| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মেয়েটি সরিষাফুল, অথবা সরিষাফুলের বিস্তৃত বাগান, সরিষাফুলের হলুদ বাগান হয়ে গেলো। আমি মেয়েটির ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে। যে শাড়িটি পড়ে সে এসেছে, সেটি সরিষাফুলের রঙ, আমি তার ঘ্রাণ নিতে চাই। সরিষাফুলের ঘ্রাণের ভেতর নিউরণে অসংখ্য ঘোরাক্রান্ত সন্ধ্যা জাগিয়ে তুলে দেখতে চাই এই অপার্থিব অনুভূতির উৎস। লিখে নিতে চাই স্পর্শের ক্যানভাসে ঘ্রাণচিত্র।
আমার দৃষ্টির ভেতর মেয়েটি হলুদ শাড়ির আঁচল সরিয়ে রাখে। আমি দেখি, তার কপালে শেষ বিকেলের রোদ খেলা করে। চোখে অচেনা সমুদ্রের আহবান। আমি দেখি, তার ঠোঁটের কার্ণিশে চিক চিক ঘাম পসরা সাজায়।
ঘোরাক্রান্ত আমি দীর্ঘ বিকেলের সমান সময় নিয়ে খুলে আনি সরিষাফুলের মাঠ। মাঠ সরে গেলে মাটি। মাটির গহীনে তৃষ্ণার জল। আমি হাত রাখি। আলতো হাত। সরিষাফুলের আচ্ছাদনে লুকিয়ে থাকা কোমল কিন্তু তীক্ষ্ণ, এবং তপ্ত বুকের সন্ধিস্থলে। অনুভবে জমা হতে থাকে তপ্ত প্রশ্বাস। জমা হতে থাকে সরিষাফুলের মাতাল ঘ্রাণ। খুলে খুলে আসে সমগ্র সরিষার মাঠ। খুলতে খুলতে রাত হয়ে যায়। আমার করোটিতে জমা হতে থাকে বিভ্রান্তির বাষ্প। বাষ্পের আবছায়ায় মেয়েটি দেবী হয়ে যায়। সুন্দর। কোমল। নিরাবরণ। আমার চোখের রেটিনায় ঝাপসা ছায়া পড়ে। ছায়াগুলো তার কৃষ্ণ কেশের রাজি থেকে উদ্ধত ও মুগ্ধময় বক্ষ ছুঁয়ে পিছলে নেমে আসে নাভীমূলে। তারপর টুপ করে ঝরে পড়ে মৃত্তিকায়, সন্ধিস্থল থেকে কোনো অচেনা পৃথিবীর ঘ্রাণ নিয়ে।
মেয়েটি দেবী হয়ে যায়। দেবী আমাকে আদেশ করেন, 'স্থির হও পূজারী, সরিষার ঘ্রাণে সাজিয়ে নাও করোটির বিভ্রান্তি, পূজা দাও আমায়, তৃপ্ত করো পৃথিবীর সবচেয়ে অপার্থিব স্পর্শে!'
*
আমি পান করছিলাম। মধ্যরাত। একা ও জলের পাত্র।
-আমি। দেবী।
- জলের রেখায় চলে আসো।
হলুদ শাড়ি সরিয়ে সে বসে। কপালে শাদা টিপ। চুল হলুদ আচলে ঢাকা।
- তুমি দেবী। কিন্তু বিভ্রান্তি।
- আমি রমণী হব।
*
তাকে আমি বসিয়েছিলাম শাদা বিছানায়। ফ্লোরোসেন্ট ঘরে শাদা ক্যানভাসে সরিষা খেতের মতন। পানপাত্র তার মুখে ঢেলে দিলাম। মুখপাত্র হতে আমি নিলাম দুই চুমুক।
- দেবী হয়ে যাও।
সে খুলে ফেলল সরিষা খেত। সে খুলে ফেলল বক্ষবন্ধনী। যোনীপোশাক। লাল। সমস্ত গোপন আর সুন্দর নিয়ে সে স্থির। সে পূর্ণ দেবী হল এবং আমাকে আদেশ করলেন।
- পূজা দাও এবার।
আমি আদম হলাম। শিবের কাছ থেকে শিখে নিলাম কৌশল। নরম স্পর্শে দেবী কেঁপে উঠছে ক্রমাগত। ক্লান্ত হচ্ছি।
দেবী এবার দিলেন রণাদেশ।
-হিংস্র হও হে পূজারি!
আমি হিংস্র হলাম। দাঁতে ছিঁড়ে নিলাম স্তনাগ্র। তলপেট করলাম নখের ক্যানভাস। উদ্ধত লিঙ্গ স্বয়ং শিব হয়ে বিদীর্ণ করে দিল দেবীর যোনীপথ।
বীর্য ও প্রচুর রক্তপাতের পর দেবী চলে গেলেন চিরতরে। আমি শেষ রাতে তাকে রেখে আসলাম শহরের বাইরে।
*
টিভিতে সকালের সংবাদ। শহরের বাইরে ক্ষত বিক্ষত যুবতীর লাশ উদ্ধার। সামাজিক মাধ্যমে নিন্দা জানালাম। শহরের বাইরের মানুষগুলোর হিংস্রতার সমালোচনা করলাম। যদিও আমি তাদেরকে চিনি না। সবাই জানে, আমি আর্টিস্ট। এই আমার চিলতে বাড়ি আর আর্ট গ্যালারি ছাড়া কোথাও যাই না। সবাই জানে।
সকালের লেমন টি সেরে উঠলাম। ক্যানভাস থেকে খুলে নিলাম দেবী। হলুদ রঙে প্রাণবতী। বক্ষবন্ধনী আঁকতে ইচ্ছে করেই ভুলে গিয়েছিলাম। একটা স্তন উদ্ধত ও টান টান।
*
-হ্যালো। হ্যাঁ, অনুরাধা। ভাবছি, তোমার পোর্টেট আজ আঁকব। বিকেল শেষে চলে এসো। তোমার প্রিয় রঙ নীল। নীলে আঁকব। শেষে লাল। আদি লাল। নাম দেব, দ্য ব্লু নাইট। চলে এসো।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:২৫
আলোরিকা বলেছেন: সুন্দর লেখনী !