| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত শেরটি শোনান -
"জাহিদ শরাব পিনে দে মসজিদ মে ব্যায়ঠ কর,
ইয়া ওহ জাগা বাতা দে যাঁহা খুদা নেহি।"
ভাবানুবাদ -
(খোদার ঘরে বসেই আমায় পান করতে দাও শরাব,
নয়তো এমন জায়গা দেখাও, যেখানে নাই আমার রব।)
সহজ বাংলা - হে পরহেজগার! আমাকে মসজিদে বসেই মদ পান করতে দাও, অথবা এমন কোনো জায়গা দেখিয়ে দাও যেখানে খোদা নেই।
উপের গল্পটি আসলে শুধুই গল্প, তবে উর্দু এই শেরটি থেকেই শুরু হয়েছিলো উর্দু সাহিত্যের একটি কাব্যিক লড়াই, চারজন বিখ্যাত কবির (মির্জা গালিব, আল্লামা ইকবাল, আহমদ ফারাজ ও ওয়াসি শাহ) এক অনন্য শায়েরি। মির্জা গালিবের মৃত্যু বহু বছর পরে এই বিখ্যাতো শায়েরির প্রথম জবাব দিয়েছিলেন আল্লামা ইকবাল। তিনি লিখেছেন -
"মসজিদ খুদা কা ঘর হ্যায়, পিনে কি জাগা নেহি,
কাফির কে দিল মে যা, যাঁহা পার খুদা না হো।"
ভাবানুবাদ -
(মসজিদ খোদার ঘর, হেথা মদ্যপান মানা,
যাও কাফেরের দিলে, যেথায় খোদার নেই ঠিকানা)
সহজ বাংলা - মসজিদ খোদার ঘর, এখানে পান করা নিষেধ; কাফেরের অন্তরে যাও, যেখানে খোদা নেই।"
এবার মির্জা গালিবের পক্ষে আল্লামা ইকবালের শায়েরির জবাবে আহমদ ফারাজ তারি শায়েরির খাতা খুলের বসেন। তিনি লিখে -
"কাফির কে দিল সে আয়া হুঁ মেঁ এ দেখ কার,
খুদা মওজুদ হ্যায় ওয়াহাঁ, পার উসে পতা নেহি।"
ভাবানুবাদ -
(কাফেরের মনে দিয়ে উঁকি এসেছি দেখে,
সেখানেও খোদা আছে, জানেই নেই কাফেরের।)
সহজ বাংলা - আমি কাফেরের অন্তর দেখে এলাম, সেখানেও খোদা বিরাজমান, কেবল সে নিজে তা জানে না।"
ওয়াসি শাহ এবার জবাব দিতে গিয়ে লিখেছেন -
"খুদা তো মওজুদ হ্যায় হর জাগা জাঁহা মেঁ,
তু জান্নাত মেঁ যা কার পী, জাঁহা পিনে সে মনা নেহি।"
ভাবানুবাদ -
(খোদা বিরাজমান বিশ্বচরাচরে,
পানের নিষেধ নাই জান্নাতে; যেথা মানা নাই মদ্যপানে।)
বাংলা অনুবাদ - "খোদা তো জগতের সবখানেই আছেন; তুমি জান্নাতে গিয়ে পান করো, যেখানে পান করা বারণ নয়।"
বিখ্যাতো এই চারজন শায়েরের পরে তাদের ধারাবাহিকতায় আরো একটি শায়েররি পাওয়া যায়। তবে সেটিকে অজ্ঞাতনামা হিসেবেই দেখতে হবে। সাধারণ উর্দু কাব্যপ্রেমী কেউ এটিকে তৈরি করেছেন।
"পীতা হুঁ সাকি
গাম-এ-দুনিয়া ভুলানে কে লিয়ে
জান্নাত মে কৌনসা গাম হ্যায়,
ইস লিয়ে ওঁয়াহা মাজা নেহি।"
ভাবানুবাদ -
(পান করি হে সাকি, সংসারের দুঃখ ভুলে যেতে;
জান্নাতে নেই দুঃখই কোনো,
তাই সেথায় মধ্যপানে মজা নাই।)
বাংলা অনুবাদ - দুনিয়ার দুঃখ ভুলার জন্য মদপান করি, জান্নাতে তো দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। তাই জান্নাতে মদ্যপানে কোনো মজা নেই।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ - মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪১
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
"পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে।
আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।"
২|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৫
আহমেদ জী এস বলেছেন: মরুভূমির জলদস্যু,
গালিবের এই বিখ্যাত শে'রটি নিয়ে ব্যবচ্ছেদ করা শে'রগুলো তুলে ধরাতে চমৎকার একটি পোস্ট হয়েছে এটি।
উর্দু সাহিত্যের কাব্যিক লড়াই নিয়ে জানার ভান্ডারে আরো ভালো কিছু যুক্ত হলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- আপনাতেও ধন্যবাদ জানাই পোস্টে মন্তব্য এবং লাইক দেয়ার জন্য।
৩|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার কলমে উঠে আসা এটি একটি ব্যতিক্রমী পোস্ট; ভালো লেগেছে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- ধন্যবাদ জানাই আপনাকে পোস্টে মন্তব্য এবং লাইক দেয়ার জন্য।
৪|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯
নাহল তরকারি বলেছেন: কেমন আছেন?
