নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার সোনার বাংলা

কাজীমাহমুদ

২৩

কাজীমাহমুদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

৭ই আগস্ট হোক - আর্ন্তজাতিক জাতীয় সঙ্গীত দিবস

১০ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:১০

”আমার সোনার বংলা” কবিতাটি ১৯০৫ সালের ৭ই আগস্ট-এ প্রথম প্রকাশ ঘটে। ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চে সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে পল্টন ময়দানে ”আমার সোনার বাংলা” কবিতাটি বাংগালী জাতির সঙ্গীত হিসেবে ঘোষনা করা হয়। ১৭ই এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গানটা প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়া হয়। ১৯৭২ সালে সদ্য গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার রাস্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে এই কবিতার প্রথম দশ চরণ র্নিবাচন করেন। ১৯১৪ সালে এই জাতীয় সংঙ্গীত সবচেয়ে বেশি মানব কন্ঠে গাওয়ার কারণে গিনেস বুক ওব ওর্য়াল্ড রেকর্সড-এ স্থান পায়। বাঙগালী জাতির হাজার বছরের স্বপ্নের ও সপথের প্রকাশ ঘটেছে এই সঙ্গীতের মাধ্যমে।

এই সঙ্গীত বাঙগালীর মনে দেশের জন্য অাত্ন উৎসর্গ করার চেতনা তৈরী করেছিল। যেমন এই গানটির একটি লাইন এখানে উদাহরন স্বরুপ বলা যেতে পারে… “ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে--/ দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।”.. .. এই সঙ্গীতের চেতনায় চেতনায়িত হয়ে যুগে যুগে গর্জে উঠেছে রজনিকান্ত, দিজেন্দ্রলাল, সুভাস বোস, বাঘা জতিন, বেগম রোকেয়া, রাজা রামমোহন রায়, নজরুল, প্রীতিলতা, সূর্যসেন, ভূপেন, ভাষানী, সরোয়ার্দি, মুজিব, ফজলুল হক, সত্যজিত, ইলামিত্র, ওসমানি, জিয়া, সাইক সিরাজ, আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ প্রভৃতি জনের মত কোটি বাঙালী। এদেরেও আগে একই ধরনের সপথ নিয়ে বাংলার মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলন, তিতুমীর, ক্ষুদিরাম বোস, ফয়েজী, ঈশ্বর চন্দ্র, বঙ্কিম, দ্বীনবন্ধু মিত্র সহ অনেক দেশ প্রেমিক।

অতএব এই সঙ্গীত বুকে গেঁথে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী ৭১-এ গর্জে উঠেছিল(১১ হাজার রাজাকার বাদে)। ৩০ লক্ষ বীর বাঙ্গালী প্রান দিয়েছেন। কোটি বাঙ্গালী র্নিযাতন বরণ করে নিয়েছিল। দু’লক্ষ মা-বোন তাদের কান্না দান করেছিলেন এই সঙ্গীতের সুরে লয়ে। বীর বাঙ্গালীর উক্ত উৎসর্গের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি হাজার বছরের উপহার, সার্বভৌম একটি স্বাধীন দেশ- ”বাংলাদেশ”। ভালবাসার দেশ বাংলাদেশ।

ভালবাসার চেতনা বাঙ্গালী বুকে লালিত হয়ে আসছে হাজার বছর ধরে। এই সঙ্গীতের মাধ্যমে ১৯০৫ সালে সেই ভালবাসার প্রকাশ ঘটে বাঙ্গালীর কণ্ঠে। সেই থেকে কন্ঠে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বাঙ্গালী সপথ করে আসচ্ছে। দেশমাতৃকার জন্য বাঙ্গালী নিজের সকল ধন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে এই সঙ্গীতের র্মুছনায়। ফলে বাঙ্গালী নিজের প্রিয় প্রাণ বিসর্জন দিতে দ্বীধাবোধ করেনি। সেই প্রস্তুতির সুর বেজেঁ উঠেছিল গানের চরনে, যেমন “ ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,” । দেশকে ভালবাসতে হলে বা দেশের জন্য কিছু করতে হলে অনেক ধন দৌলত-এর প্রয়োজন হয় না। যার যা আছে তাই নিয়েই দেশকে ভালবাসা যায়। তাইতো ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “ তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তত থাকো…”।

রবীন্দ্রনাথ ১৯০৫ সালের ৭ই আগস্টে বাঙ্গালীর হাজার বছরের স্বপ্নকে এই সঙ্গীতে নিয়ে এসেছিলেন। শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে সেই সঙ্গীতের চেতনাকে ভাষনে-সংগ্রামে প্রকাশ ঘটান। বীর বাঙ্গালী এই সঙ্গীতকে হৃদয়ে ছন্দময় করে এনে দিয়েছেল একটি স্বাধীন দেশ। এ থেকে এটাই প্রমানিত হয় এই সঙ্গীত অত্যন্ত শক্তিশালী যা একটা দেশের হাজার বছরের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্য উৎসাহ যুগিয়েছিল। আজ ৭ই আগস্ট এই সঙ্গীতের জন্মদিন। সত্যেন রায় লিখেছেন: “বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ৭ আগস্ট (১৯০৫ খৃ:) কলিকাতার টাউন হলে যে সভা হয়েছিল, সেই উপলক্ষ্যে… রবীন্দ্রনাথ নূতন সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাউল সুরে গীত হয়েছিল। …১৯০৫ খৃ: ৭ই সেপ্টেম্বর (১৩১২ সনের ২২শে ভাদ্র). তারিখের ‘সঞ্জীবনী পত্রিকায় এই গানটি রবীন্দ্রনাথের স্বাক্ষরে প্রথম প্রকাশিত হয়”। [http://www.shapludu.com/1418/07/article_details.php?article_serial=104] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের প্রয়ান দিবসও ৭ই আগস্ট, ১৯৪১ সাল। আসুন সকলে মিলে আমরা এই গানটির শুভজন্মদিনে দেশের ক্ষতময় ইতিহাসকে স্বরন করি। যারা কন্ঠে এই শক্তিশালী সঙ্গীতকে ধারন করে দেশের জন্য আত্বউৎসর্গ করেছেন তাদের স্বরন করি। পৃথিবীর আর একটি দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে এই ধরনের একটি শক্তিশালী সঙ্গীত আছে। তাই জাতীয় সঙ্গীত-এর জন্মদিন হিসেবে ৭ই আগস্ট প্রতিবছর বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সকল দেশ যেন স্বরন করে তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সেই দিক বিবেচনা করে, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সকল বাঙ্গালি সহ সকরারের কাছে প্রস্তাব করছি ৭ই আগস্ট যেন আর্ন্তজাতিক জাতিয় সংগীত দিবস করা হয়।

- ‍কাজী মাহমুদুর রহমান
(৭ই অগস্ট-২০১৪)/ ঢাকা।বাংলাদেশ
[email protected]

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:১৫

শায়মা বলেছেন: খুব খুব খুবই ভালো লাগলো ভাইয়া।

২| ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:৩৮

হোৎকা বলেছেন: পাগলে কিনা.,,,,,,,,,,,,,

৩| ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:০২

অশ্রুত প্রহর বলেছেন: "৭ই আগস্ট হোক - আর্ন্তজাতিক জাতীয় সঙ্গীত দিবস"

যদি হয় তবে ভালই হয়। =p~

৪| ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৪১

কাজীমাহমুদ বলেছেন: একটা গান যে একটা জাতির মুক্তির চেতনা যোগাতে পারে তা সুধু বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসের নিরব সাক্ষি..

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.