| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রণতি
I would like to work for my country. I believe every day we learn lot of thing.
দিনটা ছিল নারী দিবস। আমার আনন্দের দিন। এই দিনটা এলে আমি গুনগুন করে গাই
আজ নারী দিবস। আজ আনন্দ দিন.. এ বাক্য দিয়ে আমি পুরো একটা গানও লিখেছি যেহেতু সুর পারি না। তাই ওটা আর বাস্তবে রুপ পায় নি।
এটা আমার অনেক ভাল লাগার দিন। এ দিনটা একান্ত আমার তাই আমার আনন্দের শেষ থাকে না।
আমি সারাদিন আনন্দে কাটাই। আর এটা আমার শুরু হয়েছে অনেক ছোটবেলা থেকেই। তখন থেকে যখন আমি বুঝেছি আমার লিঙ্গগত পরিচয় আমার মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে বেশি দামি। আমি যতই মানুষ হতে চাই সবাই আমাকে নারী দেখতেই পছন্দ করে। আমার হাটা-চলা-খাওয়া-পড়া-বিয়ে-চাকরি-চিন্তা সব ঐ লিঙ্গভিত্তিক হবে এটাই সবাই চায়! তখন থেকৈই আর তখন থেকেই আমি এদিনটিকে মনে প্রাণে ভালবাসি।
এ নিয়ে নানা মুণির নানামত। কিন্তু আমি কারো সঙ্গে একমত নই। এই দিনটি আমার ব্যস আর কিচ্ছূ বলতে চাই না।
গতকাল শুক্রবার ছিল বিশ্ব নারী দিবস। ভাগ্য ভাল এবারের দিনটি পড়েছে আমার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।
না হলে আমাকে অফিস থেকে ছুটি নিতে হত! এ বছর এমন সময় দিনটি এল যখন আমার বাসায় সবগুলোর পরীক্ষা চলছে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। আমার কাছে যারা ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল তারা সবাই আমাকে ছেড়ে গেছে আমার একটাই অপরাধ আমি সেই ৪১ বছর আগে হওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।
মাত্র দু মাস আগে আমার সর্বশেষ হৃদয় বন্ধনটিও ছেড়ে গেছে। আমি আছি আমার মতো। কিন্তু দেশের এমন সার্বিক পরিস্থিতিতে আমার এবারের দিনটি অতটা আনন্দের মতো ছিল না। তবুও মুখে হাসি রেখে আমি আনন্দ করতে চাইছিলাম।
সকালে যথারীতি ঘুম থেকে উঠলাম। তারপর দিনের কাজগুলো সারলাম। এবছরের দিবসটিতে কেউ আমাকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানায়নি। না শুধু আমার ঘরের মানুষরা জানিয়েছে। বাইরের কেউ জানায়নি।
অথচ প্রতিবছর অনেক শুভেচ্ছা পেতাম। এবার পাইনি বলে মন খারাপ করিনি। আগেই জানতাম এমনটি ঘটবে।
সকালের দিকে বাইরে আর কোথাও গেলাম না। বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে গণজাগরণ মঞ্চে গেলাম। এবার নারী দিবস উদযাপনের জন্য এর চেয়ে ভাল স্থান আর হয় না। গেলাম। আমার সঙ্গে একজন গেল।
ওকে আমি জোর করিনি। ও খুশি মনেই গেল। রাস্তায় এসে অন্য একজনের ফোন পেলাম বলল, তুমি কি কর? বললাম মঞ্চে যাচ্ছি নারী দিবস উদযাপন করতে। বলল, যাও । তবে তুমি গতবছর এদিনে সবুজ রঙয়ের শাড়ি পরে ছিলে কপালে কাল টিপ। আর হাত ভর্তি সবুজ-কালো চুড়ি।
আমার তো মনে ছিল না। পরে মনে পড়ল। বললাম, হ্যাঁ। বলল, তুমি কিন্তু সেদিন আমার কাছে এসেছিলে। আমি বললাম হ্যাঁ।
সেদিন আমি ওর কাছে গেছিলাম। দুজনে আইসক্রিমসহ অন্য খাবার খেয়েছি। আড্ডা দিয়েছি। পরে রাতে ওকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে গেছি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। সেখানে যেতেই ওয়েটার বলল, আপনার সঙ্গে কেউ কি আসবে! আমি বললাম, না। পরে জানতে চাইল, তাহলে?? আমি অর্ডার দিলাম।