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
- গত মাসের শেষ শুক্রবারে সারারাত আপনার এলাকার কাছাকাছি রাস্তার জ্যামে আটকে ছিলাম।
- আপনি ভালো আছেন?
৫|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: সবাই কিন্তু দুঃখ কষ্ট ভুলে থাকার জন্য মদ্যপান করে না।
কেউ কেউ এমনই মদ্যপান করে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৮
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- আপনার মন্তব্য থেকে বুঝা গেছে শায়েরি গুলির মূলবিষয়টাই আপনার মাথার উপর দিয়ে গেছে।
৬|
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
এই শায়েরিগুলোর সৌন্দর্য শুধু মদ আর মসজিদএর বৈপরীত্যে নয়; এর গভীরে আছে মানুষ ও স্রষ্টার সম্পর্ক নিয়ে
এক চিরন্তন দার্শনিক প্রশ্ন খোদাকে আমরা কোথায় খুঁজি, আর কোথায় হারিয়ে ফেলি?
গালিবের প্রশ্ন যেন বাহ্যিক পবিত্রতার সীমাকে অতিক্রম করে অন্তরের সর্বব্যাপী সত্তার দিকে ইঙ্গিত করে যদি স্রষ্টা
সর্বত্র বিরাজমান হন, তবে তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় কীভাবে? ইকবালের
জবাব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাহ্যিক পবিত্রতার পাশাপাশি অন্তরের পবিত্রতার কথাও। আর ফারাজের পঙ্ক্তি
সেই সীমাটিকেও ভেঙে দেয় মানুষ নিজেকে স্রষ্টা থেকে দূরে ভাবলেও স্রষ্টার উপস্থিতি তার অন্তরেই থাকতে পারে।
অজ্ঞাত কবির শেষ কথাটি যেন পুরো বিতর্ককে আরও গভীর মানবিক অর্থ দেয়: মানুষ অনেক সময় বাহ্যিক নেশা
দিয়ে যে শূন্যতা ও দুঃখ ভুলতে চায়, প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার পথ সেই শূন্যতার কারণটিকেই চিনতে শেখায়।
শেষ পর্যন্ত মসজিদ, মদ, কাফের, জান্নাত সব প্রতীককে সরিয়ে রাখলে প্রশ্নটি একটাই থেকে যায় । আমাদের অন্তরে
কি আমরা সেই পরম সত্তার উপস্থিতি অনুভব করতে শিখেছি? কারণ স্রষ্টাকে শুধু উপাসনালয়ে খুঁজলে হয়তো স্থান
পাওয়া যায়, কিন্তু তাঁকে হৃদয়ে উপলব্ধি করতে পারলে সমগ্র অস্তিত্বই হয়ে ওঠে এক বিশাল মসজিদ।
তাই এই শায়েরির আসল লড়াই সম্ভবত কবিদের মধ্যে নয়; লড়াইটি মানুষের নিজের ভেতরে । বাহ্যিক আচার
বনাম অন্তরের উপলব্ধি, বিশ্বাসের ভাষা বনাম আত্মিক অভিজ্ঞতা, এবং ‘খোদা কোথায়?’ প্রশ্নের বিপরীতে
আমি তাঁকে কতটা চিনেছি?
এই বিষয়টি নিয়ে আমি একটি পৃথক পোস্ট দেয়ার কথা ভাবছি ।
মির্জা গালিবের সাথে আরো কয়েকটি শের তুলে দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরো বিস্তারিত ভাবনার সুযোগ তৈরী করে
দেয়ার ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৯
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টে পড়ে চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
- এই শায়েরি গুলি অনেকাংশেই সুফিধারার মারেফতের অংশ বলা চলে। পড়ার সময় শুধু সামনের টুকুই দেখা যায়, হাহিকি অংশটুকু শব্দের রূপকের আড়ালে থাকে।
৭|
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কথিত পোস্টটি দেয়া হয়ে গেছে ।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- পোস্টটি ভালো হয়েছে। আপনার পোস্টের কল্যানে কেউ কেউ আগ্রহী হচ্ছেন ভিন্ন রকম কিছু পড়ার, বুঝার জন্য।
৮|
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০১
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০২
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- দ্বিতীয় বার আসার জন্য ধন্যবাদ।
৯|
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: যে থাকে অন্তরে, তাকে অন্য কোথাও খোঁজার কী দরকার?
'সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ' টা পড়ে মজা পেলাম।
আপনার পোস্টের সাথে সাথে ডঃ এম এ আলী এর ব্যাখ্যামূলক মন্তব্যটাও ভালো লাগল। +
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: "আর কতকাল মসজিদ, প্রার্থনা আর উপবাসের হিসাব রাখবে? তার চেয়ে মদের দোকানে গিয়ে মাতাল হয়ে পড়ে থাকা অনেক ভালো। খৈয়াম, মদ পান করো! কারণ খুব শীঘ্রই তোমার এই মাটির দেহ দিয়ে একদিন মদের পাত্র বা জগ তৈরি হবে" -ওমর খৈয়াম