নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে এটি শুধু একটি পরিবারের tragedy নয়; এটি পুরো সমাজের বিবেকের ওপর আঘাত।
নেত্রকোণার মদন উপজেলার আলোচিত ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুটির জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তান এবং মামলার আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া গেছে। যদি আদালতে এই তথ্য চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি হবে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের একটি নির্মম দৃষ্টান্ত।
কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় শুধু অপরাধের অভিযোগ নয় অভিযোগ ওঠার পরও যদি কেউ সত্য অনুসন্ধানের পরিবর্তে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে দাঁড়ায়, ভুক্তভোগীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কিংবা ঘটনাকে “মাদ্রাসা ও মাওলানাদের সম্মান নষ্ট করার ষড়যন্ত্র” হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও কঠিন করে তোলে।
কোনো মাদ্রাসা শিক্ষক, আলেম বা ধর্মীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী বলা যেমন ন্যায়বিচার নয়, তেমনি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অন্ধভাবে অস্বীকার করাও ন্যায়বিচার নয়। অপরাধীর পরিচয় ধর্ম নয়; অপরাধই তার পরিচয়।
একজন সত্যিকারের আলেমের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত শিশুর পাশে দাঁড়ানো, সত্য উদঘাটনের দাবি করা এবং প্রমাণিত অপরাধীর কঠোর শাস্তি দাবি করা। অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদ্রাসার শিক্ষক, মাওলানা কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের হোন তার পরিচয় তাকে আইনের ঊর্ধ্বে নিতে পারে না।
আর একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও কোনো শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে সেটিকে “প্রতিষ্ঠানের সম্মান” রক্ষার প্রশ্ন বানানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষা হয় অপরাধ লুকিয়ে নয়; বরং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে। একটি মাদ্রাসার সম্মান কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির চেয়ে বড় নয়। একটি শিশুর নিরাপত্তা তার চেয়েও বড়।
যারা বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ মাদ্রাসা ও মাওলানাদের সম্মান নষ্ট করছে” তাদের কাছে প্রশ্ন: একজন শিশুর কান্নার চেয়ে কি প্রতিষ্ঠানের সম্মান বড়? একজন নির্যাতিত শিশুর ভবিষ্যতের চেয়ে কি কোনো ব্যক্তির সামাজিক পরিচয় বড়?
কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় বা সব মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাধারণীকরণ করাও সমাধান নয়। বরং প্রয়োজন মাদ্রাসাসহ দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষার কঠোর ব্যবস্থা। শিক্ষক নিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই, শিশুদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, আবাসিক প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নজরদারি, অভিযোগ গোপন না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং প্রমাণিত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা কোনো শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ধর্মীয় বক্তৃতা দিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়া যাবে না; তদন্ত ও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
একজন অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু নির্দোষ প্রমাণের দায়িত্ব তদন্ত ও আদালতের; ওয়াজের মঞ্চে বসে কাউকে নির্দোষ ঘোষণা করার দায়িত্ব কোনো ধর্মীয় বক্তার নয়।
আজ আমাদের প্রয়োজন এমন একটি সামাজিক সংস্কৃতি, যেখানে মাদ্রাসার শিক্ষক হোক, স্কুলের শিক্ষক হোক, জনপ্রতিনিধি হোক কিংবা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে পরিচয় নয়, সত্য ও প্রমাণই হবে বিচার্যের ভিত্তি।
শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস নয়।
অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, কোনো দল নেই, কোনো পদমর্যাদা নেই।
আর অপরাধীর পক্ষ নেওয়া কোনো ধর্মের শিক্ষা হতে পারে না।
মাদ্রাসার সম্মান রক্ষা করতে হলে অপরাধ ঢাকতে নয় অপরাধের বিরুদ্ধে সবার আগে দাঁড়াতে হবে।
একটি শিশুর কান্না যেন আর কোনো ওয়াজ, কোনো পরিচয়, কোনো প্রতিষ্ঠানের “সম্মান” এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বক্তব্যের নিচে চাপা না পড়ে।
শিশুকে রক্ষা করুন। সত্যকে রক্ষা করুন। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের বিচার করুন।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, কোনো দল নেই, কোনো পদমর্যাদা নেই।
......................................................................................................
কে বলছে
আর কে মানছে ?
ভেঙ্গে পড়া আমাদরে এই দূর্ণীতি গ্রস্হ সমাজে
কার কথা কে শুনে ???

২| ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৮

নতুন বলেছেন: কিছু মানুষ ধর্মের নামে ধান্দাখুলে বসেছে। ( মাজার, মাদ্রাসা)

আর ধর্মান্ধরা সেটার বিরুদ্ধে কথা বললেই খেপে যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.