নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজের সম্পর্কে লেখার মতো এখনও তেমন কিছু নেই...

জানা নেই

আমি মানুষটা খুবই সাধারণ, তাই আমর ব্লগে সাধারণ মানুষই প্রবেশ করবেন। দয়া করে অন্য কেউ প্রবেশ করবেন না...

জানা নেই › বিস্তারিত পোস্টঃ

পাহাড় ধস, দায় আমাদেরও

১৪ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৪:০৬

পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষের এমনি দুঃখের শেষ নেই। দুঃখই তাদের জীবন সঙ্গী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে চলাই তাদের দৈনন্দিন কাজ। তার ভেতরে মাঝে মাঝেই পাহাড় ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে তাদের ওপর নেমে আসে কান্নার ঝড়।

২/১ বছর পরপরই যেরকম ঘটে এবছরও তার ব্যতিক্রম কিছু নেই। যে বৃষ্টি ক্ষেত্র বিশেষে মানুষকে কবি বানিয়ে দেয় সে বৃষ্টিই কিনা আমাদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ জন সদস্যসহ কেড়ে নিল প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণ। কান্নার রোল নেমে এলো পাহাড়ী অঞ্চলের বাসিন্দাদের ভেতর। শুধু কি পাহাড়ী অঞ্চল? এ কান্না এখন বয়ে চলেছে গোটা দেশেই। প্রকৃতি তাদের উপর যা করল তা শুধুই নিষ্প্রাণ দৃষ্টিতে দেখে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কিই বা করার আছে? সত্যিই কি তাই! আমাদের কি কিছুই করার নেই! তাহলে কি এভাবেই প্রতি বছর শত শত মানুষ মারা যাবে! এটাই কি আমাদের নিয়তি!

একাধারে আমরা পাহাড় ও পাহাড়ের গাছ কাটছি। যার মাধ্যমে আমরা পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট করছি। আবার সেই কাটা পাহাড় অসহায় গরীবদের কাছে ভাড়া দিচ্ছি। যারা নিশ্চিৎ মৃত্যু জেনেও অভাব, দারিদ্রতা এবং অসহায়ত্যের দরূণ এই কাটা পাহাড় ভাড়া নিচ্ছে।

আমরা যারা তথাকথিত সুশিল সমাজের বাসিন্দার দাবিদার, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরাইতো পাহাড়ী লোকজনের জায়গা দখল করে এই অন্যায় কাজগুলি করে থাকি। আর তার খেসারত জীবন দিয়ে এই দরিদ্র, গরীব, অসহায়, ভুক্তোভোগীদের দিতে হয়। অথচ আমাদেরই দায়িত্ব ছিলো এই পাহাড় এবং তার বাসিন্দাদের রক্ষণাবেক্ষণ কর।

আমাদের অন্যায়, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার জন্যই এরকম ঘটছে। এককথায় বলতে পারি প্রকৃতি আমাদের অন্যায়, দুর্নীতির জন্য এভাবে শাস্তি দিয়ে শিক্ষা দিচ্ছে। যদি আমরা শিখতে পারি তথা এগুলি থেকে বের হতে পারি তাহলেই যদি এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধস। প্রতি বাজেটেই এগুলি মোকাবেলা করার জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা তো কমেই নি বরং দিন দিন আরো বেড়েই চলেছে। তাহলে কি এই টাকা অপ্রতূল! নাকি টাকার বস্তা এই পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায়! আসলে টাকার বস্তা কোথায় যায় সেটা জনগণের বোধগম্য হয়ে গেছে অনেক আগেই। তাই বলে কি মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলবেন তারা!

একদিকে বৃষ্টিতে পাহাড় ধস অপরদিকে চট্টগ্রাম নগরীর বহু জায়গায় বুক সমান পানি জমে যায়। যে শহরের নিচে কর্ণফুলী নদী এমনকি সাগরও রয়েছে সে শহরের মানুষ এভাবে পানির জন্য কষ্ট করবে, সেটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া অসম্ভব। তারপরও লোভ-লালসার দায়ে মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কিই বা করার আছে?

সবশেষে বলতে চাই, আমাদের ভেতরে বিবেক-মনুষত্য তৈরি করা আবশ্যক। যতদিন না বিবেক-মনুষত্য তৈরি হবে ততদিন এই লোভ-লালসা, দুর্নীতি, অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন এবং অত্যাচার দূর হবে না। আর এগুলি দূর না হওয়া পর্যন্ত আমরা এরকম দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারব না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.