।

সকল সুন্দরের সাথে আছি।
ধন্যবাদ।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শ্রদ্ধেয় ভাইজান,

অফিশিয়ালি আমার ব্লগে আপনার প্রথম কমেন্ট; সু-স্বাগতম আপনাকে।আপনি যেহেতু মরীচিকার প্রথমদিকে ছিলেন না কিন্তু পরের থেকে বেশকিছু পর্ব পড়েছেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রথম দিককার পর্বগুলোও একটু পড়ার অনুরোধ করবো।

কমেন্টের পরবর্তী অংশে আপনি বিচক্ষণ ধর্মী মন্তব্যে একরাশ মুগ্ধতা। সহমত আপনার সঙ্গে যে বহু ক্ষেত্রে ছোটগল্পকে বিভিন্নভাবে মেদযুক্ত করে দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা উঠতি লেখকদের থাকে। আমিও যে ওটা করেননি তা নয়, হয়তো কোন ভাবে আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। তবে ধরা না পড়ায় পুলকিত হলাম হাহাহা...

আগামীতেও আপনার এমন সুন্দর গঠনশৈলী মন্তব্য পাবো আশা করি।
শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা নিয়েন।

১৯| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৯

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: একটি গল্প সার্থক করার পিছনে লেখকের যে শ্রমটুকু দেয়া প্রয়োজন তার আপনি দেয়েছেন। বহুল পঠিত ব্লগে আপনার সিরিজটি আমার মতে সর্বসেরা। একজন গুনি লেখক যে আপনি তা অস্বীকার করার মতো নয়। তারপর আপনার ব্লগ প্রীতি ও ব্লগারদের প্রতি সম্মানও সবার সাথে যে মেলমন্ধন তৈরি করেছেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। হে লেখক, আপনাকে শ্রদ্ধা সবসময়ের। আমি আপনর সিরিজের প্রথম থেকে শেষঅবদি ছিলাম। প্রতি পর্বপাঠে কম বেশী মন্তব্য করে নিজেকে কোন কোন সময় পন্ডিত হিসেবে দাঁড় করিয়েছি। আসলে আমি তেমন কেহ নয়। শুধু একজন সাধারণ পাঠক। উচ্চমর্গীয় লেখকদের সমালোচনা করা যে আমার জন্য নয় তা জেনেও যে কাজটি বার বার করেছি তার জন্য দু:খীত।
আপনার শেষ পর্ব পড়ে মনোপুত হতে পারিনি তবে এই বলে মেনে নিয়েছি এই ব্লগে হয়তো সিরিজটির শেষ এইখানে লিপিত হবে হয়তো অন্যরকম। বড় গল্পের শেষটায় পাঠক এমন ভাবে চায় না। তবে লক্ষনীয় বিষয় হলো আপনি এই গল্পটিতে বেশ কয়েকটি মেসেজ রেখে গেছেন। মানবতা, সমাজের কটুচোখ, লোভ আর লালসা।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় সুজন ভাই,

মরীচিকার এক্কেবারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাকে যেভাবে পাশে পেয়েছি তার জন্যে জানাই অকুণ্ঠ ধন্যবাদ। আমি একজন হাতুড়ে লেখক। কর্মব্যস্ততার মধ্যে চেষ্টা করি দু-এক কলম লিখতে। যদি সেটা পড়ে আপনারা আনন্দ পান তাহলে সেটা হবে আমার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। পরবর্তীতে লক্ষ্য আছে একটি ভ্রমণ কাহিনী লেখার। আশা করব একিভাবে আপনাকে পাশে পাবো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আপনি একজন বিচক্ষণ পাঠক। বিভিন্ন মন্তব্যে আপনি আপনার বিচক্ষণতা তুলে ধরেছেন। পোস্টে আপনার মন্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত খুব অতৃপ্তি লাগতো। পাশাপাশি আপনার লেখনিও খুব শক্তিশালী। আপনার পাঠক এবং লেখক সত্তার সাফল্য কামনা করি।

