নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যের অন্বেষণে আছি, কিন্তু পথ খুঁজে পাচ্ছি না! আমি সেই অজ্ঞ মানব!

রাফিন জয়

সত্যের অন্বেষণে আছি, কিন্তু পথ খুঁজে পাচ্ছি না! আমি সেই অজ্ঞ মানব!

রাফিন জয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিস্তব্ধতা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৩


“এখনো শুয়ে আছিস তুই? ভার্সিটিতে যাবি না?” খুবি বিরক্তি নিয়ে বলল জুবায়ের। কিন্তু রাফিনের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না। পেন্ডুলামটা দশটার ঘণ্টা টং-টং-টং আওয়াজ করে দেয়ালের সাথে দোল খাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন রাফিন-জুবায়ের-হিমাদ্রদের ফ্ল্যাটটার নিস্তব্ধতা একেবারে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে পেন্ডুলাম ঘড়ির ঘণ্টা। তবুও রাফিন নিস্তব্ধ।

রাফিন পড়াশোনায় মনোযোগী। তবে আজ ভার্সিটি যাওয়ার জন্য উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে না তার। হবেই বা কি করে? গত কালকের ঘটনা তার চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে। বৈশাখীর মৃত্যুর জন্য ও নিজেকেই এখন দায়ী করছে। জুবায়ের এখনো জানে না যে বৈশাখী গতকাল রাতের একটায় না ফেরার দেশে চলে গেছে। কিছুক্ষণ পরে তাদের যেতে আজিমপুর কবরস্থানে বৈশাখীর জানাজা ও দাফনের জন্য। হিমাদ্র রাতে ছিল হসপিটালে। সেই জানিয়েছিল রাফিনকে।

রাফিন জুবায়েরকে ভার্সিটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখে হঠাৎ করে কাপা কণ্ঠে বলল, “বৈশাখী আর নেই।” জুবায়ের একেবারে যেন একেবারে আকাশ থেকে পড়লো। আঠারো তলার ফ্লাটের বড় কাচের জানালা দিয়ে পর্দা ভেদ করে দীপ্তিময় সূর্যের তির্যক রশ্মি জুবায়েরের চোখে পড়তেই রাফিনের মনে হল, অশ্রু যেন হীরের মতো দ্যোতি ছড়াচ্ছে।

জুবায়ের কোন কথা বলছে না শুধু ফুঁপিয়ে কাঁদছে। বলবেই বা কি করে? সাত-আট বছরের একটা ফুটফুটে মেয়ে, যে গতকাল ও টিএসসি’তে স্বপন মামার চায়ের দোকানে জুবায়েরের চায়ের আড্ডার সময় পেছন থেকে ওর চোখে চেপে ধরে বলেছিল, “বলোতো কে আমি?” আর যদি সে হঠাৎ করেই নিজের সত্তার অস্তিত্ব পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে ফেলে, কেন তার কান্না পাবে না?

রাফিনদের ফ্ল্যাটটাতে এখন আরও নিস্তব্ধতা। দক্ষিণ দিকের করিডোর থেকে বাতাস আসছে। আজকের বাতাস যেন খুব ভারি। জুবায়ের মেঝেতে বসে দুহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে কান্না করছে। তবে আওয়াজ আসছে না কান্নার। শুধু শ্বাসপ্রশ্বাসের আওয়াজ হচ্ছে দুজনের। হঠাৎ এই শব্দটাই কেমন যেন ভূতুড়ে মনে হচ্ছে। একদম নিশ্চুপ কামরা। আচমকা রাফিনের ফোনে হিমাদ্রের কল। যেন আবার নিস্তব্ধতা টুকরো টুকরো করে দিলো রাফিনের ফোনের রিংটোন। রাফিন ফোনটা তুলে কথা বলল। হিমাদ্র জানালো, কিছুক্ষণের মধ্যে লাশ ছেড়ে দিবে। হিমাদ্র আরও বলল, যেন কিছুটা নিয়ে আসে রাফিন। হসপিটালের সব বিল দেয়ার মতো টাকা তখন হিমাদ্রের কাছে ছিল না।

রাফিন বিছানা ছেড়ে উঠলো এবং হসপিটালের দিকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে নিলো। কেউই সকালের খাবার খেলো না। রাফিন একবার করিডোরে দাঁড়িয়ে যান্ত্রিক শহরের গাড়ি গুলো আর ট্রাফিকের দিকে তাকালো। আঠারো তলা থেকে এই সব কেমন যেন খেলনা গাড়ির মতো দেখাচ্ছে। রাফিনের চোখ রক্তবর্ণের দেখাচ্ছে। সে একবার চোখ মুছে নিলো। বিজয়, তমাল, সিঞ্জন, মাহি সহ কয়েকটা বন্ধুকে রাফিন ফোন করে জানালো। তার পরে দুজনেই বের হয়ে পড়লো। বাসার নিচে পারকিং লটে জুবায়ের ওর ভাঙাচুরা মটর-সাইকেল স্টার্ট দিতে চেষ্টা চালাচ্ছিল। এটা দেখে রাফিনের মনে পড়লো, শাহবাগ মোড়ে একদিন সে জুবায়েরের বাইকটা স্টার্ট দেয়ার চেষ্টা করছিলো, কিন্তু অনবরত চেষ্টার পরেও যখন সে বার বার ব্যর্থ হচ্ছিলো, তখন বৈশাখী বলেছিল, একটা ভালো বাইক কিন্না নেওনা ভাইয়া।