বলল, আপনি চাইলে নিয়ে যেতে পারেন্ বললাম, না আজ নারী দিবস। খাবার খেয়ে বেশি হলে আমি নিব না। আজ নারী দিবস। আজ আনন্দ দিন। ওয়েটার আমার কথা কিছুই বুঝল কিনা জানিনা।
টানা এক ঘন্টা রেস্টুরেন্টে কাটিয়ে বাসায় ফিরে গেলাম।
এবার মন তো সব দিক দিয়ে অত্যন্ত খারাপ। কাছের মানুষ দূরে সরে গেছে। শুধু সরেই যায়নি। অত্যন্ত নোংরা ভাবে সরে গেছে।
আমাকে অনেক গালিও দিয়েছে । দেশ ভাল না থাকলে আমিও ভাল থাকিনা। এটা আমার স্বভাব। দেশতো ভাল নেই। সংঘাতে ডুবছে। আর খালেদা-হাসিনা নিজেদের গদি নিয়ে চিন্তা করছে। আমার সোনার বাংলা দেশ বাঁচাবে কে? ভেবৈই মন খারাপ।
তো, যাক গে। মঞ্চের কাছে পৌঁছালাম বিকেল চারটার দিকে। গান চলছে। যত বোন আসবে ভেবেছিলাম তুলনামূলক কম তবে একেবারেই কম নয়! জানি এর চেয়ে কয়েক গুণ টিভির সামনে বসে দেখছে আর নিজের নারী ভাগ্য কে দোষ দিচ্ছে।
এদের অনেকেই আসতে পারবে না কারণ বাড়িতে অসুস্থ আত্নীয়-স্বজন আছে। স্বামী, মা, বাবা, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ছোট বেবি।- সব নিয়ে প্রবলেম। যারা কর্মজীবি তাদের আবার একটা মোটে ছুটির দিন। বাড়িতে থাকবে না বাইরে যাবে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
মঞ্চের কাছে গিয়ে মন ভরে গেল। শ্লোগান আর গানে মেতে উঠলাম। কিছুক্ষণ পরে বক্তৃতাও শুরু হল। আমার অতিচেনা মুখ গুলো ছিলই। আর ও ছিল অনেকেই।
সুলতানা কামাল, খুশি কবীর, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী,ফেরদৌসী মজুমদার, রোকেয়া প্রাচী, মালেকা বানু, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডা. দীপু মনি, দীপ্তি শিকদার, মুন্নুজান সুফিয়ান, মমতাজ বেগমসহঅনেকেই ছিল ওখানে।
অনেকের নামই লেখা যায়।
আর ছিল ইমরান, লাকী, রসূল, আকতাররা। ওরা দলবলে।
আমরা সবাই যখন উজ্জীবিত। আনন্দে মেতে উঠেছি। স্লোগানে ভরিয়ে তুলছি আকাশ-বাতাস। এমন সময় দুরে বিকট শব্দ। একটা দ্রুম! সবাই চুপ। মিউজিক থেমে গেছে। সবাই সচকিত। ঠিক এমন সময় আর একটা একই রকম শব্দ। আমার পাশের জন আমার দিকে তাকাল। আমি বললাম উঠে দাঁড়াও। কেননা ততক্ষণে সামনের যারা তারা উঠে দাঁড়িয়েছে। আমার ভয় যদি উঠে আসে তাহলে যে আমার সে চেপ্টা হয়ে যাবে।
আমি আর ও উঠে দাঁড়ালাম। প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই মঞ্চ সজাগ হয়ে গেছে। আবার জয় বাংলা শ্নোগান- লাকির কণ্ঠে।
আমরাও দিতে শুরু করলাম। মঞ্চ থেকে সবুজ পাঞ্জাবি পরা বছল ২০-২১ এর একটা ছেলে ছুটে এল আমাদের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে জয় বাংলা বলে শ্লোগান দিতে লাগল। আমরা আরও উজ্জিবীত।
এবার আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে শ্লোগান এল।
সব্বাই খুব ক্ষেপেছ্ছে দাঁড়িয়েই সবাই শ্লোগান দিতে লাগল। আমার ঠিক আগে দুটো ছেলেমেয়ে বের হয়ে যেতে চাইছে আমি বললাম, যাবেন না। কিছু হবে না।
ওরা চলে গেলো। পরে, মনে হলো ওরা রাতে যখন টিভিতে দেখবে প্রোগ্রাম চলেছে লজ্জা পাবে ভীষণ, নিজেদের ভীরুতার কথা চিন্তা করে!!
