নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্টিগমা

রাফিন জয়

স্টিগমা

রাফিন জয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

**রহস্য**// পর্ব-১

০৮ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:১১


ভোর থেকেই ঝিপ ঝিপ বৃষ্টি হচ্ছিল, কিছুক্ষণ আগেই তা ঝুপ ঝুপ করতে শুরু করলো। ভাগ্যটাই খারাপ বলে ভাগ্যের ঘাড়ে সব চাপিয়ে দিলাম। তবে আজ পাঁচ বছর পরে কলেজের ছুটিতে দাদু বাড়ি যাচ্ছি বলে কোন ভাবেই আর সহ্য হচ্ছে না। আরেহ, দাদু তো তার ঘোড়ার গাড়িটা একটু দ্রুত পাঠাতে পারতো! দাড়িয়ে আছি রাস্তার পাশের এক রসগোল্লার দোকানে। দাদুকে মনে মনে বিড়বিড় করে বকা দিচ্ছি। তবে যদি দাদু ঘোড়ার গাড়িটা পাঠাতে সময় না লাগাতো, তবে হয়তো এমন দৃশ্য দেখাই যেত না। নদীর জলে ধুম বৃষ্টির পতনে জলের একটা রিদম তুলেছে, রসগোল্লার দোকানের টিনের চালায় বৃষ্টির আওয়াজে কান যেন ফেটে যাচ্ছে রিমঝিম রিমঝিম শব্দের! পাখিগুলো সব গুটিসুটি দিয়ে গাছে বানানো তাদের কুঁড়েঘরে বসে আছে।

এইসব দেখতে দেখতে হঠাৎ আবার বিরক্তি চলে আসলো! আরেহ, পুরো তো পঞ্চাশ মিনিটের বেশি হয়েছে, পথ তো মাত্র কুড়ি মিনিটের। এখনো দাদু গাড়িটা পাঠাতে পারলনা! মনে মনে বলতে শুরু করলাম, “হরিহর চট্টোপাধ্যায়, তুমি যতই জমিদার পুত্র হওনা কেন, তোমায় পেলে এখন আস্ত গিলে খাবো বুড়ো!” ঠিক তখনি যেন আমার ভ্রূকুটিকে ভয় করে চলে আসলো জমিদার বাড়ির একটা ঘোড়ার গাড়ি। দ্রুত বের হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে উঠেই বললাম, “ঐ বুড়োর এতক্ষণে সময় হল তোমায় পাঠানোর? বুড়ো কি আমায় ভুলে গেছে? চল এইবার, বুড়োকে আস্ত কাঁচা গিলে খাবো!”
“আজ্ঞে না বাবু, কত্তা বাবু আপনাকে আনতে অনেককন আগেই পেটিয়ে দেয়েচে। ঐ রাস্তায় বাদলার জন্যি কাদায় গাড়ি নিয়ে আসতি অনেক দের হইগেছে বাবু।” অনেক বিনয়ের সাথে বলল রামু কাকা।
আমি বললাম, “ওহ আচ্ছা, তো বুড়ো, জেঠু, বড়মা আর বিন্দুমা কেমন আছে গো কাকা? তুমিই বা কেমন আছো?”
“আমি ভাল আচি বাবু। চলুন এগোই এই বেলা।”
“হুম তাই যাওয়া যাক, চল যাই। বৃষ্টি হয়তো আরও বাড়বে।”

ঠিক তখনি হন্তদন্ত করে বের হয়ে পড়লাম দুজনে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে। পরে সত্যিই মনে হল যে দাদুর প্রতি অগত্যাই রেগে যাওয়াটা একেবারেই অবান্তর ছিল। প্রধান সড়ক থেকে গ্রামের পথ ধরতেই দেখলাম রাস্তার অবস্থা নাজেহাল! উফ এর মধ্য দিয়ে আবার যাচ্ছে ঘোড়ার গাড়ির চাকা আটকে! ধুম বৃষ্টির মধ্য দিয়ে অনেক কষ্টে পৌঁছলাম।