শেষ পর্বে বিশেষ অনুভূতি সম্পর্কে ইতিপূর্বে আরও কয়েকজনের প্রতিমন্তব্যে যে বিষয়টা উল্লেখ করেছি আপনার জন্যও একই কথা বলছি।স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় বিপরীতমুখী দুটি চরিত্রের মিল হলে সেটা পাঠক মনে কতটা রেখাপাত করতো সে বিষয়ে সংশয়ে ছিলাম।
যে কারণে এরকম একটি উপস্থাপনা।


সবশেষে আবারো ধন্যবাদ আপনাকে এমন সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
নিরন্তর শুভেচ্ছা জানবেন।

২০| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: শেফালী ম্যাডামের প্রতি ব্লগারদের ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ!!

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহা... আমি মুগ্ধ ব্লগারদের সঙ্গে ভাইয়েরও ম্যাডামের প্রতি ভালোবাসা দেখে।
আবার মন্তব্যে এসে সুন্দর অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য ভাইকে অজস্র ধন্যবাদ।
ভালোবাসা সতত।

২১| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৮

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আমি যখন মরীচিকা সিরিজের সাথে ছিলাম, শেফালী ম্যাম তখন সদ্যই শেলী
ব্লগে অনুপস্থিতির সময়টুকে যে এভাবে চমৎকার রোদ মাখা এক সকালের এমন ধুসর সন্ধ্যা নামাবে একেবারেই কল্পনাতে আসেনী।
তবে খুব যে অবাক হয়েছি তা বলব না, জীবনের অনেকটা পথ হেটে এসে সমাজের লোভ ঘৃণা, অমানবিকতার উদহারন ত কম দেখি নাই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সব চাইতে রোমান্টিক আদুরে খ্যাত জুটির পরস্পরকে এড়িয়ে চলা দেখেছি। আবার সমাজের চোখে পতিত বন্ধুকে সম্মানিত করতে ও দেখেছি।
লেখায় এই সমাজের বাস্তবতা উঠে এসছে।

ভালোলাগা।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:১১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আপু,

বহুদিন পর আপনার কমেন্ট পেয়ে আমি উচ্চসিত। মরীচিকার প্রথম থেকেই আপনি সঙ্গে ছিলেন । মাঝে কিছু পর্বে কমেন্ট না করতে পারলেও আপনি একবার চোখ বুলিয়ে নিতেন, সে কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছেন।সুতরাং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে থেকে আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনি কবি মানুষ,কমেন্টে তার-ই ঝলকানি থাকে বারেবারে।আজও তার ব্যক্তিগত ঘটেনি। চমৎকার মন্তব্যে মুগ্ধতা।
পোষ্টটিতে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম, কৃতজ্ঞতা জানবেন।
নিরন্তর শুভেচ্ছা আপনাকে।

২২| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৪

রূপম রিজওয়ান বলেছেন: আমার মত বাচ্চা-কাচ্চা আপনাদের লেখা নিয়ে কমপ্লিমেন্ট করলে বড্ড বেখাপ্পা শোনাবে।
শুধু এ'টুকু বলতে পারি,শেষ পর্বটা কিছুটা পড়ে আর পড়িনি।আগের কিস্তিগুলো সব খতম দিয়ে তবেই আসব বাকিটুকু শেষ করতে।মাঝপথে আছি এখন,আমার পড়ার গতি একটু শ্লথ কি না।

আমি ব্লগে একদম নতুন;চিনবেন না হয়তো। আচ্ছা,স্যার/জেঠু/ভাই/দাদা,আমাকে কয়েকটা টিপস দিতে পারেন লেখালেখি নিয়ে????

