নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্টিগমা

রাফিন জয়

স্টিগমা

রাফিন জয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

**রহস্য**//পর্ব-২

১৩ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:১৬


প্রথম পর্ব দেখতে ক্লিক করুন
রমেন দা বয়সে আমার থেকে তিন বছরের বড় হলেও বন্ধুর মত আমরা দুজনে। রমেন দাদা ওকালতি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছে গত নভেম্বরে। কিন্তু সাহিত্যের প্রতি তার ঝোঁক ছোট থেকে। কিছু সময় পরেই হৈমন্তী এবং অন্তরা দি এসে বলল, “দাদু তোদের দুজনকে যেতে বলেছে জলসা ঘরে... চল এখনি“
“কিন্তু কেন?” আমি বললাম
অন্তদি বলল, “জানি না ঠিক, তবে চল যাই।“

জলসা ঘরে গিয়ে দাঁড়ালাম আমরা চার জন। সাথে এসে একটু পরে যুক্ত হল জয়ন্ত কাকু। দাদু একটা কাগজ দেখে পাঁচটা ছোট ছোট কাগজে কি যেন মেলাচ্ছে আর লেখছে। এক কথায় আঁকিবুঁকি! অন্তরা দি বলল, “দাদু, দ্রুত বলতো। রবীন্দ্র বাবুর ‘চোখের বালি’ নভেলটা পড়ছিলাম। ডেকে পাঠালে কেন?”
“তোদের সাথে একটা ধাঁধা খেলবো বলে।“ বলল দাদু।
“ধাঁধা? কেমন ধাঁধা? কিসের ধাঁধা?” বললাম আমি।
হৈমন্তী,”দাদু, এক নতুন রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি।“
দাদু, “হুম, সবাই একটা করে কাগজ নে। সব কাগজে একই লেখা। এর মাঝে সংকেত দেয়া আছে এক রহস্যের। যে প্রথমে অন্বেষণ করতে পারবি, সেই পাবি খুব মূল্যবান পুরষ্কার।“

যথা নিয়মে সবাই হাতে নিলাম কাগজ গুলো। এমন খেলা দাদুর সাথে আগে প্রায়শই খেলা হত। কাগজে লেখা ছিল,
“অগ্নিতে পশলা ছুট একা একা ঢলিয়ে,
তা দেখে সমকোণে ডানে ছুটে চল এগিয়ে।
‘কৃম্ভ ও মকর রাশি’র পূর্বে যোগ হয় এক কান,
কদম গুনে যাও, ঘুম ভাঙে তার সাথে কোন
এক বলবান!
তার পথ ছাড়িয়ে,
অশ্বত্থ বাবু দাড়িয়ে
থুম ধরা ভূত বনে,
তার পদতলে গুপ্তধন!"

কাগজ নিয়ে যে যার মত চলে এলাম। ঘরে বসে একবার পড়ে মনে হল এটা কোন সংকেত আর ধাঁধা নয়, গোলকধাঁধা! অগ্নি মানে আগুন, তার আবার পশলা ছুটে মানে কি? তা ঢলে চলে কি করে। আগুন তো উপরের দিকে উঠতে থাকে। তাও আবার কি মকর রাশি আগ্রাম বাগ্রাম কতকি! রমেন দাদা হয়তো এতক্ষণে হয়তো তা মিলিয়েও ফেলেছে। আর বিলেত ফেরত লয়ার অন্তরা দি তো বাংলায় মহা গবেষক। কি জানি কি করছে তারা। ইস যদি রমেন দা আর আমি একসাথে অন্বেষণে নামতাম, অন্তরাদিকে পিছে ফেলে চলে যেতাম।
ভাবলাম একবার অন্তরা দির ঘরে যাবো। ওর মত এতো মেধাবী মেয়ে সত্যিই খুঁজে পাওয়া দায়। এই যুগে মেয়েদের বয়সের গণ্ডী ১৩ না পেরোতেই বিয়ে বরণ করে নিতে হয় এই পাশবিক সামাজিকতার কারণে, সেই যুগে ওর বয়স ছাব্বিশ অতিক্রম করে সাতাশ হয়ে গেলো। এখনো বিয়ে করেনি। ও বলে, ওর আত্মসম্মান বোধটা আগে। নিজের পায়ে দাঁড়াবে। অন্যের প্রতি ভরসা করে পা বাড়াবে না। ওর পড়াশোনা আর সাধু চেতনাই সর্বশ্রেষ্ঠ ওর কাছে।

দাদুও ওর কোন কাজে ওকে বাধা দেয় না। হয়তো কারণটা বিন্দুমা। লগ্নভ্রষ্টা মেয়ের কষ্ট দেখে দাদু নিজেও সমাজ পরিবর্তন চায়। তাই দাদু নিজেই ঈশ্বরচন্দ্র বাবুর আদর্শ গ্রহণ করে দিদিকে কলেজে যেতে খুব উৎসাহ দিয়েছে। আমার আধুনিক চেতনার জেঠু ও তাই করেছে। কিন্তু বিপত্তি ছিল বড় মা’র। তার ভয় ছিল সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে। কি জানি কি হয় তার মেয়ের সাথে!

