| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রণতি
I would like to work for my country. I believe every day we learn lot of thing.
৬৯ এর গণঅভুত্থান যাকে ইতিহাস বিদরা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার চাকা যেখান থেকে ঘুরে গেছে। এরপর তো এলো আমাদের আকাঙিক্খত স্বাধীনতার ঘোষণা। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ।
আমরা একটা স্বাধীন সার্বভৌম জাতি পেয়েছি। কিন্তু এখন স্বাধীন দেশে আমাদের অনেক প্রত্যাশা অনেক স্বপ্ন। এদেশটাকে সুন্দর, গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল একটা দেশ তৈরি করব। এখনকার সরকার বলে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের একটি দেশ করবে! আমরা না যার একটু নাক সিঁটকানো স্বভাবের আমরা সেটাকে টেনে ২০৩০ সালেই না হয় নিয়ে গেলাম! তবু হবে তো, আমার দেশ উন্নত হবে তো! কিন্তু এখন দেশে যে পরিস্থিতি চলছে এতে তো আমরা নি:শেষ হয়ে যাবো। আমাদের রাষ্ট্র'র কি সত্যিই কিছু করার নেই!
আমার মাথায় সত্যিই আসে না। এই গুলিবাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনও কেন ক্ষমতায়! কি যুক্তিতে! কি কারণে! কেন, কেন,কেন!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রি কি একেবারেই বুঝতে পারছেন না! এর পরিণতি কত ভয়াবহ হবে? দেশজুড়ে শুধু গুজব আর গুজব।
আজ সকালে নতুন অত্যন্ত নতুন এক গুজব শুনলাম।
গুজবটা হলো ''পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা হয়েছে শুধু এদেশে হিন্দুদের আবাসস্থল নিরাপদ করার জন্য।'' হায়রে, পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়! শুনে তো আমি বেকুব।
এখনও পুরনো ঢাকার রাস্তাগুলো অনেক বসাক লেন, রায়চৌধুরী--- কত কত ছোট ছোট হিন্দু জমিদারদের নামে আছে। কিন্তু এগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ার অভিযোগ তাদের দেশে বাংলাদেশীরা চলে যাচেছ কিন্তু তারা আবার আমাদের দেশে যেসব ভারতীয় চলে আসছে তাদের কথা বলছে না।! ওদের দেশে আবার যারা এতদিন গেছে এদের মধ্যে যারা হিন্দু তাদেরকে শরনার্থী বলে দাবি করছে আর যারা মুসলিম তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বলছে।
অথচ আমাদের দেশে ওখান থেকে অনুপ্রবেশ কারী দুই ধর্মৈর মানুষ থাকলেও এ নিয়ে আমাদের সুশীল সমাজ বা প্রশাসন কেউই এখনও সে অর্থে কোন মাথা ঘামায়নি। আমি এই লেখাটার টাইপ করার সময় আমার চোখের সামনে তিনজন মানুষকে পাচিছ, যারা ভারত থেকে এসে এদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে দুজন হিন্দু ধর্মাবলম্ভী এবং একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী।
কিন্তু এদের নিয়ে কারো কোন চিন্তা নেই।
আমিও এ প্রসঙ্গ তুলতাম না যদি না ঐ বেকুব লোকটা বাংলাদেশের জন্ম কে হিন্দুয়ানি চরিত্রে আনতেন। আমাদের দেশে অভিবাসন আইন এখনও এতটা কঠোর নয় কিম্বা আমরা সেই অর্থে এ বিসয়টি এখনও এত বেশি ভাবছি না। তাই এদেশে অবৈধ বিদেশী নাগরিক ধরা পড়ে কম। নইলে, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশের মানুষ আমাদের দেশে একবার এসে আর যায়না।
আর পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধটা ছিল বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে। অন্য ভাষা ও চিন্তার মানুষদের সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের মিল সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই এ অঞ্চলের মানুষ যুদ্ধ করেছে। আর বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। নিন্দুকেরা বলে, ভারত সহায়তা না করলে এটা সম্ভব হত না। অবশ্যই সম্ভব হতো হয়তবা নয় মাসের যায়গায় ১২ মাস, ১২ বছর, ১২ যুগ, ১২ শ বছর লাগত!!!!!!!!
কিন্তু ভারত তো আর আমাদের জন্য শখ করে মুক্তিযুদ্দে সহায়তা করেনি। তাদের অনেক প্রয়োজন ছিল। প্রথমত আমরা যখন দলে দলে তাদের দেশে ঢুকতে শুরু করি তখন ওরা আমাদের এক কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। যত কষ্টই হোক ওরা আমাদের মেনে নিয়েছিল। এ জন্য আমরা ওদের কাছে কৃতজ্ঞ।
তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও আমাদেরকে ওদের দরকার ছিল। ওরা আমাদের সাহায্য করেছে তাই আমরা কৃতজ্ঞ। এখন ভারত আমাদের দাম দেয়না। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব কম দেয়। এর জন্য আমাদের ওদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ে সব কিছু আদায় করতে হবে। এই আওয়ামীলীগ ভারতের দালাল, খালেদার বিএনপি পাকিস্তানের দালাল বলে তাদের মতো পরাশক্তির কাছে যুদ্ধে যেতা যাবে না। সেটা যে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের মাথায় ঢুকলেও খালেদার মাথায় ঢুকেনি তার প্রমাণ তো খালেদা দিলেন। তিনি প্রণবের সঙ্গে সাক্সাত করলেন না।!!!!