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় রিজওয়ান ভাই,

আমার ব্লগে আপনার প্রথম কমেন্ট সু-স্বাগতম আপনাকে।
" আমার মত বাচ্চা-কাচ্চা আপনাদের লেখা নিয়ে কমপ্লিমেন্ট করলে বড্ড বেখাপ্পা শোনাবে।" একেবারে ভুল ধারণা ভাইয়া। আমরা যারা লেখালেখি করি ব্লগে, নিতান্তই হাতুড়ি লেখক। এদের সম্পর্কে নিজেকে নিয়ে এতটা হীনমন্যতার কোন কারন দেখিনা।বলার যে কেউ এক দিনে বড় হয় না দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাবসায় পরে একজন তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছায়।।
পাশাপাশি আরেকটি কথা বলার যে যেহেতু আপনি ব্লগে নুতন বিগত এক বছর ধরে চলে আসা আমার পোস্টগুলি আপনার কাছে একেবারে অজ্ঞাত। এই অবস্থায় সময়ের সাশ্রয় হলেন পুরানো পোস্টগুলি পড়ার অনুরোধ রইল।
লেখালেখি নিয়ে যেহেতু আপনি জানতে চেয়েছেন, আপনাকে ব্লগে একটু বেশি পড়াশোনা করতে হবে। যত বেশি সংখ্যক অন্যের পোস্টে কমেন্ট করতে হবে (গঠনমূলক)।
লিখতে লিখতে এক সময় আপনার ভাবনায় মসৃণতা আসবে।আর তখনই আপনার লেখনি শক্তির ক্ষুরধার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

২৩| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৪

সোহানী বলেছেন: শেষ!!!!

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হ্যাঁ আপু! অবশেষে মরীচিকা শেষ করতে পেরেছি। আপনাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এ কাজে সহানুভূতিশীল হওয়া সম্ভব হতো না।
পোস্টটি লাইক করায় প্রেরণা পেলামনা; কৃতজ্ঞতা জানবেন।

নিরন্তর শুভেচ্ছা আপনাকে।

২৪| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২১

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
অবশেষে শেষ হল মরীচিকা। কিন্তু শেফালী ম্যাডামের এমন পরিণতি মানা যায় না।

অন্যভাবেও শেষ হতে পারতো....................।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় মাইদুল ভাই,

পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। হ্যাঁ অবশেষে মরীচিকা শেষ হলো। শেফালী ম্যাডাম এমন পরিণতি মানতে কষ্ট হচ্ছে। ভালো কথা কিন্তু আমাদের সমাজের এই ঘটনাগুলোকে আমরা অস্বীকার করি কি করে। হ্যাঁ হতেও পারতো। তবে আমার ভাবনায় দুটি বিপরীতমুখী চরিত্রের স্বভাবসিদ্ধ মিলনে পাঠক মনে কতটা রেখাপাত করত সে বিষয়ে সংশয়ে। আর এ কারণেই একটু ঘুর পথের অবলম্বন আর কি।
অফুরান শুভেচ্ছা জানবেন।

২৫| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০৬

আরোগ্য বলেছেন: প্রিয় ভাইটি,
সেদিন রাতেই পড়েছিলাম কিন্তু মরীচিকার রেশ ধরে রাখার জন্য ইচ্ছে করেই বিলম্বে মন্তব্যে আসলাম। মরীচিকা পড়তে যেয়ে পুরানো দিনের কথা মনে পড়ে যেত। আগে মানুষ কোন সিরিজ পড়ার জন্য যেমন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক কিংবা মাসিক পত্রিকার অপেক্ষা করতো আমরাও ঠিক মরীচিকার জন্য তেমন আগ্রহেই অপেক্ষায় থাকতাম। আবার পোস্ট আসতে বিলম্ব হলে তোমাকে তাগাদা করতাম। পোস্ট এলে প্রথম মন্তব্য করার প্রতিযোগিতা করতাম। কত যে স্মৃতি জড়িত মরীচিকার সাথে। আমার কাছে মরীচিকা কোন পোস্ট নয় বরং একজন প্রিয় সহব্লগারের মতন। মরীচিকার নাম ও লোগো দেখলেই খুশিতে মন নেচে উঠতো। মরীচিকার স্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকুক হৃদয়ে। শুভ কামনা মরীচিকা।