থাক এসব কথা। তখনি দিদির ঘরে খুব আগ্রহ নিয়ে গেলাম। দেখলাম হৈমন্তী ঘুমিয়ে পড়েছে। আর অন্তরা দিদি বাংলা অভিধানে কিছু খুঁজছে। সর্বনাশ! এতো দেখছি হাতে সেই সংকেতের কাগজটি!
ঠিক তখনি, “কিরে বাঁদর? উঁকি দিয়ে কি দেখছিস দরজার ও পাশ থেকে?”
আমি বললাম- তুই কি করে বুঝলি আমি এখানে?
দিদি বলল- বৈদ্যুতিক লাইটের কারণে তোর ছায়াটা দেখা যাচ্ছিল।
-যাই হোক বলতো সংকেতটা আসলে কি বোঝাচ্ছে?
-খুঁজে বের কর, পরে বলে দিচ্ছি! হাহ হা হা!
-তোর অট্টহাসি সহ্য হচ্ছে না। গেলাম!
-বাঁদরদের এতো রাগ করতে নেই!

কিছু না বলেই বেরিয়ে পড়লাম এবং ঘরে ঢুকে আমিও অভিধান নিলাম হাতে। এবার খুব মনোযোগ দিয়ে আবার পড়লাম সংকেতটা। প্রত্যেকটার অর্থ বার বার অভিধানে দেখলাম। পশলা মানে বর্ষণ বুঝায়, বর্ষণ মানে পতন, এর পরে আর কি যায়! এমন আঁকিবুঁকি করতে করতেই হৈমন্তী বলল,”দাদা, দিদিভাই একটা কাগজে এই গুলো লেখার পরে কাগজটা ছিঁড়ে ফেলে দিল। দেখতো কি আছে? আমি কিছুই বুঝলাম না!”

এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। কাগজে লেখা, “অগ্নি = দক্ষিণ –পূর্ব, পশলা = বর্ষণ বা বৃষ্টি। কিন্তু তা সব সময় থাকে না। সব সময় থাকে কি?!” বিষয়টা একটু আঁচ করতেই হৈমন্তিকে বললাম, “দিদিভাই পাগল হয়ে গেছে। এসব কিছু না। আর যদি সত্যিই কিছু হত তেমন, তো এমন করে ফেলত না যে আমরা পাই। দেখলি না, ও এটা ছিঁড়ে ফেলে দিল।“

ও হয়তো বুঝে গেছে যে আমি কিছু ওর কাছে লুকিয়েছি। কিন্তু সত্যিই তো, অগ্নি মানে শুধু আগুন হবে কেন? তাতো দক্ষিণ-পূর্ব কোণ বা অগ্নি কোণ ও হতে পারে। আর সংকেতের মাঝে তো অবশ্যই প্রথমে দিকনির্দেশনা দিবে। পেয়ে গেলাম অগ্নি কোণ। কিন্তু পশলা ঢলে যাবে কি করে? বৃষ্টি তো সব সময় থাকে না। আর বৃষ্টি ঢলেই বা চলবে কি করে?! এমন কি আছে আমাদের এখানের অগ্নি কোণে, যা ঢলে চলে?
অনেকক্ষণ ভাবার পরে মগজে এলো, ঢলে তো পানিই চলতে পারে এখানে। আর তা হতে পারে কোন নদী। তবে সেখানে পশলা বা বর্ষণ কি করে আসে? আর অগ্নিকোণে তো নদী চলছে না, তা দক্ষিণ থেকে পশ্চিমে চলছে! ওহ, শুধু নদী নয়, ঢলে চলার জন্য আরও একটা বস্তু সেখানে আছে। আর তা হল ঝরনা! হ্যা, দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ২৫ মিনিটের পথ পরেই তো পাহাড় বেয়ে নেমে এসেছে এক ঝরনা! এখনই একবার যাওয়া যাক, উফ সেই ধুম বৃষ্টি! যাই হোক, আমার আগে যাওয়ার ও কারো কোন সুযোগ নেই। বাঁচা গেলো!

কৌতূহলী মনকে কোন ভাবেই শান্ত করতে পারলাম না। তখনি অগ্নিকোণের ঝরনার কাছে যাওয়ার শক্তমত একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু ভয়ের কারণে আবার সাহস করতেও পারছি না। সব চিন্তা বাদ দিয়ে, হাতে একটা বিদেশী টর্চ লাইট ও রেইনকোট নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। ওরে বাবা, কি গহিন বন। প্রাচীন গাছ গুলো যে ঠিক কত প্রাচীন তা শুধু গাছ গুলোই জানে। সব মিলিয়ে এই ধুম বাদলার রাতে পরিবেশটা একেবারে ভূতুরে মনে হচ্ছে।

কিছুক্ষণ পরেই আমার টর্চের লাইটে দেখা গেলো এক অদ্ভুত দৃশ্য! এক সাদা কাপড় পরা নারীমূর্তি আমায় হাত উঁচু দেখিয়ে ওর দিকে যেতে বলছে। মুখটা ঠিক দেখার আগেই আঁচ করে ফেলেছিলাম যে এটা কোন পেত্নী হবে নিশ্চয়! অগত্যা এক চিৎকার করে ১০ মিনিটের বনের পথ ৩ মিনিটে দৌড়ে অতিক্রম করে জমিদার বাড়ির মধ্যে চলে আসলাম। ওরে বাবা, সেটা ছিল কি আসলে? রহস্যের মাঝে আরেক রহস্য! ভয়ে কাবু হয়ে ঘরের মাঝে কাঁথা মুড়ি দিয়ে পেত্নীর ভয় থেকে বাঁচতে চাইলাম। মনে হচ্ছিল আমার ঘরের খাটের নিচেই ও শুয়ে আছে!

চলবে...

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.