দেখেই দাদু আনন্দে আদরে গদগদ হয়ে জিজ্ঞাসা করলো,“হা হা হা, হ্যালো ইয়ং ম্যান, হাও আর ইউ?”
“তোমায় ছাড়া কি করে ভাল থাকি বলতো দুষ্ট বুড়ো?!”
“হা হা হা, আসতে কোন ঝামেলা হয়নি তো?”
“মহা ঝামেলা হয়েছে, বাদ দাও ওসব!” এমন করেই বেশ কিছুক্ষণ গল্প চলতে থাকে আমাদের।

আমার পাঁচ বছরের আদর একবারেই এবার হয়তো করার উপক্রম বড়মা মানে আমার জেঠিমার। অনেক অনেক খাবারের সমাহার। দুপুরের আহার শেষে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে উঠে দেখলাম বৃষ্টি হচ্ছে না, তবে আকাশ তখনো কালো মেঘে ঢাকা। সজোরে বাতাস বইছে। একটু জমিদার বাড়ির দোতলার ছাদে গিয়ে ঘুরে দেখা যাক।

এসে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এ যেন আরও সুন্দর হয়েগেছে নানা রকম ফুলের গাছে। হঠাত করেই কেউ তার দুই হাতের তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকা আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরল আমার চোখ দুটো। এমনিতেই আমাদের জমিদার বাড়িটাকে অনেকে ভূতুরে বাড়ি নামে জানে, অনেক গুজব ও রটেছে এর আগে। বাড়ির বাইরে থেকে দেখলে পুরানো ছোট ছোট ইট গুলো দেখলে মনে, ভীম ভূত যেন ধারালো দাঁত বের করে ভয় দেখাচ্ছে। বাড়ির দেয়াল গুলোতেও শ্যাওলা ধরেছে এবং কিছু কিছু জায়গাতে ছোট বটের চারা হয়েছে। যাই হোক, ভয়ে বুকের মধ্যে হৃদপিণ্ডের রিদম পাল্টে খুব দ্রুততর হয়ে গেল!

অগত্যা এমন করে আর কেউ ধরবে না আমার বিন্দু পিসি ছাড়া। হাত সরিয়েই জড়িয়ে ধরি আমার মায়ের মত পিসিমাকে। আমার জন্মের পরেই আমার মা মৃত্যু বরণ করে। তার পর থেকেই আমার থেকে পনের বছরের বড় বিন্দু পিসিই আমার মা। বাবা আমার ভাল পড়াশোনার জন্য কলকাতার কলেজে পাঠানোর কথা ভেবে আর স্থির থাকতে পারেনি। নিজেও কলকাতা চলে গিয়েছে। জেঠুকে বলেছে, “দাদা, তুমি বাবার জমিদারি দেখো। ও আমায় দিয়ে হবে না। কলকাতার একটা আপিসে আমার উচ্চপদে চাকুরি হয়েছে। আমি কলকাতাতেই যাবো।” সেই থেকে এই পাঁচ বছর পরে লগ্নভ্রষ্টা উপাধিযুক্ত আমার বিন্দুমার সাথে দেখা।
কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে “কিরে এদ্দিনে তোর মনে ধরেছে আমার কথা?”
স্নেহের পরশে দু-ফোঁটা অশ্রু আমার ও বের হয়ে আসলো। ঠিক তখনি আবার বেদম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। দৌড়ে দুজনেই নিচে চলে আসলাম। খুব গল্প হল দুজনে করিডরে ইজি-চেয়ারে বসে। ততক্ষণে সন্ধ্যা নামবে নামবে। বিন্দুমার সাথে বসে উপভোগ করছিলাম ঝড় হাওয়া। গাছের পাতা গুলো যেন উজ্জ্বল সবুজে প্রকৃতির এই দৃশ্যকে আরও সুষমামণ্ডিত করে রেখেছে।

বিন্দুমা চলে যাওয়ার পরেই ঘরের কড়া নেড়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলো রমেন দা। “কিরে, আসবো?”
“অবশ্যই! এসো দাদা।”
দুজনেই বসে খানিকক্ষণ গল্প করলাম।

চলবে...

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: রহস্যটা দানা বেঁধে উঠলো না এখনো!!!!

অপেক্ষায় :)

+++

০৮ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১১

রাফিন জয় বলেছেন: হুম, সময় করে লিখতে পারছি না। কলেজের পড়া আর শেষ হয় না!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.