এই পর্বের ব্যাপারে বলবো, আমি মনে করি পাঠকদের চমক দেয়াই একজন লেখকের সার্থকতা যা তুমি দারুণভাবে করেছো। তবে শেফালী ম্যাডামের এহেন পরিণতিতে আমার প্রতিক্রিয়া মন্তব্যে লিখিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কারণটি তুমি হয়তো জানো। আমি কখনোই চাইনি মরীচিকা শেষ হোক তবুও সবকিছুর একটা শেষ আছে। মাস্টারদার জন্য শুভ কামনা।


আর ভাইটি তোমার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা রেখে বলছি, ব্লগ ডে-তে যাওয়া নিয়ে আমি নিশ্চয়তা দিতে পারছি না ভাইটি। পরে কথা হবে।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৪৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আরোগ্য,

তোমার এই অসম্ভব সুন্দর মন্তব্যে প্রীত হলাম। কিন্তু এই মন্তব্যের কি প্রতিমন্তব্য হবে সেটা আমার জানা নেই। মরীচিকা বাস্তবে কতটা ভালো হয়েছে সে বিষয়ে নিজেই সন্দিহান। তবে তোমাদের কিছু প্রশংসাসূচক বাক্যে আনন্দ যে পাচ্ছি না তা নয়। মরীচিকার সঙ্গে অনেক অভিজ্ঞতা, অনেক সুখানুভূতি জড়িত বলে যে কথা উল্লেখ করলে এক কথায় তা অভূতপূর্ব। আমার কাছে ব্লগের শ্রেষ্ঠ উপহার স্বরূপ। এমন মন্তব্যের জন্য অজস্র ধন্যবাদ।

ব্লগ ডে তে উপস্থিত থাকলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু আমার বর্তমান সমস্যার কথা তোমার ভালোভাবেই জানা। উপরওয়ালা সহায় হলে আগামী বছর তোমাদের সান্নিধ্য ষোল কলা পূর্ণ করব। কাজেই এবারে ভাইয়াকে ফেলে একা একাই মনের শান্তিতে ব্লগ ডে সেলিব্রেশন করো এবং খুঁজে নাও মনের প্লাবতা।‌

মরীচিকা শেষ হওয়ায় খারাপ লাগছে। তবে কোন কিছু অনন্তকালের জন্য নয়, যে কথা তুমি উল্লেখ করেছ। আপাতত সামনে একটি ছোট ব্রহ্মন কাহিনী আছে। তারপরে আবার একটি লেখায় হাত দিয়েছি। আশাকরি বরাবরই তোমাদেরকে পাশে পাব।
পোস্টটিতে like' করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি।
তোমার শুভেচ্ছা গ্রহণ করলাম।
তোমার জন্যও রইল হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও শুভকামনা।



২৬| ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৫

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: মরীচিকা শেষ হয়ে গেল !
এবার কিসের অপেক্ষায় থাকবো ?
প্রতিটা পর্বই চমৎকার ছিল। অযথা বড় করার কোন প্রবণতা পাইনি। অবশেষ অশেষ ভালো লাগা নিয়ে শেষ করলাম প্রতীক্ষিত মরীচিকা। ভালো লাগা নিন। +++

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৫১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় সৌরভ ভাই,

হ্যাঁ মরীচিকা শেষ হয়ে গেল। আপাতত একটি ভ্রমণ কাহিনী তৈরি আছে। এরপরে আবার একটি বড় গল্পে হাত দিয়েছি। আশাকরি বরাবরই আপনাদেরকে পাশে পাবো।
মসজিদে পর্বগুলির চমৎকৃত মনে হওয়াতে আনন্দ পেলাম ; ধন্যবাদ জানবেন। আপনার ভাল লাগায় সিক্ত হলাম। আবারও ধন্যবাদ জানাই।
পোস্টটিতে like' করাতে ও ট্রিপল প্লাসে প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।

অফুরান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানবেন।

২৭| ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৭

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সুন্দর।+

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৫২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
শুভেচ্ছা নিয়েন।

২৮| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৭

রূপম রিজওয়ান বলেছেন: ক্রিয়েটিভ রাইটিং কিভাবে শুরু করা যায়-মানে হাতেখড়ি আর কি-এ নিয়ে সময় পেলে কাইন্ডলি কয়েকটা টিপস দিবেন???

