নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

pramanik99

আমার স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলো বার বার মনে পড়ে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই দিনগুলোতে।

প্রামানিক

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

প্রামানিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ডঃ ইউনুসের ঋণ বিএনপির ঘাড়ে

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৭


ডঃ ইউনুস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রাহণ করে তখন দেশের ঋণের পরিমান ছিল ১০৩ বিলিয়ন ডলার। তিনি যখন ক্ষমতা ছাড়েন সেই ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১১৩ বিলিয়ন ডলার ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েই বিএনপিকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে হয়েছে।

গত ২০০৬ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন ঋণ ছিল প্রায় ১৯ বিলিয়নের মত। এই ১৯ বিলিয়ন ঋণের বোঝা বহন করতে গিয়ে তত্বাবোধায়ক সরকার জনাব ফখরুদ্দিন সাহেব আরো প্রায় তিন বিলিয়নের মতো ঋণ করে। যে কারণে ২০০৯ সালে ফখরুদ্দিন সাহেব যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করে তখন শেখ হাসিনাকে ২২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে হয়েছিল। গত ১৭ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার আরো ৮৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ করে যে কারণে ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৩ বিলিয়ন ডলারে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার পর গত দেড় বছরে ডঃ ইউনুস সাহেব আরো ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ করায় আগামী জুন মাসে ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১৩ বিলিয়ন ডলারে।

ডঃ ইউনুস কোন নতৃন প্রজেক্ট হাতে নেয় নাই তারপরও কেন তাকে ঋণ নিতে হলো এই প্রশ্নটা সবার মনেই দেখা দিতে পারে। আসলে তিনি ইচ্ছা করে এই ঋণ নেন নাই। আওয়ামীলীগ সরকারের মেগা প্রজেক্টের ঋণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গিয়েই ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে। কারণ মেগা প্রজেক্টের জন্য যখন ঋণ বরাদ্দ হয় তখন সব টাকা একবারে দেয়া হয় না। কাজের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই বছর বছর কিস্তিতে এই টাকা প্রদান করা হয়। যেহেতু মেট্রো রেল, ঢাকা রংপুর চার লেনের হাইওয়ে রাস্তা নির্মাণ, ঢাকা আশুলিয়া উড়াল সড়ক নির্মাণ, তৃতীয় বিমান টার্মিনাল নির্মাণ, পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙার রেল লাইন নির্মাণ, যমুনা রেল সেতু নির্মাণ সহ আরো যেসব মেগা প্রজেক্ট আছে এই কাজ গুলো কোনটাই পরিপূর্ণ সমাপ্ত হয় নাই। যেহেতু এই কাজগুলো চলোমান আছে এবং কোনটা ৪০% কোনটা ৫০% বা ৯৫% পার্সেন্ট কাজ হয়েছে এই অবস্থায় কাজগুলো বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের বিপুল অর্থ ক্ষতির মুখে পড়ে যাবে। কারণ প্রজেক্টগুলো শুরু হয়েছে এবং সেই প্রজেক্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করার কারণেই ডঃ ইউনুসকে শেখ হাসিনার করা ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে।

এখনো মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজ সমাপ্ত হয় নাই কোনটা অর্ধেক হয়ে আছে আবার কোনটা শেষের দিকে। এই প্রজেক্টগুলোর কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত করতে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া চুক্তি অনুযায়ী আরো ৪৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে হবে। অর্থাৎ ১১৩ বিলিয়ন ডলার সহ আরো ৪৫ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়ে বিএনপিকে মোট ১৫৮ বিলিয়ন ডলার ঋণের বোঝা টানতে হবে এবং সেই সাথে টানতে হবে লস প্রজেক্ট। অনেক প্রজেক্টে যে পরিমাণ আয় কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে সেই পরিমাণ আয় হয় না। যেমন পদ্মা রেল সেতুতে আয় হওয়ার কথা ১৪০০ শত কোটি টাকা সেখানে আয় হয়েছে মাত্র ২৬ কোটি টাকা। আয় হোক বা না হোক ঋণের কিস্তির মাপ নাই, এটা বাংলাদেশকে পরিশোধ করতেই হবে। এই বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা নিয়ে বিএনপি কিভাবে সামনে আগাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:

যত উন্নত দেশ, তার ঋণের বোঝা তত বেশি।
সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশ উন্নত নয়।

১৫৮০০ কোটি ডলার ঋণের জন্যে বছরে কত ডলার দাতাদের পে করতে হবে?

উল্লেখ্য, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই পাচার হওয়া টাকার ৩ ভাগের ১ ভাগ দেশে ফেরত নিয়ে এসে বাজেয়াপ্ত করলেই একবারে সব ঋণের টাকা দেওয়া যাবে কি?

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১

প্রামানিক বলেছেন: যে টাকা পাচার হয়েছে সেই টাকা হয়তো আর ফেরৎ আসবে না কিন্তু জনগণকে সেই টাকার ঋণ টানতে হবে।

২| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ডেইলি ইত্তেফাকের আরেকটি রিপোর্ট মতে, ১৫ বছরে পাচার হয়েছে ২৮ লাখ কোটি টাকা!!!

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩

প্রামানিক বলেছেন: যদি দেশের টাকা পাচার না হতো বা দুর্নীতি না হতো তা হলে এতো টাকার ঋণ করার কোন প্রয়োজনই ছিল না।

৩| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিএনপি এভাবেই ফেইল করে। করাপশন ইনডেক্সে বাংলাদেশ এক ধাপ পিছনে চলে গিয়েছে যেটার দোষ পড়বে বিএনপির উপর ।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

প্রামানিক বলেছেন: বিগত সরকাররা যা করেছে তার দায় তো শেষ সরকারের ঘাড়ে চেপে বসে এখানেই সব ফেইল করে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.