নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

pramanik99

আমার স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলো বার বার মনে পড়ে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই দিনগুলোতে।

প্রামানিক

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

প্রামানিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র দৈনিক পত্রিকা, প্রকাশক সম্পাদক ছিলেন মওলানা আকরাম খাঁ। এই পত্রিকা প্রকাশ করার পর থেকে ব্রিটিশ বিরোধী লেখার কারণে মওলানা আকরাম খাঁকে ব্রিটিশ সরকার বহুবার জেলে ঢুকিয়েছেন। সাতচল্লিশ সালে ভারত ভাগ হওয়ার পর পত্রিকাটি পুরোপুরি কোলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। সুস্থ‍্য থাকা অবস্থায় আজাদ পত্রিকায় বিদ্রোহী কবি কাজী নাজরুল ইসলামও এই পত্রিকায় লেখালেখিসহ সম্পাদকীয়র কাজ করতেন।

দৈনিক দেশ পত্রিকাটি ছিল জিয়উর রহমানের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এক সময় এই পত্রিকাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলার এমপি এবং মন্ত্রী কাশেম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মাঈদুল ইসলামকে। আমি যখন অষ্টাশিতে দেশ পত্রিকায় জয়েন করি তখন জিএম ছিলেন এ কে এ ফিরোজ নুন। তিনি একদিন কিছু হাতে লেখা কাগজ পত্র এনে আমার হাতে দিয়ে বললেন, জিয়াউর রহমানের উপর একটা বই প্রকাশ হবে এ কাজটা আপনাকে করতে হবে। আমি বল্লাম, আমি তো পত্রিকা ছাড়া বই প্রকাশের কাজ কখনো করি নাই। উনি বললেন যে কাজ কখনো করেন নাই সেটাই করতে হবে আপনার মেধা আছে আপনি পারবেন। আগামী কাল থেকেই শুরু করে দেন।

সম্ভাবত ১৯৮৯ইং সালের মার্চের শেষ সপ্তাহে বইয়ের পান্ডুলিপি আমার হাতে দিয়েছিলেন। পাকিস্তান আমলে যেমন শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং দুর্বলতা ছিল তেমনি ১৯৭৪ সালের অভাবের যাতাকলে পরে সেই দুর্বলতায় অনেকটা ভাটা পড়ে যায়। কিন্তু ১৯৭৫-এর পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার সাথে সাথেই ধান চালের দাম অর্ধেকেরও নিচে নেমে এলো তখন থেকে জিয়াউর রহমানের উপর শ্রদ্ধাবোধটা অটোমেটিকেলি বেড়ে গিয়েছিল। কাজেই জিয়াউর রহমানের উপর লেখা বইয়ের কাজ করতে নিজের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ মনে হলেও না করতে পারলাম না।

পত্রিকায় তখন উনিশ জন কম্পিউটার অপারেটর কাজ করতো। পত্রিকার কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাদের দিয়ে পাঁচ ছয় দিনের মধ্যেই কম্পোজের পুরো কাজ শেষ করে দিলাম। ছাপা বাইন্ডিংসহ আরো পনরো দিন সময় লাগল। প্রকাশনা উৎসবের দিন বিএনপির অনেক বড় বড় প্রাক্তন নেতা মন্ত্রী এমপি এসেছিলেন। রাত দিন পরিশ্রম করে বইটি প্রকাশ করার পর বইয়ের প্রথম পাতায় ”বই প্রসঙ্গে দু’টি কথা” লেখাটি পড়ে নিজের নামটি দেখে সব পরিশ্রম ভুলে গেলাম।

(আমি মনে করেছিলাম বইটি হারিয়ে গিয়েছে। অনেক খুঁজেও বইটি পাচ্ছিলাম না, ৩৭ বছরের পুরানো বই আজ সকালে পুরাতন বইয়ের গাদার মধ্যে খুঁজে পেয়ে মনে হচ্ছে যেন হারানো মানিক ফিরে পেয়েছি। তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।)

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫

আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: বাহ সুন্দর মানিকে মানিক চিনে প্রামানিক দা ভাল থাকবেন

২| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জিয়াউর রহমান কে নতুন জেনারেশন খুবই কম জানে । তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সব মেডিকেল কলেজে জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবারকে নিয়ে লেখা লাইব্রেরীতে রাখতে হবে। আশা করি আপনার সম্পাদিত বইটি সেখানে স্থান পাবে ।

৩| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৮

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: জিয়াউর রহমান ছিলেন দরকারী সময়ে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত দরকারী একজন মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.