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনি আমার একটা বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন যাকে এক কথায় তুলে ধরা বেশ কষ্টকর। আমি ধরেই নিচ্ছি আপনি ইনোসেন্টলি প্রশ্ন করেছেন। ক্রিয়েটিভ রাইটিং লেখার জন্য প্রথমে আপনাকে অনেক কিছু পড়তে হবে। এক একজন সাহিত্যিকের লেখার ধরন একেক রকম। এই যেমন আপনি বিভূতিভূষণের সঙ্গে তারাশঙ্করের মিল পাবেন না কিমবা শরৎচন্দ্রের মিল পাবেন না ।কিন্তু এনাদের প্রত্যেকেরই ধরনটি তাদের বিভিন্ন লেখনীতে পাবেন। বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ একটি মহাসমুদ্র। আপনি ওনার লেখনীতে একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাবেন। এটাই সংশ্লিষ্ট লেখকের লেখক সত্তা যা অন্যদের থেকে নিজেকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে।

নিজের ক্ষেত্রে প্রত্যাহিক জীবনে চলমান বিভিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে কোন একটিকে প্লট নির্বাচন করে তাকে নিয়ে নিজের মত করে অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন। শুরুতে এমন হতে পারে যে প্লটটি চেনা। হোক চেনা। তাতে না দমে নিজের মতো করে কাহিনীর বিন্যাস করুন। মনে রাখবেন উপস্থাপনটা এমন করবেন যাতে মনে হয় এটাই আপনার সেরা উপস্থাপনা। লিখতে লিখতেই কিন্তু লেখনীর শক্তি বৃদ্ধি পায়।

শুভকামনা প্রিয় রূপমভাইকে।


২৯| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৪৪

মুক্তা নীল বলেছেন:
দাদা ,
মরীচিকা শেষ পর্ব পড়তে গিয়ে মনটা বিষাদগ্রস্ত হয়ে
গেল মরীচিকা কে বিদায় দিচ্ছি বলে। ভালোলাগা-মন্দলাগা
অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে আপনার এই মরীচিকায়।
মরীচিকার ২২তম পর্ব আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং সেই পোস্টে আপনার যে প্রতিমন্তব্য পেয়েছিলাম তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মরীচিকা মলাটবদ্ধ হয়ে আরো
সমৃদ্ধশালী হোক এই কামনা করি।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় ছোট বোন,

মরীচিকার শেষে এমন আন্তরিক মন্তব্যে আপ্লুত হলাম। শুরু যার আছে সে অবধারিত কাজেই এমন অনুভূতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। মরীচিকার পর্বগুলি মধ্যে একটি পর্ব প্রিয় ছোট বোনকে উৎসর্গ করতে পেরে আমিও খুব খুশি হয়েছিলাম।সেদিনও জেনেছিলাম প্রতিমন্তব্যটি বোনের খুব ভালো লেগেছিল। আজ বিষয়টি আবার উল্লেখ করাতে অপার মুগ্ধতা ;অন্তরের অন্তস্থল থেকে বসে রইল হৃদয়ভরা ভালোবাসা।
মরীচিকার মলাটবদ্ধ করনের স্বপ্ন আছে। জানিনা কবে সে স্বপ্ন পূরণ হবে। বোনের এমন শুভাশিসে আনন্দ পেলাম। আবার ধন্যবাদ জানাই।
পোষ্টটিতে লাইক করতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা রইলো।

নিরন্তর শুভেচ্ছা প্রিয় ছোট বোনকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.