| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি না থাকলেও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি স্থান পেল এটি কি কেবল একটি প্রদর্শনীর বিষয়, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর বার্তা আছে?
আরও বিস্ময়ের বিষয় জিন্নাহর যে ছবিটি রাখা হয়েছে, তার একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চের। সেই সময়কার রেসকোর্স ময়দানের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে জিন্নাহ বলেছিলেন, “কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।”
সেই উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্রসমাজই রাজপথে নেমেছিল। সেই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই এসেছে আমাদের জাতীয় চেতনা, স্বাধিকার আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধ।
আজ সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি এত গুরুত্ব দিয়ে প্রদর্শিত হবে আর বঙ্গবন্ধুর গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবে না এটা কি সত্যিই নিছক ইতিহাস সংরক্ষণ?
ইতিহাস অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।
কিন্তু ইতিহাস সংরক্ষণ আর ইতিহাসকে নতুন করে ব্যাখ্যা করা দুটি এক জিনিস নয়।
আমাদের প্রশ্ন খুবই সরল।
যে ব্যক্তি বাঙালির মাতৃভাষার অধিকার অস্বীকার করেছিলেন, তাঁর ছবি যদি সম্মানের সঙ্গে প্রদর্শিত হয়, তাহলে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধুর যথাযথ ঐতিহাসিক উপস্থিতি কোথায়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়।
এটি বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।
তাই প্রশাসনের কাছে জনগণের দাব।
কে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? কেন নেওয়া হয়েছে? কোন নীতিমালার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে? এবং ইতিহাসের এই উপস্থাপনায় বঙ্গবন্ধুর যথাযথ স্থান কেন নিশ্চিত করা হয়নি?
ভুল হলে সংশোধন করুন।
দায় থাকলে ব্যবস্থা নিন।
কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসকে নিয়ে কোনো ধরনের খেলা মেনে নেওয়া হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে শুধু ছবি নয় বাংলাদেশের ইতিহাস কথা বলে।
সেই ইতিহাসকে বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই।
#ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #ডাকসু #জিন্নাহ #ভাষা_আন্দোলন #মুক্তিযুদ্ধ #বাংলাদেশের_ইতিহাস #ইতিহাস_বিকৃতি
©somewhere in net ltd.