নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিনা পরিশ্রমে যা অর্জন করা যায় তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না | ___ইমা রসন

ব্যাঙের সর্দি

সাদাসিদে

ব্যাঙের সর্দি › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছেলেবেলার গল্প

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ ভোর ৪:০৭

প্যারিস রোড দিয়ে হাঁটছিলাম আনমনে, এই রোড দিয়ে হাটলেই কেন জানি আমার, আমাদের ছায়া-সুনিবিড় গ্রামের কথা মনে পড়ে যায় আমার। হঠাৎ মোটরসাইকেলের ব্রেক কষার শব্দে চিন্তার মধ্যে ছেদ পড়ল। দেখি সামনে নেতা গোছের এক বড় ভাই মোটরসাইকেল থামিয়ে খিস্তির তুফান ছুটিয়েছেন মুখে, রাস্তাটা কী তোর বাপের, যে মাঝখান দিয়ে হাঁটতেছিস। রাগের কথা। কিন্তু রাগ করিনি মোটেও, কারন সবসময় রাগ করলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনাই বেশী। বড় ভাইকে তথাস্তু বলে রাস্তা গোনা শুরু করেছি। এই দুঃখের ক্ষণেও শৈশবের রাগ সম্পর্কিত একটা ঘটনার কথা মনে পড়ায় হেসে উঠলাম মনে মনে। রাগের কারনেই যে রোমন্থন করার মত স্মৃতিটি ঘটেছিল। আমি তখন সবে সপ্তম শ্রেনীতে পড়ি। টো টো করে পাড়া ঘুরে বেড়ানো আমার নিত্যকার অভ্যেস।

বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে খেলতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মা ডেকে বলল কিছু খেয়ে যা। আমি কিছু না শুনে মাঠের দিকে ভোঁ দৌড় দিলাম, কী খেলাটাই না চলছে মাঠে। খেলা শেষ হলে পাশের পাড়ার মজনু বলল, পলাশ পাখির বাচ্চা নিবি চল আমার সঙ্গে। পাখি পোষার সখ আমার অনেকদিনের তাই দ্বিরুক্তি না করে মজনুর পিছু নিলাম।

গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে বাঁশ ঝাড়টায় আমি আর মজনু যখন পৌঁছলাম, তখন রাত ৮ টা বাজে। মজনু আমাকে ইপ্সিত গাছে উঠতে বলল। পাখির বাসাটার কাছাকাছি উঠলে ছানাগুলোর কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পেলাম। আমার আর তর সইল না, ভুস করে হাতটা নীড়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলাম। এইত ছানাটাকে ধরে ফেলেছি, কিন্তু ছানাটার এত শক্তি কেন, হাতটা বাইরে বের করে আনলে চাঁদের আলোয় যা দেখলাম তাতে তো আমার আত্নারাম পাগার পাড় হওয়ার দশা। ছানা বলে যে বস্তুটা আমি ধরেছি, সেটা আর কিছু না আস্ত একটা সাপ। ভয়ে আমার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া বেয়ে গেল, ভাগ্যিস মহাশয়ের মাথাটা চেপে ধরেছিলাম এবং সময়মত ফেলে দিতে পেরেছি না হলে কপাল আমার খারাপি ছিলো।

মজনু এই অবস্তা দেখে আগেই ভেগেছে। আমি প্রায় দশ মিনিট বুনো গাছটিতে বসে ছিলাম, যদি সাপটি আশেপাশে পড়ে থাকে এই ভয়ে নামিনি। গাছটা থেকে নেমেই ভোঁ দৌড়। বাড়ির পথে যেতে ভাবছিলাম মার কথা না শুনার কারনেই বোধ হয় এই বিপদ, মা না জানি কত চিন্তাই করছে। আমি যখন বাসায় পৌঁছলাম তখন দশটা বাজে। মার সাথে দেখা হতেই মা বলল কিরে নবাব পু্‌ত্র এই বুঝি আসা হল। এখন খেয়ে দেয়ে আমাকে উদ্ধার কর। আমি মরলেই নাকি তার হার জুড়োয়, আর কত কী। মনটা একবারে খারাপ হয়ে গেল, এই বুঝি ভালোবাসে মা আমাকে।

প্রচণ্ড রাগ এবং অভিমানে আমাদের বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে অথাৎ ঈশান দিকে ডাকসাইটে শন্মান ঘাটটার দিকে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে দৌড় দিলাম। শশ্মানে এসে গা একটু একটু ছমছম করতে লাগল, ব্যাপারটা প্রথমে আমলে নিলাম না। মনে এই ভেবে আমোদ পাচ্ছিলাম যদি ভুত এসে ঐ আমগাছটার মগডালে নিয়ে যায়, তাহলে খুব ভাল হয়। মা কেঁদে কেঁদে মরে, আর আপসোস করে কেন যে ছেলেটাকে রাত্রি বেলা গালি দিতে গেলাম।

এদিকে আকাশটাও মেঘে মেঘে ছেয়ে গেছে। আকাশ থেকে প্রচণ্ড বাজ পড়ার শব্দ এবং খানিকটা দূরে বাবা-মার ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রাথমিক অভিমানের ধাক্কাটা কেটে গেলে ভয় লাগতে শুরু করল। কিন্তু একটু তোয়াজ না করলে কী জেচে বাড়ি যাওয়া যায়। অগত্যা বসেই রইলাম। হঠাৎ রুদ্র দেবতা যেন সমস্ত শক্তি দিয়ে ডেকে উঠল। আমার আর সহ্য হল না সংঙ্গা হারালাম শীঘ্রই।

জ্ঞান ফিরলে দেখি, আমি বিছানায়, মা শিয়রের কাছে বসে আছে শুকনো মুখে। মাও নিশ্চই কাল থেকে না খেয়ে আছে। বলল, অনেক সাহস দেখিয়েছিস কালকে, এবার চারটা মুখে দে দেখি। কাল থেকে তোমার মাঠে যাওয়া বন্ধ অবশ্যি হয়নি, বরং মা-ই ভাল দেখে একটা ফুটবল কেনার টাকা দিয়েছিলেন পরের দিন।





মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.