নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্টিগমা

রাফিন জয়

স্টিগমা

রাফিন জয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটা ফ্যালাসিকে ডিফেন্ড করা।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৪৩


সাধারণ আলাপের মধ্য দিয়ে আপনি একটা তথ্য বা একটা মানুষকে মিসরিপ্রেজেন্ট করলে আপনার খুব একটা ঝামেলা না হলেও দীর্ঘমেয়াদি একটা সমস্যা রেইজ করে। আপনি খুব সুশীল ভাব ধইরা আলাপ দিলেও সেইটা লজিকাল ফ্যালাসিই। যার ভুরি ভুরি ব্যবহার আমাদের মিডিয়াগুলা করে।

সে যাই হোক, আপনিও তা করেন কিনা একবার মিলায়া দেইখেন। তিনদিন ধইরা, বব মার্লের জন্মদিন থেকে, এখনো দেখতাছি একেকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতাছে- বব মার্লের গাঞ্জা খাওয়াটা গ্রহণ করলেও তোমরা তার দ্রোহ গ্রহণ করতে পারো নাই। তোমরা ঘোড়ার ডিমের বিপ্লবী। হেনতেন, আগ্রাম-বাগ্রাম, বালছাল ইত্যাদি।

এইবার আসেন, আপনার মগজে একটু শান দেই। এইখানে আপনি যে ফ্যালাসিটা দিতাছেন, তারে বলে Loaded Question Fallacy. আপনি বব মার্লের দ্রোহের কথা মাইনা নেন বা না নেন, হ্যা বলেন বা না বলেন, সেখানে একটা সত্য বিল্ট-ইন করা রয়েছে। আর সেটা হচ্ছে, বব মার্লে গাজা খায়। যেনো তার দ্রোহের পূর্ব শর্ত হলো গাজা খাওয়া। তার দ্রোহ নেয়ার আগে আপনি গাজারে গ্রহণ করছেন। এবং বক্তব্যটা এমন শোনায় যে বব মার্লের দ্রোহ-বিদ্রোহের দর্শন গ্রহণ করতে হলে আপনার গাজাও খেতে হবে।

আজ্ঞে না, এইটা কোনো আলাপ হইলো না। লজিকের ধারে কাছ দিয়াও যায় না। জ্যামাইকায় জন্ম বিপ্লবী সিংগার বব মার্লের দর্শন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলে। তার "নো, উইমেন, নো ক্রাই" "গেট আপ এন্ড স্ট্যান্ড আপ" "ব্ল্যাক প্রগ্রেস" গান গুলার কই বলছে আপনারে গাঞ্জা খাইতে? ষাটের দশক থেকে প্রায় দুই দশক ধইরা তার যেই গানগুলা শুইনা কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে মানুষ যুদ্ধ শুরু কইরা দিছিলো, তার কোথায় লেখা গাঞ্জা খাওয়ার কথা?

হুম, নিঃসন্দেহে বব মার্লের গাঞ্জা খাইতো। তার জটাবাধা চুল-দাড়ি না কাটা এইসব তার ব্যক্তি পরিসরের আলাপ। তবে আপনার গাঞ্জা খাওয়া ততক্ষণ ঠিক আছে যতোক্ষণ না আপনি আমারে ঝামেলায় ফেলতাছে। শুধু গাঞ্জা না, আপনি চকলেট খাইলেও বিষয়টা সেইম। আইস ক্রিমের বেলায়ও সেই। হুম বব মার্লের গান, তার দর্শন আমার ভালো লাগে। তার লেখা গান আমারে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু তার গাঞ্জা খাওয়া আমারে করে না। সেটা তার ব্যক্তি পরিসরের আলাপ। তার আন্দোলনের, দ্রোহের, দর্শনের আলাপ না। গাঞ্জা নিয়ে তাই আপনাদের দেয়া আলাপ খুবই বেহুদা।

