| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতেখার ভূইয়া
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক

সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করতে করতে লিঙ্কডইনে স্ক্রল করতেই মাইকেল ব্লুমবার্গের একটা পোস্ট চোখে পড়লো। তিনি আজ সবাইকে ভোট দিতে যেতে বলছেন। লিঙ্কডইনে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাকে আমি অনুসরণ করি। আমার বস, সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-বান্ধব অনেকের সাথেই আমি কানেক্টেড কিন্তু কাউকে অনুসরণ করা হয় না। নাস্তা শেষ করে ভোট দিয়ে বাসায় আসার পথে এলাকার চাইনিজ দোকান থেকে কফি নিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরলাম। সাধারণত যে ভদ্র মহিলা আমার কফি বানান, তাকে আজ দেখলাম না। যিনি কফি বানিয়ে দিলেন, তিনি নতুন। জঘন্য রকম কফি বানিয়েছেন আমার জন্য। কোনকিছু না বলে নিরবে ঐ জঘন্য কফি হাতে নিয়েই বাসায় এসে কম্পিউটারে বসলাম।
অনেকদিন ধরেই নেটওয়ার্কিং নিয়ে টুকটাক জানার চেষ্টা করছি। এসব করতে করতেই মাইক্রোটিক নামের একটি এন্টারপ্রাইজ ব্র্যান্ডের রাউটার এর সাথে পরিচয় হয়েছি বেশ অনেকদিন হলো। বিগত ২০২২ সালেও মাইক্রোটিকের হ্যাপ এসি রাউটার নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। সেটা ছিলো আমার ক্রয় করা প্রথম মাইক্রোটিক রাউটার। ভাবছিলাম, একটা নতুন রাউটার কিনবো। নিউ ইয়র্কের বাসায় এখন তিনটি আর ঢাকায় দুটো রাউটার থাকার পরেও নতুন করে রাউটার কেনার মানে নেই। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে কেনা প্রয়োজন।
আমার চাকুরি মূলত রিমোট। ঢাকা-নিউ ইয়র্ক আসা যাওয়ার উপরে থাকলেও ইদানীং ঢাকায় সময় দিচ্ছি বেশী। বাচ্চা-কাচ্চা বড় হচ্ছে, তাদের সময় দেয়া প্রয়োজন। ভাবছি, ঢাকা-নিউ ইয়র্কের মাঝে একটা ভি.পি.এন. টানেল তৈরী করতে পারলে আসি ঢাকায় বসেও নিউ ইয়র্কের বাসার ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাজ করতে পারি। এটা অনেকটাই জরুরী বিষয়। ঢাকায় বসে আমেরিকার অনেক সরকারি সাইট কিংবা অফিসের অনেক ইন্টারাল নেটওয়ার্কে আমি প্রবেশ করতে পারিনা। এটা নিয়ে অতীতেও সমস্যা হয়েছে আর এটার একটা স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আর সেটা হলো ওয়্যারগার্ড ভি.পি.এন. টানেল ব্যবহার করা।
প্রায় ১১ হাজার মাইল দূরের শহরে বসে নিউ ইয়র্কের রাউটারে প্রবেশ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তার চেয়েও প্রয়োজন একটা শক্তিশালী রাউটার যাতে ঢাকায় থাকা আমার রাউটার আর নিউ ইয়র্কে থাকার আমার রাউটার দুটো একে অপরের সাথে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে পারে। সেটা কিভাবে করা সম্ভব সেটা শেখা হয়েছে সম্প্রতি। তাই আর দেরী না করে একটা রাউটার কিনতে চাচ্ছি। অনেক ঘাটাঘাটি করে বুঝতে পারলাম। ঢাকায় রেখে আসা আমার মাইক্রোটিক রাউটারটিই আমার আবারও ক্রয় করতে হবে। রাউটারটি এ.আর.এম. এর ৬৪ বিট মডেলের একটি প্রসেসর ব্যবহার করে। এই ধরনের রাউটারে একসাথে ৫০ জন ব্যবহারকারী কানেক্টেড থাকলেও সমস্যা হয় না যদি ব্যান্ডউডথ থাকে।
পছন্দের রাউটারটি এ্যামাজনে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ্যামাজনে রাউটারটির ইউ.এস. ভার্সটিই কেবল পাওয়া যাচ্ছে। আর্ন্তজাতিক ভার্সনটি পাচ্ছি না দেখে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হলো। খুঁজতে খুঁজতে একটি প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেল যাদের কাছে রাউটারটির আর্ন্তজাতিক ভার্সনটি পাওয়া যাচ্ছে। দাম কিছুটা বেশী। অর্ডার করার জন্য তাদের সাইটে একাউন্ট খুলতে গিয়ে দেখি তাদের সাইটে আগেই আমার ইমেইল ব্যবহার করে একটা এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এ্যাকাউন্টে ঢুকে দেখলাম, আমার সব তথ্যই ঠিক আছে। কিন্তু অতীতে কি ক্রয় করেছি তা দেখা যচ্ছে না। কাস্টমার হেল্প-এ যোগাযোগ করতেই জানা গেল যে আমি যে রাউটারটি বাংলাদেশে রেখে এসেছি, কাকতালীয়ভাবে সেটা তাদের কাছ থেকেই কেনা হয়েছিলো। একই মডেলের রাউটার আবারও কেনা হলো। তার কারন জানাতে গিয়ে রিপ্রেজেন্টেটিভকে বললাম আমি ওয়্যারগার্ড ভিপিএন টানেল তৈরীর জন্য একই রাউটার আবারও কিনছি। বিগত রাউটারটি ২০২৩ সালের ৪ঠা জুলাই কেনা হয়েছিলো।
কেভিন আমার কনগ্র্যাটস জানালেন আর প্রজেক্টের জন্য শুভ কামানা জানালেন। নতুন করে আবার পন্য ক্রয়ের জন্য ধন্যবাদ জানালেন। তার আন্তরিকতায় ভাঁটা দেখা গেল না। ভাঁটা থাকলেও আমার বোধগম্য হলো না। এখন মনে হচ্ছে, আগামী মাইক্রোটি পন্যও আমি তাদের কাছ থেকে ক্রয় করবো। তবে কত বছর পর সেটা আপাতত জানা নেই।
ছবি: মাইক্রোটিক হ্যাপ এ.এক্স.২
কপিরাইট: মাইক্রোটিক
©somewhere in net ltd.