| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১৯৭১-এর বর্বরতা, আজকের ধর্ষণ ও বালৎকার: ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা
১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশুর ওপর ভয়াবহ যৌন সহিংসতার অভিযোগ ও ঐতিহাসিক দলিল রয়েছে।
পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭৫ বছর বয়সী নারীও সেই নৃশংসতার শিকার হয়েছিলেন বলে বহু বর্ণনায় উঠে এসেছে।
একটি জাতির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানবিকতাকে পদদলিত করা হয়েছিল।
সেই ইতিহাস আজও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় এবং অপরাধীদের বর্বরতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও যখন ধর্ষণ ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের খবর সামনে আসে, তখন প্রশ্ন জাগে আমরা কি সত্যিই সভ্য হতে পেরেছি?
মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, মাঠে-ঘাটে কিংবা ঘরের ভেতরে কোথাও যেন শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই।
দেশে কিংবা বিদেশে, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সামাজিক মর্যাদা কোনোটিই অপরাধীকে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দিতে পারে না।
যারা ধর্মের কথা বলে, নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, অথচ নিজেরাই যৌন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তারা সমাজের জন্য ভয়ংকর হুমকি।
ধর্মীয় পোশাক, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা কোনো অপরাধীর ঢাল হতে পারে না।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার ইতিহাস আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।
একই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে, আজকের কোনো অপরাধীর পরিচয় দিয়ে একটি গোটা জনগোষ্ঠীকে অপরাধী বলা ন্যায়সংগত নয়।
তবে যারা পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা কিংবা মানবতাবিরোধী আদর্শকে সমর্থন করে, তাদের ভূমিকা অবশ্যই প্রশ্নের মুখে আনতে হবে।
ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করতে হলে আবেগের পাশাপাশি প্রমাণ, সত্য ও ন্যায়বিচারকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ধর্ষণ ও বালৎকার কোনো বিচ্ছিন্ন লজ্জা নয়; এগুলো ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর সংকেত।
শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ভুক্তভোগীকে দোষারোপ নয়, বরং তার নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ধর্মের নামে অপরাধ, রাজনীতির নামে অপরাধ কিংবা ক্ষমতার দাপটে অপরাধ কোনোটিরই ছাড় দেওয়া চলবে না।
১৯৭১-এর শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা হবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে শিশু ও নারী নির্ভয়ে বাঁচতে পারবেন।
অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হোক বিচারের মাপকাঠি; আর ধর্ষণ ও বালৎকারের বিরুদ্ধে হোক আপসহীন সামাজিক প্রতিরোধ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ১৯৭১-এর বর্বরতা, আজকের ধর্ষণ ও বলৎকার: ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা
.......................................................................................................
আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে জানিনা বা চাইনা ।
তার প্রমাণ চলমান ঘটনা ,
আবার ইতিহাসের ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধর ঘটনা !!!
সেখানে যে হারে গণহত্যা হয়েছে তারপরও কি গাঁজা হত্যাকান্ড থেমেছে ???