যেই না ককটেল ফুটল, বাড়ল শ্লোগানের গতি। এরপর বক্তৃতা, গান। সবশেষে ইমরানের বক্তৃতা এবং শপথ।
লাকির বক্তৃতা শুনে পেছনের একজন বলল, কে বলে ও শ্লোগান কন্যা। ও তো বক্তাও ভাল!
আমার মন ভরে গেছে সব মেয়ে বক্তাই নিজের কষ্ট হিসেবে নিয়েছে প্রত্যেক নারীর কষ্ট। নারী যদি সবার কষ্ট নিজের মধ্যে নেয় তবে, এই বাংলাদেশকে সুন্দর করা থেকে আটকায় কার সাধ্যি!!!
ভাল লেগেছে ইমরানের নারী বান্ধব বক্তব্য। ও ওর বক্তৃতার এক ফাঁকে বলেছে, আমি সবাইকে প্রণতি জানাই। আমি ওর প্রণতি গ্রহণ করেছি ওকেও আমার প্রণতি জানিয়েছি।
মন খারাপ হয়েছে যখন দেখলাম, মেয়েরা ইমরান কে লাল গোলাপ দিল। অন্য পুরুষ ভাইদের ফুল দিল। আরে বোকা ছেলেমেয়ের দল- সারা জীবন তো শুধু পুরুষরা পেয়েই গেলে- মেয়ৈদৈর কিছু দাও না।
ইমরান কে মেয়েরা ফুল দেবে কেন? ইমরান মেয়েদের ফূল দিক না!
আমি আগে আমার অফিসের সহকর্র্মীদের এদিনে খাওয়াতাম। এখন ছুটি নিই। ওরা কোথায় আমাকে সম্মান করবে তা না ওরা শুধু বিদ্রুপ করে।
যে উদ্দেশ্যে এ দিবসটি তার কোন উদ্দেশ্যই সফল হয় না।
গণজাগরণ মঞ্চকে আমার স্যালুট- ওরা অন্তত নারীদের কথা মনে রেখেছে। ওরা অন্তত নারীদের সম্মান দিয়েছে।
ওরা ওদের জয় বাংলা। ফাঁসি চাই। তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা। ত তে তুই রাজাকার। ক তে কাদের মোল্লা। ন তে নিজামী। ত তে তুই রাজাকার । এর ভীড়েও নারীদের জন্য শ্লোগান দিয়েছে। বলেছে বাংলার নারীর জয় হবেই। জয় নারী। ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বাংলাদেশের নারীরা এক হও এক হও। জয় নারী।
আমার হৃদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা, ভালবাসা, স্নেহাশীষ- গণজাগরণ মঞ্চকে । ওদের সবাইকে। সারা পৃথিবীর নারীদের জীবন শান্তির হোক।
বাংলাদেশ হোক রাজাকার মুক্ত। দেশে শান্তি ফিরে আসুক। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক আমাদের বিরোধী দলীয় নেতার। ছেড়ে দিক নারী ধর্ষণকারী খুনিদের হাত। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উনি- দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সর্ব শক্তি প্রয়োগ করুক! নিরাপত্তা দিক দেশের সব নাগরিকের। প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ বাদ দিয়ে উনি শুধু দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে অর্থ ব্যয় করুক!
বুদ্ধি হোক এরশাদের মঞ্চকে গালি না দিয়ে কি করলে দেশে শান্তি ফিরবে তা তার নেত্রীকে বলুক!!
বুদ্ধি হোক দেশের আপামর জনতার। নিজের ভাইবোনকে খুন করা থেকৈ বিরত থাকুক!!ঐ অশান্তির দলকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করুক।!!!
জয় বাংলা ! জয় নারী দিবস!
প্রণতি প্রণয়
০৯.০৩.২০১৩
২|
০৯ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:২৪
হোদল রাজা বলেছেন: খুবই ইমপ্রসিভ লিখা !
ছবির মতন ভেসে উঠলো দিনটা !!
পোস্টে +
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:৪৭
রিফাত হোসেন বলেছেন: হুম,