এবার আসি শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের যুদ্ধে। এরা যে ফুঁসে উঠবে এটি হবারই ছিল। গত ৪১ বছরের চাপা ক্ষোভগুলো জমতে জমতে তা ফুঁসে উঠেছে। আর সবচেয়ে চমকে উঠেছি যখন দেখলাম ওরা অহিংস আন্দোলন করছে।
ওদের কাছে নিজেকে নিবেদন করেছি তখনই।
অহিংস আন্দোলণ এই বাংলাদেশে!! যেখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়া রাজনৈতিক কোন কথাই হয় না।! অবিশ্বাস্য একটা দিক দেখাল তরুণ প্রজন্ম! ওদের আমার স্যালুট! !!
আর আওয়ামীলীগ, দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দাবিকারী দল। তারা এ আন্দোলনকে সাপোর্ট দিচ্ছে কোন ক্ষতি নেই। তাই বলে, তাদের নেতাদের নিজের পার্টির কথা বলে সেখানে গিয়ে বক্তৃতা দিতে হবে কেন? বক্তৃতা দিতে চাও নিজের নাম বলে বক্তৃতা দাও। ইমরানরাতো বারবার বলছে, যে এটা কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়, তাহলে তাদের সম্মান করলে তোমাদের ক্ষতি কি! না তাদের যে মঞ্চ দখল চাই ই চাই।
প্রজন্ম মঞ্চ বারবার বলেও পাকিস্তানী হায়েনাদের দোসর যারা রাজাকার-আলবদর, তাদেরকে বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের কাছে পরিচিত করাতে ব্যর্থ হলো । এতে ক্ষতি হলো কার? এদেশের শান্তিকামী মানুষের। একদিনে লাশ পড়ল, ৪২ না । পরে ২১ টা। গত বুধবার চলল, বিএনপির মিছিলে গুলি। কিন্তু সরকার এখনও এত অন্ধ। যার কারণে মিছিলে গুলি চলল, সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দিব্যি দাপিয়ে টিভিতে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ তার তো লজ্ঝায় আইন -শৃঙ্খলা পরিষ্তিতির উন্নতি করতে না পারার দায়ে ---------------------- পদত্যাগ করা উচিত ছিল!!!!!!!
এদেশের রাজনীতিকদের কি লজ্জার সংস্কৃতি তৈরিই হবে না?????
আওয়ামীলীগ এখনও পরিস্থিতি সামলাতে সচেতন নয়। তার প্রমাণ বিএনপির মিছিলে গুলি!!!!!!
এই দল টা বোঝে না, যদি এবার ওরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে না পারে। পরিণতি কি হবে? এই একটা দলের হঠকারিতায় কিভাবে ভুগবে এদেশের আপামর জনতা!!!!
কালও আমাকে একজন বলল, এবার যদি হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে ওর যেমন পরাজয় হবে। পরাজয় হবে মুক্তিযুদ্দের পক্ষের শক্তির, হেরে যাব আমরা হেরে যাবে বাংলাদেশ!!!!!
আমি কোন ভাবেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পরাজয় চাই না। কারণ এটি হলে আমিই হেরে যাব!
আমি চাই আমরা জিতব।
তাই সরকারকে ঘুম থেকে জেগে উঠে সঠিক পদক্ষেপ নেবার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি? সরকার কি আমার মতো অধমদের দাবির কথা শুনবে???? নিবে সঠিক উদ্যোগ!!! আমি কোন লাশের মিছিল দেখতে চাই না।
সামান্য একটা ভূয়া ছবি দিয়ে কি হারে জামাত -শিবির মানুষ মারল। সরকার কেন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে না! এখনও কেন সুশীল সমাজ গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়াবে না? সরকারের উচিত সমস্ত টিভি চ্যানেলে এই যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সঠিক ইতিহাস ঘন ঘন প্রচার করা। সরকারের সমস্ত কর্মকর্তা-স্কূল, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সবাইকে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই না আমরা দুষ্টু গরুগুলোকে গোয়ালে শান্ত করে রাখতে পারব, নইলে আমাদের কি ...১৩ এর গণ জাগরণ মঞ্চের কারণে ১৫ তে .... লক্ষ লাশের মিছিল দেখতে হবে!
লাশের মিছিল দেখতে চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে শেষ বারের মতো অনুরোধ করছি। আপনি কিছু করুন। প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ।
প্রণতি প্রণয়
০৭.০৩.২০১৩
©somewhere in net ltd.