রাফিন উত্তর দিয়েছিলো, টাকা কই পামু? এটাতো জুবায়েরের বাইক।
আমার যহন অনেক টেকা ওইবো, তোমারে তহন আমি দিমু দেইখো।

স্মৃতি গুলো সব কেমন যেন জমাট বেধে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। জুবায়েরের বাইক তখন স্টার্ট নিয়ে ফেলেছে। তাই দুজনের গন্তব্য এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ।

গিয়ে দেখলো অনেকেই এসেছে ওদের বন্ধুদের। এসেছে সাথে বৈশাখীর একদল ফুল বিক্রেতা বন্ধু। বৈশাখীর নিথর দেহ দেখে ওর ছোট বন্ধুরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। সিঞ্জন ওদের জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। অন্য কোন দিন হলে হয়তো সিঞ্জন বলতো, এতো দামি জামাটা ওদের নোংরা দেহের ছোঁয়ায় নোংরা হয়ে গেছে। কিন্তু আজ সে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেও কান্না করছে। মাহি তখন ওদের সবাইকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলো।

পরে অনাথ মেয়েটার দাফন-কাফন ঠিক ঠাক হয়ে গেলো। থানায় জুবায়ের একবার গিয়ে দেখা করে আসলো। দুর্ঘটনার পর পরেই পুলিশ হসপিটালে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো। একটা ডায়রি লেখা হয়েছিলো।

রাফিন বাসায় ফেরার পরে স্পোর্টসের দড়িটা বৈদ্যুতিক পাখার সাথে বাঁধার পরে গলায় ঝুলিয়ে দেবার জন্য এবার দাঁড়িয়েছে। আবার নেমে টেবিল থেকে তার ডায়রি গুলো নিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলো। তার ডায়রি কেউ দেখবে এটা সে কখনো চায়না। তার মা মৃত্যুর আগে তাকে এই ডায়রিটা দিয়েছিলো। আগুন তখন দাউ দাউ করে দহন করছে। সে ভাবছে, ঐদিন কেন সে বৈশাখীকে দিয়ে সিঞ্জনের কাছে ফুলের তোড়াটা পাঠালো। না পাঠালে তো আর গাড়িটা বৈশাখীকে ধাক্কা দিতো না।

দিনটা সিঞ্জনের জন্মদিন ছিল। তাই রাফিন তার ভালবাসার মানুষটাকে একটা দামি ফুলের তোড়া কিনে বৈশাখীকে দিয়ে চারুকলা ইন্সটিটিউটে পাঠিয়ে ছিল। বৈশাখী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ফুল বিক্রি করে। সুতরাং সে ফুল সম্পর্কে ভালো দক্ষ। অন্য দিকে রাফিনের ফুল থেকে বিকট এলার্জি। যেহেতু রাফিনদের সাথে বৈশাখীর একটা ভালো সম্পর্ক, তাই স্বেচ্ছায় সে ফুল দিয়ে আসতে ইচ্ছুক। কিন্তু শাহবাগ থেকে চারুকলা অবধি রাফিন আর যায়নি, তার ক্লাস ছিল। বৈশাখী দৌড়োতে শুরু করলো আনন্দে। কেননা তার রাফিন ভাইয়া তাকে মাত্র একটা বারগার কিনে দিলো। হঠাৎ করেই একটা বাস বৈশাখীকে নিষ্পিষ্ট করে দিয়ে গেলো। রফিন দৌড়ে গিয়ে বৈশাখীকে কোলে করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজের ইমারজেন্সিতে নিয়ে যায়। সারাদিন থাকার পরে হিমাদ্র বলল, “তোরা যা, সকালে তো ক্লাস। আমি থাকি।” কিন্তু কর্মরত ডক্টর রাতেই অবিশ্বাস্য ভাবে একটা ঘোষণা দিলো।

রাফিন, হিমাদ্র ও জুবায়ের এরা সবাই ফিল্ম মেকিং নিয়ে অষ্টম সেমিস্টারে এবার। একই সাথে থাকে। তাই তাদের বন্ধুত্বও খুব ভালো। তবে আজকে একদম চুপচাপ যার যার কামরায়। সন্ধ্যা ছয়টা সিঞ্জন আর মাহি রাফিনের বাসায়। হিমু দরজা খুলে দিয়ে রাফিনের রুমে একটু ঢুকল। তখন হিমু দেখলো, রাফিন ডায়রি ছাই করে এখন গলায় দড়ি দেয়ার জন্য খাটের উপরে পড়ার টেবিলে দাঁড়িয়ে। হিমুর চিৎকারে সবাই রাফিনের রুমে জড় হয়ে চিৎকার করেই সবাই কাঁদতে শুরু করলো। মনে হচ্ছে, গতকাল রাতের একটার পর থেকে এই অবধি যেই একটা নিস্তব্ধতা ছিল ফ্ল্যাটটাতে, এক নিমিষেই সবাই মিলে তা বিদায় জানালো।

কি জানি, বৈশাখী থাকলে এখন কি করতো!

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর।
কিন্তু লেখার সময় তাড়াহুড়া করবেন না।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:০১

রাফিন জয় বলেছেন: ৪০ মিনিটে লিখছি। ভুল গুলো একটু ধরে দিলে ভালো হয় দাদা!

২| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:০০

অাব্দুল্লাহ অাল কাফি বলেছেন: ৪০ মিনিটে এত সুন্দর একটা কাহিনী লিখে ফেললেন?

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৩০

রাফিন জয় বলেছেন: হুম। হঠাৎ করেই লিখতে বসলাম দুপুরে। লিখতে বসেই প্লট মাথায় এসেছিলো। কোন পরিকল্পনা করে নয় দাদা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.