আমার চার্লি চ্যাপ্লিন ভালো লাগে। তার কর্ম আমায় খুব আনন্দ দেয়। কিন্তু এর অর্থতো এই না যে আমিও তার মতো প্যাডোফাইল হয়ে যাবো। সুতরাং, মার্লেরে নিয়ে গাঞ্জা রিলেট কইরা দ্রোহ টানতে আইলে আপনারে জাস্ট একটা বলদ বলবো আমি।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:০০

রাজীব নুর বলেছেন: মগজে শান দেওয়া গেলে ভালোই হইতো।

২| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৫৯

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: ধার্মিকরা এই ফ্যালাসিটা বেশি ব্যবহার।ভাল হতে হলে ধার্মিক হতে হবে।ভাল হবার সাথে ধার্মিক হবার কি সম্পর্ক ?
এমন যদি হত ধার্মিকরা খারাপ কাজ করে না বা কম করে।বাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক ধার্মিক এমনকি ধর্ম যারা শিক্ষা দেয় তারাও অহরহ খারাপ কাজ করে,পত্রিকা খুললেই তার প্রমান পাওয়া যায়।ওমক মসজিদের ঈমাম,ওমক মাদ্রাসার হুজুরকে মাজায় দড়িবেঁধে থানায় নিয়ে যাচ্ছে ।

৩| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪২

মুজিব রহমান বলেছেন: কোন লেখক গাঞ্জা/হিরোইন যা ইচ্ছা করল; যদি তার সাহিত্য মানোত্তীর্ণ হয় তবে তা আমি পড়বে। আল মাহমুদের তিনটি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আমি খুশি। ওনি জামাত করে তা ওনার অশিক্ষা/কুশিক্ষার ফল।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৫

রাফিন জয় বলেছেন: জানেন, আল-মাহমুদরে ছোট বেলায় দেখতাম আমাদের এলায় আসতো। পলিটিক্যাল এজেন্ডা নিয়েই। তবে আমি তাকে চিনতাম এলাকার বড়ো ভাইদের দিয়ে। কবি হিসেবে। লোকটা একটা বই গিফট করছিলো। কিন্তু বড়ো হয়ে বুঝলাম সে জামাতের লোক। তবে কবি হিসেবে দারুণ। যদিও যৌবনে কমিউনিস্ট টাইপ ছিলো।

৪| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:০৪

ডাব্বা বলেছেন: বব মার্লের ভাবশিষ্য ছিলাম একসময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এর সময়টায়। কয়েক বন্ধু একসাথে, পড়াশোনার বাইরে ববই ছিল সব। গণমানুষের জন্য গান, তার কথা, প্রেরণা, অধিকার ইত্যাদি নিয়ে নতুন কিছু ভাবতে সাহায্য করেছে। আন্দোলিত হয়েছি, 'হয়েদার ইউ থিংক ইউ ক্যান অর ইউ থিংক ইউ ক্যান্ট, ইউ আরে রাইট'। আমরা তরুণ ছিলাম। বুক ভরা প্রেম ছিল। কিন্তু প্রেম হচ্ছিল না। ববের ভাষায় কথা বলতাম, 'ইফ শি ইজ অ্যামেইজিং, শি ঔন্ট বি ইজি। ইফ শি ইজ ইজি, শি ঔন্ট বি অ্যামেইজিং'। আমরা ভাবতাম পৃথিবীটাকে বদলে দিব, 'ইমানসিপেইট ইয়োরসেল্ফ ফ্রম মেন্টাল স্লেইভারি, নান বাট আওয়ারসেলভস ক্যান ফ্রি আওয়ার মাইন্ড'। এখনো আমার ক্লাসের বিল্ট-ইন স্পিকারে গ্যালারি ভরিয়ে তোলে, 'নো ওমেন নো ক্রাই'।

কই, গাজা ধরিনিতো কেউ!

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:১২

রাফিন জয় বলেছেন: একদম তাই। দর্শনের সাথে ব্যক্তি পরিসরের জীবন টানা বোকামি দাদা। আমিও মার্লে ভক্ত।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.