| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শুভ জন্মদিন মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ হাসিনা।
-----------------------------------------
১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একইভাবে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় তাঁর কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। সরকারি জীবনীতে এসব ঘটনায় বহু নেতাকর্মীর নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৮৯ সালের আগস্টে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে তাঁর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে। পরবর্তী বছরগুলোতেও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে ১৯৯১ সালে ঢাকায় এবং ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে তাঁর ট্রেনের কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ছিল সেসব ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
২০০০ সালের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভাস্থল ও হেলিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ও ৮৪ কেজি ওজনের দুটি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বোমাগুলো আগে শনাক্ত হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাছে তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার পরিকল্পনার কথাও সরকারি নথিতে উল্লেখ আছে।
তবে শেখ হাসিনার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাচেষ্টাগুলোর একটি ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য শেষ করার পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও ভয়াবহ সেই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ বহু মানুষ নিহত হন এবং শত শত মানুষ আহত হন। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিহতের সংখ্যা ২৪ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি থেমে যাননি।
এ কারণেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনকে তাঁর সমর্থকেরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীর জীবন হিসেবে দেখেন না; তাঁরা এটিকে দীর্ঘ সংগ্রাম, বিপদ অতিক্রম এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার ইতিহাস হিসেবে দেখেন।
উন্নয়নের বাংলাদেশের গল্পও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অংশ
শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সরকারের সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের পথে এগিয়েছে সরকারি নথিতেও এ অগ্রগতির উল্লেখ রয়েছে।
সমর্থকদের কাছে তাই শেখ হাসিনা শুধু একজন দলীয় নেত্রী নন; তিনি বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার বহনকারী একজন রাজনৈতিক সংগ্রামী, যিনি ব্যক্তিগত বিপর্যয় ও নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যেও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন।
তবে ইতিহাসের এই অধ্যায়কে বুঝতে হলে আবেগের পাশাপাশি তথ্য, নথি ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও বিতর্কে পরিপূর্ণ।
আজ জন্মদিনে একটাই কথা
মৃত্যু তাঁকে বহুবার স্পর্শ করতে চেয়েছে কিন্তু তিনি প্রতিবারই ফিরে এসেছেন মানুষের কাছে, রাজনীতির ময়দানে।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে তাঁর জীবনের শুরু যেমন ইতিহাসের এক অগ্নিগর্ভ সময়ে, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক পথও অতিক্রম করেছে অসংখ্য ঝড়-ঝঞ্ঝা।
আজ তাঁর ৮০তম জন্মদিনে আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যিনি তাঁর পথ তৈরি করেছেন তাঁর জন্মদিন শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের দিন নয়; তাঁর সমর্থকদের কাছে এটি সংগ্রাম ও প্রত্যয়েরও একটি দিন।
শুভ জন্মদিন, জননেত্রী শেখ হাসিনা।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ কৃষক লীগ
মুন্সীগন্জ জেলা।
সংখ্যালঘু বাচাঁও আন্দোলন বাংলাদেশ।
২৭ সেঃ ২০২৬, নিউ ইয়র্ক, আমেরিকা।
©somewhere in net ltd.